সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ২৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

আহমদ ছিদ্দীক্বা মেহরীন, মুহব্বতপুর, ময়দানহাট্টা, বগুড়া

 

সুওয়াল: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘নাবিয়্যুল উম্মী’ ব্যবহার করা হয়। জানার বিষয় হচ্ছে ‘নাবিয়্যুল উম্মী’ উনার ছহীহ অর্থ ও ব্যাখ্যা কি? দলীলসহ বিস্তারিত জানাবেন।

জাওয়াব: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ‘আন নাবিয়্যুল উম্মী’ দ্বারা হযরত মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত আর কারো নিকট কোন ইলিম শিখেননি সেহেতু তিনি ‘নাবিয়্যুল উম্মী’ লক্বব মুবারকে ভূষিত হয়েছেন। যা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শ্রেষ্ঠ নবী এবং শ্রেষ্ঠ রসূল হওয়ার প্রমাণ। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু তারপরেও তিনি যে লিখতেন সেটা ছিল উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু’জিযা শরীফ। যেমন, বুখারী শরীফ উনার প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকার আল্লামা হযরত কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন।

মূলতঃ ‘নাবিয়্যুল উম্মী’ এখানে ‘উম্মী’ অর্থ সাইয়্যিদ, মূল, অভিভাবক, প্রধান, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি। অর্থাৎ যিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল বা যাকে ব্যতীত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কেউই সৃষ্টি হতেন না তিনিই ‘নাবিয়্যুল উম্মী’ লক্বব মুবারকে ভূষিত।

উপরে উল্লেখিত অর্থ ছাড়া অভিধানে ‘উম্মী’ শব্দটি ভিন্ন অর্থেও ব্যবহৃত হয় কিন্তু তা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে প্রযোজ্য নয়।

স্মরণীয় যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার এমন অর্থ, অনুবাদ, তাফসীর বা ব্যাখ্যা করা যাবে না, যা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকের খিলাফ হয়। উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান বা মর্যাদা মুবারকের খিলাফ বা বিরোধী অর্থ, অনুবাদ, ব্যাখ্যা সবই কুফরীর অর্ন্তভুক্ত। একইভাবে সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম, সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, সকল হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র  শান বা মর্যাদা মুবারকের খিলাফ বা বিরোধী অর্থ, অনুবাদ, ব্যাখ্যাও কুফরী। যা বেঈমান ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। নাঊযূবিল্লাহ!

জানা আবশ্যক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত ইলিম মুবারক উনার অধিকারী। সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু’জিযা মুবারক। তিনি মুয়াল্লিম হিসেবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে আক্ষরিক জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ اَنَّهٗ كَانَ يَكْتُبُ بَيْنَ يَدَيْهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ لَهٗ اَلْقِ الدَّوَاةَ وَحَرِّفِ الْقَلَمَ وَاَقِمِ الْبَاءَ وَفَرِّقِ السِّيْنَ وَتَـعَوَّرِ الْمِيْمَ مَعَ اَنَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمْ يَكْتُبْ وَلَـمْ يَـقْرَأْ مِنْ كِتَابِ الْاَوَّلِيْنَ

অর্থঃ হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক) লিখতেন, অতঃপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে অক্ষর লিখার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, দোয়াত এভাবে রাখুন, কলম এভাবে ঘুরান, ‘با’ (বা) কে এভাবে সোজা করে লিখুন, سين (সীন) কে পৃথক করুন, আর মীম ميم (মীম) কে বাঁকা করবেন না, অথচ তিনি দুনিয়াবী কোন কাতিবের (লিখকের) নিকট থেকে লিখা শিখেননি, আর কোন প্রাচীনকালীন কিতাব থেকেও তা পড়েননি। সুবহানাল্লাহ! (ফতহুল বারী লি শরহে বুখারী ৭/৫০৪, আশ শিফা বিতারীফি হুকমিল মুস্তফা ১/৩৫৮, কিতাবু জামিউল কুরআন ১/১৪১, তাফসীরে কুরতুবী ১৩/৩৫৩)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَمَا كُنْتَ تَـتْـلُوْا مِنْ قَـبْلِهٖ مِنْ كِتابٍ وَّلَا تَـخُطُّهٗ بِيَمِيْنِكَ إِذًا لَّارْتَابَ الْمُبْطِلُوْنَ

অর্থ: “এর পূর্বে (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত প্রকাশের পূর্বে মহাসমম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি না কোন কিতাব পড়তেন এবং না নিজ হাতে কোন কিছু লিখতেন, যদি তা করতেন, তবে বাতিলপন্থীরা নিশ্চয়ই সন্দেহ করতো (যে এটা মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম বা কিতাব নয়, আপনার রচিত কোন কিতাব)।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনকাবুত শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৮)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুফাসসির হযরত ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

كَانَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُ الْـخُطُوْطَ وَيُـخْبِرُ عَنْـهَا

অর্থ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লিখা শিক্ষা দিতেন এবং এ বিষয়ে অপরকেও অবহিত করতেন। (তাফসীরে রুহুল মায়ানী: ৬/৬১০)

এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফ উনার ‘কিতাবুল ইলম্’ এর ‘বাবু কিতাবাতিল ইলম্’ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَـمَّا اِشْتَدَّ بِالنَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجْعَهٗ قَالَ اِئْـتُـوْنِـىْ بِكِتَابٍ اَكْتُبُ لَكُمْ كِتَابًا لَاتَضِلُّوْا بَعْدَهٗ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল ইহসান মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মারীদ্বি শান মুবারক (অসুস্থতা মুবারক) বৃদ্ধি পেল। তখন তিনি উপস্থিত ছাহাবী উনাদের বললেন, আপনারা এক টুকরা কাগজ নিয়ে আসুন। আমি আপনাদের জন্য কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উপদেশ লিখে দিব, যাতে আপনারা পরবর্তী কালে পথভ্রষ্ট হবেন না। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)

উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারাও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লিখতে পারার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-

لَمَّا اِعْتَمَرَ النَّبِـيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـيْ ذِي الْقَعْدَةِ فَأَبٰـى أَهْلُ مَكَّةَ أَنْ يَّدْعُوْهُ يَدْخُلُ مَكَّةَ حَتّٰـى قَاضَاهُمْ علٰى أَنْ يُّقِيْمَ بِـهَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَـلَمَّا كَتَـبُوا الْكِتَابَ كَتَـبُـوْا هٰذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُـحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوْا لَا نُقِرُّ لَكَ بِـهٰذَا لَوْ نَـعْلَمُ أَنَّكَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مَنَـعْنَاكَ شَيْـئًا وَلٰكِنْ أَنْتَ مُـحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ أَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مُـحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُـمَّ قَالَ لِعَلِيِّ بْنِ أَبـِيْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَمْحُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَا وَاللهِ لَا أَمْـحُوْكَ أبَدًا فَأَخَذَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكِتَابَ وَلَيْسَ يُـحْسِنُ يَكْتُبُ فَكَتَبَ هٰذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُـحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাসে পবিত্র ওমরাহ্ মুবারক করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পবিত্র মক্কা শরীফবাসী উনাকে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করতে দিতে রাজী ছিল যখন তিনি তাদের সাথে এ মর্মে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হন যে, তিনি সেখানে (পবিত্র মক্কা শরীফে) তিনদিনের অধিক অবস্থান করবেন না। অতঃপর যখন সন্ধিপত্র লিখার উপর ঐক্যমত হলো, তারা লিখলো ‘এতদ্বারা মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের সাথে সন্ধি করলেন। অতঃপর পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসীরা বললো, আমরা এটা মানি না। কারণ যদি আমরা আপনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে মেনে নিয়ে থাকি তাহলে আমরা আপনাকে তো কোন রকম বাধাও দিতাম না বরং আপনি হচ্ছেন মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুতরাং এটাই লিখতে হবে।” তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আমিই সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ, তারপর তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, ‘রসুলুল্লাহ’ শব্দ মুবারক কেটে দিন। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আরজ করলেন, না, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমার পক্ষে (মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত্ব) আপনার (গুণবাচক) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক কাটা সম্ভব নয়। অতঃপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত চুক্তিপত্র খানা পবিত্র নূরুল মাগফিরহ মুবারক বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারকে নিলেন। উনার নিজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল মাগফিরহ মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারকে লিখার ইচ্ছা ছিলনা, তবুও সুন্দরভাবে লিখলেন-

هٰذَا مَا قَاضَى مُـحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

“এতদ্বারা যা চুক্তি মুবারক করলেন হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, সুনানে কুবরা লিল বায়হাক্বী শরীফ, দালায়েলুন নবুওওয়াত শরীফ, দারেমী শরীফ, ফতহুল বারী, তাফসীরে ইবনে কাছীর ইত্যাদি)

উম্মি শব্দটি আরবী ‘উম্মুন’ শব্দমূল থেকে উৎসরিত। উম্মুন শব্দের অর্থ হচ্ছে মা বা কোনো জিনিসের মূল বা আসল। যেমন পবিত্র মক্কা নগরীকে ‘উম্মুল কুরা’ অর্থাৎ দুনিয়ার সব নগরীর উৎসমূল বলা হয়। এমনিভাবে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনাকে ‘উম্মুল কিতাব’ বা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মূল বলা হয়। আরবী সমৃদ্ধ একটি ভাষা। একটি শব্দের অনেক অর্থ হয়ে থাকে। তাই বাক্যের ভাবধারা অনুযায়ী শব্দের অর্থ করতে হয়। অন্যথায় অনুবাদ বা অর্থ বিকৃত হয়ে যায়।

মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইলিম মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন।

মোটকথা, দুনিয়ার কেউ উনার শিক্ষক নয়, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিই উনার শিক্ষক। তাহলে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারকে ‘নিরক্ষর’ শব্দটি ব্যবহারের চিন্তা আসে কি করে? নাঊযূবিল্লাহ! নাঊযূবিল্লাহ!! নাঊযূবিল্লাহ!!!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন-

اِﻧَّـﻤَﺎ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﻣُﻌَﻠِّﻤًﺎ

অর্থ: নিশ্চয়ই আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুয়াল্লিম বা শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাজাহ শরীফ)

বলার অপেক্ষা রাখে না, যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শিক্ষক রুপে যমীনে তাশরীফ মুবারক আনেন তিনি আবার ‘নিরক্ষর’ হন কিভাবে? আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা বলেন না। যেমনটি মহাপবিত্র সূরা নজম শরীফ উনার মহাপবিত্র ৩ ও ৪ নং মহাপবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَمَا يَـنْطِقُ عَنِ الْـهَوٰى. إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُّـوْحَى

অর্থ: তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোন কথা মুবারক বলেন না। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২,৩)

উল্লেখ্য, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারকে এমন শব্দ ব্যবহার করা হারাম যার ভালো খারাপ, দুই রকম অর্থ হয়। যেমন মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَاۤ أَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا لَا تَـقُوْلُوْا رَاعِنَا وَقُـوْلُوا انْظُرْنَا وَاسْـمَعُوْا وَلِلْكَافِرِيْنَ عَذَابٌ أَلِيْمٌ

অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা ‘রাঈনা’ বলো না, ‘উংযুরনা’ বলো এবং মনোযোগ সহকারে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক শুনো। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (সম্মানিত ও পবিত্র সুরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৪)

আরবী ভাষায় رَاعِنَا ‘রাঈনা’ শব্দটির দুটি অর্থ:

(১) আমাদের সম্মানিত অভিভাবক।

(২) আমাদের রাখাল।

কাফিররা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখলে رَاعِنَا বলে ডাকত এবং হাসা- হাসি করত। নাউযুবিল্লাহ!

আবার কয়েকজন সাধারণ মুসলমান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ঐ শব্দ মুবারকে ডাকতেন বা আর্জি পেশ করতেন। কিন্তু মুসলমান উনাদের উদ্দেশ্য ছিল ভাল। কাফিররা তা দেখে উৎফুল্ল প্রকাশ করতো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনদেরকে ‘রাঈনা’ না বলে, বরং ‘উংযুরনা’ বলতে আদেশ মুবারক দেন। ‘রাঈনা’ শব্দের যেহেতু ভালো ও মন্দ উভয় অর্থ রয়েছে, তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে রাঈনা শব্দ ব্যবহার নিষেধ করে দেয়া হয়েছে।

আর ‘উংযুরনা’ শুধুমাত্র ভালো অর্থ প্রদান করে (কৃপাদৃষ্টি বুঝায়), তাই এরূপ শব্দ ব্যবহার করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্দেশ মুবারক দান করেন।

এ নির্দেশ মুবারক থেকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারকে কেমন শব্দ মুবারক ব্যবহার করতে হবে আর কেমন অর্থ মুবারক গ্রহণ করতে হবে তা মুসলমান মাত্রই সকলকে চিন্তা-ফিকির করতে হবে। অন্যথায় উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান বা মর্যাদা মুবারক উনার বিন্দুতম খিলাফ অর্থ গ্রহণ ও শব্দ ব্যবহার করলে ঈমানহারা হয়ে চির জাহান্নামী হতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لَاتَـجْعَلُوْا دُعَآءَ الرَّسُوْلِ بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُم بَعْضًا ۚ قَدْ يَعْلَمُ اللهُ الَّذِيْنَ يَـتَسَلَّلُوْنَ مِنْكُمْ لِوَاذًا ۚ فَـلْيَحْذَرِ الَّذِيْنَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ أَمْرِهٖ أَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْـنَةٌ أَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ

অর্থ: তোমরা পরস্পরকে যেভাবে ডাকো মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেভাবে ডেকো না; তোমাদের মধ্যে যারা চুপিসারে সরে পড়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে ভালভাবে জানেন; যারা (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার মুবারক আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের উপর বিপর্যয় নেমে আসে অথবা যন্ত্রনাদায়ক আযাব পৌঁছার ভয় করে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারকে ব্যবহৃত ‘উম্মি’ শব্দ মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে তিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের উৎস, সৃষ্টির মুল এবং সকলপ্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল।

