নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক সংশ্লিষ্ট মওযূ হাদীছগুলোকে ৩ ভাগে বিভক্ত করা হয়। ১টি হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ পুনর্নির্মাণ করার সময়ের ঘটনা, যখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ৩৫ বছর। যেটা ‘বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমাদ, মুছান্নাফে আব্দুর রায্যাক্ব, ছহীহ ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ও বিভিন্ন সীরাতগ্রন্থসহ’ আরো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো- যখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন ১৫-১৬ বছর। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর তৃতীয়টি হলো- যখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ৬-৭ বছর তখনকার ঘটনা। না‘ঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার বিগত ৩০২ তম সংখ্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক সংশ্লিষ্ট মওযূ হাদীছগুলো থেকে ১টি মওযূ হাদীছের খণ্ডনমূলক জবাব তুলে ধরা হয়েছে। আর এই সংখ্যায় দ্বিতীয় মওযূ হাদীছটির খণ্ডনমূলক জবাব তুলে ধরা হলো-
দ্বিতীয় মওযূ হাদীছ ও খণ্ডনমূলক জবাব:
‘মুস্তাদরাকে হাকিম’ কিতাবে এসেছে,
حَدَّثَـنَا حَضْرَتْ اَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَـعْقُوْبَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ ثَـنَا حَضْرَتْ اَلْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ اَلدُّوْرِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ ثَـنَا حَضْرَتْ اَبُـوْ يَـحْيَـى اَلْـحَمَّانِــىُّ عَبْدُ الْـحَمِيْدِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْـمٰنِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ ثَـنَا اَلنَّضْرُ اَبُـوْ عُمَرَ الْـخَزَّازُ عَنْ حَضْرَتْ عِكْرِمَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ اَبُـوْ طَالِبٍ يُـعَالِجُ زَمْزَمَ وَكَانَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِـمَّنْ يَـنْـقُلُ الْـحِجَارَةَ وَهُوَ يَـوْمَئِذٍ غُلَامٌ فَاَخَذَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِزَارَهٗ فَـتَـعَرّٰى وَاتَّـقٰى بِهِ الْـحَجَرَ فَـغُشِىَ عَلَيْهِ فَقِيْلَ لِاَبِـىْ طَالِبٍ اَدْرِكِ ابْـنَكَ فَـقَدْ غُشِىَ عَلَيْهِ فَـلَمَّا اَفَاقَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ غَشْيَـتِهٖ سَاَلَهٗ اَبُـوْ طَالِبٍ عَنْ غَشْيَـتِهٖ فَـقَالَ اَتَانِــىْ اٰتٍ عَلَيْهِ ثِـيَابٌ بِـيْضٌ فَـقَالَ لِـىْ اِسْتَـتِـرْ فَـقَالَ حَضْرَتْ اِبْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَكَانَ ذٰلِكَ اَوَّلَ مَا رَاٰهُ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الـنُّـبُـوَّةِ اَنْ قِـيْلَ لَهٗ اِسْتَـتِـرْ فَمَا رُؤِيَتْ عَوْرَتُهٗ مِنْ يَـوْمِئِذٍ
অর্থ: “৭৩৫৬- আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন হযরত আবুল আব্বাস মুহম্মদ ইবনে ইয়া’কূব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। তিনি বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন হযরত আব্বাস ইবনে মুহম্মদ আদ্ দূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। তিনি বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ ইয়াহ্ইয়া আব্দুল হামীদ ইবনে আব্দুর রহমান আল হাম্মানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। তিনি বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আন নদ্বর আবূ উমর আল খয্যায। সে হযরত ইকরামাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে। আর হযরত ইকরামাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- খাজা আবূ ত্বালিব তিনি পবিত্র যমযম কূপ মেরামতের কাজ করছিলেন, আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাথর বহন করছিলেন। তখন তিনি একজন কিশোর ছিলেন (অর্থাৎ দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন ১৫-১৬ বছর)। এক সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ইযার বা লুঙ্গি মুবারক হাতে নিলেন। তাই, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক অনাবৃত হয়ে গেলো। আর তিনি সেই ইযার বা লুঙ্গি মুবারক দিয়ে পাথরের আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করলেন। সাথে সাথেই তিনি অচেতন হয়ে গেলেন। তখন খাজা আবূ ত্বালিব উনাকে বলা হলো- ‘আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাতিজা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখুন, তিনি অচেতন হয়ে গেছেন।