মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে

সংখ্যা: ৩০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

প্রতি আরবী মাসের ২৯ তারিখে খালী চোখে চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে কিফায়া, সারাবিশ্বে একদিনে রোযা ও ঈদ পালন অসম্ভব,চাঁদ নিয়ে সউদী ওহাবী ইহুদী চক্রান্তের মুখোশ উন্মোচন ও  তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (প্রথম পর্ব)

 [সমস্ত প্রশংসা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং অশেষ-অসীম সম্মানিত ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ। মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ রহমত, বরকত, সাকীনাহ, দয়া-দান, ইহসান মুবারক উনাদের কারণে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগ উনার তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩.নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬.মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯.ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪.প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে র্ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮.নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০.শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) ২২.হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪.হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়ত উনার নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২২০তম সংখ্যা-চলমান), ৩৪. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৩৮-চলমান), ৩৫. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৬৪-২৮৬), ৩৬. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৬৫-চলমান), ৩৭. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া” (২৬৬-চলমান), ৩৮. মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ ও সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৮৭-৩০৫) পেশ করার পর-

৩৯তম সম্মানিত ফতওয়া

মুবারক হিসেবে

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ ও সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- “প্রতি আরবী মাসের ২৯ তারিখে খালী চোখে চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে কিফায়া, সারাবিশ্বে একদিনে রোযা ও ঈদ পালন অসম্ভব, চাঁদ নিয়ে সউদী ওহাবী ইহুদী চক্রান্তের মুখোশ উন্মোচন ও  তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

চাঁদ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে

ফতওয়া দেয়ার কারণ

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

 يَسْأَلُوْنَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ ، قُلْ هِيَ مَواقِيْتُ لِلنَّاسِ وَالْـحَجِّ

অর্থ: “ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার নিকট মানুষেরা চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে, আপনি জানিয়ে দিন, এটা হচ্ছে মানুষের জন্য ইবাদত উনার সময় নির্ধারক এবং সম্মানিত হজ্জ উনার সময় ঠিক করার মাধ্যম।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৯)

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে বাঁকা চাঁদকে সময় নির্ধারণ করার মাধ্যম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অমাবস্যার চাঁদ, জোছনার চাঁদ, অর্ধ চন্দ্র, সূর্যাস্তের কিছু পূর্বে ডুবে যাওয়া চাঁদ, নির্দিষ্ট বয়সের চাঁদ এসবের উল্লেখ করা হয়নি। অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মনগড়া ব্যাখ্যা করে আজকাল ইহুদীদের মদদপুষ্ট খারিজী, রাফিজী, সালাফী, ওহাবী গং তাদের বানানো নিয়মে মাস গণনা করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

 عَنْ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا اُمَّةٌ أُمِّيَّةٌ لَا نَكْتُبُ وَلَا نَحْسِبُ الشَّهْرُ هٰكَذَا وَهٰكَذَا وَهٰكَذَا وَعَقَدَ الْإِبْهَامَ فِي الثَّالِثَةِ ثُمَّ قَالَ الشَّهْرُ هٰكَذَا وَهٰكَذَا وَهٰكَذَا يَعْنِي تَمَامَ الثَّـلٰثِيْنَ يَعْنِي مَرَّةً تِسْعًا وَعِشْرِينَ وَمَرَّةً ثَـلْثِينَ

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মত সহজ সরল। উনাদের জন্য মাসের হিসাব রাখা কষ্টকর হবে। তাই মাস হয় এই, এই, এইতে (এই বলে তিনি দুই নূরুল মাগফিরাত মুবারক বা হাত মুবারক তিনবার দেখালেন) এবং তৃতীয় বারে (এক নূরুল মাগফিরাত মুবারক বা হাত মুবারকের) বৃদ্ধা আঙ্গুল মুবারক বন্ধ রাখলেন (অর্থাৎ ঊনত্রিশ দিনে)। অতঃপর ইরশাদ মুবারক করলেন, মাস হয় এই, এই ও এইতে অর্থাৎ পূর্ণ ত্রিশ দিনে। অর্থাৎ একবার ঊনত্রিশ দিন আরেকবার ত্রিশ দিন দেখালেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

