সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ২৭৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আরিফুর রহমান, টাঙ্গাইল

সুওয়াল: আমাদের এলাকায় এক মালানা বলে যে, নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মাটির তৈরি তা কুরআন শরীফে আছে। কাজেই উনাকে মাটির তৈরি অস্বীকার করলে কুরআন শরীফই অস্বীকার করা হয়।

এখন আমার জানার বিষয় হলো, সত্যিই কি কুরআন শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটির তৈরী বলা হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কোথাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটির তৈরী বা মাটির সৃষ্টি বলা হয়নি। এটা শুধু আপনাদের এলাকার একজন মালানা কেন সারা পৃথিবীর সকল মালানাও যদি একত্রিত হয় তবুও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে তারা বের করতে বা প্রমাণ করতে পারবে না যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির সৃষ্টি। বরং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন নূর অর্থাৎ মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনার সৃষ্টি। যেমন পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ উনার ১৫নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قَدْ جَا ءَكُمْ مِّنَ اللهِ نُوْرٌ وَّكِتَابٌ مُّبِيْـنٌ

অর্থ: অবশ্যই তোমাদের নিকট এসেছেন মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে একজন মহাসম্মানিত নূর অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং এক সুস্পষ্ট কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনার সৃষ্টি। এটাই সত্য, সঠিক ও দলীলসম্মত বক্তব্য ও আক্বীদা।

এ বিষয়ে যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার একাধিক সংখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে ৬০তম সংখ্যা থেকে ৮২তম সংখ্যা পর্যন্ত বিস্তারিত ফতওয়া প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত ফতওয়ার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে,্ একমাত্র হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই মাটি হতে সৃষ্টি নন। চাই তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা হোন কিংবা সাধারণ মানুষ হোন। মূলতঃ পবিত্র কুরআনুল কারীম উনার মধ্যে মানুষ মাটির তৈরি বলে যত পবিত্র আয়াত শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে তা দ্বারা শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। অন্য কেউ নন। যা সমস্ত তাফসীরের কিতাবেই উল্লেখ রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَا ئِكَةِ إِنِّيْ خَالِقٌ بَشَرًا مِّنْ طِيْنٍ

অর্থ: “যখন আপনার পালনকর্তা মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করবো মাটি দ্বারা।” (পবিত্র সূরা ছোয়াদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭১)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ড, ১৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

إِنِّيْ خَالِقٌ بَشَرًا مِّنْ طِيْنٍ) يَعْنِـىْ حَضْرَتْ اٰدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ.

অর্থ: “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো বাশার মাটি থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে।”

আরো উল্লেখ্য, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই মাটির দ্বারা সৃষ্টি বা তৈরি নন সেটা স্পষ্টভাবে পবিত্র কুরআনুল কারীম উনার মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَبَدَاَ خَلْقَ الْاِنْسَانِ مِنْ طِيْنٍ ثُـمَّ جَعَلَ نَسْلَهٗ مِنْ سُلٰلَةٍ مِّنْ مَّاءٍ مَّهِيْنٍ.

অর্থ: এবং তিনি অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন মাটি থেকে অতঃপর উনার বংশ বিস্তার করেন স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা সাজদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭, ৮)

এ আয়াতে কারীমা উনার মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর উনার যারা আল আওলাদ অর্থাৎ বংশধর উনাদেরকে বিস্তার করা হয়েছে বা হয়ে থাকে স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে। অর্থাৎ সেই স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক মানুষের দেহ বা আকৃতি কুদরতীভাবে মায়ের রেহেম শরীফে গঠন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

যেমন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

هُوَ الَّذِيْ يُصَوِّرُكُمْ فِي الْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ

অর্থ: তিনি মহান আল্লাহ পাক যিনি মায়ের রেহেমসমূহে তোমাদের আকৃতি গঠন করে থাকেন যেরূপ ইচ্ছা করেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

প্রতিভাত হলো যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে মাটির সৃষ্টি বলাটাই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী বক্তব্য যা কুফরী। আর যিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতিত সমস্ত হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কুদরতময় সৃষ্টি। এছাড়া সমস্ত জিন-ইনসানও কুদরতময় সৃষ্টি। আর সমস্ত সৃষ্টি-কায়িনাতের যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই তো সর্বপ্রথম সৃষ্টি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনার কুদরতময় সৃষ্টি উনার রহস্য তো সম্পূর্ণই আলাদা। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাকে মাটির সৃষ্টি বলাটা কত মারাত্মক কুফরী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা দুশমন কেবল তারা ব্যতীত আর কেউই উক্ত কুফরী আক্বীদা পোষণ করতে পারে না।

হাফিয ক্বারী মুহম্মদ জামাল হুসাইন, জোলা পাড়া, বড় মসজিদ, বদলগাছী, নওগাঁ।

সুওয়াল: আমাদের মসজিদের কিছু সংখ্যক মুছল্লি রয়েছে যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন। আবার কখনো পড়েন না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তারা মুহ্ববত করেন, উনার শানে মীলাদ শরীফ মাহফিল করেন এবং উনাকে নূর বলে বিশ্বাস করেন। উনাদেরকে উক্ত মসজিদের ইমাম কাফির  বলে ফতওয়া দিয়েছে। যার কারণে সমাজে বড় ধরণের ফিতনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দলীলভিত্তিক জাওয়াব দিয়ে আমাদের ঈমান হিফাযত করবেন।

জাওয়াব: মসজিদের ইমামের জন্য উক্ত মুছল্লীদেরকে কাফির বলে ফতওয়া দেয়াটা মোটেও ঠিক হয়নি। কারণ কোন মু’মিন মুসলমানকে কাফির বলা কিংবা কাফির বলে ফতওয়া প্রদান করা সম্পূর্ণরূপে মহাসম্মানিত শরীয়ত তথা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ বা বিরোধী। যেমন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُـهْتَانًا وَّاِثْـمًا مُّبِيْنًا

অর্থঃ- “যারা বিনা অপরাধে মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্যে পাপের বোঝা বহণ করে।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَرْمِيْ رَجُلٌ رَجُلًا بِالْفُسُوْقِ، وَلاَ يَرْمِيْهِ بِالْكُفْرِ إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ إِنْ لَّـمْ يَكُنْ صَاحِبُهٗ كَذٰلِكَ

