সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ৫ম সংখ্যা | বিভাগ:

১। মুহম্মদ ইসমাইল হুসাইন, ঢাকা।

সুওয়াল : পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উলীল আমরগণকে অনুসরণ করতে বলেছেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত উলিল আমর সম্পর্কে জানতে চাই।

জাওয়াব : মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উলিল আমর বলতে উনাদেরকেই বুঝিয়েছেন যারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ মুতাবিক চলেন এবং পরিচালনা করেন। এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় কোনো কোনো তাফসীরের মধ্যে ছয় প্রকার লোকের কথা উল্লেখ করেছেন। (১) মাযহাবের ইমামগণ, (২) তরীক্বতের ইমাম, (৩) পীরানে তরীক্বত, (৪) মুফতীগণ, (৫) কাজী ছাহেব, (৬) ইনসাফগার বাদশাহ। (তাফসীরে আযীযী)

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ‘উলিল আমর’ উনার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যাকে দেখলে মহান আল্লাহ পাক উনার কথা স্মরণ হয়, যার কথা শুনলে দ্বীনি ইলম বৃদ্ধি পায় এবং যার আমল দেখলে পরকালের আমল করতে ইচ্ছা হয়।

২। মুহম্মদ গাজী শাহজাহান চিশতী

মুড়িয়াউক, কালাউক, হবিগঞ্জ।

সুওয়াল : মন বার বার মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ থেকে গাফিল হয়ে যায়। ইবাদতে মন কিছুতেই বসাতে পারি না। এজন্য আমার জন্য দোওয়া করবেন। আর ইবাদত কিভাবে একাগ্রতার সাথে আদায় করতে পারবো, তা বলে দিন।

জাওয়াব : একাগ্রতা বা মনোযোগের সাথে ইবাদত করতে হলে ক্বলব ইসলাহ বা শুদ্ধ করতে হবে। ক্বালব ইসলাহ বা শুদ্ধ ব্যতীত ইবাদতে একাগ্রতা বা মনোযোগ আসবে না। কেননা, নূরে  মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আদম সন্তানের শরীরে এক টুকরা গোশত আছে যদি সেটা শুদ্ধ হয়ে যায় তাহলে সমস্ত শরীর শুদ্ধ হয়ে যায়। আর যদি সেটা অশুদ্ধ হয়ে যায় তাহলে সমস্ত শরীর বরবাদ হয়ে যায়। সাবধান ওটা হচ্ছে ক্বলব। (বুখারী শরীফ)

কাজেই ক্বলব ইছলাহ ছাড়া ইবাদতে একাগ্রতা আসবে না এবং ক্বলব ইসলাহ হবে না, মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির ছাড়া। সেজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির দ্বারা দিল ইতমিনান হয়। এবং এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “শয়তান আদম সন্তানের ক্বলবের উপর বসে, আর যখন মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে গাফিল হয় তখন শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়।”

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা এটাই সাবেত হয় যে, যিকির ব্যতীত দিল ইছলাহ বা ইতমিনান হবে না এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচা যাবে না। কাজেই যিকির করতে হবে। আর যিকির কতে হলে কোনো হক্কানী শায়েখ বা পীরানে তরীক্বত উনার নিকট বাইয়াত হয়ে ছোহবত ইখতিয়ার করতে হবে। সেজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।”

কাজেই একাগ্রতার সাথে ইবাদত করতে হলে পীর ছাহেবের ছোহবত ইখতিয়ার করে বেশি বেশি যিকির করতে হবে এবং যিকির করে দিল ইসলাহ কতে হবে। তাহলেই একাগ্রতার সাথে ইবাদত করা যাবে অন্যথায় সম্ভব নয়।

মুহম্মদ …….

