(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি মুবারক হাছিল ও উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের নিয়তে ওযু করতে হবে। হাত মুখ পরিস্কার করার উদ্দেশ্যে যেন ওযু না করা হয়। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে,
انماالاعمال بالنيت.
“নিশ্চয়ই কর্মের ফলাফল হয় নিয়তের উপর।”
এখানে নিয়ত শব্দের অর্থ হলো আন্তরিকভাবে কোন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করা, আর এর উৎসস্থল হলো কলব। পবিত্র ইসলামী নীতিমালার প্রতিটি অবস্থাতেই এই কার্যক্রম অপরিহার্য্য। কোন মৌখিক উচ্চারণ সম্বলিত শব্দমালা ধর্তব্য নহে। তবে হ্যাঁ, আন্তরিকতার সাথে যদি মৌখিক নিয়তও করা হয়, তাহলে মোস্তাহাব হবে। অতঃপর
بسم الله المظيم والحمد لله على دين الاسلام.
এই দোয়া পড়ে ডান হাতের তালুতে পানি নিয়ে উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত ভাল করে ধৌত করতে হবে, আর আঙ্গুল সময়হ খিলাল করতে হবে, এমনকি নখের ভীতরও পানি পৌঁছানো ওয়াজিব যাতে কোন শুস্কতা রয়ে না যায়, মহিলারা যদি কোন নেইল পলিশ বা অনুরুপ কোন দ্রব্য- ব্যবহার করে যার ফলে পানি পৌঁছতে প্রতিন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তাহলে তা উঠায়ে ফেলতে হবে, অন্যথায় ওযু হবে না। এইরূপ উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করতে হবে। অতঃপর ডান হাতে পানি নিয়ে কুল্লি করে মিসওয়াক করতে হবে, মিসওয়াক এমনভাবে করতে হবে যেন কনিষ্ট অঙ্গুলি সিম্ওয়াকের এক পার্শ্বের ও বৃদ্ধাঙ্গুলী মিসওয়াকের অপর পার্শ্বে এবং বাকী তিন অঙ্গুলী মিসওয়াকের উপরে থাকে।
প্রথমে দাঁতের উপরের পাটির ছানায়ে উলিয়া হতে ডানদিকে অতঃপর বামদিকে, অনুরূপভাবে নিচের পাটিতে মিসওয়াক করতে হবে। এরূপ তিন কুল্লি করে মিসওয়াক করা সুন্নত মুবারক। একবারে মিসওয়াক করে কুল্লি করা সুন্নত মুবারক উনার খেলাপ। কুল্লি এমনভাবে করতে হবে যেন পানি হলকুম পর্যন্ত পৌঁছে। তবে রোজাদার ব্যক্তির জন্য গড়গড়া করা নিষিদ্ধ। কুল্লি করার সময় পবিত্র বিসমিল্লাহ্ শরীফ ও পবিত্র কলেমায়ে শাহাদাত শরীফ পড়ে এই দোয়া
اللهم اعنى على تلاوة القران وذكرك وشكرك وحسن عبادتك.
তিনবার কুল্লি করতে হবে। অতঃপর নাকে পানি দেয়ার সময় পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ ও পবিত্র কলেমায়ে শাহাদাত শরীফ পাঠ করে এই দোয়া
اللهم ارحنس رامية الجنة ولا تر حفى رايحة النار.
অতঃপর ডান হাতের তালুতে পানি নিয়ে নাকের ভীতর এমন ভাবে পানি দিতে হবে যেন নরম হাড্ডি পর্যন্ত পৌঁছে। আর বাম হাত দিয়ে নাক পরিস্কার করতে হবে এরুপ তিনবার করতে হবে। কুল্লি করা ও নাকে পানি দেয়া ভিন্নভিন্নভাবে করতে হবে। একত্রে দু’কাজ করলে ওযু হবে না। প্রতি বারই নতুন পানি ব্যবহার করতে হবে একবার পানি নিয়ে তদ্বারা তিনবার ধৌত করলে হুকুম আদায় হবে না। অতঃপর তিনবার মুখ ধৌত করতে হবে, পুরুষের দাড়ি যদি ঘন হয় তাহলে খেলাল করা ফরজ, অন্যথায় চামড়ার মধ্যে পানি পৌঁছাতে হবে। একচুল পরিমাণও যদি শুস্ক থাকে তবে ওযু হবে না, মহিলাগণকে তাদের নাক ও কানের অলংকারের স্থান ভাল করে ধৌত করতে হবে। মুখমন্ডল ধৌত করার সময় পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ ও পবিত্র কলেমা শাহাদাত শরীফ পড়ে এই দোয়া মুবারক পড়তে হবে
অনুরূপভাবে মুখমন্ডল তিনবার ধৌত করতে হবে। অতঃপর ডান হাতে পানি নিয়া ডান হাত কুনুই পর্যন্ত তিনবার ও বাম হাত কুনুই পর্যন্ত তিনবার এমনভাবে ধৌত করতে হবে যাতে চুল পরিমাণও শুস্ক না থাকে ডান হাত ধোয়ার সময় পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ ও পবিত্র কলেমা শাহাদাত শরীফ পড়ে এই দোয়া মুবারক পড়তে হবে-
اللهم اعطنى كتابى ببمنى وحا سبنى حسابا بسيرا.
বাম হাত ধৌত করার সময়ের দোয়া হলো-
اللهم لأ بعطنى كتابى بشمالى ولامن وراء ظهرى.
অতঃপর একবার মাথা মসেহ্ করতে হবে। মাথা মসেহ্ করার নিয়ম হলো দু’হাত খোলা অবস্থায় রেখে আঙ্গুলসহ কপালের চুল উঠার স্থান হতে শুরু করে পিছন দিকে নিয়ে যেতে হবে। তৎপর সম্মুখ দিকে এনে কান মসেহ্ করতে হবে। কান মসেহ্ নিয়ম হলো- কনিষ্ট অঙ্গুলী কানের ছিদ্রে প্রবেশ করায়ে শাহাদাত অঙ্গুলী দিয়ে কানের ভীতরের অংশ ও বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা বাইরের অংশ মসেহ্ করতে হবে। মাথা মসেহ্ করার সময় পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ ও পবিত্র কলেমা শাহাদাত শরীফ পড়ে এই দোয়া মুবারক পড়তে হবে-
اللهم اطلنى قجت عر شك يوم لا ظل الاظل ارشك.
কান মসেহ্ করার সময় পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ উনার পর এই দোয়া মুবারক পড়তে হবে-
اللهم اجعلنى من الذين ستيعون القول فيتبعون احسنه.
অতঃপর পা ধৌত করতে হবে। পা ধৌত করার সময় বাঁ হাতের কনিষ্ট অঙ্গুলী দ্বারা খেলাল করতে হবে। খেলাল ডান পায়ের কনিষ্ট আঙ্গুল হতে শুরু করতে হবে। অনুরূপভাবে বাম পা ধৌত করতে হবে। ডান পা ধৌত করার সময় পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ পড়ে এই দোয়া মুবারক পড়তে হবে-
اللهم ثبت قدمى على الصراط المسطاقيم يوم تنز الاقرام.
এবং বাম পা ধৌত করার সময়ের দোয়া মুবারক হলো-
اللهم اجعل ذنبى معغورا وشعبى مشكورا وتجا رنى لن بتورا.
ওযুর প্রত্যেকটি কাজ ডান দিক হতে শুরু করতে হবে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا لبستم واذا توض ءا تم فابدء وابابا منكم.
“হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যখন তোমরা কিছু পরিধান করবে বা যখন ওযু করবে ডান দিক হতে আরম্ভ করবে”। (আবু দাউদ শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن عائشة قالت كان النبى صلى الله عليه وسلم يحب التيمون ما استطاع فى شئائه فى طهورة وبر جله وتنعله.
“হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার হতে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্ভব অনুযায়ী উনার প্রত্যেক কাজেই ডান দিক হতে আরম্ভ করাকে ভালবাসতেন, তাহারাতে, মাথা আঁচড়ানে ও জুতা মুবারক পরনে”। এটাই হলো ওযুর সুন্নতী নিয়ম। উত্তম হলো ওযুকারী যদি মাজুর না হয়, তবে কারো সাহায্য না নেয়া। কোন অঙ্গ ধৌত করার পর এ পরিমাণ সময় দেরি করা ঠিক হবে না যাতে অন্য অঙ্গ শুকিয়ে যায়। ওযু করার পর পানি যদি বেঁেচ যায়। তবে দাঁড়িয়ে তা পান করে নেয়া উত্তম। কেহ যদি এভাবে ওযু করে তার সম্বন্ধে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
عن عثمان قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من نوض ءا نحو وضوءى هذا هم بصلى ركعتين لا لجرث نفسه فيها بشءى غفرله ما تقدم من ذنبه.
“হযরত ওসমান আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর দু’রাকআত নামায পড়বে যাতে সে আপন মনে কোন বিষয় ভাববেনা এতে তার সে সকল গুনাহ্ মাফ করে দেয়া হবে যা সে পূর্বে করেছে। (চলবে)