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন অচেতনতা থেকে জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন খাজা আবূ ত্বালিব তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার অচেতনতার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- ‘আমার কাছে একজন আগমনকারী এলেন- উনার গায়ে ছিলো সাদা পোশাক। তিনি আমাকে বললেন- ‘আবৃত হন’। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন- ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত মুবারক বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্ব প্রথম যা দেখেছেন তা ছিলো এটা যে, উনাকে বলা হলো- ‘আবৃত হন।’ সেদিন থেকে আর কখনো উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওরাত (সতর) মুবারক দেখা যায়নি। অর্থাৎ আর কখনো উনাকে বস্ত্রহীন অবস্থায় কেউ দেখেনি।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
এছাড়া এই মওযূ হাদীছটি নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আবূ উমর খায্যাযের সূত্রে ‘দালাইলুন নুবুওওয়াহ্ লিআবী নু‘আইমসহ’ আরো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে।
এটি একটি মওযূ হাদীছ। এই মওযূ হাদীছটি বর্ণনা করেছে নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আবূ উমর খায্যায। সে হচ্ছে- মওযূ হাদীছ বর্ণনাকারী, কায্যাব অর্থাৎ চরম মিথ্যাবাদী। এই মওযূ হাদীছটি সে হযরত ইকরিমাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নামে চালিয়ে দিয়েছে। এটা তার আদত বা অভ্যাস ছিলো। সে বানিয়ে বানিয়ে যেকোনো হাদীছকে হযরত ইকরিমাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নামে চালিয়ে দিতো। যেমন- এই সম্পর্কে আল হাফিযুল মুতক্বিন আল্লামা হযরত জামালুদ্দীন মিয্যী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৭৪২ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘তাহ্যীবুল কামাল’ উনার মধ্যে বলেন,
قَالَ حَضْرَتْ مُحَمَّدُ بْنُ يَـحْيَـى بْنِ كَثِـيْـرٍ اَلْـحَرَّانِـىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ سَـمِعْتُ حَضْرَتْ اَبَا نُـعَيْمٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَسُئِلَ عَنِ النَّضْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْـمٰنِ الْـخَزَّازِ فَـرَفَعَ شَيْـئًا مِّنَ الْاَرْضِ فَـقَالَ لَا يَسْوِىْ هٰذِهٖ كَانَ يَـجِىْءُ يَـجْلِسُ عِنْدَ حَضْرَتْ اَلْـحَمَّانِــىِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَكُلُّ شَىْءٍ يُسْاَلُ يَـقُوْلُ حَضْرَتْ عِكْرِمَةُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ
অর্থ: “হযরত মুহম্মদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া ইবনে কাছীর আল হাররানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘আল হাফিযুল কাবীর, শাইখুল ইসলাম আল্লামা হযরত ফযল ইবনে দুকাইন আবূ নু‘আইম রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ২১৯ হিজরী শরীফ) উনার থেকে আমি নিজ কানে শুনেছি। উনাকে নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আল খায্যায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি মাটি থেকে একটি ছোট জিনিস তুলে ধরে বলেন- ‘এর সমান মূল্যও তার নেই।’ (তিনি আরো বললেন-) নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আল খায্যায হযরত আবূ ইয়াহ্ইয়া আব্দুল হামীদ ইবনে আব্দুর রহমান আল হাম্মানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এসে বসত। তাকে যাই জিজ্ঞাসা করা হতো, সে একই কথা বলতো- ‘হযরত ইকরিমাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন’।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাহ্যীবুল কামাল ২৯/৩৯৩)
অর্থাৎ তাকে যে বিষয়ই জিজ্ঞাসা করা হোক না কেন, সে ভিত্তিহীনভাবে একই সনদ বানিয়ে বলে দিতো- হযরত ইকরিমাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ!
