“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কতিপয় সুওয়াল-জাওয়াব
(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
সুওয়াল-২০
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক স্থানান্তর করার স্বপক্ষে কেউ কেউ বলে থাকে যে, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে কূফার দায়িত্বশীল ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি। একদা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে বাইতুল মাল চুরি হয়ে গেলে সেই ঘটনা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে জানানো হয়। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। ফলে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক স্থানান্তরিত করা হয় এবং পূর্বের স্থান খেজুর বিক্রির বাজারে পরিণত হয়।
আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমাদের উপর অপরিহার্য হলো- আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক এবং আমার হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত মুবারককে আকড়ে ধরা।’
অতএব, একান্ত প্রয়োজনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক স্থানান্তর করা যায়।
তারা প্রথমোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দলীল হিসেবে ‘১. ফতওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়াহ্ ও ২. আল মু’জামুল কবীর লিত ত্ববারনী’ এই ২টি কিতাবের নাম উল্লেখ করেছে।
তাদের উক্ত বক্তব্য ও দলীল কতটুকু ঠিক? জাওয়াব দিয়ে বিভ্রান্তি দূর করার আরযী জানাচ্ছি।
জাওয়াব: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক স্থানান্তর করার বিষয়ে তাদের উক্ত বক্তব্য ও দলীল মোটেও সঠিক হয়নি; বরং তা সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা, জালিয়াতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর, গোমরাহীমূলক, হারাম ও কুফরী হয়েছে।
তারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক স্থানান্তর করার বিষয়ে ‘ফতওয়ায়ে ইবনে তায়মিয়াহ্ ও আল মু’জামুল কাবীর লিত তবারানী’ কিতাব দু’টির দলীল দিয়েছে।
কিন্তু সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের নিকট ইবনে তাইমিয়ার ফতওয়া আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, ইবনে তায়মিয়াহ্ বাতিল ৭২ ফিরক্বার অন্যতম মুশাব্বিহা ফিরক্বার অন্তভুর্ক্ত। তার বহু আক্বীদাহ্ ও আমলে কুফরী রয়েছে।
যেমন- সে তার সমসাময়িক আলিম-উলামা উনাদেরকে গালি-গালাজ করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! ছোট-বড়, প্রবীণ ও নবীন সকল আলিম-উলামা উনাদের বিরোধিতা করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! এমনকি সে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সমালোচনাকালে উনাকে কোনো এক বিষয়ে ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
শুধু তাই নয়; ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কেও সে বলে যে, তিনি ১৭টি মাসয়ালায় ভুল করেছেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার খিলাফ করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ!
সে একবার জুমুআর দিন বলে যে, আমি যেরূপ (মিম্বরের উপরিস্থ তাক থেকে নিম্ন তাকে) নামছি, সেরূপ মহান আল্লাহ পাক তিনিও (আরশ হতে) প্রথম আকাশে নেমে থাকেন। না‘ঊযুবিল্লাহ!
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে ও পূর্ববর্তী আলিমগণ এমনকি তার সমসাময়িক আলিমগণ সম্পর্কেও সে বদ ধারণা পোষণ করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ!