অর্থ: হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ফাসিক বলবে না এবং কুফরীর অপবাদও দিবে না। কেননা সেই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সেরূপ না হলে তবে তার অপবাদ নিজের উপরই বর্তাবে।” নাউযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ دَعَا رَجُلًا بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ‏ عَدُوُّ اللهِ، وَلَيْسَ كَذٰلِكَ إِلَّا حَارَ عَلَيْهِ‏.‏

অর্থ: হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কাউকে কাফির বলে ডাকে অথবা মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন বলে অথচ যাকে বলা হয়েছে সে তা নয় তখন উক্ত বাক্যটি তার নিজের উপরই প্রত্যাবর্তন করবে।” নাউযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

উল্লেখ্য সুওয়ালে উল্লেখিত মুছল্লীদের প্রায় প্রতিটি বিষয়ই ঈমানী আক্বীদা ও আমলের অন্তর্ভুক্ত। একটিও

যেমন পবিত্র কুফরী আক্বীদা বা আমলের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন প্রথমতঃ মুছল্লীগণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করেন যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আদেশ মুবারক। যেমন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قُلْ اِنْ كُنتُمْ تُـحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِـيْ يُـحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ ۗ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

অর্থ: (আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, তোমরা যদি মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করে থাক তাহলে মুহব্বতের সাথে আমাকেই অনুসরণ করো। তবেই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের মুহব্বত করবেন, তোমাদের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَحِبُّوْنِـىْ لـِحُبِّ اللهِ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত পাওয়ার জন্য আমাকে তোমরা মুহব্বত করো। (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى أَكُوْنَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهٖ وَوَلَدِهٖ وَالنَّاسِ أَجْـمَعِيْنَ

অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষ থেকে অধিক প্রিয় না হবো। (মুসলিম শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اَلْـمَرْءُ مَعَ مَنْ اَحَبَّ

অর্থ: যিনি যাকে মুহব্বত করবেন উনার সাথেই উনার হাশর নশর হবে। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতই সবকিছুর মূল। উনার মুহব্বতকারীগণ উনার সাথেই সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান করবেন। সুবহানাল্লাহ!

দ্বিতীয়ত: মুছল্লীগণ উনারা পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিল করেন। মূলত: মীলাদ শরীফ মাহফিল হচ্ছে নূরে মুজাসসাম  হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে  খুশি প্রকাশ করার মাহফিল। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেন-

قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ

অর্থ: (আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ফদ্বল মুবারক ও উনার মহাসম্মানিত রহমত মুবারক অর্থাৎ আপনাকে পাওয়ার কারণে তারা যেন খুশি প্রকাশ করে। এটাই হচ্ছে তাদের সমস্ত ইবাদত থেকে শ্রেষ্ঠ।

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উপলক্ষে মাহফিল করা, উনার শান মুবারকে ছলাত শরীফ পাঠ ও সালাম শরীফ পেশ করা অর্থাৎ উনার ছানা-ছিফত মুবারক করতঃ খুশি প্রকাশ করাটা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে- যারা পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিল করবেন উনাদের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাফায়াত মুবারক করার সুসংবাদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, উনাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সমস্ত রহমত মুবারক উনার দরজাসমূহ খুলে দিবেন এবং সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য মাগফিরাত বা ক্ষমাপ্রর্থনা  করবেন এবং উনাদের জন্য নাজাত ও সম্মানিত জান্নাতেরও সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

তৃতীয়ত: উক্ত মুছল্লীগণ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূর বলে বিশ্বাস করেন। প্রকৃতপক্ষে এ বিশ্বাসই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা বা বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত।

যেমন পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ উনার ১৫নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قَدْ جَاءَكُمْ مِّنَ اللهِ نُوْرٌ وَّكِتَابٌ مُّبِيْـنٌ

অর্থ: অবশ্যই তোমাদের নিকট এসেছেন মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে একজন মহাসম্মানিত নূর অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং এক সুস্পষ্ট কিতাব তথা পবিত্র কুরআন শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনার সৃষ্টি। এটাই সত্য, সঠিক ও দলীলসম্মত বক্তব্য ও আক্বীদা।

এ বিষয়ে যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার একাধিক সংখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে ৬০তম সংখ্যা থেকে ৮২তম সংখ্যা পর্যন্ত বিস্তারিত ফতওয়া প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত ফতওয়ার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে,্ একমাত্র হযরত আবুল বাশার আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই মাটি হতে সৃষ্টি নন। চাই তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা হোন কিংবা সাধারণ মানুষ হোন। মূলতঃ পবিত্র কুরআনুল কারীম উনার মধ্যে মানুষ মাটির তৈরি বলে যত পবিত্র আয়াত শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে তা দ্বারা শুধুমাত্র হযরত আবুল বাশার আলাইহিস সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। অন্য কেউ নন। যা সমস্ত তাফসীরের কিতাবেই উল্লেখ রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّيْ خَالِقٌ بَشَرًا مِّنْ طِيْنٍ

অর্থ: “যখন আপনার পালনকর্তা মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করবো মাটি দ্বারা।” (পবিত্র সূরা ছোয়াদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭১)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ড, ১৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(إِنِّيْ خَالِقٌ بَشَرًا مِّنْ طِيْنٍ) يَعْنِـىْ حَضْرَتْ اٰدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ.