সুতরাং চন্দ্রমাস বা আরবী মাস ২৯ দিন অথবা ৩০ দিনে হয়ে থাকে। কোন মাসে যদি কোন কারণবশতঃ ২৯তম দিন শেষে সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না যায় তবে উক্ত মাস ৩০ দিন পূর্ণ করার পর পরবর্তী মাস শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْـرَةَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُوْمُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِيْنَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা রোযা রাখ (রমাদ্বান শরীফ মাস উনার) চাঁদ দেখে এবং রোযা ভঙ্গ করো (শাওওয়াল শরীফ মাস উনার) চাঁদ দেখে। যদি (২৯ তারিখ) মেঘ অথবা অন্য কোন কারণে তোমাদের নিকট চাঁদ দেখা না যায় তবে শা’বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে। (বুখারী শরীফ; মুসলিম শরীফ; মিশকাত শরীফ ১৭৪; শরয়ী তাক্বউইম-১৪৩৫ হিজরী, পৃষ্ঠা-৮)

কাজেই, প্রতি মাসেই চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে কিফায়া। প্রতি মাসেই মুসলমানদের জন্য রয়েছে বিশেষ বিশেষ কিছু দিন এবং রাত। আর সে কারণে চাঁদ না দেখে মনগড়া তারিখে আরবী মাস শুরু করা কবীরা গুনাহ। এখানে একটি বিষয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, প্রতি মাসেই চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে কিফায়া। কিন্তু সঠিক তারিখে মাস শুরু করা ফরয। কেননা সঠিক তারিখে মাস শুরু না হলে অনেক ফরয-ওয়াজিব ইবাদত পালনে ত্রুটি হবে। যেমন পবিত্র রোযা, পবিত্র হজ্জ, পবিত্র ছলাতুল ঈদাইন ইত্যাদি। কাজেই প্রতি মাসে নতুন চাঁদ তালাশ করা, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ওয়াজিবে কিফায়া। আর চাঁদ না দেখে মনগড়া তারিখে পবিত্র রোযা শুরু করা ও পবিত্র ঈদ পালন করা কঠিন কবীরা গুনাহ।

সউদী ওহাবী সরকারের বানানো মনগড়া বর্ষপূঞ্জির অনুসরণের কারণে প্রতি বছর পবিত্র হজ্জ বাতিল হচ্ছে, পবিত্র রোযা নষ্ট হচ্ছে, পবিত্র ঈদ বাতিল হচ্ছে। সউদী আরব ছাড়াও অনেক মুসলিম দেশেও চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু হচ্ছে না। চাঁদের তারিখ হের-ফের করে সহজেই মুসলমানদের আমল নষ্ট করা যায়। তাই মুনাফিকদের সাথে নিয়ে কাফির-মুশরিকরা সারা বিশ্বে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করার সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত নির্দেশিত পদ্ধতির পরিবর্তে তাদের বানানো মনগড়া পদ্ধতি চাপিয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে এখনও বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশের মুসলমানগণ সম্পূর্ণরূপে উদাসীন। মুসলমানদের আমল হিফাজতের জন্য, সচেতনতার জন্য আমাদের দেশে এবং বিদেশে চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে আরবী মাস শুরু করার অভিপ্রায় নিয়েই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে- “আন্তর্জাতিক মাজলিসু রু’ইয়াতিল হিলাল”। মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘মাজলিসু রু’ইয়াতিল হিলালের’ এই কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কবুল করুন। আমীন।

উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত আদেশ-নিষেধ সমূহ থেকে যা স্পষ্ট তা হচ্ছে- ১) চাঁদ হলো মানুষের ইবাদতের সময় নির্ধারক। ২) সম্মানিত হজ্জ উনার সময় ঠিক করার মাধ্যম। ৩) চাঁদ দেখে রোযা রাখতে হবে ও রোযা ভাঙতে হবে অর্থাৎ সকল মাস চাঁদ দেখে গণনা করতে হবে। ৪) ২৯ আকাশ মেঘলা থাকলে মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করতে হবে। ৫) সর্বোপরি মুসলমানদের জন্য হিলাল বা বাঁকা চাঁদ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

 وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَـرُدُّوْنَكُم مِّنْ بَعْدِ إِيْمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ أَنْـفُسِهِمْ

অর্থ: “আহলে কিতাব অর্থাৎ ইহুদী-নাছারা তথা কাফির-মুশরিকরা প্রতিহিংসাবশত চায় তোমরা (মুসলমানরা) ঈমান আনার পর তোমাদেরকে কাফিরে পরিণত করতে।” নাউযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৯)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

 عَنْ حَضْرَتْ عَمْرُو بْنِ شُعَيْبٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالَى عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لَا تَشَبَّـهُوْا بِالْيَـهُوْدَ وَلَا بِالنَّصَارَى

অর্থ: “হযরত ওমর বিন শুয়াইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পিতা হতে, উনার পিতা উনার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে আমাদের দলভূক্ত নয়। কাজেই আপনারা ইয়াহুদী এবং নাছারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবেন না।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

আর তাই যারা খোদাদ্রোহী, যারা শয়তানের অনুচর, কাফির-মুশরিক তারা কি করবে? তারা উল্লেখিত প্রতিটি আদেশ মুবারক উনার খিলাফ করবে। ১) চাঁদকে ইবাদতের সময় নির্ধারক হিসেবে না মেনে বরং তারা মনগড়া নিয়ম বের করবে। যেমন বিভিন্ন পদ্ধতি। ২) সম্মানিত হজ্জ উনার সঠিক তারিখের হের-ফের করবে। ৩) চাঁদ দেখে মাস গণনা না করে বরং হাসুব বা কম্পিউটারে দেখে বা হিসেব করে মাস শুরু করবে। ৪) ২৯ তারিখে আকাশ মেঘলা থাকার কারণে চাঁদ দেখা না গেলেও মিথ্যা সাক্ষী জোগাড় করে হলেও মাস শুরু করবে। ৫) সর্বোপরি হিলাল বা বাঁকা চাঁদ দেখে মাস গণনা না করে বরং ইহুদীদের আদর্শ অনুসরণ করে অমাবস্যা থেকে মাস গণনা করবে। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। কিন্তু বিষয়টি সাধারণ মানুষের কারোই জানা নেই।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি.আই.এ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ ঈসায়ী সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর। আর ১৯৪৮ ঈসায়ী সালের ১২ই মে ইহুদীরা অবৈধ ইসরাঈলকে রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়। মুসলমানদের ভূখণ্ডে এই ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের সাথে সরাসরি অংশগ্রহণ করে ইহুদীদের সগোত্রীয় সউদী ওহাবী ইহুদী সরকার। এরপর থেকেই অর্থাৎ ১৩৬৭ হিজরী (১৯৪৮ ঈসায়ী) সাল থেকে চলছে মুসলমানদের পবিত্র ইবাদত হজ্জ নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। সি.আই.এ ও অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাঈলের সহযোগিতায় সউদী ওহাবী ইহুদী সরকার শুরু করে এই নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র। পবিত্র হজ্জ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের একটি নীল নকশা হচ্ছে চাঁদের তারিখ পরিবর্তন। পাশাপাশি একটি বাতিল ফিরক্বা সউদী ওহাবীদেরকে অনুসরণ করে সারাবিশ্বে একদিনে রোযা ও ঈদ পালনের কথা বলে অসংখ্য মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করছে ও উনাদের রোযা ও ঈদ নষ্ট করছে। নাউযুবিল্লাহ! এ কারণেই চাঁদ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি প্রকাশ করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানগণ চাঁদ তালাশের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে, চাঁদ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় ইলিম অর্জন করতে পারবে, পাশাপাশি কাফির মুশিরকদের গভীর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত হয়ে নিজেদের ঈমান ও আমল হিফাযত করতে পারবে ইনশাআল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকেই ছহীহ সমঝ দান করুন ও ঈমান আমল হিফাযত করুন। আমীন।

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানমুবারক হানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃ্ত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছছুল খাছ সম্মানিত ফতওয়া মুবারক (৪০তম পর্ব)

সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬৭)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ঠ বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন-সুন্নাহ্ দৃষ্টিতে ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া