‘উম্মুন’ (اُمٌّ) যার مَادَّةٌ বা মূল হল اَلِفٌ এবং مِیْمٌ আরবী ভাষায় উম্মুন শব্দটির অর্থ হল উৎপত্তি, উদ্ভব, মূল বা উৎস। আরবী ভাষায় ‘মা’কে উম্মুন এই জন্য বলা হয় যে, মা হল সন্তানের মূল বা উৎস। আরবী ভাষায় ‘উম্মুন’ এর সংজ্ঞা এভাবে করা হয়েছে-

يُقَالُ لِكُلِّ مَا كَانَ اَصْلًا لِوُجُوْدِ شَيْءٍ اَوْ مَبْدَأَهٗ

অর্থ: যে কোন বস্তু তার মূল বা উৎসকে ‘উম্মুন’ اُمٌّ বলা হয়। আর এই উম্মুন শব্দ থেকেই উম্মি এসেছে। কেননা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গোটা সৃষ্টি ও মানব জাতীর উৎস বা মুল, তাই উনাকেও উম্মি বলা হয়।

‘ইমাম’ اِمَامٌ শব্দটিও উম্মুন শব্দ থেকে বের হয়েছে। কোন এক বিষয়ে যার অনুসরণ করা হয় তাকে ইমাম বলে। আর সমস্ত বিষয়ে যার অনুসরণ করা হয় তিনিই হলেন নবীয়ে উম্মি তথা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

هُوَ الَّذِيْ بَعَثَ فِـي الْأُمِّيِّيْنَ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ يَتْلُوْ عَلَيْهِمْ اٰيَاتِهٖ وَيُزَكِّيْهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْـحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُـوْا مِنْ قَـبْلُ لَفِيْ ضَلَالٍ مُّبِيْنٍ

অর্থাৎ তিনিই মহান সত্বা যিনি উম্মিদের (অর্থাৎ উম্মুল ক্বুরা মক্কা বাসিদের) মধ্যে একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে মহাপবিত্র আয়াত শরীফ সমুহ পড়ে শুনান, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং মহাপবিত্র কিতাব মুবারক ও হিকমত মুবারক শিক্ষা দেন, অথচ ইতিপূর্বে তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল। (মহাপবিত্র সূরা জুমুয়াহ শরীফ, মহাপবিত্র আয়াত শরীফ ২)

উল্লেখ্য, যদি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিরক্ষর হতেন (নাঊযূবিল্লাহ!) তাহলে মহাপবিত্র আয়াত শরীফে বলা হতো না যে, তিনি তাদেরকে মহাপবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করে শুনাবেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন এবং তাদেরকে মহাপবিত্র কিতাব মুবারক ও হিকমত মুবারক শিক্ষা দিবেন।

আরো উল্লেখ্য, অশিক্ষিতদের শিক্ষা দেয়ার জন্য মুর্খ শিক্ষক নিয়োগ করা বোকামি নয় কি? অথচ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শিক্ষক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছেন। আর যিনি শিক্ষক হন তিনি কখনো নিরক্ষর কিংবা মুর্খ হন না।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

فَاٰمِنُـوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ النَّبِـيِّ الْاُمِّيِّ

অর্থ: সুতরাং তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ও উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাবিয়্যিল উম্মী (ছিফত মুবারক বা উপাধি মুবারক ধারী) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনো। (যিনি মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া আর কারো থেকে কিছুই শিখেননি, জানেননি, কিন্তু সৃষ্টিজগতের সকলের থেকে বেশি জ্ঞানী)। (মহাপবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ, মহাপবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৮)

উক্ত মহাপবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যে ‘নবীয়ে উম্মি’ শব্দ মুবারক ব্যবহার হয়েছে। এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে। এর একটি অর্থের আলোকে প্রমাণিত যে, তিনি সমগ্র কায়েনাতের মুল ও সমস্ত দৃশ্য-অদৃশ্য জ্ঞানবিজ্ঞানের উৎস।

হযরত ইমাম বুসিরি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দুনিয়া ও আখিরাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বদান্যতার সামান্য অংশ। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লাওহ মুবারক ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কলম মুবারক উনাদের জ্ঞান উনার জ্ঞান-বিজ্ঞানের কিয়দাংশ মাত্র। (ক্বাসিদায়ে বুরদাহ শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র মক্কা শরীফ নগরিকে ‘উম্মুল কুরা’ বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَهٰذَا كِتٰبٌ أَنزَلْنٰهُ مُبَارَكٌ مُّصَدِّقُ ألَّذِىْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُـنْذِرَ أُمَّ الْقُرٰى وَمَنْ حَوْلَـهَا

অর্থ: আর ইহা ঐ কিতাব যা আমি নাযিল করেছি (তা) বরকতময়, পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী। আর তা এ কারণে (নাযিল করা হয়েছে) যে, আপনি নগরীর মূলকেন্দ্র (পবিত্র মক্কা শরীফ) বাসীদের এবং এর পার্শ্ববতী (সকল অঞ্চলের) লোকদের সতর্ক করবেন। (মহাপবিত্র সূরা আনআম শরীফ, মহাপবিত্র আয়াত শরীফ ৯২)

এ থেকে বুঝা গেলো যে, সকল গ্রাম ও শহরের মূলকেন্দ্র ও উৎস হলো পবিত্র মক্কা শরীফ।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, এ পবিত্র শহর সম্মানের দিক দিয়ে পৃথিবীর অপরাপর শহর থেকে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদা সম্পন্ন। যেহেতু এ পবিত্র শহরকে বিস্তৃত করে ভূম-ল অস্তিত্ব লাভ করেছে। তাই এ পবিত্র শহরকে উম্মুল কুরা বলা হয়।

অনুরূপভাবে ‘নবীয়ে উম্মি’ অর্থ সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদা সম্পন্ন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَلْـحَمْدُ لِلّٰهِ أُمِّ الْقُرْاٰنِ وَأُمِّ الْكِتَابِ وَالسَّبْعِ الْمَثَانِـيْ

অর্থ: আলহামদুলিল্লাহ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুরা ফাতিহা শরীফ) উম্মুল কুরআন, উম্মুল কিতাব ও সাবয়ে মাছানি। (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, বায়হাক্বী শরীফ, সুনানুল কুবরা)

হযরত ইমাম কুরতূবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

وَأُمُّ الْقُرْاٰنِ سُوْرَةُ الْـحَمْدِ وَقِيْلَ سُـمِّيَتْ اُمُّ الْقُرْاٰنِ لِأَنَّـهَا أَوَّلُهٗ وَمُتَضَمِّنُهٗ لِـجَمِيْعِ عُلُوْمِهٖ

অর্থ: উম্মুল কুরআন হলো সুরা ফাতিহা শরীফ। এ পবিত্র সূরা শরীফ উনাকে উম্মুল কুরআন এ কারণে বলা হয় যে, ইহা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রথম আর এ পবিত্র সূরা শরীফ উনার মধ্যে সকল জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। (আহকামুল কুরআন)

উপরোক্ত বর্ণনার ভিত্তিতে প্রতিভাত হয় যে, যার মাধ্যমে কায়েনাতের সূচনা, যার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক সমগ্র সৃষ্টিজগতের উৎস, যার হাক্বীক্বত মুবারক কায়েনাতের ভিত্তি, যার মাধ্যমে সকল বস্তু অস্তিত্ব লাভ করেছে, তিনিই আমাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনিই সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে উম্মী বা মূল। আর উনাকেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মি লক্বব মুবারক তথা উপাধী মুবারক দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ তাআলা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كَمَاۤ أَرْسَلْنَا فِيْكُمْ رَسُوْلًا مِّنْكُمْ يَـتْـلُوْا عَلَيْكُمْ أٰيٰتِنَا وَيُزَكِّيْكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتٰبَ وَالْـحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَّا لَـمْ تَكُوْنُـوْا تَـعْلَمُوْنَ

অর্থ: যেমন, আমি পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, যিনি তোমাদের নিকট আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াতসমুহ তিলাওয়াত করে শুনাবেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র করবেন; আর তোমাদেরকে শিক্ষা দিবেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কিতাব ও হিকমত বা তত্ত্বজ্ঞান এবং শিক্ষা দেবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানতে না (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫১)

অতএব, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে ‘নাবিয়্যুল উম্মী’ তথা ‘সৃষ্টির মূল’ এবং ‘সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সম্মানিত নবী’ এ আক্বীদা মুবারক সকলকে পোষণ করতে হবে। এর খিলাফ সমস্ত কুফরী আক্বীদা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মুহম্মদ আব্দুল্লাহ, লাখাই, হবিগঞ্জ

সুওয়াল: আমাদের এলাকার এক বক্তার ওয়াজের ভিডিও শুনেছি সে বলেছে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ২৭০তম সংখ্যার লাস্ট কভার পৃষ্ঠায় লিখেছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বত্র হাযির ও নাযির। এটা ইসলামে মনগড়া কথা। এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব আরজি করছি।

জাওয়াব: মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার বহু সংখ্যায় সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণের আলোকে প্রমাণ করা হয়েছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইলিম মুবারক ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু’জিযা শরীফ উনার মাধ্যমে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রহমত মুবারক উনার মাধ্যমে সর্বত্র হাযির ও নাযির। এমনকি উক্ত ২৭০তম সংখ্যার প্রথম সুওয়ালের জাওয়াবে উল্লেখ রয়েছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোনকিছু দেখার জন্য, জানার জন্য বা শোনার জন্য কোথাও যাওয়ার মোটেও প্রয়োজন নেই। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইলম ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সম্মানিত মু’জিযা শরীফ উনার মাধ্যমে সারা কায়িনাতের সমস্ত সংবাদ নিতে পারেন ও নিয়েও থাকেন। যেরূপ খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইলিম ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুদরত মুবারকের মাধ্যমে সারা কায়িনাতের সমস্ত সংবাদ জেনে থাকেন ও নিয়ে থাকেন।

কিন্তু আশাদ্দুদ দরজার জাহিল, পথভ্রষ্ট, মিথ্যাবাদী, মুনাফিক, উলামায়ে সূ, জাহান্নামের কীট সে উক্ত অকাট্য দলীল সমৃদ্ধ সঠিক ফতওয়া গোপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার মানসে উক্ত সংখ্যার লাস্ট (শেষ) পৃষ্ঠা কভারে এক লাইনে প্রকাশিত লেখা মুবারক উল্লেখ করেছে। নাউযুবিল্লাহ!

সে এতটা গ- মূর্খ যে, যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি মুসলমান হিসেবে কি আক্বীদা রাখতে হবে সে সেটাই জানে না। নাউযুবিল্লাহ! অন্যথায় সে কি করে এ উদাহরণ দিল যে, “আল্লাহ পাক তিনি গতকাল আমাদের শায়েস্তাগঞ্জে এসেছিলেন আজকে চলে গেছেন। আল্লাহ পাক সবসময় সব জায়গায় আছেন। আসবেন কোথায় আর যাবেন কোথায়? আল্লাহ পাক যেহেতু সবখানে সবসময় আছেন এজন্য আল্লাহ পাক উনার আসা যাওয়া নাই। সোজা কথা হাযির নাযিরের আসা যাওয়া নাই। আর যার আসা যাওয়া আছে সে হাযির নাযির না।” নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

উক্ত বক্তব্য দ্বারা সে মুশাব্বেহা ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত বনে গেছে। অর্থাৎ সে জাহান্নামী ৭২ ফিরক্বার অর্ন্তভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ! জাহিল বক্তার জানা উচিৎ যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন সৃষ্টির মতো নন। আর তিনি জিসিম তথা দেহ বা শরীর এবং ছূরত বা আকার-আকৃতি থেকে পবিত্র। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি কোথাও আসবেন বা কোথাও যাবেন এরূপ বলাটা কুফরী।

আর সে যে বলেছে, “যার আসা যাওয়া নাই সে হাযির নাযির না।” তার এ বক্তব্যও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে সম্পূর্ণ মনগড়া, বিভ্রান্তিকর, দলীলবিহীন সর্বোপরি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ বা বিরোধী হওয়ার কারণে কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আর উক্ত মনগড়া, বিভান্তিকর ও কুফরী বক্তব্যের সপক্ষে সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার ৪৪ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইউসুফ শরীফ উনার ১০২ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ একই ধরনের দু’খানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উল্লেখ করে বলেছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু হাযির নাযির না এইজন্য উক্ত দু’খানি সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে উনাকে ঘটনা জানিয়ে দিয়েছেন। নাউযুবিল্লাহ!

মূলতঃ উক্ত দু’খানি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শরীফ উনার মধ্যে

وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ

কালাম মুবারক উল্লেখ রয়েছে। যার হাক্বীক্বী অর্থ চরম চাটুকার বক্তা উপলব্ধি করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে উক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘মা’ শব্দটিকে যায়িদা বা অতিরিক্ত হিসেবে গ্রহণ করে অর্থ করতে হবে। যেরূপ সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ৫৪ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকে  مَكَرَ

শব্দটির অর্থ ধোকাবাজি’র পরিবর্তে হিকমত অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।

মোটকথা, মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকে এবং উনার সম্মানিত ও মনোনীত ব্যক্তিত্ব উনাদের শান মুবারকে যে সমস্ত শব্দ মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে উক্ত প্রতিটি শব্দ মুবারকের অর্থ ও ব্যাখ্যা উনাদের শান মুবারক অনুযায়ী করতে হবে। ব্যতিক্রম করলে কুফরী হবে।

আর মুসলমান মাত্রই স্মরণ রাখতে হবে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নাযিল ও ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যারা মনোনীত ব্যক্তিত্ব উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান বা মর্যাদা মুবারক বজায় রাখার জন্য। উনাদের মর্যাদা মুবারক ক্ষুণœ করার জন্য নয়। যদি তাই হয় তাহলে যেভাবে ও যে অর্থ গ্রহণ করলে উনাদের শান মুবারক বজায় থাকবে সেভাবে ও সেই অর্থ মুবারকই গ্রহণ করতে হবে; তা লুগাত বা অভিধান শাস্ত্রে থাকুক বা না থাকুক। আর লুগাত বা অভিধান শাস্ত্র সম্মানিত শরীয়ত উনার দলীলও নয়।

আরো মনে রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদী বা হিদায়েত দানকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। উনাকে হিদায়েত দেয়ার জন্য নয়। সুতরাং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করা হয়েছে উম্মতের হিদায়েতের জন্য। আর যেহেতু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি তাই উনাকে সম্বোধন করেই অনেক সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, তবে উক্ত সমস্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিধান উম্মতের জন্য।

প্রকাশ থাকে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর জন্য রহমত মুবারক স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَاۤ أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِيْنَ

অর্থ: আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে সমস্ত জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৭)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতিটি সৃষ্টি মুবারক উনার বালুকণা থেকে শুরু করে মহাপবিত্র আরশে আযীম বরং তা থেকেও উর্ধ্ব পর্যন্ত অর্থাৎ সকল কিছুতেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমতী অস্তিত্ব মুবারক রয়েছে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি যতদূর বিস্তৃত, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমতী ওজূদ বা অস্তিত্ব মুবারকও ততদূর বিস্তৃত। সুবহানাল্লাহ!