তার আরো বক্তব্য হচ্ছে, রাত্রিতে অপবিত্র অর্থাৎ গোসল ফরয হলে গোসল ব্যতীত তাহাজ্জুদ পড়ে নিবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মাখলুক্ব (বা সৃষ্টি), না‘ঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও আকৃতি আছে, না‘ঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আরশে থাকেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি আরশের পরিমাণ আয়তন বিশিষ্ট, না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি আকাশ থেকে নেমে আসেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! নবীগণ নিষ্পাপ নন, না‘ঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ যিয়ারতের নিয়তে সফর করা হারাম, না‘ঊযুবিল্লাহ! এবং তাওরাত শরীফ ও ইনজীল শরীফ উনাদের শব্দ পরিবর্তন হয়নি।” না‘ঊযুবিল্লাহ! অনুরূপ তার শরীয়ত বিরোধী আরো বহু আক্বীদাহ্-আমল রয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! (দলীলসমূহ: আদ্ দুরারুল কামিনাহ্, রিহ্লাতু ইবনে বতুতা, লিসানুল মীযান, শরহে মাওয়াহিব লিয যারকানী, তুহফাতুন নাজার, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ্, আল জাওহারুল মুনায্যাম, তবাকাতুল কুবরা ইত্যাদি)
উক্ত কুফরী আক্বীদাহ্ ও আমলের কারণে তার সমসাময়িক অনুসরণীয় হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ উনারা ইবনে তাইমিয়াহ্কে কারারুদ্ধ এবং হত্যা করার জন্য বাদশাহকে বাধ্য করেন। বাদশাহ তাকে বন্দী করেন এবং সে কারারুদ্ধ অবস্থায় মারা যায়।
আর তারা যে ‘আল মু’জামুল কাবীর লিত তবারানী’ কিতাবের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কথা বলেছে, তাতে তারা চরম মিথ্যা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তাদের সেই চরম মিথ্যা, জালিয়াতি ও বিভ্রন্তি থেকে সম্মানিত মুসলমান উনাদের পবিত্র ঈমান হিফাযতের লক্ষ্যে উল্লেখিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা মূল কিতাব থেকে উল্লেখ করা হলো-
عَنْ حَضْرَتْ اَلْقَاسِمِ رَحـْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ قَدِمَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰـى عَنْهُ وَقَدْ بَـنٰـى حَضْرَتْ سَعْدٌ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰـى عَنْهُ الْقَصْرَ وَاتَّـخَذَ مَسْجِدًا فِـىْ اَصْحَابِ التَّمْرِ فَكَانَ يَـخْرُجُ اِلَيْهِ فِـى الصَّلَوَاتِ فَـلَمَّا وَلـِىَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰـى عَنْهُ بَـيْتَ الْمَالِ نَـقَبَ بَـيْتَ الْمَالِ فَاَخَذَ الرَّجُلَ فَكَـتَبَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰـى عَنْهُ اِلـٰـى حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَكَـتَبَ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنْ لَّا تَـقْطَعْهُ وَانْـقُلِ الْمَسْجِدَ وَاجْعَلْ بَـيْتَ الْمَالِ مِـمَّا يَلـِــى الْقِبْـلَةَ فَاِنَّهٗ لَا يَـزَالُ فِـى الْمَسْجِدِ مَنْ يُّصَلِّـىْ فَـنَـقَلَهٗ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰـى عَنْهُ وَخَطَّ هٰذِهِ الْـخُطَّةَ وَكَانَ الْقَصْرُ الَّذِىْ بَـنٰـى حَضْرَتْ سَعْدٌ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰـى عَنْهُ شَاذَرَ وَاِنْ كَانَ الْاِمَامُ يَـقُوْمُ عَلَيْهِ فَاَمَرَ بِهٖ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰـى عَنْهُ فَـنُقِضَ حَتَّى اسْتَـوٰى مَقَامُ الْاِمَامِ مَعَ النَّاسِ
