মুহম্মদ ইসমাইল হুসাইন
মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।
ছুওয়ালঃ কিছু কিছু মুসলমানদের মধ্যে এই আকিদা প্রচলিত আছে যে, স্ত্রীর সন্তুষ্টির জন্য দাড়ী কামানো, সুন্নতি পোষাক পড়া, টুপি, পাগড়ী, রুমাল ইত্যাদী না পড়া যায়েজ। কেননা স্ত্রীর সুন্তুষ্টিতে আল্লাহপাক সন্তুষ্ট থাকেন। ইহা শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু সতা তাহা জানিতে বাসনা রাখি।
জাওয়ারঃ ইহা অবশ্যই একটি বদ এবং গোমরাহীপূর্ণ আকিদা। শরীয়তে তথা কোরআন শরীফে এমনকি কোন ফিক্কাহর কিতাবেও এই ধরণের অলিক কথার উল্লেখ নাই। হাদিস শরীফে উল্লেখ হইয়াছেঃ আল্লাহ পাকের নাফরমানি করিয়া কোন মাখলুকের আনুগত্য করা যায়েজ নাই। সুতরাং এই হাদিস শরীফের দ্বারা ইহাই বুঝা যাইতেছে উপরোক্ত আকিদা ও আমল অবশ্যই পরিহার করিতে হইবে এবং ইহা হইতে খালেছ তওবা করিতে হইবে। কারন এই ধরনের আকিদা পোষনকারি ব্যাক্তিরা ইস্লাম হইতে খারিজ হওয়ার সম্ভবনা বহিয়াছে।
মুহম্মদ তৈয়ব আলী দেওয়ান। গ্রাম+ডাকঘর- মাওডুবার হাট। শরীয়তপুর।
সুওয়ালঃ অনেক যায়গায় দেখা যায় কিছু পীর নামধারি ভন্ড মিছকিন মেয়েলোকদিগকে সরাসরি হাত ধরিয়া মুরিদ করায় এবং মেয়েদেরকে দিয়া শারীরিক খেদমত নেয় ইহা ইসলাম তথা তাসাউফের দৃষ্টিতে কতটুকু যায়েজ? জাওয়াব: তাসাউফ অবশ্যই শরীয়তের অন্তর্ভূক্ত এই আকিদা অবশ্যই শুদ্ধ নহে, যাহা ইসলাম তথা শরীযতে নাযায়েজ হবে তাহা তাসাউফে যায়েজ হবে, যাহা শরীয়তে নাযায়েজ তাহা তাছাউফেও নাযায়েজ। শরীয়তে পর্দা করা ফরজ। বেগানা নারীদের মাধ্যমে শারীরিক ক্ষেদমত নেওয়া, হাতে হাত রাখিয়া বহিয়াত করা ইহা অবশ্যই নাষায়েজ। এমনকি বেগানা নারীদের দিকে দৃষ্টি করাও কবিরা গুনাহ। ইহা আল্লাহপাক কোরআন শরীফের মধ্যে সূরা নূর, সুরা আহযাব ইত্যাদি সুরা সমূহে এবং হাদিস শরীফ ও সমূহ ফিকাহর কিতাবে উল্লেখ করা হইয়াছে।
মুহম্মদ সামসুদ্দিন।
চরশাহী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী।
সুওয়ালঃ কিছু লোক এই ধারণা পোষন করে যে পিতামাতা জীবিত থাকাকালিন অথবা পিতা মাতার অনুমতি ব্যাতিত কোন পীর সাহেব গ্রহন করা যাবে না। ইহা কতটুকু সহীহ। জাওযাবঃ ইহা একটি অবান্তর প্রশ্ন যাহা শরীয়তের সাথে কোনই মিল নাই। হাদিস শরীফে উল্লেখ করা হইয়াছে। ইলম অর্জন করা ফরজ। অন্য হাদিস শরীফে উল্লেখ করা হইয়াছে ইল্ম দুই প্রকার ১৮ ফিকাহ ও ২) তাছাউফ। ইলমে তাসাউফ শিক্ষ। করা ও পীরসাহেব গ্রহন করা ফরজ। জরুরত আন্দাজ ইলাম ফিকাহ্ শিক্ষা করাও ফরজ। ইলমে ফিকাহ শিক্ষা করার জন্য প্রত্যেকের পিতামাতা অথবা মুরধিগনই। মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়া থাকে। ইহা হইল শরীয়তের অর্ধেক হলম। কাহারো যদি পিতা মাতা অথবা মুরুদ্ধি জীবিত না থাকে। তাহা হইলে তাহার পক্ষে ইলমে ফিকাহ শিক্ষা করা কঠিন হইয়া পড়ে। কেননা ইলম শিক্ষা করা অবস্থায় থাকা, খাওয়া পড়া ইত্যাদির জরুরত আছে। তদ্রম্প ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করার সময় পিতা মাতা অথবা মুরুব্বী জীবিত থাকার দরকার আছে। ইহ্যাই যদি সত্য হয়, যে, পিতামাতা অথবা মুরুবী জীবিত অবস্থায় ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা যাবে না তাহা হইলে, যে সমস্ত সন্তানেরা পিতামাতার জীবিত থাকা অবস্থায় মারা গেল তাদের পক্ষে ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা সম্ভব হোল না। তাহারা একটি ফরজ থেকে মাহরুম রহিল গেল। এবং যারা বেঁচে বইল তাদের ইলমে তাছাউফ শিক্ষার জন্য পিতামাতার মৃত্যু কামনা করিতে হইবে। অথচ ইহা একটি শক্ত গুনাহের কাজ। হালাল কামাই করা ফরজ। হালাল কামাই করার জন্য মানুষ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে, অথবা কোনো কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। এই শিক্ষা গ্রহণ করার সময়ও পিতা মাতার জীবিত থাকার দরকার আছে। যাহাদের পিতামাতা জীবিত থাকে না, তাহাদের পক্ষে। উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করা সাধারণত সম্ভব হয় না। ইহার যথেষ্ট প্রমান আছে। আর যাহ! ব্যতিক্রম তাহা সম্পর্কে বলা হয় “নগণ্য ধর্তব্য নহে”। যে কোন কাজ করার পূর্বে পিতা মাতার অনুমতি নেওয়াই বরকতময়। কিন্তু সে জন্য যে বিষয়ে পিতামাতার জ্ঞান নাই, সে বিষয়ে জিজ্ঞাস করার জরুরত নাই। কেননা আল্লাহ পাক বলেযাছেন-যদি তোমরা না জান, তাহা হইলে যাহারা জানেন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করিয়া নাও। যাহার পিতামাতার ইলম কালাম নাই তাদের যদি পীর সাহেব গহন সম্পর্কে জানান হয়, যদি তারা অনুমতি দেন তাহা হইলে আলহামদুল্লিল্লাহ। আর যদি অনুমতি না দেন তথাপিও তাহাকে পীরসাহেব গ্রহন করিতে হইবে। যেহেতু পীরসাহেব গ্রহন করা ফরজ। যদি কাহারো পিতামাতা পীরসাহেব গ্রহন করিতে নিষেধ করেন, তাহা হ্যাঁ যদি কাহারো পিতামাতা পীর বুজর্গ, ওলীউল্লাহ অথবা হাক্কানী আলেম হন তাহা হইলে জিজ্ঞাস করে নিতে হবে। কি যানিতে হইবে?
অবশ্যই নহে, কেননা আল্লাহপাক কোরআন শরীফে বলিয়াছেন-যদি তাহারা তোমাদের শরীফ কবার জন্য আদেশ করে, যে বিষয়ে তাহাদের জ্ঞান নাই, তাহা হইলে তাহাদের অনুস্মরণ করিও না। দুনিয়াতে তাহাদের সহিত সৎভাবে জীবন যাপন কর। এই আয়াত শরীফের দ্বারা ইহাই বুঝা যায় যে, পিতা মাতা কোন হুকুম করিলে তাহা শরীয়ত সম্মত হয় তাহা হইলে পালন করা যাবে। আর যদি শরীয়তের খেলাফ হয় তবে তাহা অবশ্যই পালন করা যাবে না। প্রত্যেক পিতামাতার কর্তব্য কোন হাক্কানী পীরসাহেব গহন করিয়া ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা আর তাহাদের দায়িত্ব তাহারা স্বীয় সন্তানদিগকে যেইভাবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসায় ভর্তি করাইয়া থাকে, ঠিক সেইভাবে কোন হাক্কানী পীর সাহেবের দরবারে ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করার জন্য পৌঁছাইয়া দিবে।
মুহম্মদ রেজাউল করিম শান্তিনগর ঢাকা
সুওয়ালঃ কোরবানীর পশু যেমন গরু, উট, মহীয ইত্যাদিতে সাত নাম দেওয়া হয় এবং ছাগল, বকরী, ভেড়া, দুষ্ক ইত্যাদিতে এক নাম দেওয়া হয় কেন? জাওয়ারঃ হ্যাঁ ইহা ছহীহ হাদিসের দ্বারা প্রামণিত আছে। ছহিহ হাদীসে উপরোক্ত নিয়ম বর্ণনা হয়েছে তাই এই নিয়মেই কুরবানী করা হয়।
মুহম্মদ বিলাল হুসাইন কুমিল্লা
সুওয়ালঃ কোরবানীর পশুর কোন কোন জিনিষ খাওয়া হারাম?
জাওয়াবঃ আটটি জিনিষ খাওয়া হারাম। ১) প্রবাহিত রক্ত যাহা যবেহ করার সময় বাহির হয়। ২। পিড়। ৩। শিরদাঁড়ার ভিতরের মগজ। ৪। গোষুধ বা গুটলী। ৫) অন্ডকোষ ৬) প্রশ্নাবের থলি। ৭) প্রশ্রাবের স্থান বা লিঙ্গ ৮-১ মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা।
মুহম্মদ রুহুল আমীন ভূঁইয়া
লগ্নসর, কুমিল্লা ৬)
সুওয়ালঃ নামাজ পড়া অবস্থায় সামনে, পিছে, ডানে-বামে, উপরে নীচে কোন প্রাণির ছবি রাখা যায়েজ কি? জাওয়াবঃ যে কোন প্রাণির ছবি ঘরে রাখা হারাম। কোন প্রাণির ছবি নামাজ পড়া অবস্থায় সামনে পিছে, ডানে বামে, উপরে নীচে রাখলে নামাজ মাকরুহ তাহরীমির সহিত আদায় হইবে।
মুহম্মদ সফিকুল ইসলাম নোয়াখালী
সুওয়ালঃ বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশে নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা তারিখে যেমন, ১লা বৈশাখ, ১লা জানুয়ারী ইত্যাদি তারিখে ভাল ভাল খাওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। ইহা কতটুকু শরীয়ত ‘সম্মত?
জওয়াবঃ শরীয়তের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ, পহেলা জানুয়ারীতে ভাল খাওয়ার জন্য আলাদাভাবে কোন তাগিদ করা হয় নাই। বরং দশই মুহররমে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান ব্যাক্তিকে তাহার পরিবারের সদস্যদেরকে ভাল পানা খাওয়ানোর জন্য নির্দেয় দেওয়া হইয়াছে। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তাহাব। পরিবারবর্গকে দশই মুহররমে ভাল খাদ্য খাওয়াইবে আল্লাহপাক তাহাকে এক, বৎসরের জন্য সচ্ছলতা দান করিবেন।
মুহম্মদ আব্দুস সামাদ, আমানবাড়িয়া
সুওয়ালঃ আশুরা উপলক্ষে কয়টি রোজা রাখা সুন্নত জানিতে বাসন। রাখি। জওয়াবঃ হাদিস শরীফের দ্বারা হাবেত আছে দুইটি রোজা রাখা সুন্নত। মুহররমের ৯ ও ১০ তারিখে অথবা ১০ ও ১১ তারিখে।
মুহম্মদ পারভেজ হুসাইন কমলাপুর, ঢাকা
(৯) সুওয়ালঃ হযরত ইমাম হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহুর শাহাদাত সম্পর্কে হযরত মুয়াবিয়া রাদিআল্লহ আনহুকে দোষারূপ করা কতটুকু সত্য? জাওয়াবঃ কোন সাহাবায়ে কিরামকে কোন ব্যাপারে দোষি সাবস্ত করা যায়েজ নাই। কাতেবে ওহী হযরত মুয়াবিয়া রদিআল্লাহ আনহুকে দোষারুপ করা সম্পূর্ণ নাযায়েজ। কেননা কোরআন শরীফ ও হাদিস শরীফের দ্বারা ছাবেত আছে সাহাবায়ে কিরামকে দোষারূপ করা কুষ্ণী।
মুহম্মদ হেলাল আহমদ চাঁদপুর কুমিল্লা
সুওয়ালঃ আশুরা উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায় যে তাজিয়া বাহির করে, বুকে চাপড় মারিয়া মাতম করে, কালো পোষাক পরিধান করিয়া শোক প্রকাশ করে ইত্যাদি শিয়াদের আমলগুলি শরীয়ত সম্মত কিনা?
জাওয়াবঃ তাজিয়া বানানো, মাতম করা বা শোক প্রকাশ করা কোনটাই শরীয়ত সম্মত নয়। যে কোন আত্মীয় স্বজন ইন্তেকাল করিলে তিন দিন শোক প্রকাশ করা যায়েজ। আর যদি স্বামী ইন্তেকাল করে, তাহা হইলে স্ত্রীর জন্য চারমাস দশ দিন শোক প্রকাশ করার নিয়ম। মূলতঃ শিয়ারা আকিদাগত দিক দিয়ে ইসলামের অন্তর্ভূক্ত নয়। কাজেই শিয়াদের এই ধরণের কোন আমল গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আশুরা উপলক্ষে মাহফিল বা অল্ছা করিয়া জনগণের মধ্যে আশুরার গুরত্ব তাৎপর্য ও ফজিলত এবং হযরত ইমাম হুসাইন ও হযরত ইমাম হাসান রাদিআল্লাহু আনহুমার ও অন্যান্য সাহাবায়কেরামের মর্যাদা আলোচনা করা যাইতে পাবে। যাহাতে মানুষ সহীহ আকিদার উপর কায়েম থাকিতে পারে।