আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী

সংখ্যা: ৩০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন “খুলুকুন ‘আযীম” অর্থাৎ সবোর্ত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী এবং “উসওয়াতুন হাসানাহ্” বা সবোর্ত্তম আদর্শ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

প্রতিটি বিষয়ে-ই তিনি সমগ্র মাখলুকাতের জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয়। উনার মহাসম্মানিত আখলাক্ব মুবারক সবার জন্য অনুসরণীয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ছোঁয়াতে-ই পূর্ণতা পেয়েছেন স্বয়ং উত্তম চরিত্র নিজে-ই। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেছেন-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْـرَة رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই আমি প্রেরিত হয়েছি, উত্তম আখলাক (চরিত্র) মুবারক উনাকে পূর্ণতা দান করার জন্য।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরাকে হাকিম: ৪২২১, সুনানুল কুবরা, বায়হাক্বী শরীফ: ২০৫৭১। সিলসিলাতুছ ছহীহাহ্, হাদীছ শরীফ নং: ৪৫, জামিউল আহাদীছ: ৯/২৮৬)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহান শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ছিফত মুবারক উপলব্ধি করার জন্য এতটুকু-ই যথেষ্ট।

এছাড়াও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اِمَامِ السَّادِسِ مِنْ اَهْلِ بَـيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (حَضْرَتْ جَعْفَرَ صَادِقٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ كَانَ رَسُولُ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হযরত জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম) উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন সমস্ত মানুষের মধ্যে অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর মহাসম্মানিত আখলাক্ব (চরিত্র) মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: ১/৭১)

আর স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুলুকুন ‘আযীম মুবারক উনার ঘোষণা মুবারক দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّكَ لَعَلٰى خُلُقٍ عَظِيْمٍ

অর্থ: “আপনি অবশ্যই মহান আখলাক্ব মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সুরা ক্বলম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)

মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাপারে এই ঘোষণা দিয়ে কুল কায়িনাতকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে “খুলুকুন ‘আযীম” অর্থাৎ সবোর্ত্তম চরিত্র মুবারক উনার মালিক হিসেবে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

حَضْرَتْ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ الثَّالِثَةُ عَائِشَةُ الصِّدِّيْـقَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ قَالَتْ: مَا كَانَ أَحَدٌ أَحْسَنَ خُلُقًا مِنْ رَّسُولِ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا دَعَاهُ أَحَدٌ مِّنْ أَصْحَابِهٖ وَلَا مِنْ أَهْلِ بَـيْتِهٖ إِلَّا قَالَ: لَبَّـيْكَ، فَلِذٰلِكَ أَنْـزَلَ اللّٰهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَإِنَّكَ لَعَلٰى خُلُقٍ عَظِيْمٍ

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে সুন্দর আখলাক্ব (চরিত্র) মুবারক উনার অধিকারী সৃষ্টির মধ্যে কেউ-ই নেই। (সুবহানাল্লাহ!) উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এবং উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে কেউ যখন উনার নিকট আরজু করতেন বা উনাকে আহ্বান মুবারক করতেন, তখন তিনি উনাদের জবাবে ইরশাদ মুবারক করতেন, ‘লাব্বাইক’ (অর্থাৎ তিনি উনার আহ্বানে সাড়া দিতেন বা উনার চাওয়া পূরণ করতেন) এ কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার শান মুবারক-এ নাযিল করেছেন: وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ আর আপনি অবশ্যই মহান আখলাক্ব মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: ১/৭৫)

যদি উনার আখলাক্ব মুবারক বর্ণনা করার জন্য লিখার বিষয় আসে তাহলে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পূরোটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার “খুলুকুন ‘আযীম” অর্থাৎ সবোর্ত্তম চরিত্র মুবারক। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ سَعْدِ بْنِ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ الْأَنْصَارِيِّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قُـلْتُ يَا حَضْرَتْ أُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَالِثَةَ يَـعْنِي عَائِشَةَ الصِّدِّيْـقَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ حَدِّثِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ أَلَسْتَ تَـقْرَأُ الْقُرْاٰنَ؟ قُـلْتُ: بَـلٰى. قَالَتْ فَإِنَّ خُلُقَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ الْقُرْاٰنَ

