সুলত্বান অর্থ: ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, কর্তৃত্ব, দলীল-প্রমাণ, বাদশাহ।
سُلْطَانٌ نَّصِيْر (সুলত্বানুন নাছীর)
নাছীর অর্থ: সাহায্যকারী, রক্ষাকারী বা সহায়তাকারী, পৃষ্ঠপোষক। (সুলত্বানুন নাছীর) অর্থ: সাহায্যকারী বাদশাহ, সর্বদা বিজয়ী মহান ব্যক্তিত্ব, চুড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী।
শরীয়তের পরিভাষায়, সুলত্বানুন নাছীর বলা হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার সম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে এমন গাইবি মদদ ও কার্যকরী শক্তি যার মোকাবিলা করার ক্ষমতা কারো নেই।
“সুলত্বানুন নাছীর” এই মাকাম প্রাপ্ত ব্যক্তিত্বকে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা সর্বদা গাইবি মদদ বা সাহায্য-সহযোগীতা করে থাকেন। তাই তিনি কখনোই পরাজিত হননা। তিনি ঐ আয়াত শরীফ মুবারক উনার মিছদাক বা হকদার, যে পবিত্র আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كَتَبَ اللهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي ۚ إِنَّ اللهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন যে, আমি এবং আমার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই বিজয়ী হবো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পরাক্রমশীল, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুজাদালা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আযীযুয যামান, কাইউমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, কউইউল আউওয়াল, ছহিবে কুন ফাইয়াকুন, মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলত্বানুন নাছীর, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
প্রায় ৪৫/৪৬ বছর আগের কথা। একদিন স্বপ্নে দেখলাম। মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে আমাকে “সুলত্বানুন নাছীর” লক্বব মুবারক হাদীয়া করা হলো।
তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইহা কী? বলা হলো, ইহা যথাসময়ে বুঝবেন। সুলত্বানুন নাছীর হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ লক্বব মুবারক। আর এ লক্বব মুবারকের অধিকারী ব্যক্তিত্বকে কেহই কখনো পরাজিত করতে পারবেনা। যিনি অপরাজেয়। যিনি সবসময় বিজয়ী হবেন।
কাজেই যারা আপনার বিরোধিতা করবে, তারা ধবংস হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ্!
রঈসুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, সুলত্বানুল আরিফীন, যাত্রাবাড়ীর মুর্শিদ কিবলা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিও একই কথা মুবারক বলেছিলেন। তিনি তা প্রায় সময়ই বলতেন যে, ওলিআল্লাহগণের বিরোধিতা করলে মানুষ লুলা-ল্যাংড়া, অন্ধ-খঞ্জ, বোবা- বধির হয়। আর আমার শাহ্ ছাহিব আলাইহিস সালাম উনার বিরোধিতা করলে ঈমান হারা হতে হবে। উনার বিরোধিতাকারী খড়-কুটোর মত জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, কউইউল আউওয়াল, ছহেবে কুন ফাইয়াকুন, মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলত্বানুন নাছীর, সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
একদিন আমি চিন্তা করতেছিলাম যে, ‘সুলত্বানুন নাছীর’ উনার হাক্বীক্বত কী? তখন আমাকে একটা ঘটনা মুবারক দেখানো হলো- একটা বিরাট জিহাদ। অনেক বড় জিহাদ। সেই জিহাদ মুবারক-এ আমরা তাশরীফ মুবারক নিয়েছি। আমি সামনে আছি। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে চারজন প্রধান ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, উনারা চারজন ও অন্যান্য হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিয়ে বদরের জিহাদে যেভাবে কামিয়াবী হাদিয়া করা হয়েছিল, তদ্রƒপ যেন আমাদেরকেও কামিয়াবী হাদিয়া করা হয়। সুবহানাল্লাহ! (বিস্তারিত দেখুন-আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ ১ম খন্ড ৩৬৬ পৃষ্ঠা, আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ ২য় খন্ড ১৫৫ পৃষ্ঠা)