সুওয়াল : ছূফী শব্দের অর্থ কী? এ সম্বন্ধে জানতে চাই।

জাওয়াব : ছূফী শব্দটি দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। একটি লোগাতী বা আভিধানিক আর দ্বিতীয়টি ইস্তেলাহী বা প্রচলিত। আভিধানিক অর্থে ছূফী বলতে বুঝায়, যারা পশমী কাপড় পরিধান করে, আর প্রচলিত অর্থে ছূফী বলতে বুঝায়, যারা গাইরুল্লাহকে ত্যাগ করে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে মশগুল থাকে। মূলত ইলমে তাছাউফে ছূফী বলতে বুঝায় যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মতে মত এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ হওয়ার জন্য কোশেশে মশগুল হয়ে গাইরুল্লাহ থেকে বিরত আছেন।

মুহম্মদ …….

সুওয়াল : অনেকে বলে থাকে, মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কালাম পাক উনার সংখ্যা ৯০ হাজার। তার মধ্যে ৩০ হাজার জাহিরী ও ৬০ হাজার বাতিনী। তাদের একথাগুলো ঠিক কিনা?

জাওয়াব : যদি কোনো ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ৯০ হাজার পবিত্র কালাম শরীফ নাযিল করেছেন তার মধ্যে ৩০ হাজার জাহিরী ও ৬০ হাজার বাতিনী তাহলে সে কুফরী করলো এবং কাফির হবে। (শরহে আকাইদে নছফী এবং অন্যান্য আকাইদের কিতাব দ্রষ্টব্য)

মুহম্মদ হামিদুর রহমান

রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

সুওয়াল: গীবত কাকে বলে? কাদের গীবত করা জায়িয?

জাওয়াব: কোনো মুসলমানের অুপস্থিতিতে তার সম্বন্ধে এমন কোনো কথা বলা যা শুনলে সে মুনঃক্ষুণ্ন হবে, এটারই নাম গীবত। গীবত মুখেও হয়, হাত বা চক্ষু প্রভৃতির ইঙ্গিতেও হয়। যেমন, কাউকে বুদ্ধিহীন ও বোকা বলা। কারও মান সম্ভ্রম, বংশগৌরব, কাজকর্ম, বাড়িঘর প্রভৃতি যে কোনো জিনিস যা তার সাথে সম্পর্কযুক্ত ওটার কোনো দোষত্রুটি প্রকাশ করা যা শুনলে তার মনে কষ্ট টায়। গীবত করা শক্ত কবীরাহ গুনাহ। আর গীবতের দ্বারা হক্কুল ইবাদতও নষ্ট হয়। মহান আল্লাহ পাক গীবত সম্বন্ধে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা কি তোমাদের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? অবশ্যই করবে না।’ অর্থাৎ গীবত করা আর মৃত মুসলমানের গোশত খাওয়া উভয়ই সমান।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ  মুবারক করেছেন, “গীবত জ্বিনা হতেও শক্ত গুণাহ।” অতএব, এমন জঘন্য গুণাহ হতে আত্মরক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমারে জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। তথাপিও নিম্নোলিখিত কয়েক প্রকার লোকের দোষত্রত্রুটি বর্ণনা করলে গীবত হয় না।

(১) রাজ-বাদশাহ, আমীর-উমরাহদের ইসলাহ বা সংশোধনের জন্য তাদের দোষত্রুটিগুলি বর্ণনা করা হয়েছে গীবত হবে না। কেননা, তাদের দোষত্রুটি বর্ণনা না করলে তারা ইসলাহ হবে না।

(২) ফতওয়ার জন্য মুফতী ছাহেবের নিকট কারো দোষত্রুটি বর্ণনা করলে গীবত হবে না কারণ, সত্য কথা না বললে সঠিক ফতওয়া পাওয়া যাবে না।

(৩) কাজী ছাহেবের নিকট যদি কোনো ব্যক্তি বিচারপ্রার্থী হয়ে বিপরীত পক্ষের দোষত্রুটি বর্ণনা করে, তবে গীবত হবে না। কারণ, বিপরীত পক্ষের পূর্ণ বিবর না দিলে সঠিক বিচার হবে না।