অর্থ: “হযরত সা’দ ইবনে হিশাম ইবনে ‘আমির আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম- হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম! আপনি আমাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখলাক্ব মুবারক সম্পর্কে বলুন; তিনি বলেন- আপনি কি পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করেন না? আমি বললাম- হ্যাঁ অবশ্যই (পাঠ করি) তখন তিনি বলেন- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখলাক্ব (চরিত্র) মুবারক ছিলেন পবিত্র কুরআন শরীফ।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আহমাদ, শুয়াবুল ঈমান: ৩/২২)

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অন্য এক বর্ণনায় এসেছেন-

وَفِى رِوَايَةٍ عَنْ حَضْرَتْ سَعْدِ بْنِ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ الْأَنْصَارِيِّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ حَضْرَتْ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ الثَالِثَةُ عَائِشَةُ الصِّدِّيْـقَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ قَالَتْ كَانَ خُلُقُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقُرْاٰنَ. ثُمَّ قَالَتْ أَتَـقْرَءُوْنَ سُوْرَةَ الْمُؤْمِنُـوْنَ؟ قَالَ نَـعَمْ، فَـقَالَتْ اِقْـرَأْ، قَالَ فَـقَرَأْتُ {قَدْ أَفْـلَحَ الْمُؤْمِنُـوْنَ. الَّذِيْنَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ. وَالَّذِيْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَ. وَالَّذِيْنَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُوْنَ.‏ وَالَّذِيْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حَافِظُونَ. إِلَّا عَلٰى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُـهُمْ فَإِنَّـهُمْ غَيْـرُ مَلُومِيْنَ.‏ فَمَنِ ابْـتَـغٰى وَرَاءَ ذٰلِكَ فَأُولٰئِكَ هُمُ الْعَادُوْنَ.‏ وَالَّذِيْنَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُوْنَ. وَالَّذِيْنَ هُمْ عَلٰى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُوْنَ} فَـقَالَتْ هٰكَذَا كَانَ خُلُقُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “অপর বর্ণনায় এসেছে, “হযরত সা’দ ইবনে হিশাম ইবনে ‘আমির আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আখলাক্ব (চরিত্র) মুবারক ছিলেন পবিত্র কুরআন শরীফ। অত:পর তিনি (রাবী: হযরত সা’দ ইবনে হিশাম ইবনে ‘আমির আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনাকে বলেন আপনি পবিত্র সূরা মু’মিনূন শরীফ পাঠ করেন না? তিনি (রাবী) বলেন, হ্যাঁ (পাঠ করি) অত:পর তিনি বলেন, আপনি পাঠ করুন। তিনি (রাবী) বলেন, আমি তখন পাঠ করি: {মুমিনগণ উনারা সফলকাম হয়েছেন। যারা নিজেদের সম্মানিত নামায-এ ছিলেন বিনয়ী। যারা অনর্থক কথাবার্তার ক্ষেত্রে নির্লিপ্ত। যারা সম্মানিত যাকাত প্রদান করে থাকেন। যারা নিজেদের লজ্জাস্থান হিফাযতকারী। তবে নিজেদের আহলিয়া (স্ত্রী) ও মালিকানাভুক্ত বাঁদীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে উনারা তিরস্কৃত (দোষী) হবেন না। যারা এর বাহিরে তালাশ করে তারাই সীমলঙ্ঘনকারী হবে। যারা স্বীয় আমানত ও কৃত ওয়াদা সম্পর্কে ভীত থাকেন (অর্থাৎ সাবধানতা অবলম্বন করেন)। যারা উনাদের সম্মানিত নামাযসমূহের হিফাযত করেন।} (পড়তে পড়তে যখন তিনি দশখানা পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- ‘এমনই ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখলাক্ব (চরিত্র) মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (নাসায়ী শরীফ: ৬/৪১২, তাফসীরে ইবনে কাছীর: ৫/৩৫৯, তাফসীরে মুনীর: ১৮/৫, মুসতাদরাকে হাকিম ২/৩৯২, ইছমতে রসূল: ৪৩০ পৃ:)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ حَضْرَتْ جُبَـيْرِ بْنِ نُـفَيْرٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلٰى حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ الثَّالِثَةِ عَائِشَةَ الصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ فَسَأَلْتُـهَا عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَتِ الْقُرْاٰنَ

অর্থ: “হযরত জুবাইর ইবনে নুফাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার নিকট গেলাম এবং উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আখলাক্ব (চরিত্র) মুবারক সম্পর্কে সুওয়াল করলাম। অত:পর তিনি বললেন, (উনার মহাসম্মানিত আখলাক্ব (চরিত্র) মুবারক হলেন) পবিত্র কুরআন শরীফ।” সুবহানাল্লাহ! (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: ১/৯০)

পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ الْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِي قَـوْلِهٖ عَزَّ وَجَلَّ {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ} قَالَ هٰذَا خُلُقُ سَيِّدِنَا مَوْلٰنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَـعَتَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَ

অর্থ: “হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি (আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করেন,) {فَبِمَا رَحْمَةِ مِّنَ اللهِ لِنْتَ তবে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক যে, আপনি তাদের সাথে নরম কোমল ব্যবহার করেন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক-এ আপনি নরম কোমল স্বভাবের অধিকারী} এই আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় (রাবী) বলেন, ইহা (এই আয়াত শরীফ খানা-ই হলেন) রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখলাক্ব (চরিত্র) মুবারক যা মহান আল্লাহ্ পাক তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: ১/৯৩)

(খুলুকুন আযীম)  (৯৩ পৃষ্ঠার পর)

উল্লেখ্য যে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঈমান আনার পূর্বে যখন মুশরিকদের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন সে সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহান আখলাক্ব মুবারক চরিত্র অবলোকন করেছেন এবং বলেছেন-

وَاللهِ إِنَّكَ لَكَرِيْمٌ، وَلَقَدْ حَارَبْـتُكَ فَنِعْمَ مَحَارَبِيْ كُنْتَ، ثُمَّ سَالَـمْتُكَ فَنِعْمَ الْمَسَالِمُ أَنْتَ، فَجَزَاكَ اللهُ خَيْـرًا

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! অবশ্যই অবশ্যই আপনি পরম দয়ালু। আর আপনার সাথে আমি জিহাদে অংশগ্রহণ করেছি, আর আপনিই ছিলেন কতইনা উত্তম মহান জিহাদকারী। অত:পর আপনার নিকট আমি আত্মসমর্পণ করেছি, আপনিই সর্বোত্তম মহান নিরাপত্তা প্রদানকারী। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান মুবারক হাদিয়া করুন।” (মা’রিফতুছ ছাহাবা- আবূ নূয়াইম ইসপাহানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি: ৩/১৫০৯)

উপরোক্ত পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাধ্যমে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন “খুলুকুন ‘আযীম” অর্থাৎ সবোর্ত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী এবং “উসওয়াতুন হাসানাহ্” বা সবোর্ত্তম আদর্শ মুবারক। সুতরাং প্রত্যেক উম্মতের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছেন- উনার প্রতিটি ছিফত মুবারক-এ নিজেকে সাজিয়ে তোলা। কেননা, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পূরাটাই উনার মহাসম্মানিত আখলাক্ব মুবারক আর একজন মুসলমানের জন্য ফরয হচ্ছে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী নিজের জীবনকে গঠন করে সে পথে নিজেকে পরিচালিত করা।

কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখলাক্ব মুবারক সম্পর্কে হাক্বীক্বী ইলম অর্জন করে উনার অনুসরণে উনার ছিফত মুবারক অনুযায়ী স্বীয় জীবন পরিচালিত করার তাওফীক্ব মুবারক দান করুন। আমীন!

-মুহম্মদ মুস্তাজীবুর রহমান ওয়াক্বী।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরানী হুলিয়া মুবারক

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরানী হুলিয়া মুবারক

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ জামিনদার

মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা  ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও  গ্রহণযোগ্য

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক সংশ্লিষ্ট মওযূ হাদীছ ও তার খণ্ডনমূলক জবাবনূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক সংশ্লিষ্ট