ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৯০ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সংখ্যা: ৩০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

নছীহত মুবারক

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার প্রিয় আওলাদ হযরত হাম্মাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যে নছীহত মুবারক করেছেন তা মুসলিম উম্মাহর সকলের অনুসরণীয়।

তিনি বলেন, প্রিয় আওলাদ! পাঁচখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের উপর বিশেষভাবে আমল করবেন।

১। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِءٍ مَّا نَـوٰى

অর্থ: “নিশ্চয়ই প্রতিটি আমলের প্রতিদান নিয়ত অনুযায়ী হয়ে থাকে। প্রত্যেক মানুষই যেরূপ নিয়ত করে সেরূপই প্রতিদান পাবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

অর্থাৎ ছাওয়াব ও আযাব নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমল যদি খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি রেযামন্দি হাছিলের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে ছাওয়াব পাওয়া যাবে। আর আমল যদি লোক দেখানো হয়, ধন-সম্পদ, সম্মান-মর্যাদা, নাম-ধাম, যশ-খ্যাতি অর্জনের জন্য হয় তা আযাবের কারণ হবে। নাউযুবিল্লাহ!

২। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَـرْكُهُ مَالَا يَعْنِيْهِ

অর্থ: মানুষের সম্মানিত ইসলামের সৌন্দর্য হলো অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম পরিহার করা।

মানুষ এমন অনেক কাজ করে, কথা-বার্তা বলে যার কারণে তার মূল্যবান সময় ও শ্রম নষ্ট হওয়া ব্যতীত কোন উপকারে আসে না। এরূপ অহেতুক কাজে লেগে থাকার দ্বারা নেক কাজের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। আর উক্ত সময় যিকির-ফিকির ও নেক কাজ থেকে বঞ্চিত হয়।

৩। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَا يُـؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَـفْسِهِ

অর্থ:  কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ভাইয়ের জন্য সে জিনিস পছন্দ না করবে যা নিজের জন্য পছন্দ করে।

৪। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَلْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَـيْـنَـهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَـعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّـقَى الشُّبُهَاتِ اِسْتَـبْـرَأَ لِدِينِهِ وعِرْضِهِ ومَنْ وَّقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِيْ يَـرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُـوْشِكُ أَنْ يَّـرْتَعَ فِيهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ

অর্থ: নিশ্চয়ই হালাল বস্তু সমূহ সু্স্পষ্ট এবং হারাম বস্তুসমূহ সুস্পষ্ট। আর উভয়ের মাঝে অনেক সন্দেহযুক্ত বস্তু রয়েছে। অথচ এ সম্পর্কে অনেক লোকই অজ্ঞ। কাজেই যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বস্তু হতে বিরত রইলো সে তার দ্বীন তথা ঈমান ও আমল হিফাযত করলো। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বস্তুর মধ্যে লিপ্ত হলো সে অতিশীঘ্রই হারামে প্রবেশ করবে। যেমন, রাখাল যদি শস্যক্ষেতের পাশে মেষ চড়ায় তাহলে সে মেষ শস্যক্ষেতে মুখ দিবে।

সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহ্র জন্য রয়েছে সংরক্ষিত এলাকা। যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে সে অভিশপ্ত ও ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই শরীরের মধ্যে এক টুকরা গোশত আছে যদি তা শুদ্ধ হয়, তাহলে পুরো দেহটাই শুদ্ধ হবে। আর যদি তা অশুদ্ধ বা রোগাক্রান্ত হয় তাহলে সমস্ত শরীরই অশুদ্ধ বা রোগাক্রান্ত হবে। মনে রেখো, সেটা হলো ক্বলব বা অন্তর। অর্থাৎ যাবতীয় বদ খাছলত হতে ক্বলব বা অন্তরকে  পবিত্র রাখবে।

৫। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَلْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِّسَانِهِ وَيَدِهِ

অর্থ: প্রকৃত মুসলমান সেই, যার হাত ও মুখের অনিষ্ট হতে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে।

কাজেই কখনো কোন মুসলমান ভাইকে কষ্ট দিবেনা।

উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- মহাসম্মানিত হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৯৫

ক্বায়িম মাক্বামে আবূ রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাখ্দূমুল কায়িনাত, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মহাসম্মানিত হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-৪৫

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬৫তম পর্ব)

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৭৪

উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- মহাসম্মানিত হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৯৪