অর্থ: “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো বাশার মাটি থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে।”

অতএব, যারা আহলে সুন্নত ওয়া জামায়াত উনাদের আক্বীদা পোষণ করেন নিঃসন্দেহে উনারা মহাসম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَالْعَصْرِ. اِنَّ الْاِنْسَانَ لَفِيْ خُسْرٍ اِلَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا

অর্থ: সময়ের কসম! নিশ্চয়ই সমস্ত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে (অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত তবে) তারা ব্যতিত যারা ঈমান এনেছেন অর্থাৎ বিশুদ্ধ আক্বীদার অধিকারী হয়েছেন।

চতুর্থত হচ্ছে, সম্মানিত নামায। উক্ত মুছল্লীগণ পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন। তবে সুওয়ালকারীর বক্তব্য অনুযায়ী উনারা কখনও কখনও নামায পড়েন না।

মূলত: পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া প্রত্যেক বালেগ পুরুষ ও মহিলার জন্য ফরযে আইন। কেউ যদি তা সেচ্ছায় তরক করে তাহলে সে কবীরা গুনাহে গুনাহগার হবে। তাকে খালিছ তওবা করতে হবে। তবে নামায নামায তরক করলে কেউ কাফির হবে না। তাকে কাফির বলে ফতওয়া দেয়াও যাবে না। বরং এ সকল মুছল্লীদেরকে বলতে হবে, নছীহত করতে হবে তারা যেন ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামায নিয়মিতভাবে আদায় করেন। নামায ও নামাযীদের ফযীলত বর্ণনা করলে দেখা যাবে, এক সময় উনারা নিয়মিত নামায আদায়কারী মুছল্লীতে পরিণত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

কিন্তু সেটা না করে উনাদেরকে কাফির বলে ফতওয়া দেয়া ইমামের জন্য শরীয়তসম্মত তো হয়ইনি বরং ইমামের প্রদত্ব ফতওয়া তার নিজের উপরই প্রত্যাবর্তিত হয়ে নিজেই কাফির সাব্যস্ত হয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ!

ফলে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক ঐ ইমামের পিছনে নামায পড়লে নামায শুদ্ধ হবেনা।

কারণ ইমামের জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে ঈমানদার হওয়া। কোন কাফির কিংবা কুফরী আক্বীদা সম্পন্ন ইমামের পিছনে নামায পড়া জায়িয নেই। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে ইমাম ফাসিক না হওয়া।

কারণ ফাসিক ঈমামের পিছনে নামায পড়া হলে উক্ত নামায পূনরায় দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব।

অতএব, মসজিদ কমিটির দায়িত্ব হচ্ছে উক্ত ইমামকে অতিসত্বর অব্যাহতি দিয়ে কোন যোগ্য ইমামকে নিয়োগ প্রদান করা। অন্যথায় ইমামের অপরাধের ভাগীদার মসজিদ কমিটিকেও হতে হবে।

উল্লেখ্য, উক্ত ইমাম যদি খালিছ তওবা করে ফিরে আসে তবে তাকে ইমাম হিসেবে রাখা যেতে পারে অন্যথায় নয়।

মুহম্মদ নূরুল আলম, নূরপুর।

সুওয়াল: অনেকে বলে থাকে যে, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিল মূর্তিপূজক আযর। এ বক্তব্য কতটুকু ঠিক? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এরূপভাবে মনোনীত যে, উনাদের কারো পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা কেউই কাফির কিংবা মুশরিক ছিলেন না। বরং উনাদের মধ্যে অনেকে নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন আর যাঁরা নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না উনারা ঈমানদার তো অবশ্যই উপরন্তু উনারা ছিলেন উনাদের যুগে মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত বান্দা ও বান্দী এবং মাহবূব উনাদের অন্তর্ভুক্ত। এটাই হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের মত এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত উনাদের মত। এ মতের বিপরীত মত, অর্থ, ব্যাখ্যা, বক্তব্য, লিখনী সবই কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

প্রকৃতপক্ষে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলেন হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম, যিনি পরিপূর্ণ দ্বীনদার, পরহেযগার, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মত ও পথের পরিপূর্ণ অনুসারী একজন খালিছ ঈমানদার। সর্বোপরি তিনি ছিলেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রুবূবিয়াত প্রকাশের মহানতম ওসীলা। কেননা সমগ্র মাখলূক্বাত বা কায়িনাত সৃষ্টির যিনি মূল উৎস সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল কুদরত অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘নূর’ মুবারক উনার একজন মহান ধারক-বাহক।

হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে যে সকল মনোনীত ও সম্মানিত পুরুষ-মহিলা আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল কুদরত অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘নূর’ মুবারক আবূ রসূলিল্লাহ হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উম্মু রসূলিল্লাহ হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে উনারা সকলেই ছিলেন সর্বকালের সর্বযুগের শ্রেষ্ঠতম পবিত্রতম সুমহান ব্যক্তিত্ব। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মধ্যে কেউই কাফির, মুশরিক বা বেদ্বীন ইত্যাদি ছিলেননা। উনারা সকলেই ছিলেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত খাছ বান্দা-বান্দি উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

মূলত যারা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা বা পরিবারকে মূর্তিপূজক হিসেবে অভিহিত করে থাকে তারা পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ সম্পর্কে নেহায়েত অজ্ঞ ও জাহিল হওয়ার কারণেই করে থাকে। এছাড়া তারা মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহানতম ও পবিত্রতম শান, মান, মর্যাদা, মর্তবা সম্পর্কে এবং উনার সুমহান পরিচয় সম্পর্কে চরম অজ্ঞ ও গণ্ড মূর্খ হওয়ার কারণে এবং পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃতلِاَبِيْهِ اٰزَرَ  উনার মূল ও সঠিক অর্থ যা পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে তা গ্রহণ না করে তার বিপরীতে শুধুমাত্র আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থের উপর ভিত্তি করে অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করার কারণেই করে থাকে। যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

যেমন পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَاِذْ قَالَ اِبْرَاهِيْمُ لِاَبِيْهِ اٰزَرَ اَتَتَّخِذُ اَصْنَامًا اٰلِـهَةً

অর্থ : “আর যখন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি স্বীয় চাচা আযরকে বললেন, আপনি কি মূর্তিকে ইলাহ (মা’বুদ) হিসেবে গ্রহণ করছেন?”

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের সর্বসম্মত মত হচ্ছে, এখানে اَبِيْهِ শব্দ মুবারক উনার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ‘আযর’ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। অর্থাৎ উদ্ধৃত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اَبٌ (আবুন) শব্দ মুবারক উনার অর্থ পিতা না হয়ে উনার অর্থ হবে চাচা। কারণ, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনেক স্থানেই اَبٌ (আবুন) শব্দটি পিতা ব্যতীত অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে।

যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

اَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ اِذْ حَضَرَ يَعْقُوْبَ الْمَوْتُ اِذْ قَالَ لِبَنِيْهِ مَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ بَعْدِيْ قَالُوْا نَعْبُدُ اِلٰـهَكَ وَاِلٰـهَ اٰبَائِكَ إِبْرَاهِيْمَ وَاِسْـمَاعِيْلَ وَاِسْحَاقَ إِلٰـهًا وَّاحِدًا

অর্থ : “তোমরা কি উপস্থিত ছিলে? যখন হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফ গ্রহণের সময় উপস্থিত হলো তখন তিনি উনার সন্তানগণ উনাদেরকে বললেন, ‘আপনারা আমার পর কার ইবাদত করবেন? উনারা উত্তরে বললেন, ‘আমরা আপনার যিনি রব তায়ালা উনার এবং আপনার পূর্ব পিতা (আপনার দাদা) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার এবং (আপনার চাচা) হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার এবং (আপনার বাবা) হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনার একক রব খালিক্ব মালিক মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করবো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৩)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اَبٌ (আবুন) দ্বারা দাদা, চাচা ও বাবা সকলকে বুঝানো হয়েছে। যেমন, এ সম্পর্কে বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী’ উনার ৩য় খণ্ডের ২৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

وَكَانَ اٰزَرُ عَلَى الصَّحِيْحِ عَمًّا لِّاِبْرَاهِيْمَ وَالْعَرَبُ يُطْلِقُوْنَ الْاَبَ عَلَى الْعَمِّ كَمَا فِـىْ قَوْلِهٖ تَعَالٰى نَعْبُدُ اِلٰـهَكَ وَاِلٰهَ اٰبَائِكَ اِبْرَاهِيْمَ وَاِسْـمَاعِيْلَ وَاِسْحَاقَ اِلٰـهَا وَّاحِدًا.

অর্থ : “বিশুদ্ধ মতে, আযর ছিলো হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। আর আরবরা চাচাকেও اَبٌ (আবুন) শব্দ দ্বারা অভিহিত করে থাকে।” যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমরা আপনার প্রতিপালক ও আপনার পূর্বপিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসহাক্ব আলাইহিস সালাম উনাদের একক প্রতিপালক মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করবো।”

সুতরাং, পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪নং আয়াত শরীফে اَبِيْهِ اٰزَرَ এর অর্থ হলো আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। উনার পিতা নন।

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسِ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ اَنَّ اَبَا اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَـمْ يَكُنْ اِسْـمُهٗ  اٰزَرَ وَاِنَّـمَا كَانَ اِسْـمُهٗ تَارَحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ : “রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম আযর নয়। বরং উনার পিতার নাম মুবারক হলো হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।” (ইবনে আবি হাতিম শরীফ, ইবনে কাছীর শরীফ- ৩/২৪৮)

এ সম্পর্কে তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩৮ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে-

اِنَّ وَالِدَ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَانَ تَارَحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَاٰزَرُ كَانَ عَمًّا لَّهٗ وَالْعَمُّ قَدْ يُطْلَقُ عَلَيْهِ اِسْمُ الْاَبِ.

অর্থ : “নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা ছিলেন হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম। আর আযর ছিলো উনার চাচা। এবং আম্মুন (চাচা) শব্দটি কখনও ‘ইসমুল আব’ অর্থাৎ পিতা নামে ব্যবহৃত হয়।”

মূলতঃ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনিসহ সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগ উনাদের পিতা-মাতা বা পূর্বপুরুষ ছিলেন পরিপূর্ণ ঈমানদার, খালিছ মু’মিন। কেউই কাফির ছিলেন না।

এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

اِنَّ اٰبَاءَ الْاَنْبِيَاءِ مَاكَانُوْا كُفَّارًا وَّيَدُلُّ عَلَيْهِ وُجُوْهٌ مِّنْهَا قَوْلُهٗ وَتَقَلُّبَكَ فِـى السَّاجِدِيْنَ.

অর্থ : “নিশ্চয়ই সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পিতা বা পূর্বপুরুষ উনারা কেউই কাফির ছিলেননা। তার দলীল হচ্ছে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এ কালাম শরীফ-

وَتَقَلُّبَكَ فِى السّٰجِدِيْنَ.

অর্থাৎ : “তিনি আপনাকে (আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) সিজদাকারীগণ উনাদের মধ্যে স্থানান্তরিত করেছেন।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ ২১৯, তাফসীরে কবীর- ১৩/৩৮)

প্রকাশ থাকে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مِلَّةَ أَبِيْكُمْ إِبْرَاهِيْمَ ۚ هُوَ سَـمَّاكُمُ الْمُسْلِمِيْنَ

অর্থাৎ- “তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীন উনার উপর কায়িম থাক। তিনি তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলমান।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৮)

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাঁদের মাধ্যমে যমীনে তাশরীফ এনেছেন অর্থাৎ হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে আবূ রসূলিল্লাহ হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত উনারা সকলেই ছিলেন সিজদাকারী। অর্থাৎ সকলেই নামায-কালাম, যিকির-আযকার, ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল ছিলেন। উনারা সকলেই পূর্ণ পরহেযগার, মুত্তাক্বী ও দ্বীনদার ছিলেন।

এ সম্পর্কে তাফসীরে কবীর ১৩ যিলদ ৩৮ পৃষ্ঠা উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

فَالْاٰيَةُ دَالَّةٌ عَلٰى اَنَّ جَـمِيْعَ اٰبَاءِ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوْا مُسْلِمِيْنَ وَحِيْنَئِذٍ يـَجِبُ الْقَطْعُ بِاَنَّ وَالِدَ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَانَ مُسْلِمًا.

অর্থ : “উপরোক্ত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা এটাই ছাবিত বা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ উনারা সকলেই পূর্ণ মুসলমান ছিলেন। এ থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত বা সাব্যস্ত যে, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা মুসলমান ছিলেন।” (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩/৩৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَـمْ اَزَلْ اَنْقُلُ مِنْ اَصْلَابِ الطَّاهِرِيْنَ اِلٰى اَرْحَامِ الطَّاهِرَاتِ.