অনুরূপভাবে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ نُـوْرِىْ وَخَلَقَ كُلَّ شَىْءٍ مِّنْ نُّـوْرِىْ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক হতে সকল কিছুই সৃষ্টি করেছেন। (নূরে মুহম্মদী, আল-ইনসানুল কামিল, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী)

আর এ কারণেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রহমত মুবারক হিসেবেই কুল-কায়িনাতে হাযির ও নাযির। মূলত উনার সৃষ্টি মুবারকও কুদরতময়। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার অধীন ছিলেন, আছেন এবং অনাদী অনন্তকালও তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার অধীন থাকবেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতময় বিষয়গুলো সাধারণত মানুষের জ্ঞানের বাইরে হয়ে থাকে। তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার সর্ম্পকে ইলিম মুবারক দান করেন তিনিই কেবল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার বিষয় উপলব্ধি করতে পারেন। আর পবিত্র অন্তর ব্যতীত এবং নিছবত মুবারক ব্যতীত তা উপলব্ধি করা কখনোই সম্ভব হয় না।

দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَاۤ أَيُّـهَا النَّبِيُّ إِنَّاۤ أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْـرً. وَدَاعِيًا إِلَى اللهِ بِإِذْنِهٖ وَسِرَاجًا مُّنِيْـرًا

অর্থ: আয় আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশানুসারে উনার দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। ( সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৫, ৪৬)

সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ কোন সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয় বরং ক্বিয়ামত পর্যন্ত এমনকি তার পরেও। আর شَاهِدًا শব্দের অর্থ তিনি প্রত্যক্ষকারী বা সাক্ষী তথা হাযির-নাযির। কেননা তিনি না দেখলে সাক্ষ্য দিবেন কিভাবে। তিনি সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী ও মহান আল্লাহ পাক উনার পথে আহ্বানকারী হওয়ার বিষয়টিও তদ্রূপ।

সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে سِرَاجًا مُّنِيْـرًا মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বলা হয়েছে। সিরাজাম মুনীরা সূর্যকেও বলা হয়। সূর্য যেমন পৃথিবীর সবখানে বিদ্যমান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও প্রত্যেক জায়গায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রহমত হিসেবে বিরাজমান। উক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রতিটি শব্দ মুবারক থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাযির নাযির হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত।

তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

أَلَـمْ تَـرَ كَيْفَ فَـعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِـيْلِ

অর্থ: আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি দেখেননি, আপনার রব তায়ালা তিনি হস্তীবাহিনীকে কি অবস্থা করেছেন?

أَلَـمْ تَـرَ كَيْفَ فَـعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ

অর্থ: আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি দেখেননি, আপনার রব তায়ালা আদ জাতির সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেছেন?

আদ জাতি ও হস্তিবাহীনির ঘটনাবলী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বেই সংঘটিত হয়েছে। অথচ বলা হচ্ছে أَلَـمْ تَرَ (আপনি কি দেখেননি?) অর্থাৎ দেখেছেন।

অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পাক তিনি কাউকে নিয়ামত মুবারক দিলেই নিয়ামত প্রাপ্ত ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক হয়ে যান না। বরং এটা প্রদত্ত ক্ষমতা। তাই মহাসম্মানিত ও হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সকল গুণাবলীই হাদিয়া মুবারক করেছেন। এ সর্ম্পকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

صِبْـغَةَ اللهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ صِبْـغَةً ۖ وَنَـحْنُ لَهٗ عَابِدُوْنَ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার গুণে গুণান্বিত হও, মহান আল্লাহ পাক উনার গুণাবলীর চেয়ে উত্তম গুণাবলী আর কার হতে পারে? আমরা উনারই ইবাদত করি। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৮)

অতএব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী ও রহমতী অস্তিত্ব মুবারক সৃষ্টির সকল কিছুতেই রয়েছে, যার যার যোগ্যতা অনুসারে তিনি দেখতে পান। কিন্তু পাপিষ্ঠরাই এলোমেলো কথা বলে। নাউযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

‏ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِـيْ قَـبْرِهٖ وَتَـوَلّٰى عَنْهُ أَصْحَابُهٗ وَإِنَّهٗ لَيَسْمَعُ قَـرْعَ نِعَالِـهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَـيُـقْعِدَانِهٖ فَـيَـقُوْلَانِ مَا كُنْتَ تَـقُوْلُ فِـي الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَـيَـقُوْلُ أَشْهَدُ أَنَّهٗ عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏.‏

অর্থ: যখন কোন মু’মিন বান্দাকে কবরে রাখা হয় এবং তাকে দাফনকারী সকলেই চলে আসে তখন দু’জন ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা এসে তাকে বসান এবং দু’জনকেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিয়ে উনার দিকে ইশারা করে বলেন, আপনি দুনিয়াতে উনার ব্যাপারে কি বলতেন, তখন মু’মিন ব্যক্তি বলেন, আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (বুখারী শরীফ)

উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং আরো অনেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা সমূহের মাধ্যমেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাযির ও নাযির উনার বিষয়টি প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!

মূলতঃ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি জিসিম ও ছূরত-এ দুটির কোনো একটি হিসেবে হাযির ও নাযির নন। বরং তিনি ছিফত অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইলিম ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনাদের দ্বারা কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিফত অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইলিম ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু’জিযা শরীফ উনার দ্বারা এবং ছিফত অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রহমত মুবারক উনার দ্বারা কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির। আর এ বিষয়ে নক্বলী এবং আক্বলী অসংখ্য দলীল-আদিল্লাহ রয়েছে।

স্মরণীয় যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পুরো কায়িনাতের জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রহমত মুবারক স্বরূপ। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রহমত মুবারক হিসেবে সারা কায়িনাতকে বেষ্টন করে আছেন। কায়িনাত মাঝে রহমত শূন্য কোন স্থান নেই। তাই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাযিরী ও নাযিরী ব্যতিত কোন স্থান, কাল, পাত্র, ব্যক্তি ও বস্তু নেই। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ্ শরীফ উনার ৯ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّاۤ اَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا

 অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’

জানা আবশ্যক, যিনি স্বাক্ষ্য দিবেন উনার জন্য যেরূপ হাযির বা উপস্থিত থাকা শর্ত তদ্রƒপ নাযির বা দেখাও শর্ত। এছাড়া মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قِيْلَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرَاَيْتَ صَلَاةَ الْـمُصَلِّيْنَ عَلَيْكَ مِـمَّنْ غَابَ عَنْكَ وَمَنْ يَّاْتِىْ بَعْدَكَ مَا حَالُـهُمَا عِنْدَكَ فَـقَالَ اَسْـمَعُ صَلَاةَ اَهْلِ مَـحَبَّتِـىْ وَ اَعْرِفُـهُمْ تُـعْرَضُ عَلَىَّ صَلَاةُ غَيْرِهِمْ عَرَضًا

অর্থ : নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আরজ করা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যারা বাহ্যিকভাবে সরাসরি ছোহবত মুবারক হতে অনুপস্থিত এবং যারা আপনি দুনিয়া হতে পর্দা মুবারক করার পর দুনিয়াতে আসবে এবং তাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সালাম শরীফ পেশ করার বিষয়টি আপনার নিকট কিরুপ? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খালিছ মুহব্বতের সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত শরীফ পেশকারীগণ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত শরীফ আমি সরাসরি শুনি এবং উনাদেরকে আমি খুব ভালভাবে চিনে থাকি। আর অন্যদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারকও আমার নিকট পেশ করা হয়। (দালায়িলুল খ¦ইরাত)

অর্থাৎ, যে বা যারা যখন, যেখান থেকে ও যেভাবেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সালাম মুবারক পেশ করুক না কেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবই শুনেন এবং দেখেন। এ ছাড়া ‘বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّـمَا اَنَا قَاسِمٌ وَّاللهُ يُعْطِىْ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন আর নিশ্চয়ই আমি হলাম বণ্টনকারী।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সর্বপ্রকার নিয়ামত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুল-মাখলূক্বাতের যাকে যতটুকু ইচ্ছা তাকে ততটুকু নিয়ামত বণ্টন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, যিনি কায়িনাতবাসীর জন্য নিয়ামত বণ্টনকারী; তিনি যদি কায়িনাতবাসীর কাছে হাযির বা উপস্থিত না থাকেন এবং তাদেরকে না দেখেন তথা তিনি নাযির না হন, তাহলে তিনি তাদের মাঝে কিভাবে নিয়ামত বণ্টন করবেন? কাজেই কায়িনাতের সমস্ত সৃষ্টির জন্যেই তিনি যেহেতু নিয়ামত বণ্টনকারী, সেহেতু বলার অপেক্ষা রাখে না- সবকিছুই উনার নিকট হাযির ও নাযির।

হযরত ইমাম তবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত নঈম ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّ اللهَ قَدْ رَفَعَ لِـىَ الدُّنْـيَا فَاَنَا اَنْظُرُ اِلَيْهَا وَاِلـٰى مَا هُوَ كَائِنٌ فِـيْـهَا اِلـٰى يَـوْمِ الْقِيَامَةِ كَاَنَّـمَا اَنْظُرُ اِلـٰى كَفِّىْ هٰذِهٖ

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এই পৃথিবীকে আমার নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চোখ মুবারক উনার সামনে এরূপভাবে রেখেছেন যে, আমি এ সমগ্র পৃথিবীকে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার মধ্যে যা কিছু সৃজিত বা সংঘটিত হবে তদসমূহকে ওইরূপভাবে দেখি, যেরূপ আমার নূরুল মাগফিরাত তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক উনার তালু মুবারক দেখে থাকি।” সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ)

উপরে উল্লেখিত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনা দ্বারা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাত মাঝে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রহমত মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইলিম মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু’জিযা মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাক্ষী এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বণ্টনকারী হিসেবে হাযির ও নাযির। সুবহানাল্লাহ!

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ৯৪তম সংখ্যা পাঠ করুন।

 

শেখ আবূ আব্দুল্লাহ মুবাশশির, দাড়িদহ, বগুড়া

 

সুওয়াল: আমরা জানি, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখা সত্য। তবে কোন কাফির, মুশরিক, মুসলমান নামধারী মুনাফিক, ফাসিক, যালিম, হিংসুক, মিথ্যাবাদী, চোগলখোর বা বদখাছলতধারী ব্যক্তি কি স্বপ্নে উনার দীদার মুবারক পেতে পারে? আর উক্ত ব্যক্তি যদি স্বপ্নের কথা প্রকাশ করে তাহলে তা বিশ্বাস করা কি জরুরী? দলীলসহ জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নযোগে দেখা সত্য। এমনকি সরাসরি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক বা সাক্ষাত মুবারক হওয়াও সত্য। আবার মুরাকাবার মাধ্যমে ও মুশাহাদার মাধ্যমেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক লাভ হয় সেটাও সত্য। সুবহানাল্লাহ!

আর কোন কাফির, মুশরিক, মুনাফিক, ফাসিক, যালিম, হিংসুক, মিথ্যাবাদী, চোগলখোর বা বদখাছলতধারী ব্যক্তি হিদায়েত পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক লাভ করতে পারে বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদেরকে হিদায়েত দানের উদ্দেশ্যে স্বপ্নে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক দিতে পারেন। কেউ যদি সত্যিই স্বপ্নে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখে এবং তা সাধারন মুসলমানদের নিকট বলে তখন যাদের নিকট বলেছে বা প্রকাশ করেছে তাদের সকলের জন্য সেটা বিশ্বাস করা ফরয। এমনকি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কেউ স্বপ্নে না দেখে মিথ্যা প্রচার করলেও তা বিশ্বাস করতে হবে। এটাও ফরয। কিন্তু উনাকে না দেখে যে উনার নামে মিথ্যা বলবে সে কুফরী গুনাহে গুনাহগার হবে এবং জাহান্নামীদের অর্ন্তভুক্ত হবে। নাঊযুবিল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَـيْرِ عَنْ أَبِيْهِ الزُّبَـيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰـى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَـعَمِّدًا فَـلْيَـتَـبَـوَّأْ مَقْعَدَهٗ مِنَ النَّارِ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমি শুনেছি, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করলো, সে অবশ্যই তার আবাসস্থল জাহান্নামে নির্ধারণ করে নিল। নাঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র  হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখার বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

أِنَّ حَضْرَتْ أَبَا هُرَيْـرَةَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ النَّبِـيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ مَنْ رَاٰنِـيْ فِـي الْمَنَامِ فَسَيَـرَانِـيْ فِـي الْيَـقْظَةِ وَلَا يَـتَمَثَّلُ الشَّيْطَانُ بِـيْ

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নযোগে দেখল সে যেন আমাকে বাস্তবেই দেখল। কারণ শয়তান আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আকৃতি মুবারক ধারণ করতে পারে না। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, ইবনে হিব্বান শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, দারেমী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

 عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِّنْ سِتَّةٍ وَّأَرْبَعِيْنَ جُزْءًا مِّنَ النُّـبُـوَّةِ

অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মু’মিনের স্বপ্ন হচ্ছে নুবুওওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ رَاٰنِـيْ فِـي الْمَنَامِ فَكَأَنَّـمَا رَاٰنِـيْ فِـي الْيَـقْظَةِ إِنَّ الشَّيْطَانَ لَايَسْتَطِيْعُ أَنْ يَّـتَمَثَّلَ بـِيْ

অর্থ: “নিশ্চয়ই শয়তান আমার আকৃতি মুবারক ধারণে সক্ষমতা রাখে না।” (ইবনু মাজাহ শরীফ)

অর্থাৎ, শয়তানের সে সক্ষমতাই নেই যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আকৃতি মুবারক সে ধারণ করবে ।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ قَـتَادَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ رَاٰنِـيْ فَـقَدْ رَأَى الْـحَقَّ

অর্থ: হযরত আবূ কাতাদাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে সে সত্যই দেখেছে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

উল্লেখিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহ সম্পর্কে ‘উলামাগণ বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বপ্নে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখবে তা সত্যই। চাই সে ব্যক্তি মুবারক স্বপ্নটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুবক বয়স মুবারকে উপনীত অবস্থায় দেখুক বা বৃদ্ধ বয়স মুবারকে উপনীত অবস্থায় দেখুক। যদি তার স্বপ্ন দেখা এমন হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা (মাথা) মুবারক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল ফাতাহ মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক যতটি সাদা হয়েছিল স্বপ্নের মাঝে তাও দেখেছে তাহলেও তার স্বপ্ন সত্যই। স্বপ্ন দেখলে তা সত্যই হবে। এতে মিথ্যার সম্ভাবনা নেই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

হযরত আসিম ইবন কুলাইব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন: আমি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বলেছি, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেছি, তিনি বললেন, “আমার কাছে উনার বর্ণনা দাও”, তিনি বলেন, “আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হযরত হাসান) আলাইহিস সালাম উনার উল্লেখ করলাম এবং বললাম যে, তিনি উনার মতো দেখতে”, তিনি বললেন, “তুমি অবশ্যই উনাকে দেখেছো। সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল বারী ১২/৩৮৩-৩৮৪)

কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র  হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখা সত্য। যিনি উনাকে স্বপ্নে দেখলেন তিনি সৌভাগ্যবান। ঈমানদার হলে তিনি অবশ্যই জান্নাতী হবেন। সুবহানাল্লাহ! আর মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করলে সে অবশ্যই জাহান্নামী হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

 

আহমদ জান্নাতুল ওয়াকিয়া, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম

সুওয়াল: আমরা অনেক ক্ষেত্রে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রহীম’ উনার পরিবর্তে অঙ্কে ৭৮৬ লিখে থাকি। কিন্তু ইদানিং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম বিরোধী কিছু লোক প্রচার করছে যে, ৭৮৬ লেখাটা ভিত্তিহীন। তারা আরো প্রচার করছে যে, উক্ত ৭৮৬ নাকি হিন্দুদের ‘হরে কৃষ্ণ’ শব্দের মান। নাঊযুবিল্লাহ! এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব দিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন করবেন।

জাওয়াব: যে কোন নেক আমলের শুরুতে ‘তাসমিয়াহ’ অর্থাৎ ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ বলে শুরু করা সুন্নত এবং রহমত-বরকতের কারণ। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

كُلُّ اَمْرٍ ذِىْ بَالٍ لَـمْ يَـبْدَأْ بِبِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ اَقْطَعُ

অর্থ: যে কাজ (নেক) শুরুতে বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয় না তা কর্তনযুক্ত অর্থাৎ সে কাজের মধ্যে কোন কল্যাণ বা বরকত থাকে না। (আল জামিউ লিআখলাকির রাবী লিল খতীব বাগদাদী, জামউল জাওয়ামি’ লিস সুয়ূত্বী)

তাই প্রত্যেক ভাল বা নেক কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করাটা সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম।

স্মরণীয় যে, প্রত্যেক ভাল কাজের শুরুতে যেমনিভাবে বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম লেখা নিয়ম তদ্রƒপ ভাল কাজ লিখনীর মাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচারের ক্ষেত্রেও বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম লেখা নিয়ম।

আর বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম যেহেতু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ এবং তা যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার ভাষায় আরবীতে লিখা হয় তাহলে লিখিত প্রতিটি বস্তু সংরক্ষণ করা অপরিহার্য হবে। কেননা তাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْـمٰنِ الرَّحِيْمِ

(বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম) লেখা রয়েছে।

আরবীতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ লিখা হলে সবার পক্ষে হয়তো উক্ত লিখিত বস্তুর সম্মান রক্ষা করা সম্ভব হবে না; সেজন্য অনেকে বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম আরবীতে না লিখে বাংলাতে লিখে থাকেন। আবার কেউ আবজাদের হিসাব অনুযায়ী ৭৮৬ অঙ্কে লিখে থাকেন।

স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছেন সম্মানিত ইসলাম। আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে রয়েছে সমস্ত বিষয়ের ফায়ছালা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, আবজাদ উনার হিসাব অনুযায়ী আরবী অক্ষর সমূহের যে মান বর্ণনা করা হয়েছে সে বিষয়টিও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যেই রয়েছে। যেমন এ প্রসংঙ্গে ‘মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ’ কিতাবে বণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَأَلَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَبـْجَدْ هَوَّزْ حُطِّيْ كَلِمَنْ سَعْفَصْ قَرْشَتْ فَـقَالَ الْأَلِفُ اٰلَاءُ اللهِ وَالْبَاءُ بَـهَاءُ اللهِ وَالْـجِيْمُ جَمَالُ اللهِ وَالدَّالُ دِيْنُ اللهِ وَأَمَّا هَوَّزْ فَأَهْوَالُ جَهَنَّمَ وَأَمَّا حُطِّيْ فَهِيَ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ تَـحُّطُّ الْـخَطَايَا وَأَمَّا كَلِمَنْ فَكَافٌ مِّنْ كَرِيْـمٍ وَلَامٌ مِّنَ اللهِ وَمِيْمٌ مِّنْ مَّنَّانَ وَنُـوْنٌ مِّنَ الْـمُهَيْمِنِ وَأَمَّا سَعْفَصٌ فَصَاعٌ بِصَاعٍ كَمَا تَدِيْنُ تُدَانُ وَأَمَّا قَـرْشَتْ فَـقَرْفَصَةُ النَّاسِ لِلْحِسَابِ

অর্থ: রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, আমীরুল মু’মিনীন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আবজাদ, হাওওয়াঝ, হুত্তী, কালিমান, ছ’ফাছ, ক্বরশাত সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করলেন, জাওয়াবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আলিফ’ হচ্ছেন ‘আলাউল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ মুবারক। ‘বা’ হচ্ছেন ‘বাহাউল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার জ্যোতি, প্রভাব মুবারক। ‘জীম’ হচ্ছেন ‘জামালুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার সৌন্দর্য মুবারক।‘দাল’ হচ্ছেন ‘দী-নুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীন বা বিধান মুবারক। অতঃপর ‘হাওওয়াঝ’ উনার ব্যাখ্যা জাহান্নামের অধিবাসী। ‘হুত্তী’ উনার ব্যাখ্যা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। ইহা গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়। আর ‘কালিমান’ উনার মধ্যে ‘কাফ’ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছিফতী নাম মুবারক ‘কারীম’ থেকে এসেছে। ‘লাম’ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম মুবারক ‘আল্লাহ’ থেকে এসেছে। ‘মীম’ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছিফতী নাম মুবারক ‘মান্নান’ থেকে এসেছে। এবং ‘নূন’ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছিফতী নাম মুবারক ‘মুহাইমিন’ থেকে এসেছে। আর ‘ছ’ফাছ’ উনার ব্যাখ্যা সা’ এর বিনিময়ে সা’। যেমন কর্ম তেমন ফল। আর ‘ক্বরশাত’ উনার ব্যাখ্যা হচ্ছে মানুষ (স্বীয় আমলের) হিসাব-নিকাশের জন্য অপেক্ষা করবে।

বিখ্যাত তাফসীসগ্রন্থ ‘তাফসীরে দুররে মানছূর’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-

وَأَخْرَجَ إِسْحَاقُ بْنُ بُشْرٍ وَاِبْنُ عَسَاكِرٍ مِنْ طَرِيْقِ جُوَيْبِرٍ وَمُقَاتِلٍ عَنِ الضَّحَّاكِ عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عِيْسَى بْنَ مَرْيَـمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَمْسَكَ عَنِ الْكَلَامِ بَعْدَ اِذْ كَلَّمَهُمْ طِفْلًا حَتّٰى بَلَغَ مَا يَـبْـلُغُ الْغِلْمَانُ ثُـمَّ أَنْطَقَهُ اللهُ بَـعْدَ ذٰلِكَ بِالْـحِكْمَةِ وَالْبَـيَانِ فَأَكْثَـرُ إلْيَـهُوْدِ فِـيْهِ وَفِـيْ أُمِّهٖ مِنْ قَـوْلِ الزُّوْرِ فَكَانَ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ يَشْرَبُ اللَّبَنَ مِنْ أُمِّهٖ فَـلَمَّا فَطَمَ أَكَلَ الطَّعَامَ وَشَرِبَ الشَّرَابَ حَتّٰـى بَلَغَ سَبْعَ سِنِيْنَ أَسْلَمَتْهُ أُمُّهٗ لِرَجُلٍ يُعَلِّمُهٗ كَمَا يُعَلِّمُ الْغِلْمَانَ فَلَا يُعَلِّمُهٗ شَيْـئًا إِلَّا بَدَرَهٗ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلٰـى عِلْمِهٖ قَـبْلَ أَنْ يُّـعَلِّمَهٗ إِيَّاهُ فَـعَلَّمَهٗ أَبَا جَادٍ فَـقَالَ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ مَا أَبُـوْ جَادٍ قَالَ الْـمُعَلِّمُ لَا أَدْرِيْ فَـقَالَ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ فَكَيْفَ تُـعَلِّمُنِـيْ مَا لَا تَدْرِيْ فَـقَالَ الْـمُعَلِّمُ إِذَنْ فَـعَلِّمْنِـيْ قَالَ لَهٗ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ فَـقُمْ مِنْ مَـجْلِسِكَ فَـقَامَ فَجَلَسَ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ مَـجْلِسَهٗ فَـقَالَ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ سَلْنِـيْ فَـقَالَ الْـمُعَلِّمُ فَمَا أَبُوْ أَبْـجَدَ فَـقَالَ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ اَلْأَلِفُ اٰلَاءَ اللهِ بَاءٌ بَـهَاءُ اللهِ جِيْمٌ بَـهْجَةُ اللهِ وَجَمَالُهٗ فَـعَجَبَ الْـمُعَلِّمُ مِنْ ذٰلِكَ فَكَانَ أَوَّلُ مَنْ فَسَّرَ أَبـْجَدَ عِيْسَى بْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: হযরত ইসহাক ইবনে বুশর রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত ইবনু আসাকীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা উভয়ে হযরত জুয়াইবির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে বর্ণনা করেন। আর হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত দ্বহ্হাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে এবং তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহাস সালাম তিনি কথা বলা থেকে বিরত থাকেন। যখন তিনি লোকদের সাথে কথা বলা শুরু করেন, তখন তিনি শিশু। এমনকি তিনি এমন বয়সে পৌঁছলেন যে বয়সে বালকেরা পৌঁছে থাকে। অতপর মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে কথা বলান প্রজ্ঞা ও বিশদ বর্ণনা সাপেক্ষে। কারণ অধিকাংশ ইহুদীরা উনার সম্পর্কে এবং উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দিত। হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনার দুগ্ধ মুবারক পান করতেন। তিনি যখন উক্ত দুগ্ধ মুবারক পান বন্ধ করলেন তখন অন্য খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করলেন। যখন তিনি ৭ বছর বয়স মুবারকে পৌঁছলেন তখন উনার আম্মা আলাইহাস সালাম তিনি উনাকে এক ব্যক্তির কাছে এই উদ্দেশ্যে সমর্পন করলেন যেন তিনি উনাকে শিক্ষা দান করেন যেরুপ অন্য বালকদের তিনি শিক্ষা দেন। কিন্তু উনাকে ঐ ব্যক্তি কিছুই শিক্ষা দিতে পারেননি। কেননা উনাকে কোন ইলিম শিক্ষা দেয়ার পূর্বেই উনার নিকট তা আকস্মিকভাবে প্রকাশ হয়ে যায়। অতঃপর উনাকে ঐ ব্যক্তি আবা-জাদ সর্ম্পকে অবহিত করলেন। হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আবূ-জাদ কি? শিক্ষক বললেন, আমি জানি না। হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমাকে আপনি কিভাবে শিখাবেন যা আপনি জানেন না। শিক্ষক বললেন, তাহলে আপনিই আমাকে শিক্ষা দিন। হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে বললেন, আপনি তাহলে আপনার আসন থেকে উঠুন। তিনি উনার আসন থেকে উঠলে সেই আসনে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বসলেন এবং বললেন, আমাকে প্রশ্ন করুন। অতঃপর শিক্ষক প্রশ্ন করলেন, আবূ-জাদ কি? হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘আলিফ’ হচ্ছেন ‘আলাউল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ মুবারক, ‘বা’ হচ্ছেন ‘বাহাউল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রভাব বা সৌন্দর্য মুবারক, ‘জীম’ হচ্ছেন ‘বাহজাতুল্লাহি ওয়া জামালুহূ’ মহান আল্লাহ পাক উনার উজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য মুবারক। এ উত্তর শুনে শিক্ষক আশ্চর্যান্বিত হলেন। মূলতঃ আবজাদ সর্ম্পকে প্রথম যিনি ব্যাখ্যা দান করেছেন তিনি হচ্ছেন হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