“হযরত ক্বাসিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি কূফায় আগমন করেন। সেখানে হযরত সা’দ ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। আর (উক্ত ভবনের একটা অংশে) তিনি খেজুর মালিকদের জন্য নামাযের স্থান নির্ধারণ করেছেন। তিনি সেখানে নামায আদায়ের জন্য আগমন করতেন। অতঃপর যখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ‘বাইতুল মালের’ দায়িত্বশীল হলেন, তখন কোনো এক লোক বাইতুল মালে সিঁধ কেটে প্রবেশ করলো। তিনি লোকটিকে ধরলেন। অতঃপর এই বিষয়টি জানিয়ে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট চিঠি লিখলেন। উক্ত চিঠির জবাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি চিঠি লিখে পাঠালেন যে, আপনি তার হাত কাটবেন না। বরং আপনি নামাযের স্থানটি (একটু পেছনে) সরিয়ে নেন। আর ‘বাইতুল মাল’ সামনের দিকে ক্বিবলা বরাবর নির্ধারণ করুন। কেননা, নামায আদায়ের স্থানে (সাধারণতঃ) মুছল্লীগণ সবসময় অবস্থান করবেন (তখন বাইতুল মাল সামনে থাকায় কোনো ক্ষতি হবে না)। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উক্ত নামায আদায়ের স্থানটি সরিয়ে নিলেন (আর বাইতুল মালকে ক্বিবলার দিকে রাখলেন) এবং তিনি উক্ত স্থানটির সীমানা চিহ্নিত করার জন্য দাগ দিলেন। হযরত সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি যে ভবনটি নির্মাণ করেছেন তা প্রশস্ত ছিলো। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নির্দেশ মুবারকে ইমাম ছাহেব দাঁড়ানোর স্থানকে ভেঙ্গে ফেলা হয়, এমনকি ইমাম ছাহেবের স্থান মুক্তাদির স্থানে স্থির করা হয়।” (আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ৯/১৯২, মাজমাউয যাওয়াইদ লিল হাইছামী ৬/২৭৫)
উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা দ্বারা প্রতিভাত যে,
(১) সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র নামায ঘরের স্থানকে সরানোর জন্য বলেছেন, তাই উনার নির্দেশ অনুযায়ী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি শুধুমাত্র ইমাম ছাহেবের দাঁড়ানোর স্থানটিকে ভেঙ্গে সেখানে বাইতুল মাল স্থাপন করেন। ফলে, ইমাম ছাহেবের দাঁড়ানোর স্থান মুক্তাদির কাতারে স্থিরকৃত হয়।
(২) বাইতুল মাল থেকে মাল চুরি হয়নি। বরং চুরির জন্য বাইতুল মালে কেবল প্রবেশ করেছিল। তাই, সাইয়্যিদুনা ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত ব্যক্তির হাত কাটতে নিষেধ করেছিলেন।
(৩) নামায ঘরে শুধুমাত্র ইমাম সাহেবের দাঁড়ানোর স্থানটি ভেঙ্গে সেখানে বাইতুল মাল নির্ধারণ করা হয়। ফলে, সেখানে খেজুর বিক্রির বাজার হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
অতএব, ক্বিল্লতে ইল্ম, ক্বিল্লতে ফাহ্ম অর্থাৎ কম ইলিম ও কম বুঝের কারণে কতক মূর্খ, গোমরাহ্, লা-মাযহাবী, নীম মোল্লা শ্রেণির লোক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনার সঠিক মর্মার্থ উদঘাটন করতে অক্ষম হয়ে মিথ্যা, মনগড়া ও ভুল অর্থ করে সাধারণ মুসলমান উনাদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কেননা, উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছেন-
وَقَدْ بَـنٰـى حَضْرَتْ سَعْدٌ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰـى عَنْهُ الْقَصْرَ وَاتَّـخَذَ مَسْجِدًا فِـىْ اَصْحَابِ التَّمْرِ
“হযরত সা’দ ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। আর তিনি (উক্ত ভবনের একটা অংশে) খেজুর মালিকদের জন্য নামাযের স্থান নির্ধারণ করেছেন।”
কিন্তু এখানে বলা হয়নি যে, তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে مَسْجِدًا (মসজিদ) শব্দ মুবারক দ্বারা মূলতঃ নামায আদায় করার ঘর বা স্থানকে বুঝানো হয়েছে, শরয়ী কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাকে নয়।
স্মরণীয় যে, مَسْجِد (মসজিদ) শব্দ উল্লেখ থাকলেই যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বা পবিত্র জামে মসজিদ মুবারককে বুঝাবে, বিষয়টি এমন নয়। বরং مَسْجِد (মসজিদ) শব্দ মুবারক দ্বারা নামাযের সময়কেও বুঝানো হয়ে থাকে আবার নামাযের সাধারণ স্থানকেও বুঝানো হয়ে থাকে। যেমন- এ প্রসঙ্গে সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ২৯ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
وَاَقِـيْمُوْا وُجُوْهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ
“আর তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় স্বীয় মুখমণ্ডল সোজা রাখ অর্থাৎ সোজা ক্বিবলার দিকে রাখতে যত্নবান হও।”
উক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে ইবনে আব্বাস’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন-
{عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ} عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
“عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ অর্থ হচ্ছে- প্রত্যেক নামাযের সময়।”
অনুরূপভাবে সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ৩১ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
يَا بَـنِـىْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِيْـنَـتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ
“হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় উত্তম পোশাক অর্থাৎ তাক্বওয়ার পোশাক বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী পোশাক মুবারক পরিধান করো।”
উক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে مَسْجِد (মসজিদ) শব্দ মুবারক দ্বারা নামাযের সময়কে বুঝানো হয়েছে।
একইভাবে مَسْجِد (মসজিদ) শব্দ মুবারক দ্বারা নামাযের সাধারণ স্থানকে বুঝানো হয়েছে। সে সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন। যেমন- এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
جُعِلَتْ لِـىَ الْاَرْضُ مَسْجِدًا وَّطَهُوْرًا
“আমার সম্মানার্থে (বান্দা-বান্দী, উম্মতদের জন্য) সমস্ত যমীনকে পবিত্র এবং নামাযের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ্্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
خَيْـرُ مَسَاجِدِ النِّسَاءِ قَـعْرُ بُـيُـوْتِـهِنَّ
“মহিলাদের জন্য নামাযের শ্রেষ্ঠ স্থান হচ্ছে তাদের ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠ।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরাকে হাকিম)
উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ইমাম ত্ববারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
خَيْـرُ صَلَاةِ النِّسَاءِ فِـىْ قَـعْرِ بُــيُـوْتِـهِنَّ
“মহিলাদের ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠের নামাযই শ্রেষ্ঠ নামায।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারানী শরীফ)
উল্লেখিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে যথাক্রমে مَسْجِدًا ও مَسَاجِد শব্দ মুবারক দ্বারা আমভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বা জামে মসজিদ মুবারক কোনটাই বুঝানো হয়নি; বরং নামাযের সাধারণ স্থানকে বুঝানো হয়েছে।
তাহলে কি মূর্খ, গোমরাহ্, লা-মাযহাবী ও নীম মোল্লা শ্রেণীর লোকেরা মহিলাদের প্রত্যেকটি ঘরকে এবং সমস্ত যমীনকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বা জামে মসজিদ মুবারক বলবে?
মূলতঃ উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে মহিলাদের প্রত্যেকটি ঘর এবং সমস্ত যমীনকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বা জামে মসজিদ মুবারক কোনোটিই বুঝানো হয়নি। এ বিষয়টিই মূর্খ, গোমরাহ্, লা-মাযহাবী, নীম মোল্লাদের জানা নেই। তাই, এদের ব্যাপারে কিতাবে লিখা হয়-
نیم حکیم خطر جان+ نیم ملا خطر ایمان
(উচ্চারণ: নীম হেকীম খত্বরে জান, নীম মোল্লা খত্বরে ঈমান।)
“আধা ডাক্তাররা জীবন নাশের কারণ, আধা মোল্লারা ঈমান ধ্বংসের কারণ।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