(৪) ফাসিকের দোষত্রুটি বর্ণনা করলে গীবত হয় না। ফাসিক বলা হয় তাদেরকে যারা ফরয-ওয়াজিব ও সুন্নতে মোয়াক্কাদা তরক করে। বা সব সময় কবীরা গুনাহ করে।

(৫) কোন ব্যক্তি যদি মশহুর হয়ে যায় এমন কোনো নামে যা দোষত্রুটিযুক্ত। যেমন, বোবা, তোতলা, লুলা, ল্যাংড়া বলে ডাকা হয় তাহলে সেটা গীবত হবে না। যেমন, একজন বড় আলিমের নাম ছিল আ’মাশ (অর্থ- যার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ে)। বাদশাহ নাম ছিলো তৈমুর লঙ্গ (অর্থ ঘোড়া)।

(৬) উলামায়ে ‘সূ’ এর দোষত্রুটি বর্ণনা করলে গীবত হয় না। কেননা, আলেম দ্ইু প্রকার। এক প্রকার উলামায়ে হক্ব ও দ্বিতীয় প্রকার উলামায়ে ‘সূ’ বা বিদয়াতী মাওলানা। উলামায়ে হক্ব হলো উনারা, যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির মাধ্যমে দ্বীন যিন্দা করার জন্য দুনিয়া বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকেন। আর উলামায়ে ‘সূ’ হলো তারা, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টির গুরুত্ব না দিয়ে, দ্বীনকে বিসর্জন দিয়ে দুনিয়া হাছিল করে।

(৭) কোনো পিতা যদি তার ছেলেকে বিয়ে করাতে চায় বা মেয়েকে বিয়ে দিতে চায়; তাহলে বিপরীত পক্ষের ছেলে বা মেয়েদের প্রতিবেশীদের কাছে সেই ছেলে বা মেয়ে সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে এবং প্রতিবেশীরা যদি সত্য কথা বলতে গিয়ে কিছু দোষত্রুটি বর্ণনা করে তাহলে সেটা গীবত হবে না।

মুহম্মদ সাইদ খলীল

গৌড় শহরপুর, পুটিয়া, রাজশাহী।

সুওয়াল : পবিত্র ইসলাম উনার দৃষ্টিতে কোন্ কোন্ ব্যক্তিকে সালাম দেয়া বৈধ এবং কোন্ কোন্ ব্যক্তিকে সালাম দেয়া অবৈধ বা দেয়া যাবে না, জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব : পবিত্র ইসলাম উনার দৃষ্টিতে মুলমান ব্যতীত কোনো বিধর্মীকে সালাম দেয়া জায়িয নয়। আর মুসলমানদের মধ্যেও যার ফাসিক তাদেরকে সালাম দেয়া কারও মতে মাকরূপ, কারও মতে হারাম। (ফতওয়ায়ে শামী)

হ্যাঁ, তবে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ফাসিককে হিদায়েতের উদ্দেশ্যে সালাম দেয়, তবে সেটা জায়িয। যদি ফাসিক উস্তাদ হয়, তবেও উস্তাদের সম্মানে জন্য সালাম দেয়া জায়িয। আর যদি মুসলমান ও কাফির মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে সালামের সময় বলতে হবে ‘আসসালামু আ’লা মানিত্তাবাআ’ল হুদা।’ অর্থাৎ ঐ ব্যক্তির উপর সালাম যিনি হিদায়েতের উপর রয়েছেন।