উক্ত তাফসীর গ্রন্থে আরো উল্লেখ রয়েছে-

قَالَ وَسَأَلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَـقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا تَـفْسِيْـرُ أَبِـيْ جَادٍ فَـقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَـعَلَّمُوْا تَـفْسِيْـرَ أَبِـيْ جَادٍ فَإِنَّ فِـيْهِ الْأَعَاجِيْبُ كُلُّهَا وَيْلٌ لِّعَالِـمِ جَهْلِ تَـفْسِيْرِهٖ فَقِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا تَـفْسِيْـرُ أَبِـيْ جَادٍ قَالَ اَلْأَلِفُ اٰلَاءُ اللهِ وَالْبَاءُ بَـهْجَةُ اللهِ وَجَلَالُهٗ وَالْـجِيْمُ مَـجْدُ اللهِ وَالدَّالُ دِيْنُ اللهِ هَوَّزِ الْـهَاوِيَةُ وَيْلٌ لِّـمَنْ هَوٰى فِـيْهَا وَالْوَاوُ وَيْلٌ لِّأَهْلِ النَّارِ وَالزَّايِ الزَّاوِيَةُ يَعْنِـيْ زَوَايَا جَهَنَّمَ حُطِّي الْـحَاءُ حُطَّ خَطَايَا الْـمُسْتَـغْفِرِيْنَ فِـيْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَمَا نَـزَلَ بِهٖ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَعَ الْـمَلَائِكَةِ إِلٰـى مَطْلَعِ الْفَجْرِ وَالطَّاءُ طُوْبٰـى لَـهُمْ وَحُسْنُ مَاٰبٍ وَهِيَ شَجَرَةٌ غَرَسَهَا اللهُ بِيَدِهٖ وَالْيَاءُ يَدُ اللهِ فَـوْقَ خَلْقِهٖ كَلِمَنْ اَلْكَافُ كَلَامُ اللهِ لَا تَـبْدِيْلَ لِكَلِمَاتِهٖ وَاللَّامُ إِلْـمَامُ أَهْلِ الْـجَنَّةِ بَـيْـنَـهُمْ بِالزِّيَارَةِ وَالتَّحِيَّةِ وَالسَّلَامِ وَتَلَاوُمُ أَهْلِ النَّارِ بَـيْـنَـهُمْ وَالْمِيْمُ مَلَكُ اللهِ اَلَّذِيْ لَا يَـزُوْلُ وَدَوَامُ اللهِ الَّذِيْ لَا يَـفْنٰـى وَنُـوْنٌ (ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُوْنَ)

অর্থ: গ্রন্থকার আরো বলেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আবূ-জাদ উনার ব্যাখ্যা কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা আবূ-জাদ উনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শিখ। নিশ্চয়ই আবূ-জাদ উনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মধ্যে অনেক আশ্চর্যান্বিত বিষয় রয়েছে। আফসুস ঐ জ্ঞানীর জন্য যে আবূ-জাদ তথা আবজাদ উনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সর্ম্পকে জানে না। অতঃপর বলা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আবূ-জাদ উনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ কি? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আলিফ’ হচ্ছেন ‘আলাউল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ মুবারক। ‘বা’ হচ্ছেন ‘বাহজাতুল্লাহি ওয়া জালালুহূ’ মহান আল্লাহ পাক উনার সৌন্দর্য ও মহিমা মুবারক। ‘জীম’ হচ্ছেন ‘মাজদুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার মর্যাদা মুবারক। ‘দাল’ হচ্ছেন ‘দী-নুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীন বা বিধান মুবারক। ‘হাওওয়াঝ’ উনার মধ্যে ‘হা’ হচ্ছেন হাউয়িয়া তথা জাহান্নাম। আফসুস ঐ ব্যক্তির জন্য যে জাহান্নামে পতিত হয়েছে। ‘ওয়াও’ হচ্ছেন ‘ওয়াইলুন’ আফসুস অর্থাৎ আফসুস দোযখের অধিবাসীদের জন্য। ‘ঝা’ হচ্ছেন ‘ঝাউয়িয়াহ’ প্রান্ত অর্থাৎ জাহান্নামের প্রান্ত। ‘হুত্তী’ উনার মধ্যে ‘হা’ শব্দ মুবারকের ব্যাখ্যা হচ্ছে পবিত্র ক্বদর রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের সমস্ত গুনাহখতা মিটিয়ে দেয়া হয়। উক্ত রাতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বহু সংখ্যক ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিয়ে (দুনিয়ার যমীনে) অবর্তীণ হন এবং ফজর পর্যন্ত অবস্থান করেন। ‘ত্ব’ উনার ব্যাখ্যা হচ্ছে, সুসংবাদ উনাদেরই জন্য এবং কতইনা উত্তম উনাদের আবাসস্থল। এবং সেটা এমন এক বৃক্ষ যা মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার (কুদরতী) হাত মুবারকে রোপন করেছেন। ‘ইয়া’ শব্দ মুবারক উনার ব্যাখ্যা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার (কুদরতী) হাত মুবারক উনার সৃষ্টিরাজীর উপরে। ‘কালিমান’ উনার ‘কাফ’ উনার ব্যাখ্যা হচ্ছেন ‘কালামুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারক। মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারক উনার কোন পরিবর্তন নেই। ‘লাম’ উনার ব্যাখ্যা হচ্ছেন জান্নাতবাসীগণের জন্য সুসংবাদ। উনারা পরস্পর সাক্ষাত করবেন। সালাম বিনিময় করবেন। আর জাহান্নাম বাসীদের জন্য পরস্পর নিন্দা রয়েছে। ‘মীম’ উনার ব্যাখ্যা হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার ফেরেশতা যারা কখনো অনুপস্থিত থাকেন না। মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বদা বিরাজমান। উনার ধ্বংস নেই। ‘নূন’ উনার ব্যাখ্যা হচ্ছেন নূন এবং কলমের শপথ এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে। সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ক্বলম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ-১।

উক্ত তাফসীর গ্রন্থে আরো উল্লেখ রয়েছে-

سَعْفَصْ اَلصَّادُ صَاعٌ بِصَاعٍ وَقِسْطٌ بِقِسْطٍ وَقَصٌّ بِقَصٍّ يَعْنِـيْ اَلْـجَزَاءُ بِالْـجَزَاءِ وَكَمَا تَدِيْنُ تُدَانُ وَاللهُ لَا يُرِيْدُ ظُلْمًا لِّلْعِبَادِ قَـرْشَتْ يَعْنِـيْ قَـرَشَهُمْ فَجَمَعَهُمْ يَقْضِيْ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ

অর্থ: ‘সা’ফাছ’ উনার মধ্যে ‘ছোয়াদ’ বর্ণের ব্যাখ্যা হচ্ছেন সা’ এর বিনিময়ে সা’ এবং ইনসাফের বিনিময়ে ইনসাফ এবং কর্তনের বিনিময়ে কর্তন। অর্থাৎ প্রতিদানের বিনিময়ে প্রতিদান। এবং যেরুপ কর্ম করবে তদ্রুপ ফল প্রাপ্ত হবে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দার প্রতি যুলুম করেন না। ‘ক্বরশাত’ অর্থাৎ তিনি তাদেরকে সম্পৃক্ত করলেন অতঃপর তিনি তাদেরকে একত্রিত করলেন। তিনি তাদের মাঝে ফায়ছালা করবেন কিয়ামতের দিন এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।

উক্ত তাফসীর গ্রন্থে আরো উল্লেখ রয়েছে-

رُوِىَ اَنَّ مَرْيَـمَ عَلَيْهَا السَّلَامُ سَلَّمَتْ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ اِلٰـى مُعَلِّمِهٖ فَـعَلَّمَهٗ اَبْـجَدَ فَـقَالَ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَدْرِىْ مَا اَبْـجَدُ قَالَ لَا فَـقَالَ اَمَّا الْاَلِفُ فَاٰلَاءُ اللهِ وَالْبَاءُ بَـهَاءُ اللهِ وَالْـجِيْمُ جَلَالُ اللهِ وَالدَّالُ دِيْنُ اللهِ فَـقَالَ الْـمُعَلِّمُ اَحْسَنْتَ فَمَا هَوَّزُ فَـقَالَ الْـهَاءُ هُوَ اللهُ الَّذِىْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ وَالْوَاوُ وَيْلٌ لِّلْمُكَذِّبِيْنَ وَالزَّايُ زَبَانِيَةُ جَهَنَّمَ اُعِدَّتْ لِلْكَافِرِيْنَ فَـقَالَ الْـمُعَلِّمُ اَحْسَنْتَ فَمَا حُطِّىْ قَالَ الْـحَاءُ حِطَّةُ الْـخَطَايَا عَنِ الْـمُذْنِبِيْنَ وَالطَّاءُ شَجَرَةٌ طُوْبٰـى وَالْيَاءُ يَدُ اللهِ عَلٰى خَلْقِهٖ فَـقَالَ اَحْسَنْتَ فَمَا كَلِمَنٌ قَالَ الْكَافُ كَلَامُ اللهِ وَاللَّمُ لِقَاءُ اَهْلِ الْـجَنَّةِ بَعْضَهُمْ بَعْضًا وَالْـمِيْمُ مُلْكُ اللهِ وَالنُّـوْنُ نُـوْرُ اللهِ فَـقَالَ اَحْسَنْتَ فَمَا سَعْفَصٌ قَالَ السِّيْنُ سَنَاءُ اللهِ وَالْعَيْنُ عِلْمُ اللهِ وَالْفَاءُ فِعْلُهٗ فِـىْ خَلْقِهٖ وَالصَّادُ صِدْقُهٗ فِـىْ اَقْـوَالِهٖ فَـقَالَ اَحْسَنْتَ فَمَا قَـرْشَتٌ قَالَ الْقَافُ قُدْرَةُ اللهِ وَالرَّاءُ رُبُوْبِيَّـتُهٗ وَالشِّيْنُ مَشِيْـئَـتُهٗ وَالتَّاءُ تَـعَالَـى اللهُ عَمَّا يُشْرِكُوْنَ فَـقَالَ لَهُ الْـمُعَلِّمُ اَحْسَنْتَ ثُـمَّ قَالَ لِـمَرْيَـمَ عَلَيْهَا السَّلَامُ خُذِىْ وَلَدَكَ وَانْصَرِفِـىْ فَاِنَّهٗ عَلَّمَنِـىْ مَا لَـمْ اَكُنْ اَعْرِفُهٗ كَذَا فِـىْ قَصَصِ الْاَنْبِيَاءِ

অর্থ: বর্ণিত রয়েছে- হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম তিনি হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে শিক্ষকের নিকট সমর্পন করলেন। শিক্ষক উনাকে আবজাদ সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি শিক্ষককে বলেন, আপনি জানেন আবজাদ কি? তিনি বললেন না। তখন তিনি (হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম) বলেন- ‘আলিফ’ উনার ব্যাখ্যা ‘আলাউল্লাহ’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ মুবারক। ‘বা’ উনার ব্যাখ্যা ‘বাহাউল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রভা, সৌন্দর্য মুবারক। ‘জীম’ উনার ব্যাখ্যা ‘জালালুল্লাহ মহান আল্লাহ পাক উনার মহীমা মুবারক। ‘দাল’ উনার ব্যাখ্যা ‘দীনুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দ্বীন বা বিধান মুবারক। এ ব্যাখ্যা শুনে শিক্ষক বললেন, আপনি কতইনা উত্তম বলেছেন। অতপর ‘হাওয়াঝ’ কি? তিনি বললেন ‘হা’ উনার ব্যাখ্যা ‘হুওয়াল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হূ’ তিনি সেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতিত কোন ইলাহ নেই। ‘ওয়াও’ উনার ব্যাখ্যা ওয়াইলুল্লিল মুকায্যিবীন অর্থাৎ মিথ্যাবাদীদের জন্য আফসোস, জাহান্নাম। ‘ঝা’ উনার ব্যাখ্যা জাহান্নামের প্রহরী। যেই জাহান্নাম কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। শিক্ষক বললেন, আপনি সর্বোত্তম বলেছেন। অতঃপর হুত্তী কি? তিনি বলেন, গুনাহগারদের পক্ষ থেকে গুনাহের তওবা। ‘ত্ব’ উনার ব্যাখ্যা ত্বূবা বৃক্ষ। ‘ইয়া’ উনার ব্যাখ্যা সৃষ্টির উপর মহান আল্লাহ পাক উনার (কুদরতী) হাত মুবারক। শিক্ষক বললেন, আপনি উত্তম বলেছেন। ‘কালিমান’ উনার ব্যাখ্যা কি? তিনি বলেন- ‘কাফ’ দ্বারা ‘কালামুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারক। ‘লাম’ দ্বারা জান্নাতীদের পরস্পর সাক্ষাত মুবারক। ‘মীম’ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার রাজত্ব মুবারক। ‘নূন’ দ্বারা ‘নূরুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার নূর বা জ্যোতি মুবারক। শিক্ষক বললেন, আপনি উত্তম বলেছেন। সা’ফাছ উনার ব্যাখ্যা কি? তিনি বলেন, ‘সীন’ দ্বারা ‘ছানাউল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার উজ্জ্বল্য বা উচ্চ মর্যাদা মুবারক। ‘আইন’ দ্বারা ‘ইলমুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার ইলিম মুবারক। ‘ফা’ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি সংক্রান্ত কাজসমূহ। ‘ছোয়াদ’ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার বক্তব্য সংক্রান্ত সত্যতা। শিক্ষক বললেন, আপনি অতি উত্তম বলেছেন। ‘ক্বারশাত’ উনার ব্যাখ্যা কি? তিনি বলেন ‘ক্বাফ’ উনার ব্যাখ্যা ‘কুদরতুল্লাহ’ মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক বা নিয়ন্ত্রন মুবারক। ‘র’ উনার ব্যাখ্যা ‘রুবূবিয়্যাতুহূ’ মহান আল্লাহ পাক উনার রুবুবিয়্যাত বা প্রতিপালন। ‘শীন’ উনার ব্যাখ্যা ‘মাশিয়্যাতুহূ’ মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা মুবারক। ‘তা’ উনার ব্যাখ্যা মহান আল্লাহ পাক তিনি সেসব কিছু থেকে উর্ধ্বে বা মহান যা উনার সাথে লোকেরা শরীক করে। শিক্ষক উনাকে বললেন, আপনি সর্বোত্তম বলেছেন। অতঃপর শিক্ষক হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, আপনি আপনার সন্তানকে গ্রহণ করুন এবং প্রস্থান করুন। নিশ্চয়ই তিনি আমাকে ঐসব বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন যেসব বিষয় সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। সুবহানাল্লাহ! অনুরুপ ক্বাছাছুল আন্বিয়া কিতাবের মধ্যেও বর্ণিত হয়েছে।

এছাড়া কিতাবে ‘ছাখ্খয’ উনার ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে, ‘ছা’ দ্বারা ‘ছাওয়াবান’ প্রতিদান বা পুরস্কার। ‘খা’ দ্বারা ‘খইরান’ উৎকৃষ্ট বা কল্যাণ। ‘যাল’ দ্বারা ‘যাকায়ান’ প্রতিভা বা বিচক্ষণতা বুঝানো হয়েছে। আর ‘দ্বয্যাগ’ উনার ‘দ্বাদ্ব’ দ্বারা ‘দ্বিয়ায়ান’ উজ্জ্বল বা আলোকিত হওয়া। ‘য’ দ্বারা ‘যফারান’ কৃতকার্য হওয়া। ‘গইন’ দ্বারা ‘গিনান’ সম্পদশালী হওয়া, অভাবমুক্ত বা অমুখাপেক্ষী হওয়া বুঝানো হয়েছে।

কিতাবে আবজাদ উনার যে তরতীব বা ক্রম বর্ণনা করা হয়েছে, তা ৮টি ইসিম বা কালিমায় বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি অক্ষরেরই গুরুত্বপূর্ণ মান রয়েছে। আর অক্ষরসমূহ ৩ ভাগে বিভক্ত- একক, দশক ও শতক। যেমন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে-

اَلتَّـرْتِيْبُ الْأَبـْجَدِيُّ كَمَا يَلِيْ : أَبْـجَدُ، هَوَّزٌ، حُطِّيْ، كَلِمَنٌ، سَعْفَصٌ، قَـرْشَتٌ، ثَخَّذٌ، ضَظَّغٌ. وَكُلُّ حَرْفٍ مِّنْ هٰذِهِ الْـحُرُوْفِ لَهٗ قِيْمَةٌ عَدَدِيَّةٌ وَهِيَ كَالتَّالِـي

آَحَادٌ    عَشَرَاتٌ  مِئَاتٌ

أ=১       ي=১০   ق=১০০

ب=২     ك=২০   ر=২০০

ج=৩     ل=৩০   ش=৩০০

د=৪      م=৪০    ت=৪০০

هـ=৫     ن=৫০   ث=৫০০

و=৬      س=৬০  خ=৬০০

ز=৭     ع=৭০   ذ=৭০০

ح=৮     ف=৮০  ض=৮০০

ط=৯     ص=৯০             ظ=৯০০

غ=১০০০

এখানে প্রতিটি অক্ষরের মান আলাদাভাবে উল্লেখ করা হলো:

ا            এর মান = ১

ب          এর মান = ২

ج           এর মান = ৩

د            এর মান = ৪

ه            এর মান = ৫

و           এর মান = ৬

ز           এর মান = ৭

ح           এর মান = ৮

ط           এর মান = ৯

ى          এর মান = ১০

ك           এর মান = ২০

ل           এর মান = ৩০

م            এর মান = ৪০

ن           এর মান = ৫০

س          এর মান = ৬০

ع           এর মান = ৭০

ف          এর মান = ৮০

ص         এর মান = ৯০

ق           এর মান = ১০০

ر           এর মান = ২০০

ش          এর মান = ৩০০

ت          এর মান = ৪০০

ث          এর মান = ৫০০

خ           এর মান = ৬০০

ذ            এর মান =৭০০

ض         এর মান = ৮০০

ظ           এর মান = ৯০০

غ           এর মান = ১০০০

সুতরাং আবজাদ অক্ষর সমূহের মান হিসেবে

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

(বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম) উনার সংখ্যাগত মান = ৭৮৬

যেমন-

ب -অক্ষরের মান =         ২

س -অক্ষরের মান =         ৬০

م – অক্ষরের মান =          ৪০

ا – অক্ষরের মান =          ১

ل – অক্ষরের মান =         ৩০

ل- অক্ষরের মান =         ৩০

ه – অক্ষরের মান =          ৫

ا – অক্ষরের মান =          ১

ل- অক্ষরের মান =          ৩০

ر -অক্ষরের মান =          ২০০

ح -অক্ষরের মান =          ৮

م -অক্ষরের মান =           ৪০

ن -অক্ষরের মান =          ৫০

ا -অক্ষরের মান =           ১

ل-অক্ষরের মান =          ৩০

ر -অক্ষরের মান =          ২০০

ح -অক্ষরের মান =          ৮

ي – অক্ষরের মান =        ১০

م – অক্ষরের মান =          ৪০

মোট      =   ৭৮৬

 

উপরে উল্লেখিত বর্ণনার আলোকে প্রতিভাত হলো যে, ৭৮৬ লেখা বা ব্যবহার করা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার খিলাফ বিষয় নয় এবং তা ভিত্তিহীনও নয়। বরং এ বিষয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার অসংখ্য বর্ণনা ও দলীল রয়েছে। গ-মূখর্, জাহান্নামের কীট কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকদের পক্ষে তা জানা ও বুঝা কখনোই সম্ভব নয়।

আর ‘হরে কৃষ্ণ’ আরবী কোন শব্দ বা বাক্য নয়। বরং ‘হরে’ শব্দটি সংস্কৃত ‘হরা’ শব্দ থেকে এসেছে এবং ‘কৃষ্ণ’ শব্দটিও সংস্কৃত। এটি ‘কৃশ’ ও ‘ণ’ সহযোগে গঠিত হয়েছে। তাই উক্ত শব্দ বা বাক্যকে আরবী আবজাদ হরফ সমূহের মানের সাথে মিলিয়ে ৭৮৬ গণনা করার কোন সূযোগই নেই। তারপরও যদি জাহান্নামের কীটগুলো মিলায় তাতে মুসলমানদের বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। কেননা বিধর্মীরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোন বিষয় গ্রহণ করলে মুসলমানরা সে বিষয়টি কখনোই বাদ দিতে পারে না। যেমন অনেক বিধর্মী দাড়ী রাখে, সেজন্য মুসলমানরা কি দাড়ী রাখবে না? অবশ্যই দাড়ী রাখতে হবে।

কাজেই, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে তা মুসলমানকে অবশ্যই পালন করতে হবে। তা কোন বিধর্মী পালন করুক বা না করুক। তাতে কিছু আসে যায় না।

দলীলসমূহ: তাফসীরে দুররে মানছূর, জামিউল বয়ান, মানার, মাআনিল কুরআন, মুহাররারুল ওয়াজীয, কবীর, তাহরীর ওয়াত তাউয়ীর, বায়দ্বাবী, সামআনী, লুবাব, মাওয়ারদী, আদ্বওয়াউল বয়ান, বয়ানুল মায়ানী, তাফসীরুর রাযী, সিরাজুল মুনীর, মাজাযুল কুরআন, তাফসীরে হাক্কী, রূহুল বয়ান, নাজমুদ দুরার, আহকামুল কুরআন, নাইলুল মারাম, ই’রাবুল কুরআন, মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ, আল ক্বওলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, ইয়ানাতুল মুস্তাফীদ বিশরহি কিতাবিত তাওহীদ, শরহু আক্বীদাতিত তহাবী, আসমাউল্লাহিল হুসনা আছ ছাবিতাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, উছূলুদ দীন ইনদা ইমামি আবী হানীফাহ, মাজমাউল ফাতাওয়া, আল আলফায ওয়াল মুছতলাহাত, আত তারতীবুল ফারীদ, আল মু’জামুছ ছূফী, কাশফুল মাসতূর, মাওসুআতুর রদ আলাছ ছূফিয়্যাহ, মানহাজশ শায়েখ, লাওয়ায়িহুল আনওয়ার, আসাসু ফিসসুন্নাতি ওয়াল ফিক্বহিহা ইত্যাদি।

 

মুহম্মদ ইবনে মুনীরুজ্জামান, ৮/২, শান্তিবাগ, ঢাকা

 

সুওয়াল: সম্প্রতি আবুল কালাম আজাদ (বাশার) এবং মিজান আজহারি টুপি ও পাঞ্জাবি সম্পর্কে যে বক্তব্য প্রচার করেছে তা আমার নিকট কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ বিরোধী মনে হয়েছে। তাই তাদের প্রচারিত বক্তব্যটি আপনাদের জ্ঞাতার্থে প্রেরণ করলাম। আশা করি সঠিক জাওয়াব দিয়ে উপকৃত করবেন।

জাওয়াব: তথাকথিত আজাদ এবং মিজান আজহারি এরা টুপি, পাঞ্জাবি তথা পোশাক সম্পর্কে যে বক্তব্য প্রচার করেছে তা শুধু পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের খিলাফ বা বিরোধীই হয়নি সাথে সাথে তাদের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, কল্পনাপ্রসূত, বিভ্রান্তিকর ও গোমরাহীমূলক হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!

প্রকাশ থাকে যে, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানদের জন্য পরিপূর্ণ শরীয়ত বা বিধান অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন। তাই মুসলমানদের জন্য মনগড়াভাবে কোন আমল করার সূযোগ নেই। মুসলমান কোন ইলিম অর্জন করবে, কি আক্বীদা পোষণ করবে, কি ইবাদত করবে, কি খাবার গ্রহণ করবে, কোন পোশাক পরিধান করবে, কিভাবে কথা বলবে, ওয়াজ-নছীহত করবে, হাঁটা-চলা করবে, শুবে-ঘুমাবে, এমনকি কিভাবে ইস্তিঞ্জা করবে ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ের ফায়ছালা বা সমাধান সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! এখন মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিষয়গুলো জেনে সে অনুযায়ী আমল করা। আর সে বিষয়গুলো কার কাছে জানবে সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فَاسْأَلُوْاۤ أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْـتُمْ لَا تَـعْلَمُوْنَ

অর্থ: যদি তোমরা না জান তাহলে যারা আহলে যিকির তথা আল্লাহওয়ালা উনাদেরকে জিজ্ঞেস করো। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নহল শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৩, সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০৭)

অন্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاتَّبِعْ سَبِيْلَ مَنْ أَنَابَ إِلَـيَّ

অর্থ: ঐ ব্যক্তির পথ অনুসরণ করে চলো যিনি আমার দিকে রুজূ হয়েছেন বা রয়েছেন তথা যিনি আল্লাহওয়ালা হয়েছেন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা লুক্বমান শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

সুতরাং, যে বা যারা আল্লাহওয়ালা নয় তারা শয়তানওয়ালা এবং তারা নফস্ ও শয়তানের অনুসারী। তারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার অনুসারী নয়। মোটকথা, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যারা প্রবর্তক মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তারা অনুসারী নয়। এর প্রমাণ হচ্ছে, তারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী আমল করে থাকে। যেমন তারা ছবি তোলে, বেপর্দা চলে, তন্ত্র-মন্ত্র সমর্থন করে ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ সকলের জন্য সর্বক্ষেত্রে একমাত্র অনুসরণীয় হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। তিনি হচ্ছেন কায়িনাতবাসী সকলের পিতা। আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন কায়িনাতবাসী সকলের মাতা। তাই প্রতিটা ক্ষেত্রে উনাদেরকেই অনুসরণ করতে হবে। এ মর্মে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِـيْ رَسُوْلِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

অর্থ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছেন তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَاۤ اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَـهَاكُمْ عَنْهُ فَانْـتَهُوْا وَاتَّـقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ

অর্থ: মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদেরকে যা বা যে আদর্শ মুবারক দান করেছেন তা গ্রহণ করো এবং তোমাদেরকে যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক। আর এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাশর শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০৭)

অতএব, মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেসব এবং যে ধরণের পোশাক মুবারক পরিধান করেছেন পুরুষদের জন্য সে পোশাকই পরিধান করতে হবে। আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যেসব এবং যে ধরণের পোশাক মুবারক পরিধান করেছেন মহিলাদের জন্য সেই পোশাক পরিধান করতে হবে। উনাদের পরিহিত পোশাক মুবারকই হচ্ছেন সুন্নতী পোশাক মুবারক। সকলের অবগতির জন্য সুন্নতী পোশাক মুবারকের বর্ণনা উল্লেখ করা হলো।

কোর্তা বা ক্বমীছ: পুরুষদের সুন্নতি কোর্তা লম্বায় “নিছফু সাক্ব” অর্থাৎ হাঁটু ও গিরার মাঝামাঝি হবে। এবং কোনাবন্ধ ও গোল হতে হবে, কোনা ফাঁড়া হতে পারবে না, কারণ কোনা ফাঁড়া সুন্নত নয়। আস্তিন হবে কব্জি পর্যন্ত। অবশ্য কব্জি থেকে সামান্য লম্বাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এবং গলায় গুট্লী (শুধু কাপড় দিয়ে তৈরী গোলাকৃতি বিশিষ্ট যা দ্বারা গলা বন্ধ করা হয়) দেয়া সুন্নত, কিন্তু বোতাম দেয়া সুন্নত নয়। সুন্নতি কোর্তার ক্ষেত্রে সূতি ও মিশরী কাপড় হলো খাছ সুন্নত, অবশ্য মিশরী ব্যতীত অন্য সূতিও খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাছ করে সাদা রং পছন্দ করতেন। এছাড়া খয়েরী, সবুজ, ধুসর, ঘিয়া ইত্যাদি রংও সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত।

মহিলাদের ক্বমীছও লম্বায় “নিছফু সাক্ব” অর্থাৎ হাঁটু ও গিরার মাঝামাঝি হবে। তবে মহিলাদের ক্বামীছ কিছুটা লম্বাও হতে পারে। এবং কোনাবন্ধ ও গোল হতে হবে, কোনা ফাঁড়া হতে পারবে না। তবে পুরুষদের ন্যায় গলায় গুটলী হবে না বরং ডান কাঁধে, বাম কাঁধে অথবা পিছন দিকে গুটলী দিতে হবে। প্রয়োজনবোধে সামনেও দিতে পারে।

ইযার বা লুঙ্গি: ইযার তথা সেলাইবিহীন সাদা লুঙ্গি মুবারক পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক। যার দৈর্ঘ্য সাড়ে চার হাত লম্বা এবং প্রস্থ আড়াই হাত। হাঁটু ও গিরার মাঝামাঝি হবে, একটু লম্বা হতে পারে। পুরুষদের জন্য কোন অবস্থায়ই কোর্তা, ইযার বা লুঙ্গি ও সেলোয়ার গিরার নীচে পড়া জায়েয নেই। তবে মহিলাদের প্রয়োজনে জায়েয রয়েছে।

মহিলাদের জন্য খাছ সুন্নাত হলো ক্বামীছের সাথে সেলোওয়ার এবং ওড়না পরিধান করা। ওড়নার মাপ হলো (৪.৫) সাড়ে ৪ হাত লম্বা ও (২.৫) আড়াই হাত প্রশস্ত। এছাড়া মহিলাদের পর্দার জন্য বোরকা’ পরিধান করা ফরজ। প্রথম জামানায় পর্দার জন্য বড় চাদর পরিধান করা হতো। চাদরের প্রশস্ততা ছিলো পরিধানকারিণী থেকে দেড়/দুই হাত লম্বা। আর লম্বা ছিলো কমপক্ষে ১২/১৪ হাত। পরবর্তীতে মহিলাদের সুবিধার জন্য ইমাম মুজতাহিদগণ বর্তমানে প্রচলিত বোরকা’ প্রচলন করেন। সে হিসেবে বর্তমানে বোরকা’ও সুন্নাত। তবে বর্তমানে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম তিনি যে বোরকা’র প্রচলন করেছেন সেটাই সর্বোত্তম বোরকা’।

সুন্নতী টুপি: চার টুকরা বিশিষ্ট সাদা গোল সুতি কাপড়ের এবং মাথার সাথে লেগে থাকে, মাথা থেকে উঁচু হয়ে থাকে না, উপরে এক টুকরা আর চারদিকে তিন টুকরা এমন টুপি পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক। কপালের সিজদার স্থান খোলা থাকবে।

সুন্নতী পাগড়ী: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অধিকাংশ সময় যে পাগড়ী মুবারক ব্যবহার করতেন তা ছিল ৭ হাত লম্বা, যা হুজরা শরীফ হতে বের হওয়ার সময় তিনি পরিধান করে বের হতেন। জিহাদের ময়দানেও এ ধরণের পাগড়ী মুবারক ব্যবহার করতেন। হুজরা শরীফ উনার মধ্যে যে পাগড়ী মুবারক ব্যবহার করতেন তা ছিল ৩ হাত লম্বা। ঈদ, জুমুয়া ও বিশেষ মাহফিলে ১২ হাত লম্বা পাগড়ী মুবারকও ব্যবহার করেছেন। সব ধরণের পাগড়ীর চওড়া কমপক্ষে আধ হাত আর সর্বোচ্চ দুই হাত পর্যন্ত হতো। পাগড়ীর রং : নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কালো, সবুজ, সাদা, ইত্যাদি রংয়ের পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন। তবে কালো পাগড়ী মুবারক বেশী ব্যবহার করতেন। পাগড়ীর শিমলা: মাথায় পাগড়ী বাঁধার সময় পাগড়ীর যে অংশটুকু কাঁধের দিকে ঝুলিয়ে রাখা হয় তাকে শিমলা বলা হয়। শিমলা এক বিঘত থেকে এক হাত হওয়া বাঞ্চনীয় এবং তা দু’ কাঁধের মধ্যখানে ঝুলিয়ে রাখা উত্তম। শিমলা ছাড়া পাগড়ী পরিধান করা বিজাতীয় লক্ষণ।

সুন্নতী রুমাল: পাগড়ীর উপর সাদা রুমাল ব্যবহার করা সুন্নত মুবারক। সুন্নতী রুমাল পরিধান করার তরতীব হচ্ছে- সুন্নতী পাগড়ী উনার উপর মাঝ বরাবর রাখতে হবে। অতঃপর সুন্নতী রুমালের ডানপাশ বাম কাঁধের উপর দিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে দিতে হবে। যা পিঠের উপর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে। দুই রকমভাবে পড়া যাবে। যথা- (১) পাগড়ীর সাথে টাইট করে পড়া (২) আলগাভাবে পড়া।

রুমালের সুন্নতী মাপ: সাধারণতঃ আড়াই হাত, পৌনে তিন হাত ও তিন হাত বর্গাকৃতি।

সুন্নতী কেনায়া: সম্মানিত সুন্নতী টুপির নিচে ডিম আকৃতির সাদা সুতি কাপড়ের সুন্নতী কেনায়া পরিধান করাও সম্মানিত সুন্নত মুবারক।

উপরে উল্লেখিত সুন্নতী পোশাক মুবারকের খিলাফ যত পোশাকের কথাই বলা হোক এবং যেই বলুক তা সুন্নতী পোশাকের অর্ন্তভুক্ত নয়। আর যে পোশাক সুন্নত নয় তা বিদয়াতের অর্ন্তভুক্ত। আর বিদয়াতের অনুসারীরা জাহান্নামী। নাঊযুবিল্লাহ!

উল্লেখ্য, প্রতি যামানাতে উলামায়ে হক্কানী-রব্বানী তথা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের পাশাপাশি উলামায়ে সূ বা দুনিয়াদার মালানা-মুফতে তারাও থাকে। উলামায়ে হক্কানী-রব্বানী উনারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে নিজেরা চলেন এবং অন্যদেরকে চলার জন্য বলেন। উনারা মনগড়া আমল করেন না এবং মনগড়া কোন ফতওয়াও দেন না। কিন্তু যারা উলামায়ে সূ তারা নিজেরা যেমন মনগড়া, কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী আমল করে তেমনি অন্যদেরকেও তাদের মতো আমল করতে বলে। এবং এজন্য তারা বক্তব্যও দিয়ে থাকে এবং লিখনীও প্রকাশ করে থাকে। যার নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ অত্র সুওয়ালে উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয়। এদের জন্য আফসুস! এরা মুসলমান দাবি করে অথচ মুসলমানদের আর্দশ, মুসলমানদের শিআর বা নির্দশন সর্ম্পকে এরা নেহায়েতই অজ্ঞ।

এরা বলেছে,“টুপি ও পাঞ্জাবিকে বিভক্তির উপলক্ষ্য বানাবেন না।” নাঊযুবিল্লাহ! কিন্তু সুন্নতী টুপি, সুন্নতী পাঞ্জাবি বা র্কোতা অবশ্যই বিভক্তির উপলক্ষ্য। যারা মুসলমান উনাদের পোশাক হচ্ছে সুন্নতী টুপি, সুন্নতী পাঞ্জাবি। এ পোশাক মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পোশাক মুবারক এমনকি অতীতের সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও পোশাক মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

তারা আরো বলেছে, “পোশাকের ব্যাপারে ইসলাম উদার।”এর অর্থ এটা নয় যে, মুসলমান নিজের খেয়াল খুশি মতো পোশাক পরিধান করতে পারবে। বরং মুসলমানের জন্য কেবল সুন্নতী পোশাক মুবারকই পরতে হবে। কোন বিধর্মী বিজাতীয়দের সাদৃশ্য পোশাক পরিধান করতে পারবে না। তারা আরো বলেছে“ নির্দিষ্ট কোন পোশাককে ইসলাম ড্রেস কোড করেনি বরং পোশাকের ব্যাপারে কিছু ক্রাইটেরিয়া প্রদান করেছে।” এরা চরম গ-মূর্খ বলেই একথা বলেছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে তারা বুঝতে পারেনি। সুন্নতী পোশাকই তো সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পোশাক। আর এটাই তাদের বক্তব্যে প্রকাশিত ক্রাইটেরিয়া।

এরপর তারা বলেছে, “রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও সবসময় একধরনের পোশাক পরিধান করতেন না, নির্দিষ্ট কোন পোশাক পরিধান করতেও বলেননি। ছাহাবীগণও এরকম পোশাক পরিধান করতেন না। সুতরাং নির্দিষ্ট কোন পোশাককে সুন্নত বলার কোন সুযোগ ইসলামে নেই।” তাদের এ বক্তব্যও বানোয়াটি, মিথ্যা ও কুফরী। কারণ মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেসমস্ত পোশাক পরিধান করেছেন এবং যেসমস্ত পোশাক পরার ব্যাপারে সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেছেন তা সবই নির্দিষ্ট। এবং সে নির্দিষ্ট পোশাকই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও পরিধান করেছেন। আর উক্ত নির্দিষ্ট পোশাকই সুন্নতী পোশাক মুবারক। উক্ত সুন্নতী পোশাক মুবারক পরিধান করা সকলের জন্য ফরয। অন্যথায় সে গোমরাহ হবে এবং কুফরী গুনাহে গুনাহগার হবে। এ সম্পর্কে মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَوْ تَـرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَفَرْتُـمْ اَوْ لَضَلَلْتُمْ

অর্থ: যদি তোমরা তোমাদের মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক তরক করো বা ছেড়ে দাও তাহলে অবশ্যই তোমরা কুফরী করলে এবং তোমরা অবশ্যই গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, নাসাঈ শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

এরপর তারা বলেছে “তবে উনারা লম্বা জামা পড়তেন।” অবুঝ শিশুর মত এদের কথা-বার্তা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তো লম্বা কোর্তা মুবারকই পরতেন। আর লম্বা কোর্তা পড়াই তো সুন্নত মুবারক।

এরপর তারা বলেছে- “লম্বা জামা তারাও পরে, কিন্তু সুন্নত মনে করে না।” নাউযুবিল্লাহ! এরা আসলেই কাফির মুশরিকদের এজেন্ট। মুসলমান ছূরতে মুনাফিক। কাফির মুশরিকদের মতই এদের অবস্থা। কাফির মুশরিকরা রুটি গোশ্ত, ভাত- মাছ খায়, কিন্তু সুন্নত মনে করে খায় না। আর মুসলমানরা রুটি-গোশ্ত, ভাত- মাছ খান সুন্নত মনে করেই। এটাই কাফির ও মুসলমানদের মধ্যে পার্থক্য।

মূলকথা হচ্ছে- মুসলমানের কোন কাজ সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ হতে পারবে না। সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণে সম্পাদিত কাজই আমলে ছলেহ। আর যে কাজ সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ তা আমলে ছলেহ নয়। সেটা বিদয়াতের অর্ন্তভুক্ত। কাজেই যারা সুন্নত জানে না, সুন্নত চিনে না, সুন্নত মুবারক অনুসরণ করে না তাদের পক্ষে কষ্মিনকালেও সুন্নত মুবারকের বর্ণনা দেয়া সম্ভব নয়। তারা ইনিয়ে বিনিয়ে, বানিয়ে গুছিয়ে বক্তব্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে। কিন্তু সম্মানিত সুন্নত মুবারক সম্পর্কে তাদের পক্ষে বলা কখনোই সম্ভব হবে না। তাদের প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের কিছু জাওয়াব দেয়া হলো। বাকী জাওয়াব সামনে প্রকাশ করা হবে ইংশাআল্লাহ!

মাহমূদা আহমদ মিতু, শেরপুর, বগুড়া

সুওয়াল: মৃত ব্যক্তির মারা যাওয়ার আগে (মুমূর্ষ অবস্থায়) ও পরে করণীয় কি? মৃতের গোসল, কাফন ও দাফনের সুন্নতী তরতীব কি? জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: যখন কারো মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দেয় তখন তাকে এমনভাবে শুইয়ে দিবে যেনো সম্মানিত ক্বিবলা তার ডান দিকে হয়। যদি ক্বিবলামুখী করা সম্ভব না হয় তবে তাকে তার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিবে। অতঃপর তার পাশে কেউ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমাহ তইয়্যিবাহ শরীফ পাঠ করতে থাকবে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই তাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমাহ শরীফ পাঠ করতে হুকুম করবে না। কেননা এই সময়টি বড়ই বিপদসংকুল। অধিক পীড়াপীড়ি করলে সে কি বলে বসে ঠিক নেই। মুমূর্ষ ব্যক্তি একবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমাহ শরীফ পাঠ করার পর আর তাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমাহ শরীফ পাঠের তালকীন দিবে না। বরং তার পাশে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমাহ শরীফ উচ্চস্বরে পাঠ করতে থাকবে।

মুমূর্ষ ব্যক্তির সামনে এমন কোন আলোচনা করা ঠিক নয় যাতে তার মন দুনিয়ার দিকে আকৃষ্ট হয়। কেননা এ সময়টি দুনিয়া হতে চির বিদায় গ্রহণ এবং মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে হাজির হওয়ার সময়। এ সময় তার সামনে এমন সব আলোচনা করা উচিত যাতে তার মন দুনিয়া হতে বিমুখ হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজূ হয়।

যখন তার শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়ে ঘন ঘন বইতে থাকবে, উভয় পা শিথিল হয়ে দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেলবে, নাক একদিকে বাঁকা বা ঢলে যাবে এবং কানাপট্টি বসে যাবে, তখনই মনে করতে হবে যে, তার মৃত্যু আসন্ন।

মুমূর্ষ ব্যক্তির সামনে সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইয়াছীন শরীফ পাঠ করলে তার মৃত্যুযন্ত্রনা আসান বা সহজ হয়। উহা নিজে পাঠ করবে অথবা অপর কারো দ্বারা পাঠ করাবে।

মহান আল্লাহ পাক না করুন মৃত্যুর সময় যদি কারো মুখ দিয়ে কোন কুফরী কালাম বের হয়ে যায় তবে এ বিষয় নিয়ে কারো সাথে আলোচনা করবে না। বরং এমন মনে করবে যে, মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রনার ফলে তার হুশ ছিল না, তাই সে এরূপ বলেছে। আর অজ্ঞান অবস্থার সকল অপরাধই মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করে দেন। তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকতে হবে। রূহ বের হওয়ার পর এ দোয়া পড়তে হবে-

اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّا اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ. اَللّٰهُمَّ اَجِرْنِـىْ فِـىْ مُصِيْـبَتِـىْ وَاخْلُفْ لِـىْ خَيْـرًا مِّنَّا

উচ্চারণ: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুছীবাতী ওয়াখ্লুফ্ লী খইরাম মিন্না।

অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। আয় মহান আল্লাহ পাক! আমার বিপদের সময় প্রতিদান দিন এবং উহার বিনিময়ে আমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

মৃত ব্যক্তির প্রতি কর্তব্য:

রূহ বের হওয়ার পর মুখ হা করে থাকলে একটি কাপড় দ্বারা থুতনীর নীচ হতে মাথা সহ পেঁচিয়ে বেঁধে দিতে হবে। সযতেœ চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে হাত- পা সোজা করে দিতে হবে। মৃত ব্যক্তির হাতদ্বয় সিনার ওপর রাখবে না, বরং তার দুই পাশে রাখতে হবে। এরপর একখানা চাদর দিয়ে সমস্ত শরীর ঢেকে দিবে। সামর্থ থাকলে সুগন্ধি (আগরবাতি, ধুপ ইত্যাদি) জ্বালিয়ে মাইয়্যেতের নিকট রাখবে। গোছলের পূর্বে মাইয়্যেতের সামনে সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ পড়া উচিত নয়। কারো ইন্তিকালে অন্তরে শোক প্রকাশ করা এবং নিঃশব্দে কান্না করা নিষিদ্ধ নয়।

অতঃপর মাইয়েতের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গুনগ্রাহীদের নিকট সংবাদ পৌঁছাবে যেনো তারা অধিক সংখ্যায় ছলাতুল জানাযায় শরীক হয়ে তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে পারে।

দাফন-কাফন যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করবে। প্রথমে কবর খননের ব্যবস্থা করবে। অতঃপর গোসল, কাফন ও নামাযে জানাযা ইত্যাদির আয়োজন করবে। মাকরূহ ওয়াক্তে জানাযা পড়া মাকরূহ।

মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়ার নিয়ম:

মুর্দাকে গোসল দেয়া জীবিত মুসলমানের পক্ষে ফরযে কিফায়া। যে চকি বা খাটে মুর্দাকে গোসল দেয়া হবে তা পাক-সাফ করে নিতে হবে এবং লোবান বা আগরবাতি ইত্যাদি সুগন্ধির ধূপ দিবে, তিন, পাঁচ বা সাতবার বিজোড় সংখ্যায় সেই খাটে পানি দিয়ে ধুবে। তারপর সেই খাটে মৃতকে রাখবে।

তার নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত একখানা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে পরিধানের কাপড়-চোপড় ইত্যাদি যা কিছু থাকে সব খুলে নিবে। মেয়েলোক হলে অবশ্যই খাছ পর্দা করবে। মৃতের গোসলের পানি যাতে ঘর-বাড়িতে ছড়িয়ে না যায় সেজন্য কোন গর্ত করবে। নাকে ও কানে তুলা দিয়ে রাখবে যাতে পানি প্রবেশ করতে না পারে। কুল পাতা দিয়ে পানি কিছুটা গরম করে নিবে। হাতে নেকড়া পেঁচিয়ে স্বাভাবিক স্থান তিনবার মুছে পানি ঢেলে পরিষ্কার করে দিবে। নেকড়া ছাড়া খালি হাতে স্বাভাবিক স্থান স্পর্শ করবে না। তারপর ওযূ করাবে। ওযূ করাতে প্রথমে হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা আবশ্যক নয়। কুলি করাতে ও নাকে পানি দিতে হবে না। তবে হায়েয ও নেফাছ অবস্থায় অথবা অন্য কারণে নাপাকী অবস্থায় মৃত্যু হলে তুলা বা নেকড়া ভিজিয়ে মুখের ও নাকের ভিতর পরিষ্কার করে ভিজিয়ে দিতে হবে। ওযূ করাবে প্রথমে মুখম-ল তিনবার ধোয়াবে, পরে ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার, পরে বাম হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করাবে, ছের বা মাথা মাসেহ করাবে। তারপর ডান পা ও বাম পা তিন তিনবার করে ধোয়াবে। ওযূ শেষ হলে মাথা ও দাড়ি সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করাবে।

তারপর মুর্দাকে বাম কাতে শায়িত করে তার ডান পার্শ্বের শরীরের উপর মাথা হতে পা পর্যন্ত কুল পাতা মিশ্রিত গরম পানি তিনবার বা পাঁচবার ঢেলে পরিষ্কার করবে। অতঃপর ডান কাতে ভর করিয়ে বাম পার্শ্বের দিক উক্তরূপে পরিষ্কার করবে। যদি পেট হতে কিছু ময়লা বের হয়। তবে তা নেকড়া দিয়ে ভাল করে মুছে এবং পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিবে। তবে তার ওযূ ও গোসল আর দোহরাতে হবেনা। তারপর মুর্দাকে মাথা হতে পা পর্যন্ত কর্পূরের পানি ঢেলে দিবে। এইরূপে গোসলের পর একটা পাক-সাফ শুকনা কাপড় দিয়ে গোটা শরীর মুছিয়ে কাফন পরাবে।

মৃত ব্যক্তির কাফন:

পুরুষের জন্য তিন কাপড় দেয়া সুন্নত। যথা: ইযার, কোর্তা ও চাদর। মেয়েলোকের জন্য পাঁচ কাপড়। যথা: কোর্তা, ইযার, ছেরবন্দ, চাদর ও সিনাবন্দ দেয়া সুন্নত। ইযার মাথা হতে পা পর্যন্ত। কোর্তার কল্লি বা আস্তিন থাকবেনা। শুধু মাঝখান দিয়ে কিছু ফেঁড়ে মাথা প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে। ছেরবন্দ ১২ গিরা প্রস্থ এবং তিন হাত লম্বা, সিনাবন্দ প্রস্থে কানের নিচ হতে হাঁটুর উপর পর্যন্ত দেয়া উত্তম এবং লম্বায় এতটুকু হতে হবে যেন বাঁধা যায়। কাফনের কাপড় প্রয়োজনে অর্থাৎ মাইয়্যিত মোটা বা লম্বা বা হালকা-পাতলা বা খাটো হলে কম বেশী হতে পারে। পুরুষের জন্য দুই কাপড়, ইযার ও চাদর হলে এবং মেয়েলোকের জন্য তিন কাপড় ইযার, চাদর ও ছেরবন্দ হলেও দুরস্ত হবে। কিন্ত সুন্নতের খিলাফ হবে।

কাফন পরানোর নিয়ম:

কাফন পরানোর পূর্বে তাতে তিন, পাঁচ বা সাতবার লোবান বা আগরবাতির ধুনি দেয়া উচিত। প্রথম লেফাফা বা চাদর বিছিয়ে পরে তার উপর ইযার বা তহবন্দ বিছাবে, তারপর পিরহান বা কোর্তার অর্ধেকটা বিছাবে আর বাকি অর্ধেকটা মাথার পিছনের দিকে গুটিয়ে রাখবে তারপর মুর্দাকে আস্তে আস্তে চিৎ করে শোয়াবে এবং শরীরে বিশেষ করে সিজদার জায়গাসমূহে অর্থাৎ কপাল, নাক, হাত, হাঁটু ও পায়ে কর্পূর লাগাবে।

তারপর কোর্তার বাকি অর্ধাংশ উপর হতে টেনে বুকের উপর রাখবে। তারপর ইযার বাম দিক হতে টেনে শরীরের উপর রেখে পরে ডান দিক হতে টেনে এমনভাবে রাখবে যেন ডান দিকটা বাম দিকের উপরে থাকে। এরূপভাবে লেফাফা ও ইযারের উপর ফেলবে। অতঃপর পায়ের দিকে ও মাথার দিকে এবং মাঝখানে ফিতা দিয়ে বেঁধে দিবে যেন কাফন ছুটে না যায়। এই হলো পুরুষের জন্য কাফন পরানোর নিয়ম।

মেয়েলোকের জন্য এইরূপ লেফাফা, ইযার এবং কোর্তার অর্ধাংশ বিছিয়ে মুর্দাকে আস্তে আস্তে চিৎভাবে শায়িত করে কোর্তার বাকী অর্ধাংশ মাথার উপর দিয়ে, মাথা প্রবেশ করিয়ে বক্ষের উপর রাখবে। তারপর পূর্ব নিয়মে সুগন্ধি লাগিয়ে মাথার চুলকে দুভাগে ভাগ করে ডান দিকের ভাগ ডান কাঁধের উপর দিয়ে ডান বুকের উপর এবং কোর্তার অর্ধাংশ বিছিয়ে মুর্দাকে আস্তে আস্তে চিৎভাবে শায়িত করে কোর্তার বাকী অর্ধাংশ মাথার উপর দিয়ে, বাম বুকের উপর রাখবে।

তারপর ওড়নাকে পিঠের নিচে একমাথা গুছিয়ে অপর মাথা মৃতের মাথার উপর দিয়ে টেনে কপাল ও নাক, মুখ ঢেকে সিনার উপরে চুল ঢেকে দিবে। অতঃপর পূর্ব নিয়মে ইযার ও লেফাফাকে টেনে দিবে। পরিশেষে সিনাবন্দ সকল কাফনের উপরে সিনা হতে উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়ে দুই দিকে ও মাঝখানে ফিতা দিয়ে বেঁধে দিবে। সিনাবন্দ, কোর্তার উপরে ছেরবন্দের উপরও পেঁচিয়ে দেয়া দুরস্ত আছে। লাশের উপর সর্বদা একখানা কাপড় রাখবে। মেয়ে লোকের লাশের গোসলেরও পর্দা অবশ্য অবশ্যই জরুরী। কাফনের মধ্যে খালি আঙ্গুলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমাহ শরীফ, পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ লিখা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ অথবা সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম উনার রুমাল মুবারক কিংবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার ব্যাচ মুবারক ইত্যাদি বরকতের জন্য দেয়া জায়িয আছে। ক্ষেত্রবিশেষে তা ফযীলত ও নিয়ামত মুবারক হাছিলের কারণও বটে। সুবহানাল্লাহ!

লাশ দাফনের নিয়ম:

লাশ কিবলার দিক হতে কবরে নামাবে। যেই কয়জন লোকে নামাবে তারা কিবলামূখী দাঁড়িয়ে লাশ হাতে ধরে সসম্মানে কবরের ভেতর রেখে নিজেরা ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসবে। লাশ নামানোর সময়

بِسْمِ اللهِ وَعَلٰى مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

 ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলে রাখা মুস্তাহাব- সুন্নত। লাশ কবরে রেখে ডান কাত করে কিবলামুখী করে দেয়া সুন্নত। অতপর কাফনে বন্ধন থাকলে তা খুলে দিবে।

মহিলাদের লাশ কবরে রাখার সময় পর্দা করা ফরয। অতঃপর কবরে মাটি দেয়ার সময় মাথার দিক হতে আরম্ভ করা মুস্তাহাব-সুন্নত। উপস্থিত সকলে দু’ হাতে মাটি নিয়ে তিনবার করে মাটি ফেলবে এবং এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ বা দোয়া মুবারক পাঠ করবে-

مِنْـهَا خَلَقْنَاكُمْ – অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ আমি মাটি হতে তোমাদেরকে তথা তোমাদের যিনি আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।

وَفِـيْـهَا نُعِيْدُكُمْ – এবং মাটির মধ্যেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিব।

وَمِنْـهَا نُـخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرٰى – এবং মাটি হতেই আমি তোমাদেরকে পুনরায় উঠাব।

কবরের উপরের অংশকে উটের পিঠের মত সামান্য উঁচু (অর্ধ হাতের বেশী নয়) করা সুন্নত। মাটি দেয়ার পর কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া মুস্তাহাব-সুন্নত।

দাফনের পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তালকীন দেয়া সুন্নত মুবারক। অতঃপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করে ছওয়াব রেসানী করে, দোয়া ও মুনাজাত করা সুন্নত।

আরো জরুরী কতিপয় মাসয়ালা:

সন্তান জীবিতাবস্থায় ভূমিষ্ট হয়ে মারা গেলে নাম রাখতে হবে। যথানিয়মে গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফন করতে হবে। যে শিশুর মৃত অবস্থায় জন্ম হয়েছে তারও নাম রাখতে হবে ও গোসল দিতে হবে। কিন্তু নিয়মিত কাফন, জানাযা দেয়া আবশ্যক নয়। একখানা কাপড়ে লেপটিয়ে মাটি দিয়ে রাখলেই হবে।

অকালে গর্ভপাত হলে যদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রকাশ না পায় তবে গোসল ও নিয়মিত কাফন দিতে হবে না, শুধু একখানা কাপড়ে লেপটিয়ে মাটি দিয়ে রাখতে হবে। নিয়মিত কাফন ও জানাযা আবশ্যক নয়।

সন্তানের মাথা বের হওয়ার সময় যদিও জীবিত বলে মনে হয় কিন্তু তৎক্ষণাত মারা যায় তবে ঐ সন্তানকে মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ট হয়েছে বলে মনে করতে হবে। অবশ্য যদি বুক পর্যন্ত বের হয়ে মারা যায়, তবে বয়স্কা মেয়েলোকের মত পাঁচ কাপড় দেয়া সুন্নত ও উত্তম যদিও তিন কাপড় দিলে চলে।

ছোট ছেলেকে মহিলারাও গোসল ও কাফন পরাতে পারে কিন্তু তার জন্যও তিন কাপড় দেয়া সুন্নত। কোথাও যদি মৃত লোকের কোন অঙ্গ যথা মাথা, হাত, পা অথবা মাথা ছাড়া শরীরের অর্ধেক পাওয়া যায় তবে তা শুধু একখানা কাপড়ে পেঁচিয়ে দিয়ে দিলেই চলবে। যদি মাথাসহ অর্ধেক অথবা মাথা ছাড়া বেশি অর্ধেক অঙ্গ পাওয়া যায়, তবে নিয়ম মতো কাফন দিতে হবে। কোথাও কবর খুঁড়ে যদি লাশ পাওয়া যায়, সেই লাশ যদি না পঁচে থাকে এবং তার উপর কাফন না থাকে তবে নিয়ম মতো কাফন দিয়ে মাটি দিতে হবে। যদি লাশ পচে থাকে, তবে শুধু উপরে একখানা কাপড় দিয়ে ঢেকে মাটি দিয়ে দিলে চলবে।

ওলী ব্যতীত অন্যের অনুমতিতে কেউ জানাযার নামায পড়লে ওলী ইচ্ছা করলে দ্বিতীয়বার জানাযা পড়তে পারে। কিন্তু ওলী পড়লে অন্য আর কেউ পড়তে পারবে না। মৃত ব্যক্তির নিকটতম ওলী বা অভিভাবক হচ্ছেন পিতা বা পুত্র। তবে পিতার তুলনায় পুত্র বেশি হক্বদার।

 (দলীলসমূহ: মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী, যাদুল মায়াদ, ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ফতোয়ায়ে শামী, দুররুল মুখতার, রুদ্দুল মুখতার, আহকামে মাইয়্যেত ইত্যাদি)

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়া বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