অপরদিকে বলতে হয় যে, সুওয়ালে বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত নামাযের স্থানকে যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বা জামে মসজিদ মুবারক-ই বুঝানো হতো, তবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ইবারতেوَقَدْ بَـنٰـى… الْقَصْرَ (তিনি ভবন বানালেন) এর স্থলে وَقَدْ بَـنٰـى… مَسْجِدًا (তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বানালেন) উল্লেখ থাকতো। মূলতঃ হযরত সা’দ ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার প্রয়োজনে একটি ভবন নির্মাণ করেছিলেন এবং উক্ত ভবনের কোনো একটি কক্ষের একটি অংশকে সেখানে আগমনকারী লোকদের সুবিধার্থে নামাযের স্থান হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে বাইতুল মাল চুরি হওয়ার আশংকায় ইমামের দাঁড়ানোর স্থানকে কিছুটা পেছনে নিয়ে বাইতুল মালকে ক্বিবলার দিকে মুছল্লীদের সামনে রাখা হয় যেন তা চুরি না হয়। যেহেতু নামাযের উক্ত স্থানটি কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ছিলো না, সেহেতু তা আগে-পিছে করা বা পরিবর্তন করা স্বাভাবিকই ছিলো।
কিন্তু এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা বা স্থানান্তর বৈধ হওয়ার দলীল হিসেবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই জায়িয হবে না। বরং হারাম-নাজায়িয ও কাট্টা কুফরী হবে। কেননা, নামায আদায় করার সাধারণ স্থান ও শরয়ী মসজিদ মুবারক একই বিষয় নয়। নামায আদায় করার সাধারণ স্থানকে প্রয়োজনে সরানো বা স্থানান্তরিত করা যায়; কিন্তু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জন্য বরাদ্দকৃত স্থানকে কোনোভাবেই ভাঙ্গা বা স্থানান্তরিত করা জায়িয নেই। এটাই হচ্ছে সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার সর্বস্বীকৃত মত বা ফতওয়া।
সুতরাং, মেট্রো রেলের নামে হোক, নদী রক্ষার নামে হোক, রাস্তা সম্প্রসারণের নামে হোক, উন্নয়ন কর্মসূচীর নামে হোক বা যেকোনো অজুহাতেই হোক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা কস্মিনকালেও শরীয়তসম্মত নয়; বরং তা সুস্পষ্ট হারাম ও কাট্টা কুফরীর অন্তভুর্ক্ত এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ। না‘ঊযুবিল্লাহ!
{দলীলসমূহঃ (১) মুসলিম শরীফ, (২) তবারানী শরীফ, (৩) বায়হাক্বী শরীফ, (৪) মাজমাউয যাওয়ায়িদ, (৫) জামিউল কাবীর, (৬) জামিউছ ছগীর, (৭) কান্যুল উম্মাল, (৮) মুস্তাদরাকে হাকিম, (৯) আল্ ফিরদাউস, (১০) জামিউল আহাদীছ, (১১) ইবনে খুযাইমাহ্, (১২) ফতহুল কাবীর, (১৩) ইরশাদুল ক্বারী, (১৪) ফতহুল বারী, (১৫) মাওসূআতুল ফিক্বহিয়্যাহ্, (১৬) মুসনাদে আযহারী, (১৭) মিরআতুল মাফাতীহ্, (১৮) মিশকাত শরীফ, (১৯) মিরকাত শরীফ, (২০) ফতহুল মুলহিম, (২১) নাইলুল আওতার, (২২) তারগীব-তারহীব, (২৩) মুসনাদে শিহাব, (২৪) আবূ ইয়া’লা, (২৫) তাফসীরে আহকামুল কুরআন লিল্ জাসসাস, (২৬) তাফসীরে কুরতুবী, (২৭) তাফসীরে তাবারী, (২৮) তাফসীরে বায়যাবী, (২৯) তাফসীরে রুহুল মা‘আনী, (৩০) তাফসীরে রুহুল বায়ান, (৩১) তাফসীরে ইবনে কাছীর, (৩২) তাফসীরে দুররে মানছূর, (৩৩) তাফসীরে জালালাইন, (৩৪) তাফসীরে কামালাইন, (৩৫) তাফসীরে মাযহারী, (৩৬) তাফসীরে কবীর, (৩৭) ফতওয়ায়ে শামী, (৩৮) দূরারুল হুক্কাম, (৩৯) দূররুল মুখতার, (৪০) বাহ্রুর রায়িক, (৪১) ফতওয়ায়ে আলমগীরী, (৪২) মাজমুয়ায়ে ফতওয়া- আব্দুল হাই লখনৌবী, (৪৩) ফতওয়ায়ে দারুল ইফতাহ্ মিছর, (৪৪) ফতওয়ায়ে দেওবন্দ, (৪৫) ইমদাদুল ফতওয়া, (৪৬) লুগাতুল কুরআন, (৪৭) লুগাতুল আহাদীছ, (৪৮) লিসানুল আরব, (৪৯) মিছবাহুল লুগাত, (৫০) আল মুনজিদ ইত্যাদি}
পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন
কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া