হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৬৫) সততা বা আমানতদার বা বিশ্বস্ততার ফযীলত ও গুরুত্বহ (৩)

সংখ্যা: ৩০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

পূর্ব প্রকাশিতের পর

মুজাদ্দিদে যামান, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল হযরত বড়পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললো,  আপনি আমাকে তওবা করান। বাইয়াত করে আপনার মুরীদগণের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। আমি ওয়াদাবদ্ধ হচ্ছি যে, কোনদিন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ-নির্দেশ মুবারক অমান্য করব না। আর কোনদিন ডাকাতিও করবো না।

সর্দারের এ অবস্থা দেখে অন্যান্য ডাকাতদেরও মনের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল। তারা সবাই তওবা করে বাইয়াত হলো। বললো, আজ থেকে আমরাও ডাকাতি করবো না। কাউকে কষ্ট দিবো না। অতঃপর তারা সবাই সর্দারকে লক্ষ্য করে বললো, এতদিন যেমন অন্যায় ও খারাপ কাজে আপনি আমাদের সর্দার ছিলেন তেমনি এখন থেকে নেক ও সৎকাজের ব্যাপারেও আপনি আমাদের সর্দার থাকবেন। সর্দার তাদের এ প্রস্তাব মেনে নিল এবং কাফেলার লোকদের থেকে লুণ্ঠিত যাবতীয় মালামাল ও টাকা-পয়সা ফেরত দিয়ে নিজেদের পথে চলে গেল। সত্য কথা বলার কারণে এভাবেই একটি পথভ্রষ্ট ডাকাত দল হিদায়েতের নূরে নূরান্বিত হয়ে সঠিক পথের সন্ধান পেল। ইতিহাস সাক্ষী পরবর্তীকালে তারা সবাই মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ ওলীআল্লাহ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ্!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খতামুন্নাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

الصِّدْقُ طُمَأْنِينَةٌ، وَالْكَذِبُ رِيبَةٌ

অর্থ: সততা ইতমিনান বা প্রশান্তি দেয়, আর মিথ্যা সন্দেহ-ফিতনা সৃষ্টি করে। (তিরমিযী শরীফ)

এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, একদা ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জালিম শাসক হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের সৈন্যদের জুলুমের স্বীকার হন। পরে তিনি উনার মাহবূব মুরীদ সাইয়্যিদুল মুতাওয়াককিলীন হযরত হাবীব আজমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট গেলেন। সৈন্যরাও উনার প্রায় পিছনে পিছনে ছুটে আসছিল। সাইয়্যিদুল মুতাওয়াককিলীন হযরত হাবীব আজমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি মসজিদের দিকে ইশারা করে উনাকে বললেন, মসজিদে প্রবেশ করুন।

একটু পরে সৈন্য-সামন্ত এসে হযরত হাবীব আজমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কাছে জিজ্ঞেস করল, ইমাম ছাহেব কোথায় গেলেন? সাইয়্যিদুল মুতাওয়াককিলীন হযরত হাবীব আজমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জবাব দিলেন তিনি মসজিদের ভিতরে আছেন? সৈন্যরা উনাকে মসজিদে তন্ন তন্ন করে তালাশ করল। কিন্তু কোনো সন্ধান পেল না। তারা আবার হযরত হাবীব আজমী রহমতুল্লাহি আলাইহির কাছে জিজ্ঞেস করল, সত্যি বলুন, তিনি কোথায় আছেন? তিনি জবাব দিলেন, আমি তো বলেছি, তিনি মসজিদের ভিতরেই আছেন। উনার কথা শুনে তারা পুনরায় মসজিদের মধ্যে ভাল করে তালাশ করে এবারও উনাকে দেখতে না পেয়ে বিরক্ত এবং ক্রুদ্ধ মেজাজে হযরত হাবীব রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বলল, জনাব! হাজ্জাজ আপনাদের সাথে যে দুর্ব্যবহার করে, তা ঠিকই আছে। আপনারা তার উপযুক্তই বটে। মসজিদের ভিতর উনার কোন নাম-নিশানা নেই, অথচ আপনি বলছেন তিনি মসজিদে আছেন। সাইয়্যিদুল মুতাওয়াক্কিলীন হযরত হাবীব আজমী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আমি স্বচক্ষে দেখেছি, তিনি মসজিদে প্রবেশ করেছেন। এখন তোমরা উনাকে দেখতে না পেলে আমি আর কি করতে পারি, বলো।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৬৫)

পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে

পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৬৪) বিশুদ্ধ নিয়ত এবং তার ফযীলত ও গুরুত্ব (৮)

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৬৩) বিশুদ্ধ নিয়ত এবং তার ফযীলত ও গুরুত্ব (৭)