সম্মানিত মাহে যিলহজ্জ শরীফ ও সম্মানিত মাহে মুর্হরম শরীফ এবং উনাদের আনুসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ২৪৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

সম্মানিত মাহে যিলহজ্জ শরীফ ও সম্মানিত মাহে মুর্হরম শরীফ এবং উনাদের আনুসঙ্গিক আলোচনা

-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ


যিনি খ্বলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার যিনি শ্রেষ্ঠতম রসূল নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ঘোষণাকৃত চারটি হারাম বা সম্মানিত মাস সমূহের মধ্যে প্রণিধানযোগ্য সম্মানিত মাস যথাক্রমে মাহে যিলহজ্জ শরীফ ও মাহে মুহররম শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সম্মানিত যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার প্রথম দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা প্রিয় আর কোন  দিনের ইবাদত নেই। সুবহানাল্লাহ! উক্ত প্রতি দিনের রোযা এক বছরের রোযার সমতুল্য আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত শবে ক্বদরের ইবাদতের সমতুল্য। সুবহানাল্লাহ!

উক্ত দশ দিনের মধ্যে ৯ তারিখ ইয়াওমু আরাফাহ। এ দিনটিও ঈদের দিনের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার  মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, সম্মানিত আরাফাহ উনার দিনে রোযা রাখলে পূর্বের একবছর এবং পরের একবছরের গুনাহখতা ক্ষমা করা হয়। সুবহানাল্লাহ!

আর ১০ই যিলহজ্জ শরীফ হচ্ছে ইয়াওমুন নহর অর্থাৎ কুরবানীর দিন। এ রাতে সজাগ থেকে যারা ইবাদত করবে, হশরের দিন কেবল তাদেরই অন্তর ইতমিনান থাকবে এবং তাদের সমস্ত নেক দুআ ও নেক আরজু কবুল করা হবে। আর ঈদুল আদ্বহা উনার দিনে নামাযান্তে যারা কুরবানী করবে, কুরবানীর পশুর রক্ত যমীনে পড়ার পূর্বেই কুরবানীদাতার গুনাহখতা ক্ষমা করা হয় এবং কুরবানীর পশুর গোশ্ত, হাড্ডি, খুর, পশম ইত্যাদির বিনিময়ে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং জান্নাতে বহু নাজ-নিয়ামত প্রদান করা হবে। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, ক্বিয়ামতের দিন কুরবানীর পশুগুলি কুরবানীদাতার জন্য পুলছিরাত পার হওয়ার বাহন হবে। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, সম্মানিত মাহে যিলহজ্জ শরীফ উনার বিশেষ দিনসমূহের মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য ও স্মরণযোগ্য দিন হচ্ছে ১৮, ২৫ ও ২৭ তারিখসমূহ। সুবহানাল্লাহ! প্রকাশ থাকে যে, উক্ত ১৮ই যিলহজ্জ শরীফ হচ্ছে রফীকু রসূলিল্লাহ ফিলজান্নাহ, আশারায়ে মুবাশশারার অন্যতম ব্যক্তিত্ব, খুলাফায়ে রাশিদার তৃতীয় খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের দিন।  সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর ২৫ শে যিলহজ্জ শরীফ হচ্ছে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ, শেরে খোদা, বাবুল ইলিম, মাওলা, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক গ্রহণের দিন। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর ২৭ শে যিলহজ্জ শরীফ হচ্ছে খুলাফায়ে রাশিদার দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, হুল্লাতুল ইসলাম, লিসানুল্লাহ, লিসানু রসূলিল্লাহ, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের দিন। সুবহানাল্লাহ!

অনুরূপভাবে সম্মানিত মুর্হরমুল হারাম শরীফ মাসও অত্যধিক ফযীলতপূর্ণ। এ সম্মানিত মাস উনার বুযুর্গী সম্মান বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না। বর্ণিত রয়েছে, এ সম্মানিত মাস এবং উনার মধ্যে অবস্থিত আশূরা শরীফ দিবসকে যে ব্যক্তি সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জাহান্নাম থেকে পানাহ দান করে এবং সম্মানিত জান্নাত দান করে সম্মানিত করবেন। সুবহানাল্লাহ!

আশূরা শরীফ উপলক্ষে ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ রোযা রাখা সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, সম্মানিত আশূরা শরীফ দিবসে যারা রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। আর উক্ত দিনে কোন রোযাদারকে যে ইফতার করাবে, সে সমস্ত উম্মতকে ইফতার করানোর ফযীলত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, যে ব্যক্তি আশূরা শরীফ উনার দিনে তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে সারা বৎসর স্বচ্ছলতা দান করবেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, সম্মানিত আশূরা শরীফ ব্যতীত উক্ত সম্মানিত মাস উনার অন্যান্য বিশেষ দিনসমূহ হচ্ছে ১, ২, ৮ ও ২৫ তারিখ।

উক্ত পহেলা তারিখ আমীরুল মু’মিনীন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পাঁচদিন কম পূর্ণ বারো বৎসর ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে উক্ত দায়িত্ব মুবারক পালন করেন। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর সম্মানিত ২ তারিখ বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন সাইয়্যিদুল আবায়ি ওয়ার রিজাল, আবূ রসূলিল্লাহ, মালিকুল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর ৮ তারিখ বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন বিনতুল উলা মিন রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদাতু আহলিল জান্নাহ হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম।

অতঃপর ২৫ তারিখ শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ইমামুর রাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম।

অতএব, প্রত্যেক উম্মতের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে, উক্ত বিশেষ দিনসমূহ পালন করা। কেননা উক্ত দিনসমূহ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত ‘আইয়্যামুল্লাহ’ হিসেবে পরিগণিত। সুবহানাল্লাহ! উক্ত দিনসমূহ পালন করার জন্য নির্দেশ মুবারক করা হয়েছে এবং তা পালনে রহমত, নিয়ামত, নাজাত ও সন্তুষ্টি মুবারক নিহিত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

মাহে যিলহজ্জ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে মুহররমুল হারাম ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রবীউল আউয়াল শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রবীউছ ছানী ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে জুমাদাল উখরা ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা