গত ৩০ শে জুলাই, ’৯১ দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায়, “জিন্নার উল্টো দৌড়: সামাজি এবং রাজনৈতিক বীক্ষন” শিরোনামে প্রকাশিত ডাঃ মযহারুল ইসলামের বক্তব্যটি বিশ্বের সমগ্র মুসলমান জাতি এবং ইসলামের জন্যে অত্যন্ত অবমাননাকর এবং আপত্তিকর। আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা করছি। উক্ত বক্তব্যে মযহারুল ইসলাম বলেছেন, “……. এরা (কাঠমোল্লা) মনে করে একমাত্র কুরআন ছাড়া অপর কোন গ্রন্থ পড়বার বা উপলব্ধির কোন প্রয়োজন নেই। …..মুসলমান হবার মধ্যে গৌরব যেমন আছে, অগৌরবও বিদ্যমান। বিগত, দেড় হাজার বছরের ইতিহাস দৌরবের নয়; অদৌরবকেই অধিক প্রতিপন্ন করেছে। .ইসলাম ধর্ম যখন যেখানে যে দেশে গিয়েছে, সেই দেশেই অনেক কল্যানধর্মী চেতনার সঙ্গে সঙ্গে দুটো অভিশাপকে সাথে বহন করে নিয়েছে। ১। অন্ত:দ্বন্ধ ও রক্তারক্তি, ২। অন্ধ অতীত মুখিতা। …… ইসলাম ধর্মের মধ্যেই হয়ত বা এমন কিছু উপাদান আছে বা সমতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। ……. কামোপযোগী হওয়ার অথবা কালকে অতিক্রম করে সামনের পথে হাটাকে ইসলাম সমর্থন করে না। …. স্যাটনিক ভার্সেস বারবার পড়েও আমি এমন কিছু পাইনি যাতে উনার মাথা কাটাবার হুকুম দিতে হবে। …. কিছু কিছু চরিত্র যদি দুই একজন ধর্মীয় মহাপুরুষ বা ব্যক্তিদের দিকে কটাক্ষ ধর্মীয় ইঙ্গিত করেই থাকে তবে তাকে এমন বিচলিত হবার কি আছে?”
ইসলাম সম্পর্কে ডা: মযহারুল ইসলামের এই সমস্ত ধৃষ্টাতাপূর্ণ উক্তি চরম অজ্ঞতার পরিচায়ক এবং সত্যের বিবৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। অতীত ইতিহাস থেকে প্রমাণিত যে জ্ঞান বিজ্ঞানে মুসলিম বিশ্ব পিছিয়ে থাকার জন্যে এবং যুগে যুগে মারামারি হানাহানির জন্যে দায়ী ইসলাম ধর্ম এবং মোল্লারা নয়, ডাঃ ইসলামের মতো কিছু মিথ্যাবাদী, বে-ঈমান ইসলাম সম্পর্কে চরম পর্যায়ের মূর্খ এবং ধর্মের অবৈধ সন্তানদের অশুভ তৎপরতাই দায়ী ছিল। ইসলামই সর্বপ্রথম জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার তাগিদ দেয় এবং অন্যায় অত্যাচারের মূল; উৎপাটনের শিক্ষা প্রদান করে।
লক্ষনীয় যে বর্তমান সমাজে কেহ ধর্মের কোন কথা বললেই পাশ্চাত্যের কিছু সেবাদাস বস্তুবাদী নাস্তিক এবং ধর্মের অবৈধ সন্তানরা তাকে কাটমোল্লা, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, রাজাকার, গোঁড়ামী সর্বস্ব ইত্যাদি বলে অবহিত করে থাকে। কিন্তু তাদের অজানা কথা নয় যে, তাদের ‘মা’ ‘র’ বিয়েটা যদি ঐ সমস্ত কাটমোল্লারা পড়েয়ে না দিতেন তবে বর্তমান সমাজে তাদের জন্মটাও বৈধ হতো না।
মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও সংবাদ পত্রের স্বাধীনতার নামে একশ্রেণীর পত্রিকায় কিছু বে-ঈমান বিকৃতমস্তিস্ক বিবৃতিজীবী কতিপয় রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টায় রত। আর এই সমস্ত ক্ষেত্রে সরকারের অভ্যাহত নীরব ভূমিকা আপত্তিকর এবং উদ্ভেগজনক। নাস্তিকবাদদের ইসলাম বিরোধী অশুভ তৎপরতাকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার দোহাই দিয়ে জনগণের ভোটে ক্ষমতা লাভের পর বে-ঈমানী করা হলে জনগন সরকারকে কোনদিন ক্ষমা করবে না।
ডঃ মযহারের মতো ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জ্বিহাদে অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। এতে কোন মুসলমানের মৃত্যু হলে সে মহীদ হবে এবং বেঁচে থাকলে সে গাজী হিসেবে গণ্য হবে। যারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তাদের সাথে মুসলমানদের কোন প্রকার সম্পর্ক রক্ষা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং হারাম।
ইসলামকে এভাবে আর মোসাফির থাকতে দেয়া যায় না। কাজেই দল মত নির্বিশেষে সমস্ত আলিম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে কুরআন এবং সুন্নার ভিত্তিতে একই পতাকা হলে সমবেত হয়ে ইসলাম বিরোধী সমস্ত অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যে আমরা আহবান জানাচ্ছি।
মুসলিম উম্মার পক্ষে,
-মুহম্মদ হুসাইন রয়ী।
হযরত রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিষ্ট্য/দু’একটি বিষয়ে আলোকপাত
মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার নির্যাতন ভোগ
যমযম কুপের ও ওযুর পানি দাঁড়িয়ে পান করা মোস্তাহাব অন্য কোন পানি বা খাদ্য দাঁড়িয়ে পান করা মাকরূহ