মুহম্মদ আমজাদ আলী, ঢাকা।

সুওয়াল : খোলা তালাক কি? স্ত্রীর পক্ষে স্বামীকে তালাক দেয়া পবিত্র শরীয়ত উনার জায়িয কিনা জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল-মুহব্বত না হলে এবং স্বামী যদি তালাক না দেয় এই অবস্থার সমাধানের জন্য শরীয়তে খোলা তালাকের বিধান জারি কর হয়েছে। স্ত্রীর মন স্বামীর সাথে না মিললে প্রথমেই তালাক না চেয়ে সবর করবে এবং মিল-মুহব্বতের চেষ্টা করবে। কিছুতেই যদি সবর না করতে পারে এবং মন না বসাতে পারে তবে স্বামীকে বলতে পারে যে, আপনি কিছু টাকা পয়সা নিয়ে অথবা আপনার জিম্মায় যে মোহরের টাকা আছে তার দাবি আমি পরিত্যাগ করলাম, আমাকে রেহাই দিন। অত:পর উক্ত মজলিসেই স্বামী যদি বলে, ‘আমি তোমাকে ছাড়িয়া দিলাম’ তবে এটাতে স্ত্রীর উপর এক তালাক বায়েন হবে। স্বামী তাকে আর ফিরায়ে আনার ক্ষমতা থাকবে না। অবশ্য ঐ মজলিসে স্বামী কিছু না বলে যদি চলে যায় বা স্বামী কিছু বলবার পূর্বেই যদি স্ত্রী উঠে চলে যায়, তারপর স্বামী বলে, ‘আচ্ছা আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম’ তবে এটাতে খোলা হবে না। অর্থাৎ একই স্থানে সুওয়াল-জাওয়াব হওয়া চাই। এই উপায়ে স্ত্রী নিজেকে স্বামীর বিবাহ বন্ধন থেকে জুদা করে নেয়াকে ‘খোলা তালাক’ বলে।

স্ত্রীর পক্ষে স্বামীকে তালাক দেয়া পবিত্র শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে জায়িয নেই। হ্যাঁ তবে যদি তাফবীজে তালাক অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ক্ষমতা দান করেন। যেমন, স্বামী- স্ত্রীকে মৌখিক বললো বা লিখে দিলো, যদি আমি ছয় মাসের মধ্যে তোমার কোনো খোঁজ খবর না নেই, তবে আমি তোমাকে ক্ষমতা প্রদান করলাম, ছয় মাস অতীত হয়ে গেলে যে কোনো সময় তুমি তোমার নফসকে (নিজেকে) তালাক দিতে পারবে। স্বামী এরূপ বললে বা লিখে দিলে শর্ত পূর্ণ হওয়ার পর স্ত্রী নিজেকে তালাক দিয়ে ঐ স্বামী হতে মুক্ত হবার  ক্ষমতাশালি হবে বটে কিন্তু তাফবীজ ছহীহ হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত আছে। (১) স্বামীর কথার মধ্যে ‘নফস বা নিজ’ শব্দের উল্লেখ হওয়া জরুরী। বিয়ের আকদ হওয়ার পর এরূপ কথা বলা বা লিখা জরুরী। (২) বিয়ে আকদ হওয়ার পূর্বে এরূপ কথা লিখলে তাফবীজ ছহীহ হবে না এবং স্ত্রীর তালাল নেওয়ার ক্ষমতাও হবে না। (৩) স্বামীর কথার মধ্যে অতীত বা বর্তমানকালের ক্রিয়া থাকা চাই, নতুবা ভবিষ্যতকালের ক্রিয়া হলে তাফবীজ ছহীহ হবে না। (৪) স্বামী যে শর্ত করেছে, সেই শর্ত পূর্ণ হয়ে যাওয়া চাই। শর্ত পূর্ণ না হলে স্ত্রীর তালাক নেবার ক্ষমতা হবে না। (৫) স্বামীর শর্তের মধ্যে ‘যে কোনো সময় শব্দের উল্লেখ হওয়া চাই, নতুবা যখন শর্ত পূর্ণ হবে তখনই সেই মজলিসেই যদি তালাক নেয়, তবে তা তালাক হবে। মজলিস পরিবর্তন হয়ে গেলে আর তালাক নেবার ক্ষমতা থাকবে না। অবশ্য যে কোনো সময় শব্দের উল্লেখ থাকলে শর্ত পূর্ণ হওয়ার পর যে কোনো সময় ইচ্ছা তালাক নিতে পারবে।

মুহম্মদ আবুল কাশেম, গণপূর্ত বিভাগ

২য় ১২তলা ভবন, সেগুনবাগিছা, ঢাকা।

সুওয়াল : মানুষ মৃত্যুর পরে পুনরায় অন্য কোনো রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আসে কিনা? জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: নিশ্চয়ই মানুষ একবারই মৃত্যুবরণ করে। মানুষ মৃত্যুর পর কোনো ছূরত ধারণ করে পুনরায় দুনিয়াতে আগমন করে না। কেউ কেউ পূর্ণজন্ম ও জন্মান্তরের কথা বলে থাকে। কিন্তু পূর্নজন্ম হলো হিন্দুদের আক্বীদা। পূর্ণজন্ম শব্দের অর্থ হলো, মানুষ মরে গেলে তার পাপ অনুযায়ী সে গরু, ছাগল, ভেড়া, কীটপতঙ্গা, শুকর, কুকুর ইত্যাদি ছূরতে পুনরায় দুনিয়াতে আগমন করে। আর জন্মান্তর হলো বৌদ্ধদের আক্বীদা। জন্মান্তর শব্দের অর্থ হলো, মানুষ মরে গেলে তার পাপ অনুযায়ী লুলা, ল্যাংড়া, অন্ধ, খঞ্জ, বোবা, বধির ইত্যাদি ছূরতে দুনিয়াতে আগমন করে।

কিন্তু ইসলাম পূণর্জন্ম ও জন্মান্তর কোনো আক্বীদাই বিশ্বাস করে না। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা মু’মিনুন শরীফ’ উনার ৯৯ ও ১০০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “যখনতাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে বা তাদের কারো মৃত্যু হয়, তখন সে বলে, হে আমার প্রতিপালক আমাকে পুনরায় দুনিয়াতে প্রেরণ করুন। যাতে আমি সৎ কাজগুলো করতে পারি, যা আমি করিনি। কখনই নয়, এটা তো একটি অবান্দর কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা রয়েছে পুনরূত্থান বা ক্বিয়ামত দিবস পর্যন্ত।” (অর্থাৎ কোনো ব্যক্তিই দুনিয়াতে দ্বিতীয়বার আসবে না।)

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর মুবারক উনার মধ্যে সমস্ত মুফাসসিরীনে কিরাম, মুহাক্কিকীনে কিরাম, মুদাক্কিকীনে কিরাম একমত যে, মানুষের মৃত্যু একবাই হয়। কাজেই পুনর্জন্ম বা জন্মান্তরের কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না।

কেউ কেউ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ২৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনাকে পুনর্জন্মের দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ও কুফরী পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা। ২৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ হলো, “কী করে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে অস্বীকার করো বা মহান আল্লাহ পাক উনার ব্যাপারে কুফরী মত পোষণ করো? অথচ তোমরা ছিলে অস্তিত্বহীন, অতঃপর তোমাদেরকে মৃত্যু দান করবেন। (অর্থাৎ দুনিয়াতে মৃত্যুবরণ করবে)। পুনরায় তোমাদেরকে পুনরূত্থান দিবসে (হাশরের ময়দানে দুনিয়াতে নয়) জীবিত করবেন। অতঃপর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।”

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় সমস্ত মুফাসসিরীনে কিরামগণ উনারা বলেন, এটা পুনর্জন্ম বা জন্মান্তর বুঝানোর জন্য নয় বরং এটাতে মানুষের যে অস্তিত্ব ছিলো না তা বলা হয়েছে। আর অস্তিত্বের মাধ্যমে দুনিয়াতে আগমন এবং আগমনের পর তার মৃত্যু। মৃত্যুর পর হাশরের ময়দানে তার পুনরূত্থান অতঃপর হিসাব নিকাশের শেষে তার মূল গন্তব্যস্থলে অর্থাৎ বেহেশত বা দোযখে প্রত্যাবর্তন।

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল ও জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব