মুহম্মদ মুঈনুল ইসলাম
শান্তিবাগ, ঢাকা।
সুওয়াল: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্পর্কে মু’মিন-মুসলমানের জন্য কিরুপ আক্বীদা পোষণ করতে হবে? দয়া করে জানাবেন।
জাওয়াব: মুসলমানকে মুসলমান হিসেবে থাকতে হলে তাকে আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখতে হবে। অথার্ৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যে ঈমান-আক্বীদা মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন সেই ঈমান-আক্বীদা মুবারক গ্রহণ করতে হবে। এবং যেই আমল মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন সেই আমল মুবারক করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করে জানিয়ে দিয়েছেন-
اٰمِنُوا كَمَا اٰمَنَ النَّاسُ
অর্থ: যারা ঈমান এনেছেন উনাদের মতো তোমরাও ঈমান আনো। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
فَإِنْ اٰمَنُوا بِمِثْلِ مَا اٰمَنْـتُمْ بِهٖ فَـقَدِ اهْتَدَوْا
অর্থ: তারা যদি আপনাদের অনুরূপ ঈমান আনে তাহলে অবশ্যই তারাও হিদায়েত লাভ করবে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৭)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান-আক্বীদা গ্রহন করেছেন পরবতী উম্মতকে তদ্রƒপ ঈমান-আক্বীদা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে এবং উনারা যেরূপ আমল করেছেন তদ্রƒপ আমল করতে বলা হয়েছে, তবেই উম্মত হিদায়েত লাভ করবে এবং নাজাত ও নিয়ামত লাভ করবে। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আক্বীদা-আমলের অনুসরণকারীদের নামই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্পর্কে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা মুুবারক নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَتَـقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ
অর্থ: “(আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টি ছিল সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَـمْ اَزَلْ اُنْـقَلُ مِنْ اَصْلَابِ الطَّاهِرِيْنَ اِلـٰى اَرْحَامِ الطَّاهِرَاتِ
অর্থ: “আমি সবসময় পূত-পবিত্র পুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পৃষ্ঠ মুবারক অর্থাৎ উনাদের থেকে পূত-পবিত্রা মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রেহেম শরীফ-এ অর্থাৎ উনাদের নিকট স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ طَلْقِ بْنِ عَـلِــىٍّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ لَوْ اَدْرَكْتُ وَالِدَىَّ اَوْ اَحَدَهُـمَا وَاَنَا فِى صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَقَدْ قَـرَاْتُ فِيهَا بِفَاتـِحَـةِ الْكِتَابِ تُـنَادِى يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاَجَبْـتُـهَا لَبَّـيْكِ
অর্থ: “হযরত ত্বল্ক্ব ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি, যদি আমি আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে অথবা উনাদের দু’জনের একজনকে দুনিয়ার যমীনে পেতাম, আর আমি সম্মানিত ছলাতুল ইশা (ফরয নামায) মুবারক-এ দাঁড়িয়ে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে থাকতাম। এমতাবস্থায় উনারা যদি আমাকে এই বলে সম্মানিত আহ্বান মুবারক করতেন, আয় মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ বন্ধ করে দিয়ে এবং ছলাত মুবারক ছেড়ে দিয়ে) আমি উনাদের আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দিয়ে ইরশাদ মুবারক করতাম, লাব্বাইক! আয় আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, আয় আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি উপস্থিত, হাযির।” সুবহানাল্লাহ! (শুয়াবুল ঈমান ১০/২৮৪, দায়লামী শরীফ ৩/৩৪৫, জামিউল আহাদীছ ১৮/৭৪, আল হাওই ২/২৮১ ইত্যাদি)
কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত অপরিসীম তা চিন্তা-কল্পনার উর্ধ্বে।
উনারা হচ্ছেন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল, মালিক এবং উনাদের প্রথম স্তর মুবারক-এ। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু যে জান্নাতী, তা না। বরং উনারা হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত নিয়ামতের মালিক। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জান্নাত মুবারক উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন কখন উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ দয়া করে প্রবেশ করবেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করলেই সম্মানিত জান্নাত মুবারক ধন্য হয়ে যাবেন এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার নামকরণের বিষয়টি স্বার্থক হবে। সুবহানাল্লাহ! মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক সৃষ্টিই করেছেন উনাদের খিদমত মুবারকের আনজাম দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ! উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক এবং হুসনে যন মুবারক পোষণ করা এবং উনাদের গোলামী মুবারকের আনজাম দেয়া, উনাদের তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং ছানা-ছিফত মুবারক করা দায়িমীভাবেই ফরয অর্থাৎ অনন্তকাল যাবৎ ফরয। সুবহানাল্লাহ!
মুহম্মদ বদরুল হুদা
কিশোরগঞ্জ
সুওয়াল: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে ঈমানদারদের জন্য কি ধরণের আক্বীদা রাখতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাওয়াব: মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মনোনীত করেছেন তদ্রƒপ উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযওয়াজে মুতহ্হারাত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকেও মনোনীত করেছেন। উনাদের সম্পর্কে ঈমানদারদের বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হচ্ছে:
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মোট ১৩ জন। উনাদের মধ্যে দু’ জন অথার্ৎ হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ (আয়িশা) ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম এবং হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছানিয়া আশার (মারিয়ায়ে ক্বিবতিয়্যাহ) আলাইহাস সালাম উনারা ছিলেন কুমারী। আর বাকী এগারো জন ছিলেন অকুমারী। উনারা সকলেই স্বাধীনা ছিলেন। কেউই বাঁদী বা দাসী ছিলেন না। এটা বিশ্বাস করা প্রত্যেকের জন্য ফরয। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা গোমরাহী ও কাট্টা কুফরী।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, সমস্ত জিন-ইনসান, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ কায়িনাতবাসী সকলের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মাতা আলাইহিন্নাস সালাম এবং সমস্ত সৃষ্টির মালিক। উনারা সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারকের অধিকারী। উনাদেরকে পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি, আত্মীয়-স্বজন, অর্থ-সম্পদ; এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মহব্বত করতে হবে। উনাদেরকে মহব্বত করা ব্যতীত কেউ কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না।
খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ اَنْـفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهٗ اُمَّهٰتُـهُمْ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মু’মিনদের নিকট তাদের জানের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত মহাপবিত্র পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন। উনাদের মেছাল বা দৃষ্টান্ত উনারা নিজেরাই। মহাসম্মানিত হাবীব, মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানেই উনারা সম্মানিত ও পবিত্র এবং উনার পরেই উনাদের মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্ব।
মূলতঃ কায়িনাত মাঝে মহাসম্মানিত হাবীব, মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমকক্ষ যেমন কেউ নেই তদ্রƒপ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সমকক্ষও কেউ নেই। উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَانِسَآءَ النَّبِـىِّ لَسْتُـنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ
অর্থ: “হে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা কোনো মহিলাদের মত নন অর্থাৎ মহিলা-পুরুষ তথা সৃষ্টির কারো মতো নন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
উনাদেরকে সৃষ্টির কারো সাথে তুলনা করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّـمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَـيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيـرًا
অর্থ: “হে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! (অর্থাৎ খাছ করে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম!) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
উনাদের ব্যাপারে কোনো প্রকার চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনারা একে অপরের সাথে ঝগড়া-বিবাদ করেছেন অথবা উনারা পরস্পর দলাদলী করেছেন, নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! এরূপ বক্তব্য, মন্তব্য ও ধারণা সুস্পষ্ট কুফরী। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَّا لَيْسَ لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ وَّتَـحْسَبُـوْنَهٗ هَيِّنًا وَّهُوَ عِنْدَ اللهِ عَظِيمٌ
অর্থ: “এ বিষয়ে অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বিষয়ে তোমাদের কোনো ইলিম নেই। তোমরা এই বিষয়টিকে হালকা মনে করছো! অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এটা একটি অত্যন্ত কঠিন অপরাধ।” নাঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)
মহান আল্লহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَوْلَا اِذْ سَـمِعْتُمُوْهُ قُـلْتُمْ مَّا يَكُوْنُ لَـنَا اَنْ نَّــتَكَلَّمَ بِـهٰـذَا سُبْحٰنَكَ هٰذَا بُـهْتَانٌ عَظِـيمٌ
অর্থ: “তোমরা যখন (উনাদের শান মুবারকের খিলাফ এলোমেলো) এ কথা শুনলে, তখন কেন বললে না যে, এ বিষয়ে আমাদের কথা বলার কোনো অধিকার নেই। তিনি (অর্থাৎ উনারা) অত্যন্ত পবিত্রতম। মহান আল্লাহ পাক তিনিও পবিত্র থেকে পবিত্রতম। এটা একটা কঠিন অপবাদ।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬)