অর্থ : “আমি সর্বদা পূত-পবিত্র মহিলা ও পুরুষ উনাদের মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর- ১৩/৩৯)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

لَـمْ يَلْتَقِ اَبَوَاىَ قَطُّ عَلٰى سِفَاحٍ.

অর্থ : “আমার পিতা-মাতা (পূর্বপুরুষ) কেউই কখনও কোন অন্যায় বা অশ্লীল কাজে জড়িত হননি।” (কানযুল উম্মাল শরীফ, ইবনে আসাকীর, বারাহিনে  কাতিয়াহ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

بُعِثْتُ مِنْ خَيْرِ قُرُوْنِ بَنـِىْ اٰدَمَ قَرْنًا فَقَرْنًا حَتّٰـى بُعِثْتُ مِنَ الْقَرْنِ الَّذِىْ كُنْتُ فِيْهِ.

অর্থ : “আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তানগণ উনাদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্প্রদায়ের মধ্যেই সর্বদা প্রেরিত হয়েছি। এমনকি আমি যে (কুরাইশ) সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিলাম সেটিই ছিলো সর্বোত্তম সম্প্রদায়।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৪র্থ খণ্ড ৩০৮ পৃষ্ঠা)

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় কিতাবে বর্ণিত হয়েছে-

فَلَا يـُمْكِنُ اَنْ يَّكُوْنَ كَافِرًا فِـىْ سِلْسِلَةِ اٰبَائِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ : “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতা (পূর্ব পুরুষ) উনাদের সিলসিলার মধ্যে কেউই কাফির হওয়া সম্ভব নয়।” (তাফসীরে মাযহারী ৪র্থ খণ্ড ৩০৮ পৃষ্ঠা)

এ সম্পর্কে তাফসীরে কবীর- ১৩ খণ্ড ৩৯ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত হয়েছে-

اِنَّ اَحَدًا مِنْ اَجْدَادِهٖ مَا كَانَ مِنَ الْـمُشْرِكِيْنَ.

অর্থ : “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাপ-দাদাগণ উনারা কেউই মুশরিক ছিলেননা।”

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনা দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলেন হাক্বীক্বী পরহেযগার, মুত্তাক্বী, পরিপূর্ণ ঈমানদার ও মুসলমান। উনার নাম মুবারক হচ্ছেন হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম। আর আযর নামক ব্যক্তি ছিল উনার চাচা। আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, পূর্ববর্তী সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পূর্বপুরুষগণ এবং সর্বোপরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষগণ হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে আবূ রসূলিল্লাহ হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত সকলেই ছিলেন পূত-পবিত্র চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী, পূর্ণ দ্বীনদার ও পরিপূর্ণ মুসলমান।

অতএব, যে ব্যক্তি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা ও পরিবার সম্পর্কে কুফরীমূলক আক্বীদা রাখবে ও বক্তব্য-লিখনী প্রকাশ করবে পবিত্র ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তার উপরে মুরতাদের হুকুম বর্তাবে। অর্থাৎ সে ইসলাম বা মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে যাবে। পবিত্র ইসলামী খিলাফত থাকলে তাকে তিনদিন সময় দেয়া হতো তওবা করার জন্য। তিনদিনের মধ্যে তওবা না করলে তার শাস্তি হতো মৃত্যুদণ্ড। সে মারা গেলে তার জানাযা পড়া জায়িয হবে না। তাকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করাও যাবে না; বরং তাকে মৃত কুকুর-শৃগালের মত মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে। তার জীবনের সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যাবে। বিয়ে করে থাকলে তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে এবং সে হজ্জ করে থাকলে তা বাতিল হয়ে যাবে। সে ওয়ারিছসত্ব থেকেও বঞ্চিত হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ২৪০তম সংখ্যা পাঠ করুন।

 

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুড়া।, ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

 

সুওয়াল: মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার অর্থ, ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: (পূর্ব প্রকাশিতের পর ৪৬)

‘আস সাফফাহ’ সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার একখানা অর্থ মুবারক হচ্ছেন

‘অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী’:

মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি যে অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী তা বুঝার জন্য- তিনি যে সমস্ত কায়িনাতবাসীকে মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক সম্পর্কে সর্বোচ্চ এবং সর্বোত্তম সম্মানিত বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন, তা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলো।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশুদ্ধ

আক্বীদাহ মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন: সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا

অর্থ: “নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার সম্মানিত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! আপনারাও উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করুন এবং উনার প্রতি সম্মানিত সালাম মুবারক পেশ করার মত সম্মানিত সালাম মুবারক পেশ করুন। অর্থাৎ যথাযথ আদবের সাথে সম্মানিত সালাম মুবারক পেশ করুন। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তিনি উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি কখন থেকে সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ শুরু করেছেন এবং কখন পর্যন্ত পাঠ করবেন? মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সৃষ্টি মুবারক করার পর থেকেই উনার প্রতি দায়িমীভাবে সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করে যাচ্ছেন, এখনও পাঠ করছেন। সুবহানাল্লাহ! আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যেহেতু ক্বদীম তাই তিনি অনন্তকাল যাবৎ সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করতেই থাকবেন। তিনি কখনও এ সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করা থেকে বিরত থাকবেন না। সুবহানাল্লাহ! আর এ কথা কখনও কল্পনা করা যায় না যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন এক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওজূদ মুবারক উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করবেন, অথচ উনার সম্মানিত অস্তিত্ব মুবারক থাকবে না, উপস্থিতি মুবারক থাকবে না। না‘ঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন ক্বদীম, তিনি কখনও ফানা বা লয় হবেন না, ঠিক তেমনিভাবে উনার সাথে সংযুক্ত হওয়ার কারণে উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও ক্বদীম উনার অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেছেন, তিনিও কখনও ফানা বা লয় হবেন না। সুবহানাল্লাহ!

যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সমস্ত কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি থাকবেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ. وَيَبْقٰى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْـجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ.

 অর্থ: “সারা কায়িনাতের সমস্ত কিছু ফানা বা ধ্বংস হয়ে যাবে। একমাত্র আপনার মহামহিম ও মহানুভব রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওজূদ মুবারক বাক্বা বা স্থায়ী থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আর রহমান শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬-২৭)

আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার অধীন। তাই যখন সমস্ত কায়িনাতের সমস্ত কিছু ফানা বা ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করতে থাকবেন, যেমনিভাবে সৃষ্টির শুরুতে যখন কিছুই ছিলো না, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে দায়িমীভাবে উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করে যাচ্ছেন, উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করতেই থাকবেন, অনন্তকাল যাবৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!

মীর মুহম্মদ ছাবের আলী, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, ঢাকা ,মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, সংসদ ভবন,ঢাকা, মুহম্মদ জুনাইদ, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

সুওয়াল: বর্তমানে মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার ব্যাপারে তীব্র মতভেদ দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। আবার কেউ বলছে জায়িয। উভয়েই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ফিক্বাহের কিতাব থেকে দলীল দিয়ে থাকে।

এখন আমরা কোনটা গ্রহণ করবো? বহুল প্রচারিত দলীলভিত্তিক মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সঠিক ফায়সালা তুলে ধরলে সাধারণ মুসলমানগণ উপকৃত হতো।

জাওয়াব: পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে মসজিদের ভিতরে বা মসজিদের বাহিরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার সঠিক ফায়ছালা হচ্ছে, মসজিদের ভিতরে হোক অথবা মসজিদের বাহিরে হোক, দাঁড়াতে সক্ষম হোক  অথবা দাঁড়াতে অক্ষম হোক, প্রত্যেক অবস্থাতেই চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসনে বসে নামায আদায় করা কাট্টা হারাম, নাজায়িয ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং নামায বাতিল হওয়ার কারণ। এ ফতওয়াটি ছহীহ, দলীলভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য। এর খিলাফ কোন ফতওয়াই ছহীহ নয়, দলীলভিত্তিকও নয় এবং গ্রহণযোগ্যও নয়।

আমরা ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত বিষয়ে দলীল-আদিল্লাহ পেশ করার পাশাপাশি যারা চেয়ার, টেবিল, টুল ও বেঞ্চে বসে নামায পড়াকে জায়িয বলে, তাদের সে সমস্ত বক্তব্যগুলো নির্ভরযোগ্য দলীল দ্বারা খণ্ডন করবো। ইন্শাআল্লাহ!

স্মর্তব্য যে, আমরা প্রথমত: প্রমাণ করেছি যে, মসজিদের ভিতরে, নামায পড়ার উদ্দেশ্যে চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসন ইত্যাদি প্রবেশ করানোই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ।

দ্বিতীয়ত: প্রমাণ করেছি যে, চেয়ারে বসে নামায পড়াও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ বা হারাম। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা, হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা, হযরত তাবি-তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা, হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কেউই অসুস্থ অবস্থাতে কখনো চেয়ারে বসে নামায পড়েছেন এরূপ কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না। তাই চেয়ারে বসে নামায পড়া সুস্পষ্ট বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ বা হারাম।

তৃতীয়ত: আমরা প্রমাণ করেছি যে, চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। কারণ ক্বিয়াম করার সামর্থ থাকা সত্বেও চেয়ারে বসে নামায আদায় করলে ফরয ক্বিয়াম তরক হয়। আর নামাযে ফরয তরক করলে নামায বাতিল  হয়।

চতুর্থত: আমরা প্রমাণ করেছি যে, চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। কারণ চেয়ারে বসে নামায আদায় করলে অনেক সময় চেয়ারে টেক লাগানো হয়। আর সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছে দাঁড়াতে সক্ষম এমন ব্যক্তি নামায অবস্থায় কোন কিছুর মধ্যে টেক দিয়ে, হেলান দিয়ে, ভর দিয়ে নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী। আর নামায মাকরূহ তাহরীমী হলে দোহরানো ওয়াজিব।

পঞ্চমত: আমরা প্রমাণ করবো যে, চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। কারণ চেয়ারে বসে নামায আদায় করা নামাযের কোন ছুরত নয়। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা, তাবিয়ীন, তাবি-তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কারো যুগেই চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসনে নামায পড়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না। বিধায় চেয়ারে বসে নামায আদায় করা নামাযের কোন ছুরত নয়।

বরং সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে নামায পড়ার তিন ছুরত।  অর্থাৎ (১) সাধারণভাবে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে হবে। (২) দাঁড়াতে না পারলে যমীনে বসে নামায আদায় করতে হবে। (৩) যমীনে বসে আদায় করতে না পারলে শুয়ে নামায আদায় করতে হবে।

স্মরণীয় যে, নামাযে দাঁড়ানো বলতে কোন কিছুর মধ্যে ঠেস বা হেলান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোকে বুঝানো হয়েছে। বসা বলতে নামাযে যেভাবে বসার নিয়ম; সেভাবে যমীনে বসা, অপরাগবশত চার জানু হয়েও বসতে পারে। একইভাবে শোয়া বলতে সাধারণভাবে শোয়াকে বুঝনো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নামাযে দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া এ তিন অবস্থা দ্বারা সরাসরি যমীনের উপর দাঁড়িয়ে, যমীনের উপর বসে এবং যমীনের উপর শুয়ে নামায আদায় করতে হবে। আর যমীন বলতে সরাসরি যমীন অথবা ঘরের মেঝে অথবা বিছানা হতে পারে। যেখানে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে নামায আদায় করা যায়।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

অর্থ: “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করো দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)

الَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيَامًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِـهِمْ

অর্থ: “যারা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করে দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯১)

বলার অপেক্ষা রাখে না, পবিত্র নামায হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকিরের অন্তর্ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكْرِىْ

অর্থ: “পবিত্র নামায আদায় করো আমার যিকিরের উদ্দেশ্যে।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ত্ব-হা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪)

কাজেই, নামায পড়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে  যমীনে দাঁড়ানো, যমীনে বসা ও যমীনে শোয়ার যে তরতীব বা নিয়ম পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ  উনাদের মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে, সেভাবে যমীনে দাঁড়িয়ে, যমীনে বসে ও যমীনে শুয়ে নামায আদায় করতে হবে।

নিম্নে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাব  থেকে কিছু আলোচনা করা হলো-

যেমন, “বুখারী শরীফ” কিতাবের ১ম খণ্ডের ১৫০ পৃষ্ঠায় بَابٌ اِذَا لَمْ يُطِقْ قَاعِدًا صَلَّى عَلٰى جَنْبٍ  অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-

 عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، قَالَ كَانَتْ بِى بَوَاسِيْرُ فَسَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الصَّلٰوةِ فَقَالَ صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَعَلٰى جَنْبٍ.

অর্থ: “হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন; আমি অশ্ব রোগে আক্রান্ত ছিলাম। এজন্য আমি রসূলুল্লাহ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামায আদায় করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, “সম্ভব হলে অসুস্থ অবস্থায়ও আপনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেন। যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তাহলে শুয়ে নামায আদায় করবেন।”

“আবূ দাউদ শরীফ” কিতাবের ১ম খণ্ডের ১৩৭ পৃষ্ঠায় بَابٌ فِىْ الصَّلٰوةِ الْقَاعِدِ  অধ্যায়ে উল্লেখ আছে,

عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ كَانَ بِىَ النَّاصُوْرُ فَسَأَلْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَليْهِ وسَلَّمَ فَقَالَ صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَعَلٰى جَنْبٍ.

অর্থ: “হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন; আমি অশ্ব রোগে আক্রান্ত ছিলাম। এজন্য আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামায আদায় করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, “সম্ভব হলে অসুস্থ অবস্থায়ও আপনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেন। যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তাহলে শুয়ে নামায আদায় করবেন।”

“তিরমিযী শরীফ” কিতাবের ১ম খণ্ডের ৪৯ পৃষ্ঠায়

بَابٌ مَا جَاءَ اَنَّ صَلاَةَ الْقَاعِدِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلاَةِ الْقَائِم ِ

অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، قَالَ : سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلاَةِ الْمَرِيْضِ؟ فَقَالَ: صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَعَلٰى جَنْبٍ.

অর্থ: “হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন; আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অসুস্থ ব্যক্তির নামায আদায় করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন, “সম্ভব হলে অসুস্থ অবস্থায়ও আপনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেন। যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তাহলে শুয়ে নামায আদায় করবেন।”

“সুনানু ইবনে মাজাহ শরীফ” কিতাবের ১ম খণ্ডের ৮৭ পৃষ্ঠায় بَابٌ مَا جَاءَ فِىْ صَلٰوةِ الْمَرِيْضِ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-

 عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، قَالَ: كَانَ بِيَ النَّاصُوْرُ، فَسَأَلْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَليْهِ وسَلَّمَ عَنِ الصَّلٰوةِ، فَقَالَ : صَلِّ قَائِمًا ، فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ، فَعَلٰى جَنْبٍ.

অর্থ: “হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন; আমি অশ্ব রোগে আক্রান্ত ছিলাম। এজন্য আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামায আদায় করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, “সম্ভব হলে অসুস্থ অবস্থায়ও আপনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেন। যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তাহলে শুয়ে নামায আদায় করবেন।”

“সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী” কিতাবের ২য় খণ্ডের ৩০৪ পৃষ্ঠায়  بَابُ صَلٰوةِ الْمَرِيْضِঅধ্যায়ে উল্লেখ আছে,

عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللهُ تَعاَلٰى عَنْهُ،  قَالَ : كَانَتْ بِى بَوَاسِيْرُ، فَسَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَعَلٰى جَنْبٍ.

অর্থ: “হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন; আমি অশ্ব রোগে আক্রান্ত ছিলাম। এজন্য আমি রসূলুল্লাহ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামায আদায় করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, “সম্ভব হলে অসুস্থ অবস্থায়ও আপনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেন। যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তাহলে শুয়ে নামায আদায় করবেন।”

“সুনানে দারে কুত্বনী” কিতাবের ১ম খণ্ডের ৩৮০ পৃষ্ঠার لَايَسْتَطِيْعُ اَلْقِيَامَ بَابُ صَلاَةِ الْمَرِيْض অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ : كَانَتْ لِىْ بَوَاسِيْرُ، فَسَأَلْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَعَلٰى جَنْبِكَ

অর্থ: “হযরত উমর ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন; আমি অশ্ব রোগে আক্রান্ত ছিলাম। এজন্য আমি রসূলুল্লাহ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামায আদায় করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, “সম্ভব হলে অসুস্থ অবস্থায়ও আপনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেন। যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তাহলে তোমার পার্শ¦দেশের উপর ভর করে শুয়ে নামায আদায় করবেন।”

“মিশকাত শরীফ” কিতাবের ১ম খণ্ডের ১১০ পৃষ্ঠায় بَابُ الْقَصْدِ فِىْ الْعَمَلِ  অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ الله تَعَالى عَنْهُ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَعَلٰى جَنْبٍ.

অর্থ:“হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন; নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “আপনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেন। যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তাহলে তোমার পিঠের উপর শুয়ে নামায আদায় করবেন।”

“মিরকাত শরীফ” কিতাবের ৩য় খণ্ডের ১৫৬ পৃষ্ঠায় كِتَابُ الصَّلاَةِ بَابُ الْقَصْدِ فِىْ الْعَمَلِ   অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-

 عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ … قَالَ كَانَتْ بِىْ بَوَاسِيْرُ فَسَأَلْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَليْهِ وسَلَّمَ عَنِ الصَّلاَةِ ؟ فَقَالَ: صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَعَلٰى جَنْبٍ.

অর্থ: “হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  উনার থেকে বর্ণিত আছে …, তিনি বলেন; আমি অশ্ব রোগে আক্রান্ত ছিলাম। এজন্য আমি রসূলুল্লাহ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামায আদায় করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, “সম্ভব হলে অসুস্থ অবস্থায়ও আপনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেন। যদি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তাহলে শুয়ে নামায আদায় করবেন।”

উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে নামায পড়ার তিন ছুরত।  অর্থাৎ (১) সাধারণভাবে যমীনে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে হবে। (২) দাঁড়াতে না পারলে যমীনে বসে নামায আদায় করতে হবে। (৩) যমীনে বসে আদায় করতে না পারলে যমীনে শুয়ে নামায আদায় করতে হবে। উক্ত তিন ছূরত ব্যতীত নামাযের চতুর্থ কোন ছূরত নেই। সুতরাং চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। কারণ চেয়ারে বসে নামায আদায় করা নামাযের কোন ছুরত নয়।

অতএব আমাদেরকে নামায পড়তে হলে উক্ত তিন ছূরতের যে-কোন একটি ছূরতেই নামায পড়তে হবে। এই তিন ছূরতই সম্মানিত শরীয়ত তথা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ছূরত। এই তিন ছূরতের বাইরে  অন্য কোন ছূরতে যেমন, চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসনে নামায পড়া জায়িয হবে না। এই তিন ছূরতের বাইরে অন্য কোন ছূরত বা নিয়মনীতি তালাশ করা যাবে না।

কেননা খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَنْ يَّبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِيْنًا فَلَنْ يُّقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْاٰخِرَةِ مِنَ الْـخَاسِرِيْنَ

অর্থ: “সম¥ানিত ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহন করতে চাইলে তা কখনও কবুল করা হবেনা এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।”

মুহম্মদ মাহমূদ হুসাইন, পূর্ব গোড়ান, ঢাকা।

সুওয়াল: পবিত্র জুমুয়ার নামায উনার দু’রাকায়াত ফরয নামাযের পর সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ নামায কত রাকায়াত? ৪ রাকায়াত না ৬ রাকায়াত? কেউ কেউ বা’দাল জুমুয়াহ ৪ রাকায়াতের পর ২ রাকায়াত সুন্নাতুল ওয়াক্ত নামাযকে সুন্নাতে যায়িদাহ বলে থাকে। এটা কতটুকু সঠিক ও দলীলভিত্তিক তা জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: পবিত্র জুমুয়ার নামায উনার দু’রাকায়াত ফরয নামাযের পর ৪ রাকায়াত বা’দাল জুমুয়াহ এবং ২ রাকায়াত সুন্নাতুল ওয়াক্ত হিসেবে  মোট ৬ রাকায়াত আদায় করা আমাদের সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার মুখতার বা গ্রহণযোগ্য ফতওয়া মুতাবেক সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ উনার অন্তর্ভুক্ত। আর এটাই ছহীহ ও মুখতার বা গ্রহণযোগ্য মত।

অতএব পবিত্র জুমুয়ার দু’রাকায়াত ফরয নামাযের পর ৪ রাকায়াত বা’দাল জুমুয়াহ  এবং ২ রাকায়াত সুন্নাতুল ওয়াক্ত মোট ৬ রাকায়াত নামাযই সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। উক্ত ৬ রাকায়াতই পড়তে হবে। এক রাকায়াতও বাদ দেয়া যাবে না। বাদ দিলে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ছেড়ে দেয়ার কারণে ওয়াজিব তরকের গুনাহে গুনাহগার হতে হবে।

দলীলসমূহ:- (১) “শারহু মায়া’নিল আছার” (২) “শারহু মুশকিল আছার” (৩) “নাসায়ী শরীফ” (৪) “তিরমিযী শরীফ” (৫) “আবূ দাউদ শরীফ” (৬) “ইবনে মাজাহ শরীফ” (৭) “উমদাতুল ক্বারী শরহে ছহীহুল বুখারী” (৮) “জাহেরুর রেওয়ায়েত” (৯) “ক্বুওওয়াতুল ক্বুলূব ফী মুয়ামালাতিল মাহবূব” (১০) “মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বাইহাক্বী” (১১) “মুছান্নিফু আব্দির রজ্জাক” (১২) “আল্মু’জামুল কাবীর লিত্ত্ববারানী” (১৩) “সুনানে দারিমী” (১৪) “শরহে ইবনে বাত্তাল শরহে বুখারী”(১৫) “লুমআত” (১৬) “মাজমাউল আনহুর ফী শারহি মুলতাকাল আবহুর” (১৭) “শারহুন্ নিক্বায়াহ” (১৮) “আল্ মাবসূত্ব লিস্্সারাখসী” (১৯) “শরহে ইলইয়াস” (২০) “আল ঊয়ূন” (২১) “আল্ মাতূন” (২২) “মুলতাকাল আবহুর” (২৩) “বাহরুর রায়িক্ব শারহু কানযিদ দাক্বায়িক্ব” (২৪) “শারহুল বিক্বায়াহ্” (২৫) “যখীরা” (২৬) “কাশফুল হাক্বায়িক্ব” (২৭) “ঊমদাতুর রিয়ায়াহ্ আলা শারহিল বিক্বায়াহ্” (২৮) “মিনহাতুল খালিক্ব” (২৯) “আল্ জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ” (৩০) “হাশিয়ায়ে আলা মারাকিউল ফালাহ” (৩১) “আল্ হাদ্দাদী” (৩২) “আল্ কুহেস্তানী” (৩৩) “হাশিয়াতুত্ ত্বাহত্বাবী আলাদ দুররিল মুখতার”  (৩৪) “কারখী” (৩৫) “মানযূমাত” (৩৬) “ফতওয়ায়ে তাতারখানীয়া” (৩৭) “ফতওয়ায়ে খাইরিয়্যাত” (৩৮) “মুলাখ্খাছ” (৩৯) “তাজনীস” (৪০) “বাদায়িউস্্ সানায়া” (৪১) “মুনীয়াতুল মুছাল্লী” (৪২) “কিতাবুল হুজ্জাত আলা আহলে মাদীনা” (৪৩) “মালাবুদ্দা মিনহু”  (৪৪) “আনওয়ারে মাহমূদাহ” (৪৫) “ফতওয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ”।

বি: দ্র:- পবিত্র জুমুয়ার দু’রাকায়াত ফরয নামাযের পর ৪ রাকায়াত বা’দাল জুমুয়াহ  এবং ২ রাকায়াত সুন্নাতুল ওয়াক্ত মোট ৬ রাকায়াত নামাযই সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ উনার অন্তর্ভুক্ত। আর এটাই ছহীহ ও মুখতার বা গ্রহণযোগ্য মত।  এ ব্যাপারে বিস্তারিত ফতওয়া মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফের পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে। ইন্শাআল্লাহ!

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব