মুহম্মদ নায়েব আলী মুন্সী
তাড়াডী, মুক্তাগাছা।
সুওয়াল : হযরত ইমাম আজম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি কি কোন পীর সাহেবের নিকট বায়াত ছিলেন? তাহার পীর সাহেবের নাম কি জানিতে বাসনা রাখি।
জাওয়াব : হ্যাঁ, হযরত ইমাম আজম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি দুই জন পীর সাহেবের নিকট বায়াত ছিলেন। তিনি প্রথমে হযরত ইমাম বাকের রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বায়াত হন। হযরত ইমাম বাকের রহমতুল্লাহি আলাইহি উনা ইন্তেকালের পর উনার ছেলে ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বায়াত হন। হযরত ইমাম আযম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি উনার পীর সাহেব সম্পর্কে ‘এছনা আশারিয়া’ ও ‘সাইফ’ল মোকাল্লেদীন’ কিতাবে উলে।লখ করা হয়েছে। এবং ইমাম আজম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি উনার সিলসিরা সম্পর্কে ‘দোররোল মোক্তার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুহম্মদ জামাল উদ্দিন খান
সিংহশ্রী কাপাসিয়া।
সুওয়াল : জিনেরা কি গায়েব জানে? অনেকে বলে থাকেন জ্বীনেরা গায়েব জানে ইহা কতটুকু সত্য?
জাওয়াব: না। জ্বীনেরা গায়েব জানে না। তাফসীরে উল্লেখ করা হয় তহযরত সোলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যখন ইন্তেকালের সময় হয় তখন আল্লাহ পাক উনার নিকট ফেরেস্তা পাঠান, যে আল্লাহ পাক উনার কিনট তাকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন হযরত সোলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি জ্বীন দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মান করতেছি। অতএব আমার মৃত্যুর খবর জানলে তারা (জ্বীন) আর কাজ করবে না। তাই আল্লাহ পাক হযরত সোলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, আপনি কাঁচের ঘরে একটি লাঠিতে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকেন। দাঁড়ানো অবস্থায় সোলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রূহ মুবারক কবজ করা হল এবং জ্বীনেরা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে লাগল। উনার লঅঠি মুবারক উইপোকা যখন খেয়ে ফেলে তখন উনি পড়ে যান। এতে জ্বীনেরা বুঝতে পারে উনার মৃত্যু হয়েছে। এবং এত দিনে জ্বীনদের বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মান কাজ সমাপ্ত হয়। তখন জ্বীনরা পালায়। এই অকেয়া থেকে সাবেত করা হইয়াছে জ্বীনেরা গায়েব জানে না। যদি তারা গায়েবী জানত তাহলে সোলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মৃত্যুর সঙবাদ আগেই বুঝতে পারতো। এবং বায়তুল মুকাদ্দাস উনার নির্মান কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়ে যেত।
মুহম্মদ আবুল কালাম আযাদ
শান্তিনগর, ঢাকা।
সুওয়াল : আমাদের দেশে গ্রামে জুময়া পড়া জায়িজ কিনা?
জাওয়াব : শরীয়তে যাহাকে গ্রাম বলে সেই ধরনের কোন গ্রামের অস্তিত্ব আমাদের দেশে নাই। আমাদের দেশে যে সমস্ত গ্রাম আছে সে সমস্ত গ্রামে অবশ্যই জুমআ পড়া যায়েয। কারণ এইগুলি শরঈ শহরের অন্তর্ভুক্ত।
মুহম্মদ তৌফিক আলম
ঝিনাইদাহ।
সুওয়াল : দাইউছ কাকে বলে? দাইউছ সম্পর্কে শরীয়তের কি হুকুম?
জাওয়াব : দাইউছ ঐ ব্যক্তিকে বলে যে তাহার স্ত্রী, মেয়ে ও অধীনস্থ মহিলাদের পদা করায় না। হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে যে, বেহেস্তের দরজায় লিখিত আছে দাইউছ কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করবে না।
মুহম্মদ রাশেদুল ইসলাম
গজারিয়া।
সুওয়াল : কবরস্থানের উপর মসজিদ তৈয়ার করা যায় কিনা? যদি যায় তবে কোন শর্তে, তা জানিতে ইচ্ছুক।
জাওয়াব : সাধারণত: কবরস্থানের উপর মসজিদ তৈয়ার যায়েয নাই। তবে যদি কোন কারণ বশত: কবর স্থানের উপর মসজিদ তৈয়ার করিতেই হয়, তা হলে সেই কবরস্থান চল্লিশ, পঞ্চাশ কিম্বা ষাট বৎসরের পুরানা কবরস্থান হতে হবে। অর্থাৎ যে সমস্ত কবরস্থানে ৪০/৫০/৬০ বৎসর যাবৎ কোন মুর্দাকে দাফন করা হয় নাই। দ্বিতীয়শর্ত হল কবরস্থানের যেই জায়গায় মসজিদ করা হবে সেই জায়গাটুকু কোদাল দিয়ে ভাল ভাবে খুঁড়ে ফেলতে হবে। খুঁড়ার পর যদি লাশ, হাড়, খুলি ইত্যাদি পাওয়া যায় তবে সেগুলি অন্য কবরস্থানে দাফন করতে হবে। অতঃপর মসজিদ করা যায়েজ হবে। উল্লেখ যে, কবরস্থানের জায়গাটুকু যদি কবরস্থানের জন্যই ওয়াকফ করা হয়ে থাকে, তা হলে এ স্থানে কোন অবস্থাতেই মসজিদ তৈয়ার করা যায়েয হবে না।
মুহম্মদ আবুল হুসাইন
ভাওয়াল নগরকান্দা।
সুওয়াল : কিছু কিছু বিজ্ঞানীরা বলে থাকে আকাশ বলিতে কিছুই নাই। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে আকাশ সম্পর্কে কোন বর্ণনা আছে? আর বিজ্ঞানীদের কথা কতটুকু সত্য?
জাওয়াব : আজকাল দেখা যায় যে কিছু কিছু বৈজ্ঞানিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে এমন উদভট ধরনের কথা বলিয়া থাকে, যাহাতে তাহাদের ঈমানই নষ্ট হইয়া যায়। সেই জন্যই বলা হয় বিজ্ঞান এখনও সুতীকা গৃহে। আল্লাহ পাক সূরা আরাফের চল্লিশ নং আয়াতের এক অংশে বলেন- “নিশ্চয়ই যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যারোপ করে। এবং অহংকার বশতঃ তাহা হইতে ফিরিয়া থাকে। তাদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হইবে না।” এই পবিত্র আয়াত শরীফ ও এই ধরনের অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আকাশের অস্তিত্বের কথা সরাসরি বলা হয়েছে। মিরাজ শরীফ উনার বর্ণনায় বুখারী শরীফ ও অন্যান্য সহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে আকাশের অস্তিত্বের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। আকাশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। আর বৈজ্ঞানিকদের কথা ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহনযোগ্য হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত তাদের কথাগুলি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ন না হবে।
মুহম্মদ আব্দুল হান্নান
গোলাপ বাগ, ঢাকা।
সুওয়াল: শিশু সন্তান জন্ম গ্রহন করলে আযান একামত দেয়া কি?
জাওয়াব: সন্তান জন্ম গ্রহন করলে তা’জীন ও তাহনীক করা সুন্নত। ডান কানে আযান ও বাম কানে একামত দেওয়াকে তা’জীন বলে। কোন বুজুর্য লোকের আঙ্গুল দিয়ে মধু খাওয়ার পর আঙ্গুলে অবশিষ্ট মধু বাচ্চার মুখের তালুতে লাগানকে তাহনীক বলে।
মুহম্মদ সৈয়দ নাজিরুল ইসলাম
মাদারীপুর।
সুওয়াল : বাবরী মসজিদ সম্পর্কে জানিতে চাই। হিন্দুদের দাবী কতটুকু সত্য?
জাওয়াব : বাবরী মসজিদ বলতে বুঝা যায় সম্রাট বাবর কর্তৃক অযোধ্যায় নির্মিত মসজিদ। রাম ও তার জন্মাস্থান সম্পূর্ণই কাল্পনিক, কারণ রামায়নের লেখক বাল্মীকি তাহার কল্পনাকে বইয়ের মধ্যে- লিপিব্ধ করিয়া সেই বইয়ের নাম দিয়াছে রামায়ন। হিন্দুদের দাবী সম্পূর্ণ অযৌক্তিক কেননা রাম কল্পনা ভিত্তিক এবং তার জন্মাস্থানকেও কল্পনা করা হইয়াছে। সম্রাট বাবর, বাবরী মসজিদের স্থানটা মসজিদের জন্যই নির্ধারিত করিয়াছিলেন। পূর্বে এই স্থানে কিছুই ছিল না। ইসলামের দৃষ্টিতে কোন স্থানে একবার মসজিদ হলে কিয়ামত পর্যন্ত সে মসজিদ ভাঙ্গা যাবে না। কাজেই উক্ত স্থানে মসজিদ থাকাটা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার।
মুহম্মদ মাহদী হাসান,
বড়ুয়া।
সুওয়াল : পাগড়ী পরা কি সুন্নত? পাগড়ীর সর্ম্পকে বিস্তারিত চানিতে চাই। রুমাল দিয়ে পাগড়ী পড়লে পাগড়ীর সুন্নত আদায় হবে কি?
জাওয়াব : হ্যাঁ, পাগড়ী পরা দায়েমী সুন্নত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বদা পাগড়ী ব্যবহার করতেন, যার কারণে তিনি দুই ধরনের পাগড়ী রাখতেন। এক প্রকার ছিল সাত হাত লম্বা যাহা ঘর হতে বাহির হওয়ার সময় পরিধান করে বাহির হতেন। এমনকি জিহাদের ময়দানেও এই ধরনের পাগড়ী ব্যবহার করতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরের মধ্যে যে পাগড়ী পরিধান করতেন তা তিন হাত লম্বা ছিল। কোন কোন সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহিরে ১২ হাত লম্বা পাগড়ীও ব্যবহার করতেন। পাগড়ীসমূহ চওড়া ছিল কমপক্ষে আধহাত। সাধারণত: সাদা, কালো, সবুজ রংয়ের পাগড়ী ব্যবহার করতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরের মধ্যে যে পাগড়ী পরিধান করতেন তা তিন হাত লম্বা ছিল। কোন কোন সময় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহিরে ১২ হাত লম্বা পাগড়ীও ব্যবহার করতেন। পাগড়ীসমূহ চওড়া ছিল কমপক্ষে আধহাত। সাধারণত: সাদা, কালো, সবুজ রংয়ের পাগড়ী ব্যবহার করতেন। কোন কোন সময় অন্য রংয়েরও পাগড়ী পরিধান করতেন। যেমন ধুসর (ছাই) রংয়ের। পাগড়ীর শামলী সাধারণত: পিছনের দিকে থাকিত। শামলা ছাড়া পাগড়ী পরিধান করা বিজাতীয় লক্ষন। শামলী লম্বায় আধহাত হইতে এক হাত পর্যন্ত হইত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাগড়ীর নীচে চার টুকরা বিশিষ্ট টুপী পরিধান করতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাগড়ী এমনভাবে পরিধান করিতেন যাহাতে সম্পূর্ণ মাথা মুবারক আচ্ছাদিত হইয়া থাকিত। রুমাল দিয়ে পাগড়ী পরিধান করিলে পাগড়ীর সুন্নত আদায় হইবে না। কারণ পাগড়ীর এক মাপ ও রুমালের আরেক মাপ। রুমালের সুন্নত মাপ সাধারণত: আড়াই হাত, পৌনে তিন হাত ও তিন হাত বর্গাকৃত হইত। রুমাল পরিধান করাও সুন্নত। (সিহাহ সাত্বা ও অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থ এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিরত গ্রন্থে সমূহে ইহার দলীল রহিয়াছে।)
নূর আহম্মদ
দিনাজপুর।
সুওয়াল : ইমাম সাহেব পাগড়ী ব্যতীত নামায পড়িলে মুক্তাদীগণ ছাওয়াব থেকে বঞ্চিত হইবে কিনা? ইমাম সাহেব পাগড়ী পরিধান না করিলে মোক্তাগীগণ পাগড়ী পড়িতে পারিবে কিনা?
জাওয়াব : ইমাম সাহেব পাগড়ীসহ নামায পড়িলে যে ছাওয়াব পাওয়া যাইবে, যদি পাগড়ী ছাড়া নামায পড়ে তবে সেই ছাওয়াব হতে ইমাম সাহেব ও মুক্তাদীগণ অবশ্যই বঞ্চিত হবে। ইমাম সাহেব পাগড়ী না পরিলেও মুক্তাদীগণ অবশ্যই পাগড়ী পরিতে পারিবে। কারণ প্রত্যেকেই তার আমলের বদলা গ্রহন করতে হবে। ইমাম সাহেব পাগড়ী না পরিলে মুক্তাদীগণ পাগড়ী পরিতে পারিবে না, ইহা শরীয়তের কোথাও উল্লেখ নাই। বরং মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, “তোমরা নেক কাজে অগ্রগামী হও বা প্রতিযোগীতা কর।”
মুহম্মদ আরীফ হুসাইন
সদরঘাট।
সুওয়াল : অনেককে দেখা যায় একামতের পূর্বেও একামতের সময় কাতার সোজাকরার জন্য দাঁড়ায়। আবার অনেককে দেখা যায় হাইয়্যালাচ্ছলাহ, হাইয়্যালালফালাজহ বলার সময় তাড়াহুড়া করিয়া এলোমেলোভাবে দাঁড়াইয়া নামাযে শরীক হয়। অথচ কাতার সোজা করা ও ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব। একামতে কখন দাঁড়ানো উত্তম ও সুন্ত জানিতে বাসনারাখি।
জওয়াব : হযরত ইমাম আ’যম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ও ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনজন ঈমামের মতে ঈমাম ছাহেব যদি একামত না বলে অর্থাৎ মোয়াজ্জিন ছাহেব যদি একামত বলে তবে হাইয়্যালাল ফালাহ বলার সময় নামাযের জন্য দাঁড়ানো সুন্নত। তবে ইমাম সাহেব যদি একামতের পূর্বেই দাঁড়ান অথবা হাইয়্যালাল ফালাহ বলঅর পূর্বেই দাঁড়ান (কাতার সোজা ও ফাঁক বন্ধ করার জন্য) তবে ইমাম সাহেবের সাথে সাথে সমস্ত মুসল্লিগনের দাঁড়াইয়া যাওয়াটা সুন্নত ও আদব।
(ফতওয়ায়ে আলমগীরি ও অন্যান্য ফিক্বাহর কিতাব।)
মুহম্মদ কুদ্দুস
মোল্লা, মতিঝিল, ঢাকা।
সুওয়াল : কিছু কিছু মসজিদের ইমাম সাহেব আছেন, তাহারা টিভি, ভিসিপি দেখে। আর তাদের মধ্যে কেহ কেহ পদৃাহীনভাবে বয়স্ক মেয়েদের কুরআন শরীফ শিক্ষা দেন তাদের পিছনে নামায পড়া যাবে কিনা?
জাওয়াব : টেলিভিশন, ভিসিপি ও ভিসিআর ইত্যাদি দেখা হারাম ও শক্ত গুনাহ। যাহারা এইগুলি দেখে তারা ফাঁসেক হবে। ফাঁসেকের পিছনে নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমি। যদি কোন ইমাম সাহেবের মধ্যে এই ধরনের দোষ থাকে তবে তাকে সতর্ক করে দিতে হবে। সতর্ক করার পরও যদি সে ইহা পরিত্যাগ না করে তবে এই ধরনের ইমাম সাহেবকে বরখাস্ত করে দেয়া উচিত। (ফিকাহের কিতাবসমূহ)
মুহম্মদ সাকোয়ান আহম্মদ,
সিলেট।
সুওয়াল : কিছু কিছু ইমাম সাহেব আছেন, যারা প্রায় সময়ই বলে থাকেন আদম আলাইহি ওয়া সালাম একটা গুনাহ করার কারণে সাড়ে তিনশত বৎসর মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কেঁদেছেন। এই কথাটা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মতে কতটুকু সত্য?
জাওয়াব : সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ মাসুম ও নিষ্পাপ। কাজেই আদম আলাইহিস সালাম বা অন্য কোন নবী রসূলগণ গুনাহ করিয়াছেন বা ভুল করিয়াছেন এধরনের কোন কথা বলা বা আক্বীদা পোষন করা সম্পূর্ণই নাজায়েজ। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের সহিত আদব রক্ষা করা ফরয ওয়াজেবের অন্তর্ভুক্ত। এই জন্য কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে বেয়াদব মাহরুম গাশত আজ লুতকেরব’ অর্থাৎ বেয়াদব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত হতে বঞ্চিত। বাজারের অনেক ভিত্তিহীন ও ভুল ইতিহাস সম্পন্ন কিতাবাদি পড়ে মানুষ এ ধরনের ভিত্তিহীন ও ভুল ইতিহাস বর্ণনা করে থাকে। এই সমস্ত তাহকীকহীন (যাচাই ব্যতীত) ইতিহাস হতে সকলেই বাঁচিয়ে থাকা উচিৎ। (ফিকাহে আকবর, শরহে আকায়েদে নসফী ও অন্যান্য আকায়েদের কিতাবে উল্লেখ রহিয়াছে।)
মুহম্মদ মেসবাহুল আলম
ঢাকা।
সুওয়াল : মীর মোশররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধুতে নিম্ন লিখিত কথাগুলি উল্লেখ করা হয়েছে। উহা কতটুকু সত্য? “কারবালা প্রান্তরে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন” আমাকে আর কষ্ট দিওনা, তীর বিদ্ধ স্থানে তলোয়ার চালিয়ে আমার দেহ থেকে মাথা দ্বিখণ্ডিত করে ফেল। আমি শপথ করে বলতেছি, কিয়ামতের দিন তোমাকে (সীমার) ছাড়া আমি বেহেশতে প্রবেশ করবোনা।”
জওয়াব : উপরে উল্লেখিত কথাগুলি মিথ্যা ও বানোয়াট। মূলত: মীর মোশাররফ হোসেন আক্বীদাগত ভাবে শিয়া ছিল। আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই, মীর মোশাররফ হোসেন যখন বিষাদ সিন্ধু বই খানা লিখে বাজারজাত করে, তার কিছু দিনের মধ্যে কবি কায়কোবাদ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এই বলে যে, ইহা কারবালার সঠিক ইতিহাস নয়। ইহার মধ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা রহিয়াছে। এই প্রশ্নের জবাবে মীর মোশাররফ হোসেন বলেছে যে, আমি ইতিহাস লিপিবদ্ধ করি নাই বরং উপন্যাস রচনা করিয়াছি। এই কথার মাধ্যমে সে তার ভুলত্রুটি স্বীকার করিয়া মামলার দায় হইতে অব্যাহতি লাভ করে। কাজেই এ ধরনের বই পুস্তক মানুষের পড়া উচিত নয়। এবং সরকারেরও দায়িত্ব এই ধরনের বই পুস্তক বাজেয়াপ্ত করা যাহাতে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।
মুহম্মদ মতিউর রহমান
রংপুর।
সুওয়াল : অনেকে বলে থাকেন, বিধর্মীদেরকেও সরাসরি কাফির বলা যাবে না। কথাটি কতটুকু সত্য জানিতে বাসনা রাখি।
জাওয়াব : ইহা একটি অজ্ঞতাপূর্ণ কথা। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দাদের দু’ভাবে ভাগ করেছেন। একদল ঈমানদার হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং আরেক দলকে কাফির হিসাবে উল্লেখ করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসার পর মহান আল্লাহ পাক সমস্ত ধর্মকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন। যাহা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা ফাতাহ শরীফ উনার মধ্যে ২৮নং পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র সুরা ছফফাহ শরীফ উনার ৯নং পবিত্র আয়াত শরীফ ও আরও অন্যান্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। কাজেই যাহারা ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম অবলম্বন করবে তারা অবশ্যই কাফির। শুধু তাই নয় যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার পরও (মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও) যদি কোন ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বা ঠাট্টা পরিহাস করে সেও কাফিরের অন্তর্ভুক্ত। ইত্যাদি দলীলাদির মাধ্যমে ইহাই প্রমানিত হয় যে বিধর্মীদেরকে অবশ্যই কাফির বরঅ যাবে। সূরা বাক্বারার ২৮৭নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন- “আল্লাহ পাক মোমেনদের বন্ধু। অভিভাবক, তিনি তাদেরকে গোমরাহী থেকে হিদায়েতের দিকে পথ প্রদর্শন করেন। আর যারা কাফির তাদের বন্ধু/ অভিভাবক হল শয়তান, শয়তান তাদেরকে হিদায়েত থেকে গোমরাহির দিকে নিয়ে যায়।” যারা কাফির তারা জাহান্নামের অধিবাসী সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। যদি কোন ব্যক্তি কাফিরকে কাফির না বলে ঈমানদার বলে তাহলে সেও কাফির হয়ে যাবে।
মুহম্মদ ইব্রাহীম খলীল
রংপুর।
সুওয়াল : অনেকে বলে থাকে বিধর্মীরা যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা করে তাহলে কি তারা ঈমানদার হবে না?
জাওয়াব : হ্যাঁ, কোন কাফির বা বিধমী যদি মৃত্যুর গড়গড়া উঠার পূর্বে তওবা করে তাহলে তার তওবাও উমান গ্রহণযোগ্য হবে এবং সে ঈমানদার হিসেবে পরিগণিত হবে। কিন্তু তওবা করার পূর্বে তাকে ঈমানদার বলা যাবে না। বললে সেটা কুফরী হবে।
শাহকামাল আল মানুন
নেত্রকোনা
সুওয়াল : অনেকে ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মকে ভাল বলে তাদের কিছু কিছু কার্যাকলঅপ বা নিয়মনীতিকে পছন্দ করে, ইহা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?
জাওয়াব : মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা ইমরান শরীফ উনার ৮৫নং পবিত্র আয়াত বলেন, “যে ইসলাম ছাড়া অর্থাৎ কোন ধর্ম বা নিয়মনীতি তালাশ করে (পছন্দ করে গ্রহন করে বা আমল করে) সে সমস্ত কার্যবলী মহান আল্লাহ পাক কখনও গ্রহণ করবেন না। এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তুর্ভুক্ত হবে। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাব আবু দাউদ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে কওম বা সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য বা মিল রাখে সে সে সম্প্রদায় বা কওমের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, যারা ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মকে ভাল বলে এবং তাদের কিছু কিছু কার্যকলাপ বা নিয়মনীতিকে পছন্দ করে তা শরীয়ত সম্মত নয় এবং তারা সে সম্প্রদায়ের অন্তভুক্ত হবে এবং তাদের হাশর নশর তাদের সাথে হবে এবং এ ধরনের আক্বিদা পোষন করা কুফরী।
মুহম্মদ শফিকুল আলম
মান্দারীখিল, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)।
সুওয়াল : আপনারা বলে থাকেন- মাথার তালু থেকে পায়ের তালু, হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত সুন্নতের উপর কায়িম থাকার চেষ্টা করে যাওয়ার। অথচ অনেকে বলেন এতো কিছু লাগেনা। একটা হলেই হলো ইত্যাদি। এখন আমরা কোন পথ ধরবো? জানাইয়া বাধিত করবেন।
জাওয়াব : আমরা যে বলে থাকি মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত সুন্নতে পূর্ণ অনুসরন করার কোশেষ করে যেতে হবে। মূলত এ কথাগুলি আমাদের নিজস্ব কথা নয় এ কথাগুলি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা, কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা ইমরান শরীফ উনার ১৯ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রথম অংশে বলেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দ্বীন হিসাবে একমাত্র ইসলামই মনোনীত দ্বীন। মুফাসসিরে কিরামগণ দ্বীনের ব্যাখ্যায় বলেন, একজন লোকের মাথার তালু থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত বরং জন্মের পূর্বে থেকে মৃত্যুর পর পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তথা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সর্বাবস্থায় করণীয় পরিপূর্ণ যে নিয়ম পদ্ধতি, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে জানিয়েছেন তাকেই দ্বীন ইসলাম বলে। এই মর্মে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র সূরা মায়েদা শরীফ উনার মধ্যে ৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলেন, “আজকে আমি তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণতা দান করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম, তোমাদের জন্য দ্বীন ইসলামে সন্তুষ্ট রইলাম। এই আয়াতের দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ দ্বীন। কাজেই যারা বলে থাকে যে একটা হলেই হল ইহা সম্পূর্ণ অবান্তর, অযৌক্তিক ও অজ্ঞতাসূচক কথা।
একটা হলেই যদি হতো হাহলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীছ শরীফ বলতেন না যে, “আমি তোমাদের জন্য দুটো জিনিস রেখে গেলাম। এ দুটো জিনিস যতদিন আঁকড়িয়ে ধরে থাকবে ততদিন গোমরাহ হবে না। একটা হলো আল্লাহ পাক উনার কিতাব এবং দ্বিতীয়টি হল আমার সুন্নত। (মিসকাত)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ, ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে ইহাই বুঝা যায় পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ ব্যতীত যত নিয়ম পদ্ধতি আছে সমস্তই বাতিল ও গুমরাহির অন্তর্ভুক্ত। এই মর্মে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ উনার মধ্যে ২১৬নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তোমরা যা খারাপ মনে কর, হয়তো তাই তোমাদের জন্য ভাল, তোমরা যা ভাল মনে করো হয়তো তাই তোমাদের জন্য খারাপ। এবং মহান আল্লাহ পাক জানেন কোনটা ভাল কোনটা মন্দ যা তোমরা জাননা।”
এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা বুঝায় বান্দা, তার ভাল মন্দ সম্পর্কে অজ্ঞ। আল্লাহ পাকই পরিপূর্ণ জ্ঞাত, কাজেই কোন বান্দার পক্ষেই তার মনগড়া একটা করলেই চলবেনা বরং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুতাবেকই তাকে সমস্ত কাজগুলি করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত বর্হিভূত কোন কিছু বলা ও অমান্য করা প্রকৃত প্রস্তাবে কুফরীর নামান্তর।
মহান আল্লাহ পাক পবিত্র সূরা আহজাব শরীফ উনার ২১ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রথম অংশে বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে উত্তম আদর্শ বিদ্যমান রয়েছে। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক ফরমান যাহা হযরত এরমাজ ইবনে জারিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন, তোমাদের জন্য আমর ও আমার হিদায়েত প্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নত অবশ্যই পালনীয়। এ সুন্নত আকড়িয়ে থাক এবং মাড়ির দাঁড় দিয়ে শক্তভাবে কামড়িয়ে ধর।” (মিশকাত) এই পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা ইহাই প্রতীয়মান হয় যে মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে আদেশ করেছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ অনুসরন করার জন্য। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ দিয়েছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নতগুলো দৃঢ়ভাবে পালন করার জন্য। কাজেই যারা বলেন যে, এত সুন্নত লাগেনা তা’ মূলত তাদের অজ্ঞতা, স্বেচ্ছাচারীতা ও বিরোধতার নামান্তর। কারণ আল্লাহ পাক সূরা হাশর এর ৭নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলেন, “আল্লাহ পাক উনার রসূল তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা অবলম্বন কর এবং যা থেকে বারন করেছেন তা বর্জন কর। আল্লাহ পাক উনার এই আদেশ মুতাবেক কোন মুসলমানের মনগড়া কোন কথা বলার ও আমল করার অবকাশ নাই। কাজেই কোন মুসলমানের পক্ষেই এ ধরনের কুফুরীমূলক কথা বলে নিজের ও অন্যদের ঈমান নষ্ট করা উচিৎ নয়।
হাফেজ মুহম্মদ সলিমুল্লাহ
হযরত বেলাল জামে মসজিদ,
দক্ষিণ বাসাবো, ঢাকা।
সুওয়াল : আহলে বাইত কাকে বলে? এবং আহলে বাইত কাহারা ও কতজন?
জাওয়াব : আহল অর্থ পরিবার। বাইত অর্থ ঘর। এখন আহলে বাইত বলতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বুঝানো হয়েছে।
আয়াতে মোবাহালা অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ হলেন হযরত আলী কাররামাল্লাহু আলাইহিস সালাম, হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম, হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম। তবে অন্য ব্যাখ্যা মুতাবেক সমস্ত উম্মুল মুমেনীন ও অন্যান্য আওলাদে রসূলগণও আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অর্ন্তগত। (তাফসীরে মারেফুর কুরআন, তাফসীরে জ্বালালাইন ও অন্যান্য তাফসীর)
মুহম্মদ আব্দুল কুদ্দুস
বাগেরহাট।
সুওয়াল : পাগড়ী পরিধান করে নামায পড়লে কতটুকু সওয়াব পাওয়া যাবে? ইমাম সাহেব পাগড়ী পরিধান করলে মুক্তাদিগণ সত্তর গুণ সওয়াব পায়। যদি মুক্তাদিগণও পাগড়ীসহ নামায পড়েন তবে সওয়াব আরো সত্তর গুণ বেশি হবে কিনা?
জাওয়াব : মেসকাত শরীফ-এর শরাহ মেরকাত শরীফ-এ হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন যাহাতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, পাগড়ী ব্যতীত নামায পড়লে যতটুকু সওয়াব পাওয়া যাবে পাগড়ী পরিমাধন করিয়া নামায পড়লে তার চেয়ে সত্তরগুন বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। ……… হ্যাঁ, মুক্তাদীগণও যদি পাগড়ীসহ নামায পড়ে তবে যতজন মুক্তাদী পাগড়ীসহ নামায পড়বে ততহ সত্তরগুন বেশি সওয়াব হবে।