সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬৭)

সংখ্যা: ৩০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৪তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

(পূর্বপ্রকাশিতের পর)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসে প্রকাশিত মহাসম্মানিত

ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ তারীখ মুবারক= ১৬খানা

 মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ= ৩০খানা

১. ক) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ১লা রজবুল হারাম:

আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ দিবস মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

বেমেছাল সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক ও শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক ও শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক সম্পর্কে ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

فَـقَالَ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِاُمّـِهٖ عَلَيْـهَا السَّلَامُ اُرِيْدُ مِنْكِ اَنْ تَـخْطُبِـىْ لِـىَ امْرَاَةً ذَاتَ حُسْنٍ وَجَـمَالٍ وَقَدٍّ وَاعْتِدَالٍ وَبَـهَاءٍ وَكَمَالٍ وَحَسَبٍ وَنَسَبٍ عَالٍ قَالَتْ حُبًّا وَكَـرَامَةً يَا وَلَدِىْ ثُـمَّ اِنَّـهَا دَارَتْ اَحْيَاءَ قُـرَيْشٍ وَبَـنَاتِ الْعَرَبِ فَـلَمْ يُـعْجِبْـهَا اِلَّا سَيِّـدَتُـنَـا حَضْرَتْ اٰمِنَةُ بِنْتُ وَهْبٍ عَلَيْـهَا السَّلَامُ فَـقَالَ يَا اُمَّاهُ انْظُرِيْـهَا مَرَّةً ثَانِـيَةً فَمَضَتْ وَنَظَرَتْـهَا فَاِذَا هِىَ تُضِىْءُ كَاَنَّـهَا كَوْكَبٌ دُرِّىٌّ

“সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আমি আশা করি, আপনি আমার পক্ষ থেকে এমন একজন মহাসম্মানিতা মেয়ে উনার কাছে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়ে প্রস্তাব মুবারক দিবেন, যিনি হবেন সর্বশ্রেষ্ঠা, সর্বোত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারিণী, অতি উত্তম জিসিম মুবারক উনার অধিকারিণী, সুদর্শনা, ন্যায়পরায়ণা, উজ্জ্বল দীপ্তিময়ী, সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণতার অধিকারিণী, বেমেছাল মান-সম্মান-ইয্যত মুবারক উনার অধিকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠা ও সুউচ্চ বংশীয়া। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম তিনি উত্তরে বললেন, ‘হে আমার মহাসম্মানিত স্নেহের আওলাদ আলাইহিস সালাম! আপনার জন্য সম্মানিত মুহব্বত মুবারক ও সম্মান-ইয্যত মুবারক।’ সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত কুরাইশ বংশ উনার ও আরবের সকল গোত্রের সমস্ত কুমারী মেয়ে উনাদের ব্যাপারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংবাদ নিলেন। কিন্তু তিনি একমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকে উপরোক্ত সমস্ত গুণাবলী মুবারক উনাদের অধিকারিণী পেলেন না। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘হে আমার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আপনি দ্বিতীয়বারের মতো আবারো উনাকে দেখুন।’ তারপর তিনি পুনরায় দেখতে গেলেন এবং উনার দিকে তাকালেন। তখন তিনি উনাকে এমতাবস্থায় দেখলেন যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেন মুক্তা সাদৃশ্য তারকার ন্যায় নূর মুবারক বিচ্ছুরণ করছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!

‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ্ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ্’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

وَهُوَ اَرَادَ اَيْضًا تَـزْوِيْجَ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَكَانَ يَـتَـفَحَّصُ امْرَاَةً تَكُوْنُ بِشَرْفِ النَّسَبِ وَالْـحَسَبِ وَالْعِفَّةِ مُـمْتَازَةً فِـى الدَّرَجَةِ الْقُصْوٰى فَـوَجَدَ اٰمِنَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ ابْـنَتَ وَهْبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ مُتَّصِفَةً بـِهٰذِهِ الْاَوْصَافِ

“আর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও তখন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করানোর জন্য এমন একজন মহাসম্মানিতা মেয়ে অনুসন্ধান করছিলেন, যিনি হবেন সর্বোচ্চ বংশীয়া এবং সম্মান-ইয্যত, পবিত্রতা ও চারিত্রিক নিষ্কুলুষতার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠত্বের অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই সকল গুণে গুণান্বিতা পেলেন।” সুবহানাল্লাহ!

‘নিহায়াতুল ঈজাযে’ বর্ণিত রয়েছেন,

سَيِّدَتُـنَا حَضْرَتْ اٰمِنَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ اَفْضَلُ امْرَاَةٍ فِـىْ قُـرَيْشٍ حَسَبًا وَنَسَبًا وَجَـمَالًا

“সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশীয় অর্থাৎ কায়িনাতের সকল মহিলাদের মধ্যে মান, মর্যাদা, সম্মান, বংশ ও সৌন্দর্যগত দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠা।” সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَهِىَ يَـوْمَئِذٍ اَفْضَلُ امْرَاَةٍ فِـىْ قُـرَيْشٍ نَسَبًا وَمَوْضِعًا

“সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন কুরাইশ অর্থাৎ কায়িনাতের সমস্ত মহিলাদের মধ্যে মুবারক বংশগত ও অবস্থানগত অর্থাৎ পিতা-মাতা উভয়ের দিক থেকে অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে সর্বশ্রেষ্ঠা।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উন্ফ, দালাইলুন নুবুওওয়াহ্, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, শরহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব, শরফুল মুস্ত্বফা)

মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম হিসেবে, সর্বপ্রকার সর্বোত্তম ছিফত অর্থাৎ গুণাবলী মুবারক, খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক ও শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাদিয়া মুবারক করেই পবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক করিয়েছেন (সৃষ্টি মুবারক করেছেন)। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে তিনি ছিলেন যাহিরী-বাতিনী সৌন্দর্য মুবারক, সুমহান চরিত্র মুবারক ও শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার দিক থেকে কায়িনাতের বুকে অদ্বিতীয়া। উনার কোনো মেছাল নেই। উনার মেছাল তিনি নিজেই। সুবহানাল্লাহ! যা ভাষায় প্রকাশ করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ!

বিভিন্ন দিক থেকে সম্মানিত নিসবতে

আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক

এবং অস্বীকৃতি মুবারক জ্ঞাপন:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

وَقَدْ كَانَ خَطَـبَـهَا اَشْرَافُ قُـرَيْشٍ وَكَانَتْ سَيِّدَتُـنَا حَضْرَتْ اٰمِنَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ تَـاْبـٰى ذٰلِكَ

“সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কুরাইশ বংশের অভিজাত ব্যক্তিবর্গ সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলো; কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস শরীফ ১/৮২)

এমনকি কথিত শক্তিধর রোম-পারস্য শাসকদের পক্ষ থেকেও উনার নিকট প্রস্তাবনা এসেছে। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

প্রতি সম্মানিত গায়িবী নিদা মুবারক:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একবার উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন যে, “হে আমার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম! আমি যখন কোনো নির্জন স্থানে যাই, তখন সম্মানিত গায়িবী নিদা মুবারক অর্থাৎ অদৃশ্য আওয়ায মুবারক শুনতে পাই- কে যেন আমাকে বলেন,

اَلسَّلَامُ عَلَيْكِ يَا اُمَّ سَيِّدِ الْمُرْسَلِـيْـنَ. اَلسَّلَامُ عَلَيْكِ يَا اُمَّ اِمَامِ الْمُرْسَلِـيْـنَ

“হে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আপনাকে সালাম। সুবহানাল্লাহ! হে ইমামুল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আপনাকে সালাম।” সুবহানাল্লাহ!

আবার কখনো বা বলেন,

بُشْرٰى لَكِ يَا اُمَّ اِمَامِ الْمُرْسَلِـيْـنَ

“হে ইমামুল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আপনার জন্য সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!

ঠিক একইরূপে সম্প্রতি একটি নতুন কথা মুবারক শুনতে পাইÑ কে যেন আমাকে বলেন,

مَرْحَبًا بِكِ يَا زَوْجَةَ سَيِّـدِنَا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ

“হে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা যাওযাতুম মুকার্রমাহ্ আলাইহাস সালাম! আপনি মুবারকবাদ গ্রহণ করুন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস

সালাম উনার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি এক রাতে এক বিশেষ স্বপ্ন মুবারক দেখেন। উনাকে একজন বুযূর্গ ব্যক্তি তিনি বলছেন, “হে সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম! স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার মহাসম্মানিতা আওলাদ (মেয়ে) আলাইহাস সালাম উনার তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তা মুবারক উনার ভার গ্রহণ করেছেন। আপনি উনাকে এমন এক সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত বংশ মুবারক উনার অধিকারী সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার নিকট সমর্পণ করুন, যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার জন্য উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মানত মুবারক করেছেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনিও উনার সম্মানিত কুরবানী মুবারক ক্ববূল করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ই’জায শরীফ দর্শন:

‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ্ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ্’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

اَهْلُ الْكِـتَابِ كَانُـوْا يَـعْرِفُـوْنَ عَنْ بَـعْضِ الْعَلَامَاتِ اَنَّ نَبِـىَّ اٰخِرِ الزَّمَانِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ مِنْ صُلْبِ سَيِّـدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَـيُـعَادُوْنَهٗ عُدْوَانًا وَيُقِيْمُوْنَ فِـىْ مَقَامِ اِهْلَاكِهٖ وَيَـجِيْـئُـوْنَ مِنْ اَطْـرَافِ مَكَّةَ قَاصِدِيْنَ لِاِهْلَاكِهٖ دَائِمًا وَيُشَاهِدُوْنَ اٰثَارًا غَرِيْـبَةً وَاُمُوْرًا عَجِيْـبَةً فَـيَـنْـقَلِبُـوْنَ خَآئِــبِـيْـنَ خَاسِرِيْنَ نَدَامٰى. وَكَانَ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ ذَهَبَ لِلصَّيْدِ يَـوْمًا فَـوَصَلَ جَـمَاعَةٌ كَـثِـيْـرَةٌ مِّنْ جَانِبِ الشَّامِ لِقَصْدِ سَيِّـدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ مُسِلِّـيْـنَ سُيُـوْفًا وَكَانَ حَضْرَتْ وَهْبُ بْنُ عَبْدِ مَنَافٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَبُـوْ سَيِّـدَتِـنَـا حَضْرَتْ اٰمِنَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ اُمِّ الْمُـصْطَفٰى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـىْ ذٰلِكَ الصَّحْرَاءِ اَيْضًا فَـرَاٰى فُـرْسَانًا اَجْلَادًا لَايَشْبَـهُوْنَ بِاَهْلِ عَالَـمِ الشَّهَادَةِ ظَهَرُوْا مِنَ الْغَيْبِ وَدَفَـعُوا الْـجَمَاعَةَ عَنْ سَيِّـدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ دَفْـعًا

“আহলে কিতাব অর্থাৎ ইহুদী-খ্রিস্টানরা (তাদের আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণিত) বিভিন্ন আলামতের মাধ্যমে জানতো যে, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে অবস্থান মুবারক করছেন। অর্থাৎ ‘মহাসম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে অবস্থান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই, তারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে কঠিন শত্রুতা শুরু করে দিলো। উনাকে শহীদ করার জন্য ওঁৎ পেতে থাকলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়; উনাকে শহীদ করার জন্য সর্বদা তাদের পক্ষ থেকে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার আশেপাশে অনেক গুপ্তচর আসা-যাওয়া করতে থাকলো। এই সকল গুপ্তচরেরা বিভিন্ন অলৌকিক ও আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখে অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ই’জায শরীফ দেখে ব্যর্থ, ভীত-সন্ত্রস্ত, লাঞ্ছিত, লজ্জিত ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফিরে যেত। সুবহানাল্লাহ! একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একা শিকার করার উদ্দেশ্যে বের হলেন। এটা জেনে শাম দেশের দিক হতে শত্রুদের একটি বিরাট দল উনাকে শহীদ করার জন্য তরবারী নিয়ে এগিয়ে আসলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! এদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনিও ঘটনাক্রমে সেই নির্জন ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। (হঠাৎ করে) তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী একদল ঘোরসাওয়ারী সৈন্য দেখতে পেলেন। উনারা ইহজগতের কোনো মানুষের সাদৃশ্য ছিলেন না। (উনারা ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য নিয়োজিত সম্মানিত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ!) উনারা অদৃশ্য থেকে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার শত্রুবাহিনীকে পরিপূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ!

‘তারীখুল খমীস শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

اَنَّهٗ خَرَجَ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَـوْمًا اِلـٰى قَـنَصِهٖ وَقَدْ قَدِمَ عَلَيْهِ تِسْعُوْنَ رَجُلًا مِّنْ اَحْبَارِ يَـهُوْدِ الشَّامِ مَعَهُمُ السُّيُـوْفُ الْـمَسْمُوْمَةُ يُرِيْدُوْنَ اَنْ يَّـغْـتَالُوْهُ وَيَـقْتُـلُوْهُ وَكَانَ حَضْرَتْ وَهْبُ بْنُ عَبْدِ مَنَافٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَبُـوْ سَيِّـدَتِـنَـا حَضْرَتْ اٰمِنَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ صَاحِبَ قَـنَصٍ اَيْضًا قَالَ فَـلَمَّا نَظَرْتُ اِلَـى الْاَحْبَارِ قَدْ اَحْدَقُـوْا بِـسَيِّـدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَسَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَـوْمَئِذٍ وَّحْدَهٗ تَـقَدَّمْتُ اِلَيْهِ لَاُعِيْـنُهٗ عَلَيْهِمْ فَـنَظَرْتُ اِلـٰى رِجَالٍ لَّايَشْبَـهُوْنَ رِجَالَ الدُّنْـيَا عَلـٰى خَيْلٍ شُهْبٍ قَدْ حَـمَلُوْا عَلَى الْاَحْبَارِ حَتّٰـى هَزَمُوْهُمْ عَنْ سَيِّـدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ

“একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি শিকারের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তখন শাম দেশের ইহুদী পাদ্রীদের মধ্য থেকে ৯০ জন পাদ্রী বিষাক্ত তরবারী নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে গুপ্তহত্যা এবং শহীদ করার উদ্দেশ্যে উনার দিকে অগ্রসর হতে লাগলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনিও শিকারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। তিনি বলেন, অতঃপর যখন আমি দেখলাম যে, পাদ্রীরা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পুরোপুরিভাবে ঘেরাও করে ফেলেছে। অথচ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একা। তখন আমি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দিকে অগ্রসর হতে লাগলাম। উদ্দেশ্য হচ্ছে- আমি ওই সকল পাদ্রীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই উনাকে সাহায্য করবো, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবো। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি ধূসর রঙ্গের ঘোড়ার উপর কিছু লোক দেখতে লাগলাম, উনারা দুনিয়ার অন্য কোনো লোকের সাথে সাদৃশ্য রাখেন না। উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ হয়ে পাদ্রীদের উপর আক্রমণ করে তাদেরকে পরাজিত করলেন, তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/৮৩)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানমুবারক হানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃ্ত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছছুল খাছ সম্মানিত ফতওয়া মুবারক (৪০তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ঠ বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে

কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া