ভূ-গোলের জ্ঞান

সংখ্যা: ০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

-মুহম্মদ শফিকুল ইসলাম

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ উনার ১৬৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন: নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃজন এবং পর্যায়ক্রমে দিবা ও রাত্রির আগমনে এবং জাহাজসমূহ যা সমূদ্রে চলাচল করে মানুষের লাভজনক পন্য নিয়ে যায়। আর পানিতে যা মহান আল্লাহ পাক আসমান হতে বর্ষণ করেন অতপর সরস ও সতেজ করেন তা দ্বারা জমিনকে অনুর্বর হওয়ার পর। সর্বপ্রকারের জীবজন্তু এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন আর বায়ু রাশির পরিবর্তনে এবং মেঘালয় যা আসমান ও জমিনের মধ্যস্থলে আবদ্ধ থাকে। নিদর্শনসমূহ আছে সেই লোকদের জন্য যারা জ্ঞান রাখে।

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং ভূ-গোলের বিভিন্ন দিকগুলো আলোচনা করেছেন। আর শেষের দিকে বলেছেন নিদর্শনসূহ আছে ঐ ব্যক্তিদের জন্য যারা জ্ঞান রাখে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক এই পৃথিবী, এর অভ্যন্তর ভাগ এবং আকাশসমূহকে এমন বৈচিত্রময় করে সাজিয়ে রেখেছেন তা যদি কোন বিজ্ঞ ব্যক্তি ফিকির করে দেখে তবে সে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত সম্পর্কে সহজেই অবগত হতে পারবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে যে কিছুক্ষন সময় ফিকির করা ষাট বছর নফল ইবাদত করার সমান। এখন মহান আল্লাহ পাক উনার এই সৃষ্টি জগৎ সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা নিয়ে ফিকির করে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর ভূ-গোল শাস্ত্রের মাধ্যমে এ জ্ঞানের একাংশ অর্জন করা সম্ভব।

ভূ-গোলের জ্ঞান

ভূ-গোল বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখার নাম। ভূ-শব্দের অর্থ পৃথিবী আর গোল মানে গোলাকার। তাই ভূ-গোল শব্দের আভিধানিক অর্থ গোলাকার পৃথিবী। অর্থাৎ যে শাস্ত্রের মাধ্যমে আমরা পথিবীর জল, স্থল, পাহাড়-পর্বত, মৃত্তিকা, অরণ্য ও জলবায়ু, অর্থাৎ স্থলভাগ, জলভাগ এবং বায়ুম-লের স্বাভাবিক অবস্থার কথা জানতে পারি এবং এ সকল প্রাকৃতিক অবস্থা কিরূপে মানুষের জীবন ও কর্মধারার উপর প্রতিফালিত হয় তার ব্যাখ্যা বুঝতে পারি, তাকেই ভূ-গোল বলে।

ভূ-গোল পাঠের প্রয়োজনীয়তা

পৃথিবীর প্রতিটি লোকের ভূ-গোলের জ্ঞান থাকা আবশ্যক অথচ দুঃখের বিষয় বর্তমানে প্রচলিত স্কুল কলেজের জন্য পাঠ্য ভূগোল বইগুলো কিছু কিছু ভুল ত্রুটি আছে। যা শরীয়তের পরিপন্থী। আমরা মূলত: সেই ভুলগুলোর সংশোধন করে এর প্রয়োজনীয়তা ও আলোচনা অতি সহজ পদ্ধতিতে ব্যক্ত করব। ভূ-গোল পাঠৈর প্রয়োজনীয়তা অনেক। তবে এখানে সাধারণ ভাবে কিছু প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। ভূ-পৃষ্ঠ সম্বন্ধে পৃথিবীর আভ্যন্তরীন অবস্থা ও বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে জলবায়ু, মহাকাশ, বিভিন্ন স্থলের মানুষ, মানুষের পারিপার্শ্বিককতা, আচার ব্যবহার, চাল-চলন, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের উৎপন্ন দ্রব্য এবং সেগুলেঅর আমদানী রফতানী প্রভৃতি জানার জন্য আমরা ভূ-গোল শাস্ত্র পাঠ করলেই জানতে পারব। মোটকথা কোন দেশ মহাদেশ বা সারা পৃথিবীর সার্বিক প্রাকৃতিক ও উহার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় জানতে পারব ভূ’-গোল পাঠের মাধ্যমে। কোন দেশের লোক সংখ্যা কত, আয়তন কত, কি কি খনিজদ্রব্য পাওয়া যায়। ভূ-ত্ত্বত্তের আকার আকৃতি যার প্রকৃতি কিরূপ, কি কি জিনিস উৎপন্ন হয়, কি কি আমদানী করতে হয়, আর কি কি রফতানী করা যায়, আবহাওয়া কেমন ইত্যাদি বিষয় জানতে হলে ভূ-গোলের সাহায্য নিতে হবে। বিভিন্ন তত্ত্ব নিয়ে ভূ-তত্ত্ব, সমুদ্র তত্ত্ব ইদ্যাদি। আমরা বিস্তারিতভাবে এগুলো আলোচনা করব।

হযরত রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিষ্ট্য/দু’একটি বিষয়ে আলোকপাত

মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার নির্যাতন ভোগ

আশ্চর্য হলেও সত্য

যমযম কুপের ও ওযুর পানি দাঁড়িয়ে পান করা মোস্তাহাব অন্য কোন পানি বা খাদ্য দাঁড়িয়ে পান করা মাকরূহ

ইলমে তাসাউফ