সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ জামিনদার

সংখ্যা: ৩০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত শায়েখ আবূ আব্দুল্লাহ রাছ্ছা’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ কিতাবে বর্ণনা করেন- বাগদাদ শহরে একজন লোক ছিলেন, যিনি অনেক ধন-সম্পদের মালিক ছিলেন। তিনি স্থলে ও পানিতে সফর করে বেড়াতেন। কিছুদিন যাওয়ার পর উনার অবস্থার পরিবর্তন ঘটল। সমস্ত ধন-সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেলো, এমনকি তিনি মানুষের নিকট অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে গেলেন। উনার উপর ঋণের বোঝা জমে গেলো, আর তিনি এমন অসহায় হয়ে পড়লেন যে উনার দুই হাত মাটিতে লেগে গিয়েছিলো অর্থাৎ চরম দারিদ্র ও অক্ষমতায় পতিত হয়েছিলেন। এই পেরেশানীতে উনার কখনো কখনো ফরয নামাযও ছুটে যেতো।

(একদিন তিনি কোথাও যাচ্ছিলেন) পথিমথ্যে একজন পাওনাদারের সাথে দেখা হয়ে গেলো, যার কাছে তিনি পাঁচশো দীনার ঋণ ছিলেন। পাওনাদার ব্যক্তি উনার কাছে ঋণের টাকা চাইলো, কিন্তু উনার কাছে কিছুই পেলো না।

পাওনাদার বলল, ‘আমরা তো আপনার সাথে পরিশোধের আশায় লেনদেন করেছি, কিন্তু আপনার কাছ থেকে পরিশোধের কোনো সম্ভাবনাই দেখছি না।’ ঋণগ্রস্ত লোকটি বললেন, ‘আমি তোমাকে মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম দিয়ে বলছি, আমাকে অপমান করো না। আমি অনেক ঋণগ্রস্ত, তুমি ছাড়া অন্যদের কাছেও আমার অনেক ঋণ রয়েছে। তুমি যদি এমন করো তাহলে লোকজন আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত হয়ে উঠবে। তাছাড়া; মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম, আমার কাছে কিছুই নেই।’

পাওনাদার বললো, ‘আমি তো হলফ করেছি যে’ বিষয়টি কাজী সাহেবের নিকট পেশ করবো। (অতঃপর উনাকে কাজী সাহেবের নিকটে হাযির করা হলো।)

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি সেখানে সব স্বীকার করলেন। কাজী সাহেব বললেন, ‘তার টাকা পরিশোধ করে দিন।’ তিনি বললেন, ‘আমার কাছে কিছুই নেই।’

কাজী সাহেব বললেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই একজন সম্পদশালী জামিনদার আনতে হবে, অন্যথায় কারাগারে যেতে হবে। তিনি বের হয়ে একজন জামিনদার খুঁজতে লাগলেন, কিন্তু কোনো সম্পদশালী জামিনদার পেলেন না। তখন কাজী সাহেবের খাদিম (পরিচারক) বললো, কাজী সাহেবের নির্দেশ মুতাবিক, আপনাকে তাহলে কারাগারেই যেতে হবে।

এই কথা শুনে তিনি খুব বিচলিত হয়ে মিনতি করতে লাগলেন এবং তার নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম করে বলতে লাগলেন, শুধু আজ রাতের জন্য আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আমার সন্তান-সন্ততি, পরিবারের সাথে আজকের রাতটি কাটিয়ে আসি। তারপর যদি কোন ব্যবস্থা না হয় তাহলে কাজী সাহেব আমাকে জেলখানাতেই পাঠাবেন আর সেখানেই আমার কবর হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রতি রহমত মুবারক করলেন। ফলে তিনি নিজের অজান্তেই বলে ফেললেন, আজ রাতের জন্য আমার জামিনদার হলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। এই কথা শুনে পাওনাদার বললো, আচ্ছা আপনার কথা ক্ববূল করা হলো।

লোকটি তখন অত্যন্ত চিন্তিত, ভারাক্রান্ত এবং উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাড়িতে ফিরে গেলেন। উনার আহলিয়া (স্ত্রী) বললেন, আপনি এতো উদ্বিগ্ন কেন? আজ সারাদিন কোথায় ছিলেন?

তখন তিনি উনার আহলিয়াকে পুরো ঘটনাটি জানালেন। উনার অবস্থা কী হয়েছিলো, পাওনাদারের সাথে কীভাবে উনাকে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, এবং কীভাবে উনাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়েছিল। তিনি আরো বললেন যে, উনাকে কোনোভাবেই মুক্তি দেয়া হচ্ছিলো না। তবে এই কথার মাধ্যমে মুক্তি দেয়া হয়েছে যে, তিনি পাওনাদারকে বলেছেন ‘আমি আপনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার নামে অনুরোধ করছি, দয়া করে আজ রাতটুকু আমাকে ছেড়ে দিন, যেন আমি আমার সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে রাত কাটাতে পারি, তাদের বিদায় জানাতে পারি; আগামীকাল আমি আপনার কাছে এসে হাযির হব। আর আজ রাতের জন্য আমার জামিনদার হলেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।’ তখনই তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন, আর আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

উনার আহলিয়া সবকিছু শুনে বললেন, আপনি ভেঙ্গে পড়বেন না। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনার জামিনদার, তাহলে আপনি চিন্তিত অবস্থায় রাত পার করবেন কেন?

অতঃপর যখন তিনি ঘুমানোর ইচ্ছে করলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করলেন, এমনকি উনার দুই চোখ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলো অর্থাৎ তিনি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠরত অবস্থায় কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গেলেন। স্বপ্নে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার মুবারক লাভ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সুসংবাদ দিয়ে বললেন-

اِذَا اَصْبَحَ الصَّبَاحُ انْطَلِقْ اِلٰى وَزِيْرِ الْمَلِكِ وَقُلْ لَّهٗ يُسَلِّمُ عَلَيْكَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَـقُوْلُ لَكَ اَدِّ عَنِّىْ دَيْنِىْ وَهُوَ خَمْسُمِائَةِ دِينَارٍ اَمَرَ الْقَاضِىْ بِسِجْنِىْ وَمَا تَخَلَّفْتُ اِلَّا بِضَمَانِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

‘সকালে তুমি বাদশার উযীরের নিকট যেয়ে বলবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং আপনাকে আমার ৫০০ দিনারের ঋণ পরিশোধ করতে বলেছেন, যার জন্য কাজী সাহেব আমাকে জেলে যাবার জন্য আদেশ করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জামিন বানিয়ে এখনো আমি মুক্ত রয়েছি।’

এই কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে আরো বলতে বলেছেন-

اَنَّكَ تُصَلِّى عَلَىَّ فِىْ كُلِّ لَيْـلَةٍ اَلْفَ مَرَّةٍ فَـلَمَّا كَانَ فِىْ لَـيْـلَةِ الْبَارِحَةِ غَلِطْتَ فِى الْعَدَدِ وَشَكَكْتَ هَلْ أَكْمَلْتَه وَالْعَدَدُ كَامِلٌ

‘আপনি প্রতি রাতে আমার (উনার) উপর এক হাজার বার পবিত্র দুরূদ শরীফ পড়ে থাকেন। গত রাতে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করার সময় আপনার গণনায় গোলমাল হয়ে যায়। এতে আপনার এক হাজার বার পুরা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে সন্ধিহান রয়েছেন। গত রাতে আপনার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ পরিপূর্ণ হয়েছে অর্থাৎ আপনি এক হাজার বারই পাঠ করেছেন, কম-বেশী হয় নি।’

অতঃপর লোকটি অত্যন্ত আনন্দচিত্তে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। পবিত্র ফজরের নামায আদায় করেই উযীরের কাছে চলে গেলেন। তখন উযীর সাহেব উনার ঘরের দরজায় উনার পশুর পালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। উনাকে সালাম দিয়ে বললেন, আমি আপনার নিকট প্রেরিত হয়েছি। উযীর সাহেব বললেন, আপনাকে কে পাঠিয়েছেন? লোকটি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাঠিয়েছেন। তিনি আপনাকে (সালাম পাঠিয়েছেন) এবং আমার ঋণ পরিশোধ করে দেয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। আর আমার কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য বলেছেন- আপনি প্রতি রাতে উনার উপর এক হাজার বার পবিত্র দুরূদ শরীফ পড়ে থাকেন। গত রাতে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করার সময় আপনার গণনায় গোলমাল হয়ে যায়। এতে আপনি এক হাজার বার পুরা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে সন্ধিহান রয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, গত রাতে আপনার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ পরিপূর্ণ হয়েছে অর্থাৎ আপনি এক হাজার বারই পাঠ করেছেন, কম-বেশী হয় নি।

উযীর সাহেব উনার কথা শুনে সত্যতা বুঝতে পারলেন এবং তিনি নিজের ঘরে প্রবেশ করলেন, ঐ ব্যক্তিকেও ভিতরে প্রবেশ করার জন্য নির্দেশ দিলেন। এরপর বললেন, ‘আপনি পুরো ঘটনা আবার বলুন; তিনি আবার পুরো ঘটনা বললেন। এতে উযীর সাহেব অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ঐ ব্যক্তির দুই চোখের মাঝখানে বুছা দিয়ে বললেন-

مَرْحَبًا بِرَسُوْلِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দূত উনাকে স্বাগতম।’

وَاَعْطَاهُ نِصْفَ الْأَلْفِ لِدَيْنِهِ وَنِصْفَ الْأَلْفِ لِاَهْلِهِ وَنِصْفَ الْأَلْفِ يَجُوْدُ بِهَا عَلَى عِيَالِهِ وَنِصْفَ الْاَلْفِ بِشَارَتَهُ وَنِصْفَ الْاَلْفِ لِصِدْقِهٖ فِىْ رُؤْيَـتِهِ

‘এরপর উনাকে ঋণ পরিশোধের জন্য ৫০০ দীনার, উনার আহলিয়ার জন্য ৫০০ দীনার, উনার সন্তানাদি-পরিবারের খরচের জন্য ৫০০ দীনার, সুসংবাদ প্রদানের জন্য ৫০০ দীনার এবং উনার স্বপ্নের সত্যতার জন্য ৫০০ দীনার হাদিয়া করলেন।’ অর্থাৎ মোট পচিশ’শ দীনার হাদিয়া করলেন।

এতো সম্পদ পেয়ে ঋণগ্রস্ত লোকটি মহা আনন্দে বাড়িতে ফিরে গেলেন। অতঃপর ৫০০ দীনার নিয়ে সেই পাওনাদারের নিকট যেয়ে বললেন, আমার সাথে কাজী সাহেবের নিকট চলুন, (আপনার ঋণ পরিশোধ করে দিবো।) উনারা উভয়ে কাজী সাহেবের নিকট পেঁৗছে সালাম দিলেন। কাজী সাহেব বললেন, আপনার ঋণ আপনাকে পরিশোধ করতে হবে না। আমিই সেটা আদায় করে দিবো, কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বপ্নে আমাকে আদেশ মুবারক করেছেন, আমি যেন আপনার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেই। আর আমার সম্পদ থেকে তার সমপরিমাণ আপনার অর্থাৎ আপনাকে আমি আরো ৫০০ দীনার হাদিয়া করলাম। এটা শুনে পাওনাদারও বললো, আমি আপনাকে সাক্ষ্য রাখছি! উনার কাছে আমার পাওনা আমি ছেড়ে দিচ্ছি। আর আমার সম্পদ থেকে পাওনার সমপরিমাণ উনার অর্থাৎ আমিও উনাকে আরো ৫০০ দীনার হাদিয়া করলাম। কেননা আমিও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেছি। তিনি আমাকে উনার ব্যাপারে ওয়াছীয়ত মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর ঋণগ্রস্ত লোকটি চলে গেলেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বরকতে উনার সম্পদ বৃদ্ধি হয়ে তিনি চার হাজার (৪০০০) দীনারের মালিক হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! (সায়াদাতুদ দারাইন ১৮৭-১৮৮ পৃষ্ঠা)

কাজেই সমস্ত মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব হচ্ছে, সর্বাবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু থাকা, উনাকে স্মরণ করা। তাহলে তিনি গাইবী মদদ করবেন, রহমত মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ اَلَّذِىْ اِذَا اَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَهٗ كَشَفَهٗ عَنْكَ وَاِنْ اَصَابَكَ عَامُ سَنَةٍ فَدَعَوْتَهٗ اَنْـبَـتَـهَا لَكَ وَاِذَا كُنْتَ بِاَرْضٍ قَـفْرٍ اَوْ فَلَاةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَـتُكَ فَدَعَوْتَهٗ رَدَّهَا عَلَـيْكَ

‘আমি ঐ মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তুমি কোন বিপদে-আপদে, দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হও তখন তুমি উনার নিকট দোয়া করলে তিনি তোমার বিপদ-আপদ, দুঃখ-দুর্দশা দূর করে দেন। যখন তোমার যমীনে ফসল হয় না, দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তুমি উনার নিকট দোয়া করলে তিনি তোমার জমিতে ফসল ফলিয়ে দেন, দূর্ভিক্ষ দূর করে দেন।

যখন তুমি কোন জনমানবহীন শূন্য স্থানে, (খাল-বিল, নদী-নালা, সমুদ্রে,) নির্জন প্রান্তরে, মরুভূমিতে অথবা বনে, ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গলে থাকো আর তোমার বাহন হারিয়ে যায় বা বাহন না থাকে, তখন তুমি উনার নিকট দোয়া করলে তিনি তোমার বাহন ফিরিয়ে দেন, বাহনের ব্যবস্থা করে দেন।’ সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ-৪০৮৪, আল কুনা’ ওয়াল আসমা’ ১/৫৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ১০/২৩৬, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

মহান আল্লাহ পাক তিনি সুলত্বানুন নাছীর সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় সকলকে সর্বাবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে হাক্বীক্বীভাবে রুজু থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-আহমদ আবূ ইয়ানাহ তাসকীন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরানী হুলিয়া মুবারক

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরানী হুলিয়া মুবারক

আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী

মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা  ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও  গ্রহণযোগ্য

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক সংশ্লিষ্ট মওযূ হাদীছ ও তার খণ্ডনমূলক জবাবনূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সতর মুবারক সংশ্লিষ্ট