৩৭তম সম্মানিত ফতওয়া
মুবারক হিসেবে
‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানি করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক’ পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানিকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে মহাসম্মানিত
ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে দলীল:
পূর্ব প্রকাশিতের পর
(৮) আবূ আফাক নামক অভিশপ্ত ইহুদীকে হত্যা:
দ্বিতীয় হিজরী শরীফ উনার শাওওয়াল শরীফ মাসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত সালিম ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে আবূ আফাক নামক অভিশপ্ত ইহুদীকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য প্রেরণ করেন। সে ছিলো এক বৃদ্ধ ব্যক্তি, যার বয়স ছিলো প্রায় ১২০ (একশ বিশ) বছর।
كَانَ يُـحَرِّضُ عَلَى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَـقُوْلُ فِـيْهِ الشِّعْرَ
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে সে উসকানিমূলক কথা বলতো, উনার মানহানি করতো এবং ব্যঙ্গাত্মক কবিতা আবৃত্তি করতো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ!
فَـقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لِّـىَ بِـهٰذَا الْـخَبِيْثِ
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার পক্ষ থেকে কে এই খবীছকে হত্যা করবেন?’
জবাবে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত সালিম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
عَلَىَّ نَذْرٌ اَنْ اَقْـتُلَ اَبَا عَفَكٍ اَوْ اَمُوْتَ دُوْنَهٗ
‘আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করছি যে, আবূ আফাক নামক সেই অভিশপ্ত ইহুদীকে আমি অবশ্যই হত্যা করবো অথবা এই পথে আমি শহীদ হবো।’ সুবহানাল্লাহ!
তারপর হযরত সালিম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি রওয়ানা হয়ে যান অভিশপ্ত ইহুদীকে জাহান্নামে পাঠানোর জন্য। তখন ছিলো গরমকাল। তিনি গভীর রাতে পেঁৗছে দেখেন যে, ঐ অভিশপ্ত ইহুদীটি তার বাড়ির উঠানে ঘুমিয়ে রয়েছে। তারপর হযরত সালিম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অত্যন্ত হিম্মতের সঙ্গে তার কাছে এগিয়ে যান।
وَوَضَعَ سَيْـفَهٗ عَلـٰى كَبِدِهٖ ثُـمَّ اِعْتَمَدَ عَلَيْهِ حَتّٰـى خَشَّ فِـى الْفِرَاشِ فَصَاحَ عَدُوُّ اللهِ اَبُـوْ عَفَكٍ
‘আর তিনি উনার তরবারী মুবারক অভিশপ্ত ইহুদীটির পাঁজরে রেখে তা এমন দৃঢ়তার সাথে চালান যে, তরবারীটি দেহ ভেদ করে বিছানা পর্যন্ত পেঁৗছে যায়। তখন মহান আল্লাহ উনার এই শত্রু উচ্চ স্বরে চিৎকার করে ওঠে।’
তার সেই বিকট চিৎকারে সাড়া দিয়ে কিছু মুনাফিক্ব তড়িঘড়ি করে ছুটে এসে তাকে তার ঘরে তুলে নিয়ে যায়। অবশেষে সে মারা যায়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে হযরত উমামাহ্ আল মুরাইদিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি কবিতা রচনা করেন-
تُكَذِّبُ دِيْنَ اللهِ وَالْمَرْءَ اَحْـمَدًا (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) ۞ لَعَمْرُ الَّذِىْ اَمْنَاكَ اَنْ بِئْسَ مَا يُـمْنِـىْ
حَبَاكَ حَنِـيْفٌ اٰخِرَ اللَّـيْلِ طَعْنَةً ۞ اَبَا عَفَكٍ خُذْهَا عَلـٰى كِـبَـرِ السِّنِّ
“মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন উনার বিরুদ্ধে তুই কথা বলেছিস এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছিস, উনার মানহানি করেছিস।
সেই মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যিনি অস্থায়ীভাবে তোকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন- তোর আশা কতই না নিকৃষ্ট ছিলো!
এক খাঁটি ঈমানদার তিনি তোকে রাতের শেষ প্রহরে তরবারীর এক অমূল্য উপহার দিয়েছেন,
হে আবূ আফাক! বার্ধক্য হলেও, এই শাস্তি তুই নে। এটাই তোর প্রাপ্য ছিলো!” (তথ্যসূত্র: মাগাযী লিল ওয়াক্বিদী ১/১৭৫, ‘উয়ূনুল আছার ১/৩৪১, সুবুলুল হুদা ওয়ার ৬/২৩, তারীখুল খমীস ১/৪০৮, আল মাওয়াহিব ১/২৩১, আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ্ ৩/২২৩, শারহুয যারক্বানী ২/৩৪৭ ইত্যাদি)
(৯) আছমা বিনতে মারওয়ান নামক এক অভিশপ্ত মহিলাকে হত্যা:
আছমা বিনতে মারওয়ান ছিলো এক অভিশপ্ত, কুখ্যাত, ঔদ্ধত্যপরায়ণা ও বিদ্বেষপরায়ণা কাফির মহিলা। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,
كَانَتْ تَعِيْبُ الْاِسْلَامَ وَتُـؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘এই অভিশপ্ত মহিলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে কটাক্ষ করতো এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিতো, উনার মানহানি করতো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ!
অন্য বর্ণনা এসেছেন,
كَانَتْ تَعِـيْبُ الْاِسْلَامَ وَتُـؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتُـحَرِّضُ عَلَـيْهِ وَتَعِـيْبُ الْاِسْلَامَ وَتَـقُوْلُ الشِّعْرَ وَكَانَتْ تَطْـرَحُ الْمَحَايِضَ فِـىْ مَسْجِدِ بَنِـىْ خَطْمَةَ
‘সে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে কটাক্ষ করত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিত, উনার মানহানি করত এবং উনার বিরুদ্ধে লোকদেরকে উসকানি দিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে সে কটাক্ষ করে অবমাননাকর কবিতা রচনা করতো। এমনকি তার ধৃষ্টতা এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, সে ঋতুস্রাবযুক্ত নাপাক বস্তু বনূ খাতমাহ্ গোত্রের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকে নিক্ষেপ করত। না‘উযুবিল্লাহ! না‘উযুবিল্লাহ! না‘উযুবিল্লাহ!’
فَاَهْدَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَمَهَا
‘ফলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই অভিশপ্ত মহিলার রক্ত হালাল ঘোষণা করেন। অর্থাৎ তার একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।’ সুবহানাল্লাহ!
তখন দৃষ্টি শক্তিহীন ছাহাবী হযরত উমায়ের ইবনে আদি রাদিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ওয়াদা মুবারক করেন,
لَئِنْ رَجَعَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَدْرٍ اِلَـى الْمَدِيْـنَةِ لَـيَـقْـتُـلَـنَّـهَا
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ ফিরার পর অবশ্যই অবশ্যই আমি তাকে হত্যা করবো, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিবো।’ সুবহানাল্লাহ!
তারপর যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ ফিরে আসেন, তখন একরাতে হযরত উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ওয়াদা মুবারক পূরণের জন্য বের হয়ে যান। তিনি চোখে দেখতে না পারা সত্ত্বেও রাতে গোপনে তার ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে তার চারপাশে তার সন্তানরা ঘুমিয়ে ছিলো, এমনকি একজন তখন দুধ পান করছিলো। তিনি যেহেতু চোখে দেখতেন না, তাই হাতে স্পর্শ করে তাকে চিনে নেন।
فَـنَحَّى الصَّبِـىَّ عَنْـهَا وَوَضَعَ سَيْـفَهٗ عَلـٰى صَدْرِهَا حَتّٰـى اَنْـفَذَهٗ مِنْ ظَهْرِهَا
‘তারপর তিনি শিশুটিকে সরিয়ে দিয়ে সেই অভিশপ্ত মহিলার বুকের উপর তলোয়ার রেখে এমন জোরে চালালেন যে, তা পৃষ্ঠদেশ ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে গেল।’ সুবহানাল্লাহ!
এরপর তিনি ফিরে এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছলাতুল ফজর জামাআতে আদায় করেন। ছলাত মুবারক শেষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উমায়ের ইবনে আদি আল খ¦াতমী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার দিকে সন্তুষ্টিপূর্ণ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুস সা‘আদাত মুবারক (নযর বা দৃষ্টি মুবারক) দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন,
اَقَــتَـلْتَ اِبْـنَةَ مَرْوَانَ
‘আপনি কি মারওয়ানের মেয়েকে হত্যা করেছেন? তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন?’
জবাবে তিনি বলেন,
نَـعَمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! জী; আমি তাকে হত্যা করেছি।’ সুবহানাল্লাহ!
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করে ইরশাদ মুবারক করেন,
نَصَرْتَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا حَضْرَتْ عُمَيْـرُ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ
“হে হযরত উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে সাহায্য করেছেন। অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক, গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে আখাছ্ছুল খাছ রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের উদ্দেশ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
اِذَا اَحْبَـبْـتُمْ اَنْ تَـنْظُـرُوْا اِلـٰى رَجُلٍ نَصَرَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْغَـيْبِ فَانْظُـرُوْا اِلـٰى حَضْرَتْ عُمَيْـرِ بْنِ عَدِىٍّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ
‘যদি আপনারা এমন একজন ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাকে দেখতে চান, যিনি সকলের অজান্তে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক, গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে আখাছ্ছুল খাছ রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করেছেন, তাহলে আপনারা হযরত উমায়ের ইবনে আদি রাদিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার দিকে তাকান।’ সুবহানাল্লাহ!
তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
اُنْظُرُوْا اِلـٰى هٰذَا الْاَعْمَى الَّذِىْ تَشَرّٰى فِـىْ طَاعَةِ اللهِ
‘আপনারা সবাই চোখে দেখতে না পাওয়া এই সম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনার দিকে তাকান, যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্যে নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন।’ সুবহানাল্লাহ!
তখন নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لَا تَـقُلِ الْاَعْمٰى وَلٰكِنِ الْـبَصِيْـرُ
“আপনি উনাকে ‘চোখে দেখতে না পাওয়া ব্যক্তিত্ব’ বলবেন না; বরং তিনিই হচ্ছেন ‘বাছীর বা প্রকৃত দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব’।” সুবহানাল্লাহ!
তারপর যখন হযরত উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার গোত্রে ফিরে এলেন, তখন তিনি দেখলেন- লোকজন ঐ অভিশপ্ত মহিলার দাফনে অংশগ্রহন করছে। উনাকে দেখে তারা বললো,
يَا حَضْرَتْ عُمَيْـرُ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنْتَ قَـتَـلْتَـهَا
‘হে হযরত উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! আপনি কি তাকে হত্যা করেছেন?’
তিনি বললেন,
نَـعَمْ فَكِـيْدُوْنِــىْ جَـمِيْـعًا ثُـمَّ لَا تُـنْظِرُوْنِ فَـوَالَّذِىْ نَـفْسِىْ بِـيَدِهٖ لَوْ قُـلْـتُمْ جَـمِيْـعًا مَا قَالَتْ لَضَرَبْـتُكُمْ بِسَيْفِىْ هٰذَا حَتّٰـى اَمُوْتَ اَوْ اَقْـتُـلَكُمْ
‘হঁ্যা; আমি তাকে হত্যা করেছি, তার একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি। তোমরা সবাই একত্র হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো। তারপর তোমরা আমাকে বিলম্ব করাও না। সেই মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম, যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার প্রাণ! যদি তোমরা সবাই তার মতো কথা বলতে, তাহলে আমি আমার এই তরবারী দিয়ে একে একে তোমাদের সবাইকে হত্যা করতাম, তোমাদের সবাইকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতাম, যতক্ষণ না আমি শহীদ হই কিংবা তোমাদের সবাইকে হত্যা করি।’ সুবহানাল্লাহ! (আল মাওয়াহিব ১/২৩০, শারহুয যারক্বানী ২/৩৪৩, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৬/২১, ইমতাউল আসমা’ ১/১২০, ‘উয়ূনুল আছার ১/৩৪০, ইবনে সা’দ ২/২৮ ইত্যাদি)
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা শত্রুতা করবে অথবা উনাদের প্রতি যারা বিদ্বেষ পোষণ করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। এটাই সম্মানিত শরীয়ত উনার ফয়ছালা। সম্মানিত খিলাফত মুবারক ক্বায়েম থাকলে তা অবশ্যই জারী করতে হবে।
পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।
কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া