এছাড়া এই কায্যাব নদ্বর সম্পর্কে হযরত ইমাম আবূ দাঊদ সিজিস্তানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ২৭৫ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
لَا يُـرْوٰى عَنْهُ اَحَادِيْـثُهٗ بَـوَاطِيْلُ
অর্থ: “তার থেকে হাদীছ বর্ণনা করা যায় না। তার (বর্ণিত) হাদীছগুলো বাত্বিল বা মিথ্যা, বানোয়াট, মওযূ, জাল।” (সুআলাতুল আজুর্রী ৫/ ৩৯, তাহযীবুল কামাল ২৯/৩৯৩)
হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, শাইখুল ইসলাম আল্লামা হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, আল্লামা হাফিয হযরত ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হাফিয নূরুদ্দীন আলী ইবনে আবী বকর হাইছামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা বলেছেন, ‘নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আবূ উমর খায্যায হচ্ছে মাতরূক বা পরিত্যাজ্য। অর্থাৎ তার থেকে বর্ণিত হাদীছ মাতরূক বা পরিত্যাজ্য; গ্রহণযোগ্য নয়।” (আল কামিল ফিদ দুয়াফা ৮/২৫৭, আদ দুয়াফা ওয়াল মাতরূকুন লিন নাসায়ী ১/১০১, তাহ্যীবুল কামাল ২৯/৩৯৩, তাহ্যীবুত তাহ্যীব ৪/২২৫, তাক্বরীবুত তাহ্যীব ৫৬২ পৃ., মাজমাউয্ যাওয়াইদ ৩/২৮৭)
হাফিয হযরত ইমাম আবুল হাসান উছমান ইবনে আবী শাইবাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ২৩৯ হিজরী শরীফ) তিনি নদ্বর সম্পর্কে বলেন,
كَانَ اِبْـنُهٗ اَيْضًا كَذَّابًا
অর্থ: “তার ছেলেও ছিলো কায্যাব অর্থাৎ চরম মিথ্যাবাদী।” (সুআলাতুল আজুর্রী ৫/ ৩৯, তাহ্যীবুত তাহ্যীব ৪/২২৫)
অর্থাৎ নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আবূ উমর আল খায্যায ছিলো কায্যাব অর্থাৎ চরম মিথ্যাবাদী। তার অনুরূপ তার ছেলেও ছিলো কায্যাব অর্থাৎ চরম মিথ্যাবাদী।
কাজেই, নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আবূ উমর খায্যায ছিলো মাতরূক অর্থাৎ পরিত্যক্ত, পরিত্যাজ্য, কায্যাব অর্থাৎ চরম মিথ্যাবাদী, মওযূ হাদীছ বর্ণনাকারী। তার বর্ণিত হাদীছ সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য, বাত্বিল, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, মওযূ ও জাল। এই মওযূ হাদীছ বর্ণনাকারী, কায্যাব অর্থাৎ চরম মিথ্যাবাদী নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আবূ উমর খায্যায বানিয়ে বানিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক সংশ্লিষ্ট মওযূ হাদীছটি বর্ণনা করেছে এবং তা হযরত ইকরিমাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নামে চালিয়ে দিয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! এটা তার আদত বা অভ্যাস ছিলো, সে বানিয়ে বানিয়ে যেকোনো হাদীছ হযরত ইকরিমাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নামে চালিয়ে দিতো। না‘ঊযুবিল্লাহ!
কাজেই, এটা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, নিঃসন্দেহে অবশ্যই অবশ্যই ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক সংশ্লিষ্ট এই মওযূ হাদীছটি’ নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আবূ উমর খায্যাযের বানানো একটি মওযূ, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও জাল বর্ণনা।
অতএব, এই মাতরূক, কায্যাব, মওযূ হাদীছ বর্ণনাকারী রাবী নদ্বর ইবনে আব্দুর রহমান আবূ উমর খায্যাযের উপর বিশ্বাস করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মিথ্যা তোহমত দেয়া, উনার প্রতি বদ আক্বীদাহ্ পোষণ করা, উনার ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক’ নিয়ে এরূপ ফাহেশা ও কুফরীমূলক আক্বীদাহ্ পোষণ করা, সেগুলো বর্ণনা করা ও লিপিবদ্ধ করা কোনো উম্মত বা সৃষ্টির কারো জন্য কস্মিনকালেও জায়েয নেই; বরং সম্পূর্ণরূপে হারাম, নাজায়েয, কাট্টা কুফরী, চির মাল‘ঊন ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা, স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مَا لَيْسَ لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ وَّتَـحْسَبُـوْنَهٗ هَيِّـنًا وَهُوَ عِنْدَ اللهِ عَظِـيْمٌ. وَلَوْلَا اِذْ سَـمِعْتُمُوْهُ قُـلْتُمْ مَّا يَكُوْنُ لَـنَا اَنْ نَّــتَكَلَّمَ بِـهٰـذَا سُبْحٰنَكَ هٰذَا بُـهْتَانٌ عَظِـيْمٌ. يَعِظُكُمُ اللهُ اَنْ تَـعُوْدُوْا لِمِثْلِهٖ اَبَدًا اِنْ كُنْـتُمْ مُّؤْمِنِـيْـنَ. وَيُـبَـيِّـنُ اللهُ لَكُمُ الْاٰيٰتِ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِـيْمٌ. اِنَّ الَّذِيْنَ يُـحِبُّـوْنَ اَنْ تَشِيْعَ الْفَاحِشَةُ فِـى الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِـيْمٌ فِـى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاللهُ يَـعْلَمُ وَاَنْـتُمْ لَا تَـعْلَمُوْنَ
অর্থ: “এই বিষয়ে তোমাদের কোনো ইলিম নেই। তোমরা এই বিষয়টিকে হালকা মনে করো? অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে এটা একটি অত্যন্ত কঠিন অপরাধ। তোমরা যখন (মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ এলোমেলো) এই কথা শুনলে, তখন কেন্ বললে না যে, এই বিষয়ে আমাদের কোনো কথা বলার অধিকার নেই। তিনি (অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি) অত্যন্ত পবিত্রতম। মহান আল্লাহ পাক তিনিও পবিত্র থেকে পবিত্রতম। এটা একটা কঠিন অপবাদ। সুবহানাল্লাহ! যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো, তাহলে তোমরা জেনে রাখ- শেষ বারের মতো তোমাদেরকে নছীহত করা হচ্ছে, তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, তোমরা ক্বিয়ামত পর্যন্ত আর কখনও পবিত্র শান মুবারকে এই সমস্ত কথা বলবে না, চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি সব হুকুম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি সব জানেন, শুনেন। সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই যারা অশ্লীল-অশালীন কথা বলা পছন্দ করে থাকে তাদের জন্য ইহকাল-পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। এবং তাদেরকে (আমি) এমন কঠিন শাস্তি দিবো যা মহান আল্লাহ পাক তিনি (অর্থাৎ আমি) ব্যতীত তোমরা কেউ জানো না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯)
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে সমস্ত মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান, ছোট-বড় সবাইকে এবং খাছভাবে আমাদের সবাইকে ছহীহ্ সমঝ, বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন মুবারক নছীব করুন। আমীন!
(বি: দ্র:- এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র’ থেকে প্রকাশিত- মওযূ হাদীছ ও তার খণ্ডনমূলক জবাব ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ খণ্ড পাঠ করুন।) -আল্লামা মুহাদ্দিছ মুহম্মদ ইবনে ছিদ্দীক্ব।