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের শান-মান মুবারক বুঝিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যতে কিরূপ ব্যবহার মুবারক করতে হবে সে প্রসঙ্গে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَعِظُكُمُ اللهُ اَنْ تَـعُودُوا لِمِثْلِهٖ اَبَدًا اِنْ كُنْـتُمْ مُّؤْمِنِيـنَ. وَيُـبَيِّـنُ اللهُ لَكُمُ الْاٰيٰتِ وَاللهُ عَلِيمٌ حَكِـيمٌ
অর্থ: “যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো, তাহলে তোমরা জেনে রাখ- শেষ বারের মতো তোমাদেরকে নছীহত করা হচ্ছে, তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, তোমরা ক্বিয়ামত পর্যন্ত আর কখনও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাপবিত্র শান মুবারকে এই সমস্ত কথা বলবে না, চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি সব হুকুম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি সব জানেন, শুনেন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭-১৮)
তারপরেও কেউ যদি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাপবিত্র শান মুবারকে চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করে, তার ফায়ছালা কি হবে, এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـحِبُّـونَ اَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِـى الَّذِينَ اٰمَنُوا لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِيمٌ فِـى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاللهُ يَـعْلَمُ وَاَنْـتُمْ لَا تَـعْلَمُونَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাপবিত্র শান মুবারকে অশ্লীল-অশালীন কথা বলা পছন্দ করে থাকে, তাদের জন্য ইহকাল-পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। এবং তাদেরকে (আমি) এমন কঠিন শাস্তি দিব যা মহান আল্লাহ পাক তিনি (অর্থাৎ আমি) ব্যতীত তোমরা কেউ জানো না।” নাঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لُعِنُـوا فِـى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ وَلَـهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অর্থ: “ইহকাল-পরকালে অনন্তকাল ধরে তাদের উপর লা’নত বর্ষণ করা হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্রতম শান মুবারক প্রসঙ্গে পুনরায় ইরশাদ মুবারক করেন-
اُولـٰـئِكَ مُبَـرَّءُونَ مِـمَّا يَـقُولُونَ لَـهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِيـمٌ
অর্থ: “উনাদের সম্পর্কে তারা যা বলে, উনারা সেটা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র থেকে পবিত্রতম। সুবহানাল্লাহ! উনাদের জন্য রয়েছেন মাগফিরাত অর্থাৎ সুউচ্চ মর্যাদা মুবারক এবং কুদরতময় রিযিক্ব অর্থাৎ বিশেষ মাকাম মুবারক ও বিশেষ সম্মান মুবারক রয়েছেন যা উনাদেরকে হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
মূলত উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক ব্যতীত কেউ কস্মিনকালেও মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে পারবে না। তাহলে উনাদেরকে কতটুকু মহব্বত মুবারক করতে হবে? কতটুকু তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতে হবে? এবং উনাদের কতটুকু ছানা-ছিফত মুবারক করতে হবে? সে বিষয়েও মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন-
تُـعَزِّرُوهُ وَتُـوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْـرَةً وَّاَصِيلًا
অর্থ: “তোমরা উনার (উনাদের) খিদমত মুবারক করো, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করো এবং ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ দায়িমীভাবে অনন্তকালব্যাপী।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৯)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيـنَ الثَّالِثَةِ اَلصِّدِّيقَةِ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ قَالَتْ اَمَا اِنِّـىْ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ لَنْ يَّـحْنُـوَ عَلَيْكُنَّ بَـعْدِى اِلَّا الصَّالِـحُونَ
অর্থ: “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাবধান! সতর্ক হয়ে যাও! নিশ্চয়ই আমি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুনেছি। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমার পরে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে একমাত্র শুধু নেককার, ছলিহীন, আল্লাহওয়ালা বান্দা-বান্দী উনারাই উত্তম ব্যবহার করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শরীয়াতু লিল আজুরী ৪/৪৯৪, মা’রিফাতুছ ছাহাবা, হিলইয়াতুল আউলিয়া, তারীখুল ইসলাম ৩/৩৯৪ ইত্যাদি)
উল্লেখ্য যাদের অন্তর গালিজ যুক্ত এবং যারা বদ বখ্ত ও বদ নছীব অর্থাৎ যাদের অন্তর নেফাকী ও কুফরীতে পরিপূর্ণ তারা কখনও উনাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে পারবে না।
কাজেই সমস্ত জিন-ইনসান, পুরুষ-মহিলা, সৃষ্টির সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছেন- মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ এবং হুসনে যন মুবারক পোষণ করা, উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ আদব বজায় রাখা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ন্যায় উনাদেরকেও জীবনের চেয়েও বেশি মহব্বত করা এবং দায়িমীভাবে উনাদের খিদমত মুবারক করা, উনাদের তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক করা।
মুহম্মদ জিয়াউল হক্ব
নূরানীবাদ।
সুওয়াল: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কত জন? উনাদের সম্পর্কে কি আক্বীদা পোষণ করতে হবে?
জাওয়াব: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা মোট ৮ জন। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ৪ জন এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ৪ জন।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
خَلَقْتُكَ وَخَلَقْتُ اَهْلَ بَـيْتِكَ مِنَ النُّورِ الْاَوَّلِ
অর্থ: “আমি আপনাকে এবং আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহাপবিত্র প্রথম ভাগ নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মূল নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা হচ্ছেন সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আওলাদ এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! কাজেই উনারা একই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে অর্থাৎ মূল মহাপবিত্র মহাসম্মানিত নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত মহাসম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক এবং হুসনে যন মুবারক পোষণ করা এবং উনাদের খিদমত মুবারক, গোলামী মুবারক উনার আনজাম দেয়া, উনাদের তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক করা দায়িমীভাবেই ফরয অর্থাৎ অনন্তকাল যাবৎ করা ফরয। সুবহানাল্লাহ!
মুহম্মদ আরিফুর রহমান
মোমেনশাহী
সুওয়াল: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে কেমন আক্বীদা রাখতে হবে? জানতে ইচ্ছুক।
জাওয়াব: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক:
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত। এ কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত মহাসম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারীও হচ্ছেন মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন মুত্বহ্হার বা পূতপবিত্র এবং মুত্বহ্হির বা পবিত্রতা দানকারী। উনাদের মহব্বত মুবারক ঈমান এবং উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনাদের সম্মানার্থেই কুল কায়িনাতের সকলে সমস্ত প্রকার নিয়ামত মুবারক লাভ করেছে, করছে এবং অনন্তকাল যাবৎ লাভ করতেই থাকবে। একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত মুবারক, গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক করা দায়িমীভাবেই ফরয অর্থাৎ অনন্তকাল যাবৎ করা ফরয। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ لَّاۤ اَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرًا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِى الْقُرْبـٰى
অর্থ: “(আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত বান্দা-বান্দীদেরকে, উম্মতদেরকে, কায়িনাতবাসী সবাইকে) বলে দিন যে, তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না, প্রতিদান চাওয়া হচ্ছে না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। বরং তোমাদের জন্য এটা চিন্তা করাও কাট্টা কুফরী হবে। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে চাও, তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহব্বত মুবারক করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারকের আনজাম দেয়া, উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক করা।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاَحِبُّوا اَهْلَ بَــيْـتِـى لِـحُبِّـى
অর্থ: “আর তোমরা আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মহব্বত-মা’রিফাত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক পেতে হলে আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহব্বত করো।” (তিরমিযী শরীফ, মুস্তাদরাকে হাকিম, ত্ববারানী শরীফ, শু‘য়াবুল ঈমান ইত্যাদি)
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র করার মত পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। যেমন- যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّـمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَـيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيرًا
অর্থ: “হে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَنَا وَاَهْلُ بَـيْتِى مُطَهَّرُونَ مِنَ الذُّنُوبِ
অর্থ: “আমি এবং আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলে যুনূব অর্থাৎ সমস্ত প্রকার কবীরা-ছগীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتِ الْاِمَامِ الْاَوَّلِ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَـقُولُ نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّـبُـوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَـيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রায়শই ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলিম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন অর্থাৎ অমুখাপেক্ষী করেছেন।” (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস উনাদের মাক্বামাত মুবারক, শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتِ الْاِمَامِ الْاَوَّلِ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ شَجَرَةُ النُّـبُـوَّةِ وَمَعْدِنُ الرِّسَالَـةِ لَـيْسَ اَحَدٌ مِّـنَ الْـخَلَائِقِ يَـفْضُلُ اَهْلَ بَـيْـتِـى غَـيْـرِى
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমরা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক এবং সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার সম্মানিত খনি মুবারক। সুবহানাল্লাহ! সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র আমি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেউ নেই যে, আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে আমার পরেই আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, ফযীলত মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সৃষ্টির কারো তুলনা করা যাবে না। তুলনা করলে সুস্পষ্ট কুফরী হবে। এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ لَا يُـقَاسُ بِنَا اَحَدٌ
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।” (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানযুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল উক্ববা ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খ¦মিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-
اِنَّا نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ لَا يُـقَاسُ بِنَا اَحَدٌ مَنْ قَاسَ بِنَا اَحَدًا فَـقَدْ كَفَرَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমরা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না। যে ব্যক্তি আমাদের সাথে কাউকে তুলনা করলো, সে অবশ্যই কুফরী করলো।” নাঊযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাক্বাম মুবারক, অবস্থান মুবারক সমস্ত সৃষ্টির উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মহব্বত মুবারক যেমন ঈমান তদ্রƒপ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাও সুস্পষ্ট কুফরী। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلَا وَمَنْ مَّاتَ عَلـٰى بُغْضِ اٰلِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ كَافِرًا وَفِــى رِوَايَةٍ دَخَلَ النَّار
অর্থ: “সাবধান! যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা অবস্থায় মারা যাবে, সে কাফির অবস্থায় মারা যাবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! অপর বর্ণনায় রয়েছে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরে কুরতুবী ১৬/২৩, তাফসীরে কবীর ২৭/৫৯৫, যখাইরুল উক্ববা ১/১৮, খ¦ছায়িছুল কুবরা ২/৪৬৫ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اَوْحَى اللهُ تَـعَالـٰى اِلـٰى سَيِّدِنَا حَبِيْبِنَا شَفِيْعِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنِّـىْ قَـتَـلْتُ بِيَحْيَـى بْنِ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِينَ اَلْفًا وَّاِنِّـى قَاتِلٌ بِۢـاِبْنِ اِبْـنَتِكَ سَبْعِيـنَ اَلْفًا وَّسَبْعِينَ اَلْفًا
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পবিত্র ওহী মুবারক করেন যে, নিশ্চয়ই আমি হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, ধ্বংস করে দিয়েছি। আর নিশ্চয়ই আমি আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বানাত আন নূরুর রবিআহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম) উনার মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সাথে যারা জড়িত থাকবে, তাদের সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার অর্থাৎ এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবো, ধ্বংস করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরাকে হাকিম ৩/১৯৫, খছায়িছুল কুবরা ২/২১৪, ইমতা‘উল আসমা’ ১২/২৩৭, শরহুয যারক্বানী ১০/১৫২ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتِ الْاِمَامِ الْاَوَّلِ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاتِلُ سَيِّدِنَا حَضْرَتِ الْاِمَامِ الثَّالِثِ مِنْ اَهْلِ بَـيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـى تَابُـوْتٍ مِّنْ نَّارٍ عَلَيْهِ نِصْفُ عَذَابِ اَهْلِ الدُّنْـيَا
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেই সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি শহীদ করবে, তাকে জাহান্নামে আগুনের বাক্সে রাখা হবে। সমস্ত দুনিয়াবাসী অর্থাৎ সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন-ইনসানকে যত শাস্তি দেয়া হবে, ঐ সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকে এককভাবে সকলের অর্ধেক শাস্তি দেয়া হবে।” (দায়লামী শরীফ ৩/২১০, আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ ১/৪৮৩, কাশফুল খফা’ ২/৯১, শরহুয যারক্বানী ১০/১৫২, শরফুল মুস্ত্বফা ৫/৩১৪, তাফসীরে রূহুল বয়ান ৪/৮৮ ইত্যাদি)
আলোচ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে اَهْلِ الدُّنْـيَا ‘দুনিয়ার সমস্ত অধিবাসী’ দ্বারা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারাই জাহান্নামে প্রবেশ করবে, জাহান্নামের সকল অধিবাসীই উদ্দেশ্য। আর এর মধ্যে বণী ইসরাঈলের ৭০ হাজার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা শহীদ করেছে, তারাও অন্তভুর্ক্ত। তাহলে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত সৃষ্টির চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে তিনটি স্তর মুবারক। উনাদের মধ্যে প্রথম স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! দ্বিতীয় স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন- মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! তৃতীয় স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন- মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং উনাদের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা।” সুবহানাল্লাহ!
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকলেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মহব্বত করেন, উনাদের ছানা-ছিফত করেন এবং উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করেন। আর এটাই হচ্ছে সম্মানিত ঈমান উনার পরিচয়।
কিন্তু মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যাঁরা মহব্বত করেন, উনাদেরকে অনেকেই শিয়া বা রাফিযী বলে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! এটা একটি কুফরী আক্বীদাহ্। যারা এরূপ বলে বা ধারণা করে, তারা বাত্বিল ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত। এখানে একটা বিষয় বুঝতে হবে, তা হলো- শিয়ারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ব্যতীত বাকি ৩ জন হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মানে না, নাঊযুবিল্লাহ! উনাদেরকে তারা বিভিন্ন গাল-মন্দ করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! এবং অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও দোষারোপ এবং গালমন্দ করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মতে যারা এরকম করে থাকে যেমন- শিয়া, রাফিযী, কাদিয়ানী, বাহাই তারা সকলেই অমুসলিম ও বাত্বিল ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত।
মুহম্মদ আমিনুল ইসলাম,
উপশহর, দিনাজপুর।
সুওয়াল: আমাদের এখানে জনৈক ইমাম সাহেব বক্তব্য দিয়েছে যে, পবিত্র জানাযার নামাযের সময় জুতা-সেন্ডেলের নিচে নাপাকী লেগে থাকলে তা পরিধান করা অবস্থায় নামায পড়লে নামায হবে না। আর যদি তা খুলে সেই নাপাকীযুক্ত জুতা-সেন্ডেলের উপর নামায আদায় করে তাহলে কোন অসুবিধা হবেনা, নামায হয়ে যাবে। উক্ত বক্তব্য কতটুকু শরীয়ত সম্মত?
জাওয়াব: ইমাম সাহেবের উক্ত বক্তব্যটি মোটেও শরীয়ত সম্মত হয়নি।
জানাযার নামায হোক অথবা অন্য যে কোনো নামাযের জন্য শরীর, কাপড় ও নামাযের স্থান পাক হওয়া শর্ত। জুতা-না’লাইনের ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য।
যদি জুতা/না’লাইনের নিচে নাজাসাতে গলীজা (পেশাব, পায়খানা ইত্যাদি) লেগে থাকে, তাহলেÑ তা পায়ে পরিহিত অবস্থায় নামায পড়লে নামায হবে না; কারণ নাপাকী বহন করে নামায পড়া হচ্ছে।
আবার সেই নাপাকীযুক্ত জুতা-না’লাইনের উপর দাঁড়িয়ে নামায পড়লেও নামায শুদ্ধ হবে না; কারণ নামাযের স্থান নাপাক।
অতএব “পায়ে পরলে নামায হবে না, কিন্তু খুলে সেই জুতার উপর দাঁড়ালে হয়ে যাবে”Ñএ কথা শরীয়তের সাধারণ হুকুমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَـلْيَـنْظُرْ فَإِنْ رَأَى فِى نَـعْلَيْهِ قَذَرًا أَوْ أَذًى فَـلْيَمْسَحْهُ وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا
অর্থ “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, তখন সে যেন লক্ষ্য করে। যদি সে তার জুতা- না’লাইনদ্বয়ে কোনো ময়লা বা অপবিত্র বস্তু দেখতে পায়, তবে তা মুছে ফেলবে এবং সেই জুতা পরেই নামায আদায় করবে।” (আবূ দাঊদ শরীফ)
অথার্ৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, কেউ মসজিদে আসলে যেন জুতা- না’লাইন দেখে নেয়; নাপাকী থাকলে মাটি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে নেয়, তারপর তা পরে নামায পড়ে। এ হাদীছ শরীফ উনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে নাপাকী পরিষ্কার করা।
মূল কথা হচ্ছে: জুতা/ না’লাইনে নাপাকী থাকলে তা ধুয়ে বা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া।
নাপাকীযুক্ত জুতা/না’লাইন পায়ে পরে বা তার উপর দাঁড়িয়ে নামায না পড়া। এটাই হচ্ছে সম্মানিত শরীয়ত উনার সঠিক ফতওয়া।
মুহম্মদ আমিনুর রহমান, উপশহর, দিনাজপুর।
সুওয়াল: মাইয়েতকে কবরস্থ করার পর নাকি হাতে করে মাটি দেওয়া জরুরী নয়। তাই উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষের মধ্য থেকে ১০-১৫ জন হাতে মাটি দিয়েছে। আর বাকিরা সকলেই মাটি দেওয়া থেকে বিরত ছিল। অতঃপর অবশিষ্ট মাটি কোদাল ও পা দিয়ে কবর খননকারী শ্রমিকরা ভরাট করে দেয়। এ বিষয়ে সঠিক মাসয়ালা কি?
জাওয়াব: “মাইয়েতকে কবরস্থ করার পর হাতে করে মাটি দেয়া জরুরী নয়“- এ বক্তব্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার খিলাফ বা বিরোধী। প্রকারান্তরে যা কুফরী।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْـرَةَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالَى عَنْهُ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَنَازَةٍ، فَكَبَّـرَ عَلَيْـهَا أَرْبَعًا، ثُمَّ أَتَى الْقَبْـرَ، فَحَثَى عَلَيْهِ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ ثَلاثًا
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনÑ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একটি জানাযার নামায আদায় করলেন। তিনি তাতে চারবার তাকবীর বললেন। তারপর কবরের কাছে এসে মৃত ব্যক্তির মাথার দিক থেকে তিন মুষ্ঠি মাটি নিক্ষেপ করলেন। (ইবনে মাজাহ শরীফ, আল মু’জামুল কবীর, আল মু’জামুল আওসাত, জামিউস সুনান ওয়াল মাসানীদ ইত্যাদি)
অথার্ৎ মাইয়েতকে কবরে নামানোর পর কবরের উপর মাটি দেওয়া সুন্নত ও ফযীলতপূর্ণ আমল। তাই জানাযায় উপস্থিত ব্যক্তিরা তিন মুষ্ঠি বা অবস্থা অনুযায়ী কম-বেশি মুষ্ঠি মাটি হাতে নিয়ে কবরে দেয়া অতঃপর দাফন শেষে দোআ করা কর্তব্য। কেননা, এতে মৃত্যু ও আখিরাতের কথা স্মরণ হয় এবং মাইয়েতের প্রতি হক আদায় হয়।
মুহম্মদ আমিনুল্লাহ, উপশহর, দিনাজপুর।
সুওয়াল: মাইয়েতকে দাফনের পর সেই কবরের পাশে কারও থাকা যাবেনা। সবাইকে কবরস্থানের সীমানার বাহিরে বের করে দিয়ে কিবলামুখী হয়ে দুআ করতে হবে। তালক্বীন দেয়া যাবেনা। এই বক্তব্য কতটুকু শরীয়তসম্মত?
জাওয়াব: উল্লিখিত বক্তব্য মোটেও শরীয়তসম্মত নয় । বরং তা সম্মানিত শরীয়ত উনার সম্পূর্ণ খিলাফ। মাইয়েতকে দাফনের পর কিছু সময় কবরের পাশে অবস্থান করা, মাইয়েতের জন্য দুআ করা, তালক্বীন দেয়াÑ এ সবই হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
প্রথমত: দাফনের পর কিছু সময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মাইয়েতের জন্য দুআ করা সুন্নত মুবারকের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র হাদীছ শরীফে এসেছে-
عَنْ حَضْرَتْ ذِى النُّورَيْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَـرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ فَـقَالَ اسْتَـغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّـثْبِيتَ فَإِنَّهُ الْاٰنَ يُسْأَلُ
অর্থ: “আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মু’মিনীন হযরত যুন নূরাইন (উছমান) আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করতেন, তখন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন: তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার জন্য দৃঢ়তা কামনা করো; কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে।” (আবূ দাউদ শরীফ)
অতএব “দাফনের পর কবরের পাশে কেউ থাকতে পারবে না”-এ কথা সঠিক নয়। বরং তা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিরোধী কথা বা বক্তব্য।
দ্বিতীয়ত: সবাইকে কবরস্থানের বাইরে গিয়ে দুআ করতে হবে-এ কথাও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার খিলাফ বা বিরোধী। যা কুফরী। তবে কেউ যদি বাইরে গিয়ে দুআ করে, সেটাও জায়েয।
তৃতীয়ত: তালক্বীন দেওয়া সম্পর্কে-
মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরে “তালক্বীন” দিতে হবে। যা কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ উনাদেরই নির্দেশ তথা সুন্নত মুবারক।
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “যখন তোমাদের কোন মুসলমান ভাই ইন্তিকাল করবে, তখন তাকে কবরে রেখে তার উপর ভালভাবে মাটি দিয়ে অর্থাৎ দাফন করে তার মাথার নিকট দাঁড়িয়ে বলবে- “হে অমুকের সন্তান অমুক” তখন মৃত ব্যক্তি এটা শুনবে কিন্তু কোন জবাব দিবেনা। তারপর বলবে- “হে অমুকের সন্তান অমুক” এটা শুনে মৃত ব্যক্তি উঠে বসবে। অতঃপর আবার বলবে- “হে অমুকের সন্তান অমুক” এটা শুনে মৃত ব্যক্তি বলবে কি বলছেন? (যদিও তার কথা শুনা যাবেনা) তখন তোমরা বলবে তুমি এই সময় বলো (দুনিয়ায় থাকাকালীন অবস্থায় তুমি যার উপর কায়িম ছিলে) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই, তিনিই একমাত্র প্রতিপালক। ইসলাম তোমার দ্বীন, হযরত সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমার নবী, কুরআন শরীফ তোমার পথ প্রদর্শক।
এ সময় মুনকার এবং নাকীর একে অপরের হাত ধরে বলবেন- এখান হতে চলুন, এর নিকট বসে কি করব? একেতো আখিরাতের দলীল শিখিয়ে দেয়া হচ্ছে। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি তার এই কথাগুলো লিখে নেন। অমুকের পুত্র অমুকের স্থলে মৃত ব্যক্তি ও তার মাতার নাম উল্লেখ করবে। এক ব্যক্তি উঠে জিজাসা করলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি তার মাতার নাম জানা না থাকে তখন উপায় কি? হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উত্তর দিলেন, তাহলে উম্মুল বাশার হযরত হাওওয়া আলাইহাস্ সালাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করে বলবে, হে হযরত হাওওয়া আলাইহাস্ সালাম উনার পুত্র অমুক। আর কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে মাইয়্যেতকে দাফন করার পর উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ থেকে একজন প্রশ্ন করবে, مَنْ رَّبُّكَ উচ্চারণ: মার্ রব্বুকা? অন্যান্য সকলেই বলবে- رَبِّىَ اللهُ উচ্চারণ: রব্বিইয়াল্লাহু।
এরপর বলবে- وَمَنْ نَّبِيُّكَ উচ্চারণ: ওয়া মান নাবিয়্যুকা? অন্যান্য সকলেই বলবে-
نَبِىِّ سَيِّدُنَا مَوْلٰنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উচ্চারণঃ নাবিয়্যী সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর বলবে- وَمَا دِينُكَ উচ্চারণ: ওয়ামা দ্বীনুকা? সকলেই বলবে- دِينِىَ الْاِسْلَامُ উচ্চারণ: দ্বীনিয়্যাল ইসলাম।
“তালক্বীন” সম্পর্কে হাফিযুল হুফ্ফায, সুলত্বানুল আরিফীন হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “যখন মৃত ব্যক্তিকে তালক্বীন করবে তখন তার মায়ের নাম নিয়ে বলবে, হে অমুকের সন্তান অমুক! তুমি বলো।
আর যদি মায়ের নাম জানা না থাকে তাহলে হযরত হাওওয়া আলাইহাস্ সালাম উনার নাম মুবারক ধরে বলবে যে, হে অমুকের সন্তান অমুক! তুমি বলো- رَبِّىَ اللهُ উচ্চারণ: রব্বিইয়াল্লাহ্। অর্থ: “আমার রব আল্লাহ পাক।”
وَدِينِىَ الْاِسْلَامُ
উচ্চারণ: ওয়া দ্বীনিয়্যাল ইসলাম। অর্থ: “আমার দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।”
وَنَبِىِّ سَيِّدُنَا مَوْلٰنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উচ্চারণ: ওয়া নাবিয়্যী সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অর্থ: “আমার নবী হচ্ছেন হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” আর কোন কোন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রথমে তিনবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলে এবং কোন কোন বর্ণনায় আছে তিনবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে উপরোক্ত কথাগুলো বলবে।
“ফতওয়ায়ে শামীতে” উল্লেখ করা হয়েছে,
قَدْ رُوِيَ عَنْهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَمَرَ بِالتَّـلْقِينِ بَعْدَ الدَّفْنِ، فَـيَـقُولُ: يَا فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ، اُذْكُرْ دِينَكَ الَّذِي كُنْتَ عَلَيْهِ
অর্থ: “হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি দাফনের পর তালক্বীন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কবরের পাড়ে দাঁড়িয়ে বলবে, হে অমুকের পুত্র অমুক, তুমি যে দ্বীনের উপর ছিলে সে দ্বীনকে স্মরণ করো।”
তালক্বীন দেয়া প্রসঙ্গে কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, “মৃতের দাফনের পরে তার কোন পরহিযগার আত্মীয় বা বন্ধু তার মাথা বরাবর দাঁড়িয়ে নিম্নোক্ত দোয়া তালক্বীন করবে-
يَا عَبْدَ اللهِ، قُلْ: أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَسُولُ اللهِ، وَأَنَّ الْجَنَّةَ حَقٌّ، وَالنَّارَ حَقٌّ، وَالْبَـعْثَ حَقٌّ، وَأَنَّ السَّاعَةَ اٰتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا، وَأَنَّ اللهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ. وَقُلْ: رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا، وَبِالْقُرْاٰنِ إِمَامًا، وَبِالْكَعْبَةِ قِبْـلَةً، وَبِالْمُؤْمِنِينَ إِخْوَانًا
অর্থ: “হে আল্লাহ পাক উনার বান্দা! তুমি বলো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক ব্যতীত কোন ইলাহ্ (মা’বুদ) নেই। আর নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল। নিশ্চয়ই বেহেশ্ত সত্য, দোযখ সত্য, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সত্য। আর নিশ্চয়ই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবেই এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই; এবং নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি কবরবাসীকে উঠাবেন। সুতরাং তুমি বলো, আমি মহান আল্লাহ্ পাক উনাকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নবী হিসেবে, কুরআন মজীদকে পথ প্রদর্শক হিসেবে, কা’বা শরীফকে ক্বিবলা হিসেবে এবং মু’মিনগণকে ভাই হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি।”
হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যখন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কবরে তালক্বীন দেয়া হয় তখন মুনকার ও নাকীর ফেরেশ্তাদ্বয় পরস্পর পরস্পরের হাতে ধরে বলেন যে, তাকে প্রশ্ন করে কি হবে, তাকে তো সব শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। চল আমরা চলে যাই। অর্থাৎ তালক্বীনের কারণে সে সুওয়াল-জাওয়াব থেকে নিস্কৃতি ও নাজাত লাভ করে।” সুবহানাল্লাহ!
বিশেষ দ্রষ্টব্য: তালক্বীন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১০৫তম সংখ্যা পাঠ করুন।
মুহম্মদ আমিনুল হক,
উপশহর, দিনাজপুর।
সুওয়াল: পবিত্র জানাযার নামাযের পর দাফনের পূর্বে নাকি আর দুআ-মুনাজাত করার প্রয়োজন নাই। এটা নাকি বিদআত। জানাযার নামাযই নাকি পরিপূর্ণ দুআ। উক্ত বক্তব্য সঠিক কি-না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাওয়াব: “জানাযার নামাযই যথেষ্ট; দাফনের পূর্বে আর কোনো দুআ-মুনাজাত করা যাবে না, তা বিদআত”Ñ এ বক্তব্য সঠিক নয়।
জানাযার নামাযে মাইয়েতের জন্য দুআর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, জানাযার নামাযের পর দাফনের পূর্বে কোনো দুআ করা নিষিদ্ধ বা বিদআত হয়ে যাবে। বরং মাইয়েতের জন্য দুআ করা সর্বাবস্থায়ই কল্যাণকর ও শরীয়তসম্মত আমল।
হাদীছ শরীফে এসেছে, যখন জানাযা প্রস্তুত হতো তখন হযরত ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম মাইয়েতের জন্য দুআ করতেন। মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও বিভিন্ন সময়ে মাইয়েতের জন্য দুআ করেছেন। দাফনের আগে, পরে, কবরের পাশেÑ সর্বত্রই মাইয়েতের জন্য মাগফিরাতের দুআ করা প্রমাণিত।
বিশেষত জানাযার পর দাফনের পূর্বে মানুষ একত্রিত থাকে; তখন মাইয়েতের জন্য মাগফিরাত, রহমত ও ক্ষমার দুআ করা বৈধ ও উত্তম আমল।
সম্মানিত শরীয়ত মৃত ব্যক্তির জন্যে দোয়া করার ব্যাপারে কোন সময় নির্দিষ্ট করে দেয়নি যে, অমুক সময় দোয়া করতে হবে, আর অমুক সময় দোয়া করা যাবে না। বরং মৃত ব্যক্তির জন্য যে কোন সময় দোয়া করার হুকুম রয়েছে। ইন্তিকালের পর জানাযার পূর্বে, জানাযার নামাযের মধ্যে, জানাযার পর দাফনের পূর্বে এবং দাফনের পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যে কোন সময় মৃত ব্যক্তির জন্যে হাত তুলে একা ও সম্মিলিতভাবে দোয়া করা জায়িয ও সুন্নত। নাজায়িয বা বিদ্য়াত মোটেও নয়। এ সম্পর্কিত বহু দলীল-প্রমাণ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, শরাহগ্রন্থ, ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাব সমূহে রয়েছে।
জানাযা নামাযের পর হাত তুলে, সম্মিলিতভাবে দোয়া-মুনাজাত করাকে বিদ্য়াত বলে প্রচারকারীদের জিহালতপূর্ণ বক্তব্যসমূহের খন্ডনমূলক জাওয়াব- বাতিলের আতঙ্ক, দ্বীনে হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক মুখপত্র ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ উনার মধ্যে প্রকাশিত ফতওয়ায় অকাট্যভাবেই প্রমাণ করা হয়েছে যে, শুধু জানাযার পূর্বে ও দাফনের পরেই নয় বরং ‘জানাযার পর দাফনের পূর্বেও মৃত ব্যক্তির জন্যে দোয়া করা জায়িয ও সুন্নত।’ যার স্বপক্ষে প্রায় দুই শতাধিক দলীল উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ কিছু দেওবন্দী ও ওহাবী মৌলভী কিল্লতে ইলিম ও কিল্লতে ফাহম্ অর্থাৎ স্বল্প জ্ঞান ও স্বল্প বুঝের কারণে এবং ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবের ইবারতের সঠিক মর্ম অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে প্রচার করে থাকে যে, জানাযার পর দাফনের পূর্বে মৃত ব্যক্তির জন্যে দোয়া-মুনাজাত করা বিদ্য়াত ও মাকরূহ্। নাঊযুবিল্লাহ! তাদের উক্ত বক্তব্য যে ডাহা মিথ্যা তা প্রমাণ করার লক্ষ্যে নিম্নে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বখ্যাত ফিক্বাহ্র কিতাব থেকে কিছু ইবারত উল্লেখ করা হলো-
ফিক্বাহ্র বিখ্যাত কিতাব ফতহুল ক্বদীর ২য় খণ্ড ৮১ পৃষ্ঠা ও নূরুল হিদায়াহ্ ১ম খণ্ড ১৪৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالَى عَنْهُ قَالَ: لَمَّا الْتَـقَى النَّاسُ بِمُؤْتَةَ، جَلَسَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْـبَرِ، وَكُشِفَ لَهُ مَا بَـيْـنَهُ وَبَـيْنَ الشَّامِ، فَـهُوَ يَـنْظُرُ إِلَى مَعْرَكَتِهِمْ، فَـقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَخَذَ الرَّايَةَ حَضْرَةُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالَى عَنْهُ، فَمَضَى حَتَّى اُسْتُشْهِدَ، وَصَلَّى عَلَيْهِ وَدَعَا لَهُ، وَقَالَ: اسْتَغْفِرُوا لَهُ، وَقَدْ دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَهُوَ يَسْعَى. ثُمَّ أَخَذَ الرَّايَةَ حَضْرَةُ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالَى عَنْهُ، فَمَضَى حَتَّى اسْتُشْهِدَ، فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدَعَا لَهُ، وَقَالَ: اسْتَغْفِرُوا لَهُ، وَقَدْ دَخَلَ الْجَنَّةَ، فَـهُوَ يَطِيرُ فِيهَا بِجَنَاحَيْنِ حَيْثُ شَاءَ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ ‘মুতা’ নামক স্থানে মিলিত হলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিম্বর শরীফে উঠে বসলেন। তখন উনার কাছে শাম দেশের (মুতার যুদ্ধের) অবস্থা স্পষ্ট প্রকাশিত হচ্ছিল। তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের যুদ্ধের অবস্থা দেখতে ছিলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, (যুদ্ধে) হযরত যায়িদ ইবনে হারিছাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পতাকা ধরলেন, অতঃপর তিনি শহীদ হয়ে গেলেন। তাই তিনি উনার উপর জানাযা নামায পড়লেন এবং উনার জন্য দোয়া মুবারক করলেন এবং বললেন, আপনারাও উনার জন্য ইস্তিগফার করুন। তিনি জান্নাতে চলে গেছেন, আর তা খুবই দ্রƒত। অতঃপর হযরত জা’ফর ইবনে আবু তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পতাকা ধরলেন অতঃপর তিনিও শহীদ হয়ে গেলেন। তাই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার উপর জানাযা নামায পড়লেন এবং উনার জন্য দোয়া মুবারক করলেন এবং বললেন, আপনারাও উনার জন্য ইস্তিগফারের দোয়া করুন। তিনি তাড়াতাড়ি জান্নাতে চলে গেছেন এবং সেখানে দুটি ডানা নিয়ে যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়বেন।”
আল্ মাবসূত লিস্ সারাখসী ২য় খণ্ড ৬৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
رُوِيَ عَنْ حَضْرَتِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْـهُمَا، وَحَضْرَتِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ، أَنَّـهُمَا فَاتَـتْـهُمَا الصَّلَاةُ عَلَى الْجَنَازَةِ، فَـلَمَّا حَضَرَا مَا زَادَا عَلَى الْاِسْتِغْفَارِ لَهُ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। উনাদের দু’জনের একবার জানাযা নামায ফউত হলো। যখন উনারা (নামাযের পর মাইয়্যিতের কাছে) উপস্থিত হলেন তখন মাইয়্যিতের জন্য অতিরিক্ত ইস্তিগফার করলেন।”
আল মাবসূত লিস সারাখসী ২য় খণ্ড ৬৭ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-
حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنْ سَلَامٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ فَاتَـتْهُ الصَّلَاةُ عَلٰى جَنَازَةِ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَـلَمَّا حَضَرَ قَالَ: إِنْ سَبَـقْتُمُونِي بِالصَّلَاةِ عَلَيْهِ فَلَا تَسْبِقُونِي بِالدُّعَاءِ لَهُ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জানাযা পাননি। (জানাযার পর) তিনি যখন (সেখানে) উপস্থিত হলেন তখন বললেন, “আপনারা জানাযা নামায যদিও আমার পূর্বে পড়ে ফেলেছেন, তবে দোয়ার ক্ষেত্রে আমার থেকে অগ্রগামী হবেন না।”
মীযানুল্ কুবরা লিশ্ শা’রানী কিতাবে উল্লেখ আছে-
قَالَ الْاِمَامُ أَبُو حَنِيفَةَ رَحْمَهُ اللهِ عَلَيْهِ: إِنَّ التَّـعْزِيَةَ سُنَّةٌ قَـبْلَ الدَّفْنِ لَا بَعْدَهُ؛ لِأَنَّ شِدَّةَ الْحُزْنِ تَكُونُ قَـبْلَ الدَّفْنِ، فَـيُـعَزَّى وَيُدْعَى لَهُ
অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ হানীফাহ ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে, দাফনের পরে নয় বরং দাফনের আগে সমবেদনা জ্ঞাপন করা সুন্নত। কেননা, দাফনের আগে বিরহ-বেদনা অনেক বেশী থাকে। তাই, (দাফনের পূর্বে) শোক প্রকাশ করবে এবং মাইয়্যিতের জন্য দোয়া করবে।”
আল বাহরুর রায়িক্ব শরহে কানযুদ্ দাক্বায়িক্ব ২য় খণ্ড ১৮৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
وَعَنِ الْفَضْلِى لَابَأْسَ بَهٖ
অর্থ: হযরত ফযলী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে যে, জানাযা নামাযের সালামের পর দোয়া করতে কোন অসুবিধা নেই অর্থাৎ জায়িয।”
ফিক্বাহ্র বিখ্যাত কিতাব ত্বাহত্বাবীতে উল্লেখ আছে-
وَإِنَّ أَبَا حَنِيفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ لَمَّا مَاتَ، فَخُتِمَ عَلَيْهِ سَبْـعُونَ أَلْفًا قَـبْلَ الدَّفْنِ
অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন ইন্তিকাল করেন, তখন দাফনের পূর্বে উনার জন্য সত্তর হাজার বার কুরআন শরীফ খতম করা হয়।”
নাহরুল ফায়িক্ব শরহে কানযুদ্ দাক্বায়িক্ব কিতাবে উল্লেখ আছে-
وَيَـقُولُ بَـعْدَ صَلَاةِ الْجَنَازَةِ: اَللّٰهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تَـفْتِنَّا بَعْدَهُ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ
অর্থ: “জানাযা নামাযের পর পড়বে অথার্ৎ এ বলে দোয়া করবে “আয় মহান আল্লাহ্ পাক! (ইন্তিকাল জনিত কারণে ধৈর্য ধারণের) ছওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না। আর ইন্তিকালের পর আমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলবেন না। আর আমাদের ও তার (মৃত ব্যক্তির) গুণাহ্খতা ক্ষমা করুন।”
কাশফুল্ হাক্বায়িক্ব শরহে কানযুদ্ দাক্বায়িক্ব ১ম খণ্ড ৩৩৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
بعضے حضرات نے سلام کے بعد یہ دعاء بھی لکھی ھے. کہ یہ پڑھے. اللھم ربنا اتنا فی الد نیا حسنۃ وفی الاخرۃ حسنۃ وقنا برحمتک عذاب القبر وعذاب النار
অর্থ: “কোন কোন হযরত উলামায়ে কিরাম জানাযা নামাযের সালামের পর এ দোয়া পড়ার কথা লিখেছেন-
اَللّٰهُمَّ رَبَّـنَا اٰتِنَا فِي الدُّنْـيَا حَسَنَةً، وَّفِي الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً، وَّقِنَا بِرَحْمَتِكَ عَذَابَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ
অর্থাৎ “আয় আমাদের রব তায়ালা! আমাদেরকে দুনিয়ার মধ্যে এবং আখিরাতের মধ্যে কল্যাণ (ভালাই) দান করুন। আর আপনার রহমতের দ্বারা আমাদেরকে কবরের আযাব এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”
যাদুয্ আখিরাহ ৯ম বাব ১১২ পৃষ্ঠা এবং হাদিয়াতুল মুছাল্লীন ১১২ ও ১১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
ودر روای تے ست لہ رسول علیہ السلام بر مردہ نماز گزا ردپس بگقت اللھم ان فلان بن فلان فی ذمتک دخل فی جوارک فقہ من فتنۃ القبر وعذاب النار وانت اهل االو فاء والحق اللہم اغفر لہ وارحمہ انک انت الغفور الرحیم
অর্থ: “কোন কোন রিওয়ায়েতে আছে যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানাযা নামায পড়ে এ দোয়া করেছেন-
اَللّٰهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ، وَدَخَلَ فِي جِوَارِكَ، فَقِهِ مِنْ فِتْـنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ، وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ، اللَّهُمَّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
অর্থাৎ “আয় মহান আল্লাহ্ পাক! অমুকের পুত্র অমুক আপনার জিম্মাদারী ও হিফাযতে রয়েছে। আপনি তাকে কবরের পরীক্ষা ও দোযখের আযাব হতে রক্ষা করুন। আপনি ওয়াদা ও হক্ব পূরণকারী। সুতরাং, আপনি তাকে মাফ করে দিন ও তার প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও মহা দয়াবান।”
ফিক্বাহ্র বিখ্যাত কিতাব শরহে বরযখে উল্লেখ আছে-
وخواندن قران مجید بر میت ودعادر حق او قبل بر داشتن جنازہ وپیش ازدفن سبب نجات از احوال اخرت وعذاب قبراست
অর্থ: “জানাযা উঠিয়ে নেয়া ও দাফন করার পূর্বে অর্থাৎ জানাযা নামাযের পরে মাইয়্যিতের জন্যে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা ও মুনাজাত করা আখিরাতের কঠিন অবস্থা এবং কবর আযাব হতে পরিত্রাণ পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম।”
তুহফাতুল গাফিলীন ৩য় পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
اچھا طریقہ ثواب رسانی کا مردہ کے حق مین یہ ھیں کہ قبل دفن جس قدر ھو ستکے کلمہ یاقران شریف یا درود یا کوئی سورت اپرہ کر ثواب بخشے
অর্থ: “মাইয়্যিতের জন্য দোয়া করার উত্তম পদ্ধতি হলো, দাফন করার পূর্বে যতটুকু সম্ভব দোয়া, দুরূদ শরীফ, তাসবীহ, সূরা, ক্বিরয়াত পাঠ করে বখশিয়ে দেয়া।”
জাওয়াহিরুন্ নাফীস শরহে দুররুল ক্বাইস ১৩২ পৃষ্ঠা ও নাফিউল মুসলিমীন কিতাবে উল্লেখ আছে-
وَفِي نَافِعِ الْمُسْلِمِينَ: رَجُلٌ رَفَعَ يَدَيْهِ بِدُعَاءِ الْفَاتِحَةِ لِلْمَيِّتِ قَـبْلَ الدَّفْنِ جَازَ
অর্থ:“নাফিউল মুসলিমীন” কিতাবে উল্লেখ আছে যে, মাইয়্যিতের জন্য দাফনের পূর্বে (অর্থাৎ জানাযা নামাযের পর) উভয় হাত তুলে মুনাজাত করা জায়িয।”
কাশফুল গিত্বা, খুলাছাতুল্ ফাত্হ কিতাবে উল্লেখ আছে-
فاتحہ ودعا بر ائے میت پیش ازدفن درست است وھمیں است بروایت معمولہ کذا فی خلاصۃ الفتح
অর্থ: “দাফন করার পূর্বে অর্থাৎ জানাযার পর মাইয়্যিতের জন্য ফাতিহা শরীফ পাঠ ও দোয়া করা জায়িয। এ রিওয়ায়েত অনুযায়ী আমল করা হয়েছে। খুলাছাতুল্ ফাত্হ’ নামক কিতাবে অনুরূপ আছে। খাইরুল ফতওয়া ৩য় খণ্ড ২৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
نماز جنازہ کے بعد صفیں توڑ کر دعا مانگنا جائز ھے فرض واجب نھیں، حدیث شریف میں ھے اذا صلیتم علی المیت فاخلصوا لہ الدعاء.
অর্থ: “নামাযে জানাযার কাতার ভঙ্গ করে দোয়া করা জায়িয আছে। তবে ফরয, ওয়াজিব নয়। পবিত্র হাদীছ শরীফে আছে, অর্থাৎ যখন তোমরা মাইয়্যিতের উদ্দেশ্যে নামায পড় তখন তার জন্য ইখলাছের সাথে দোয়া করো।”
উপরোক্ত দলীলভিত্তিক বর্ণনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, ফিক্বাহ্র বহু কিতাবেই “জানাযার পর দোয়া করাকে জায়িয বলা হয়েছে।” শুধু তাই নয় মুনাজাত বিরোধীদের মুরুব্বী দেওবন্দীদের কিতাবেও “জানাযার পর দোয়াকে জায়িয” বলা হয়েছে।
অতএব প্রতিভাত যে, জানাযার পর দাফনের পূর্বে মৃত ব্যক্তির জন্যে দোয়া করা জায়িয। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসরণীয় ফক্বীহ ও ইমামগণের সঠিক ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া। এ ব্যাপারে বিস্তারিত ফতওয়া জানতে হলে যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১০১ থেকে ১১১ পর্যন্ত সংখ্যা পাঠ করুন।
মুহম্মদ ঈমান আলী
সাভার, ঢাকা
সুওয়াল: পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ কি? এ সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাওয়াব: ‘আখিরি’ শব্দটির অর্থ- শেষ। আর ‘চাহার শোম্বাহ’ শব্দ এর অর্থ- আরবিয়া বা বুধবার। ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ বলতে ছফর মাসের শেষ আরবিয়া বা বুধবারকে বুঝানো হয়ে থাকে। মূলত এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহা খুশির দিন।
এ মুবারক দিনটি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, পবিত্র ১১ হিজরী সনের পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ উনার তৃতীয় সপ্তাহে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত করার বিষয়ে পবিত্র ওহী মুবারক করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত মুবারক করেন এবং পবিত্র যিয়ারত মুবারক শেষে উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারকে মারীদ্বী বা অসুস্থতা শান মুবারক গ্রহণ করেন। এর ৮/১০ দিন পর তিনি আবার সুস্থতা বা ছিহ্হাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। অতঃপর পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার তৃতীয় সপ্তাহে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী মুবারক যিয়ারত মুবারক করার বিষয়ে পবিত্র ওহী মুবারক করেন। অতঃপর তিনি পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী যিয়ারত মুবারক করেন। পবিত্র যিয়ারত মুবারক শেষে তিনি পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন এবং তিনি ‘ওয়াহ রা’সাহু’ ‘ওয়াহ রা’সাহু’ অর্থাৎ আমার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারক, নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারক একথা বলে উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারক উনার মারীদ্বী শান মুবারক উনার কথা উল্লেখ করেন এবং পর্যায়ক্রমে মারীদ্বী শান মুবারক বৃদ্ধি পেতে থাকে। অতঃপর এই পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার ৩০ তারিখ ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার দিন সকালে তিনি ছিহ্হাতী শান মুবারক গ্রহণ করেন। ফলে ভোরবেলা ঘুম মুবারক থেকে জেগে তিনি বললেন, ‘আমার নিকট কে আছেন?’ এ কথা শুনামাত্রই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ছুটে আসলেন এবং বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি হাযির আছি।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম! মারীদ্বী শান মুবারক ত্যাগ করে ছিহহাতী শান মুবারক গ্রহণ করার ফলে শরীর মুবারক বেশ হালকা মনে হচ্ছে।’ সুবহানাল্লাহ! এ কথা শুনে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং তাড়াতাড়ি পানি এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল হুদা মুবারক অর্থাৎ ছের মুবারক ধুয়ে দিলেন এবং সমস্ত নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ জিসিম মুবারক উনার মধ্যে পানি মুবারক ঢেলে ভালোভাবে গোসল মুবারক করিয়ে দিলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে কাপড় মুবারক ভিজিয়ে নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ জিসিম মুবারক মুছে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! এ সংবাদ পেয়ে অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা খিদমত মুবারকে হাযির হলেন।
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম! হুজরা শরীফে কোনো খাবার আছে কি?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘জী-হঁ্যা।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘আমার জন্য তা নিয়ে আসুন আর আমার আওলাদ অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকেসহ অন্যান্য আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে খবর দিন। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকেও নিয়ে আসতে বলুন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি সকলকে সংবাদ দিলেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিসহ অন্যান্য আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সবাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে এসে হাযির হলেন।
অতঃপর রুটি-গোশত ও সিরকা মুবারক এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে পরিবেশন করা হলো। তিনি সকলকে নিয়ে খাদ্য মুবারক গ্রহণ করে খুশি মুবারক প্রকাশ করলেন। সংবাদ শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও বাইরে এসে হাযির হন। কিছুক্ষণ পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইরে এসে উনাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আমার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর আপনাদের অবস্থা কিরূপ হবে?’ এ কথা শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ব্যাকুলচিত্তে কান্না শুরু করলেন। উনাদের এ অবস্থা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে সান্ত্বনা মুবারক দান করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘদিন মারীদ্বী শান মুবারক গ্রহণ করার পর ছিহ্হাতী শান মুবারক প্রকাশ করে মসজিদে নববী শরীফ তাশরীফ মুবারক আনেন এবং নামাযের ইমামতি করেন এই অপার আনন্দে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্স্নাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র খিদমত মুবারকে হাদিয়া পেশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
বর্ণিত রয়েছে যে, খুশি মুবারক প্রকাশ করে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাত হাজার দীনার, হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পাঁচ হাজার দীনার, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি দশ হাজার দীনার, হযরত ইমামুল আউওয়াল কার্রামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তিন হাজার দীনার, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একশত উট ও একশত ঘোড়া মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হাদিয়া করতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর এ কারণেই পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তভুর্ক্ত। সুবহানাল্লাহ! উনাদেরকে অনুসরণ করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন –
وَالَّذِينَ اتَّـبَـعُوهُمْ بِاحْسَانٍ رَّضِىَ الله عَنْـهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
অর্থ: “যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِى وَسُنَّةِ الْـخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْـمَهْدِيِّينَ
অর্থ: “তোমাদের জন্য আমার সুন্নত মুবারক এবং আমার হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত মুবারক পালন করা অপরিহার্য র্কতব্য।” (মিশকাত শরীফ)
মূলকথা হলো- পবিত্র ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ অর্থাৎ পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া শরীফ বা বুধবার। যা কায়িনাতবাসী সকলের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশের দিন। এ উপলক্ষে সকলের জন্য করণীয় কর্তব্য হচ্ছে- উক্ত মুবারক দিনে খুশি প্রকাশ করে সাধ্যমতো হাদিয়া পেশ করা, গোসল করা, ভালো খাওয়া, বেশি বেশি পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করা ও পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা। এর সাথে সাথে দান-ছদক্বা করা।
আর বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিনটি পালনের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ মুবারক দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।
কেউ কেউ ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ উদযাপন করাকে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে আখ্যায়িত করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! যা সম্মানিত শরীয়ত উনার বিরোধী ও কুফরী। বরং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণে ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ উপলক্ষে সাধ্যমত গরিব-মিসকীনদেরকে দান-খয়রাত করা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বেশি বেশি ছলাত-সালাম মুবারক, পবিত্র মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলত ও কল্যাণ হাছিলের কারণ। {দলীল: সমূহ সীরাতগ্রন্থ।}
মুহম্মদ আতিকুজ্জমান
রংপুর
সুওয়াল : কোন মাস ও দিনকে অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা এবং কোন রোগ-ব্যাধিকে ছেঁায়াচে বা সংক্রামক মনে করার ব্যাপারে সম্মানিত শরীয়তে কোন বিধি-নিষেধ আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাওয়াব : কোন মাস ও দিনকে অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা কুফরী এবং একইভাবে কোন রোগ-ব্যাধিকে সংক্রামক বা ছেঁায়াচে মনে করাটাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
বর্ণিত রয়েছে, আইয়্যামে জাহিলিয়াতে ছফর মাসকে অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা হতো। মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের সে ভ্রান্ত আক্বীদা-বিশ্বাসের মূলোৎপাটন করেন।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِى هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا عَدْوٰى وَلَا هَامَةَ وَلَا نَـوْءَ وَلَا صَفَرَ
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) কারণে বৃষ্টি হওয়াটাও ভিত্তিহীন এবং ছফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ-৩৯১, শরহুস্ সুন্নাহ্-৬/২৭১)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عَنْ رَّسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَلطِّيَـرَةُ شِرْكٌ قَالَهُ ثَلَاثًا
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“যে কোন বিষয়কেই অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তিনি এ বাক্যটি তিনবার উল্লেখ করেছেন।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী শরীফ, মাওয়ারিদ, মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল-১/৪৩৮, শরহুস্ সুন্নাহ্-৬/২৭৪, মিশকাত শরীফ-৩৯২, শরহুত্ ত্বীবী-৮/৩২)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ عَدْوٰى وَلَا صَفَرَ وَلَا هَامَةَ فَـقَالَ أَعْرَابِيٌّ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا بَالُ الْإِبِلِ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّـهَا الظِّبَاءُ فَـيُخَالِطُهَا الْبَعِيـرُ الْأَجْرَبُ فَـيُجْرِبُـهَا فَـقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَنْ أَعْدَى الْأَوَّلَ.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোন রোগই সংক্রামক নয়। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই এবং ছফর মাসের মধ্যেও অশুভ কিছু নেই। তখন এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উটের এ অবস্থা হলো কেন, যে উটগুলো ছিল জংলী হরিণের মত তরু-তাজা, যেগুলো ময়দানে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতো। এমতাবস্থায় কোথা হতে এক চর্মরোগাক্রান্ত উট এসে সে উটের পালে মিলিত হলো এবং উটগুলোকে চর্মরোগী বানিয়ে দিলো। ফলে এ উটগুলোও খুজলীযুক্ত হয়ে গেলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তাহলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা থেকে আসলো? অর্থাৎ প্রথম উটটি যেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছিল ঠিক পরবর্তী উটগুলোও সেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছে।” (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস্ সুন্নাহ্-৬/২৬৫)
স্মরণীয় যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের পাঠ্যসূচিতে ইসলামী আক্বায়িদ সংক্রান্ত ইলিম না থাকার কারণে কোন কোন চিকিৎসক কিছু কিছু রোগ সম্পর্কে যেমন- চর্মরোগ, খুজলী-পাঁচড়া, কুষ্ঠ, কলেরা-বসন্ত ইত্যাদিকে সংক্রামক বা ছেঁায়াচে বলে অভিমত ব্যক্ত করে থাকে। যা সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কাজেই, এরূপ ভ্রান্ত ও কুফরী আক্বীদা হতে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তভুর্ক্ত।
তবে ভাল লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা করার অবকাশ আছে। অর্থাৎ তা মুস্তাহাব-সুন্নত মুবারক। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِى هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُولُ لَا طِيَـرَةَ وَخَيْـرُهَا الْفَألُ قَالُوا وَمَا الْفَألُ قَالَ الْكَلِمَةُ الصَّالِحَةُ يَسْمَعُهَا أَحَدُكُمْ
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি শুনেছি যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোন বিষয়কে অশুভ কুলক্ষণে মনে করোনা, তবে শুভ লক্ষণ আছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! শুভ লক্ষণ কি? তখন তিনি বললেন, উত্তম কথা, যা তোমাদের মধ্য হতে কেউ শুনতে পায়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, শরহুত্ ত্বীবী-৮/৩১৩, শরহুস্ সুন্নাহ্-৬/২৭২)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে সমাজে আরো যেসব কুফরীমূলক ভ্রান্ত আক্বীদা ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে তা হচ্ছে: (১) রাস্তা চলার সময় কোন প্রাণী যদি ডান দিক থেকে রাস্তা অতিক্রম করে বাম দিকে যায় তাহলে গমন শুভ, কল্যাণকর হবে। আর যদি বিপরীত দিকে যায় তাহলে কুলক্ষণে বা অকল্যাণ হবে, এরূপ বিশ্বাস করা। (২) শান্তির প্রতীক বা শান্তি লাভের আশায় পাখি উড়িয়ে দেয়া।
(৩) ঘুম থেকে উঠে পেঁচা দেখা কিংবা রাতে পেঁচার ডাক শুনলে কুলক্ষণের পূর্বাভাস মনে করা।
(৪) অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি কোন বন্ধ্যা ব্যক্তিকে দেখতে পায়, কিংবা খালি কলস দেখতে পায় তাহলে সারাদিন অকল্যাণভাবে অতিবাহিত হবে বা কোন কল্যাণ অর্জিত হবেনা বলে ধারণা করা।
(৫) সাবত বা শনিবার এবং ছুলাছা বা মঙ্গলবার ইন্তিকাল করাকে কুলক্ষণ এবং জাহান্নামী হওয়ার আলামত বলে মনে করে। যা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা বা কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত। কেননা হযরত নবী আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের পরে শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিদ্দীক্বে আকবর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি ছুলাছা বা মঙ্গলবার দিন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, যথাক্রমে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা সাবত বা শনিবার দিন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
(৬) পরীক্ষার পূর্বক্ষণে ডিম বা কলা খাওয়াকে পরীক্ষা পাশের প্রতিবন্ধক মনে করা। (৭) সময়কে গালি দেয়া, জোরে বাতাস প্রবাহিত হতে দেখলে বাতাসকে গালি দেয়া, আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘ থাকতে দেখলে মেঘকে গালি দেয়া ইত্যাদি।
অতএব, প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে নিজেদের ঈমানকে হিফাযত করতে হলে যাবতীয় কুফরী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকাটা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।
মুহম্মদ আনোয়ার হুসাইন
সদর, চাঁদপুর
সুওয়াল : সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতকে কেন্দ্র করে অনেকে জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দোষারোপ করে থাকে। এ ব্যাপারে সঠিক ফায়ছালা জানতে বাসনা রাখছি।
জাওয়াব: কোন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যেমন কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই। তদ্রƒপ কোন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই।
এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কিতাব কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ أُخْرٰى
অর্থ: “একজনের পাপের বোঝা অপরজন বহন করবেনা।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নং ১৬৪)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্তানের অপরাধের জন্য পিতাকে এবং পিতার অপরাধের জন্য সন্তানকে দায়ী করা বৈধ নয়। যেমন, কাবিলের অপরাধের জন্য হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম উনাকে, কেনানের অপরাধের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম উনাকে দায়ী করা বৈধ নয়। তেমনি ইয়াযীদের অপরাধের জন্য হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দায়ী করাও বৈধ নয়। বরং সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لِيَغِيظَبِهِمُ الْكُفَّارَ
অর্থ: “কাফিররাই উনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ্ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নং ২৯)
আর এই আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ اَنَسٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ مَنْ غَاظَهٗ أَصْحَابَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـهُوَ كَافِرٌ
অর্থ: “হযরত মালিক ইবনে আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে কাফির।” (নাসীমুর রিয়াদ্ব)
এখানে একটা বিষয় মনে রাখা অপরিহার্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাওয়াসা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হৃদয় বিদারক শাহাদাতী শান মুবারক মুসলিম উম্মাহ’র অন্তর ব্যথাতুর হবে তা চরম সত্য কথা এবং এটি ঈমান মজবুতীর আলামতও বটে। কিন্তু এজন্য হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জলীলুল ক্বদর ছাহাবী উনাকে দোষারোপ করা কস্মিনকালেও সম্মানিত শরীয়ত সম্মত হতে পারে না।
মূলত হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শুধু ছাহাবীই ছিলেন না, বরং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, জলীলুল ক্বদর ছাহাবী ও খলীফা ছিলেন। সুতরাং হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিসহ সকল হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে সাবধানে কথা বলতে হবে। উনাদের সকলের প্রতিই সুধারণা পোষণ করতে হবে, মুহব্বত করতে হবে এবং উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণও করতে হবে। আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, উনাদের সমালোচনা করা ও নাক্বিছ বলা হতে বিরত থাকতে হবে। নচেৎ ঈমানহারা হয়ে চির জাহান্নামী হতে হবে।